পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে লৌহজংয়ের গাওদিয়া বাজারের পশ্চিম পাশ দিয়ে। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করেছিল মাস দেড়েক আগে। কিন্তু অনিয়ম আর দুর্নীতির কবলে পড়ে বাঁধটি টেকসই হয়নি। বর্ষা শুরু হতেই নতুন বাঁধটি বিশাল এলাকা নিয়ে ধসে পড়েছে নদীতে। গাওদিয়াবাসী বাঁধের ভাঙন দেখে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নদী ভাঙতে ভাঙতে গাওদিয়াবাসী ভিটেবাড়ি, সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছিলেন অনেক আগেই। থাকার মতো যে সামান্য একটু জমি রয়েছে তাও এবারের ভাঙনের কবলে পড়ে তারা হারাতে বসেছেন। নতুন বাঁধ দিতে দেখে গাওয়াদিয়াবাসীর মনে কিছুটা আশার সঞ্চয় হয়েছিল। এলাকার রিতা রানী দে নতুন ঘর তোলার জন্য খুঁটি কিনে এনেছিলেন। কিন্তু এখন আর তার ঘর উঠানো হবে না। অনেকেই ভাঙন আতঙ্কে ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন অন্যত্র। আবার অনেকেরই সব জমি নদীগর্ভে হারিয়ে এখন আর যাওয়ার মতো কোনো জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের হয়তো কোনো সরকারি সড়কের পাশেই আশ্রয় নিতে হবে। স্থানীয় ইউপি সদস্য তোবারক ঢালী পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকা মেরামত করার জন্য অনুরোধ করেছেন। এখনই যদি বাঁধের ভাঙন ঠেকানো না যায় তাহলে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বাঁধের সবটুকুই পদ্মার করাল গ্রাসে তলিয়ে যাবে।
রাষ্ট্রের এমন অপচয় মেনে নেওয়া যায় না। সামান্য পয়সা চুরি করতে গিয়ে কাজের অনেক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। তার খেসারত এখন সরকার এবং সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারকে তলব করে কৈফিয়ত এবং ক্ষতি পূরণ আদায় করা বাধ্যতামূলক মনে করেন গাওদিয়ার সাধারণ জনগণ।
হাজি মো. রাসেল ভূঁইয়া
খলিফাবাড়ি, সিপাহিপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
[email protected]