সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে যখন শরীর আর চলতে চায় না, তখন ক্লান্তি দূর করার জন্য আপনার প্রথম পছন্দ কী? এককাপ কড়া চা, নাকি কোনো এনার্জি ড্রিংক?
আধুনিক জীবনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অন্তহীন ব্যস্ততায় আমরা প্রত্যেকেই দিনশেষে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ি। গৃহিণী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ–সবারই একটাই চাওয়া থাকে, যদি একটু বাড়তি শক্তি পাওয়া যেত! ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে আমরা কত রকমের কৃত্রিম উপায়ের খোঁজ করি। অথচ প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের ক্লান্তি দূর করার এবং আত্মিক শক্তি অর্জনের এমন এক জাদুকরী ও অনন্য সুন্নত শিখিয়ে গেছেন, যা যেকোনো বাহ্যিক সহায়তার চেয়ে উত্তম।
ক্লান্তি দূর করার এই মহৌষধের বর্ণনা পাওয়া যায় ইসলামের এক আবেগঘন পারিবারিক ঘটনার মাধ্যমে। হযরত আলি (রা.) হতে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, হযরত ফাতিমা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে (গৃহস্থালি কাজের সহায়তার জন্য) একটি চাকর চাইলে, তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাদের দুজনকে এমন জিনিস বলে দেব না, যা তোমাদের চাকরের চেয়ে উত্তম? তোমরা যখন বিছানায় শুতে যাবে, তখন ৩৪ বার আল্লাহু আকবর, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ এবং ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ পড়বে। এটা তোমাদের চাকরের চেয়েও উত্তম। (বুখারি, ৬৩১৮; মুসলিম, ৬৯১৫)
আমলটি দেখতে খুব সাধারণ মনে হলেও এর প্রভাব অসাধারণ। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে তাসবিহে ফাতেমির এই আমলটি মানুষের সারা দিনের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দেয়। ঘুমানোর মুহূর্তে মহান আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর বড়ত্ব ঘোষণার মাধ্যমে মনের ভেতর এক পরম তৃপ্তি ও অলৌকিক শক্তি সঞ্চারিত হয়, যা পরের দিন নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রেরণা জোগায়।
জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের উপযোগী এই অনন্য সুন্নতটি শুধু পরকালের সওয়াবই বাড়ায় না, বরং আমাদের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে এক নিয়ামতস্বরূপ। আসুন, আজ রাত থেকেই বিছানায় শুয়ে এই সহজ কিন্তু শক্তিশালী আমলটি শুরু করি এবং রাসুলের (সা.) সুন্নতের সুবাসে জীবনকে সতেজ রাখি।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক