ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ মুসলমানদের মতোই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমান অধিকার পাবেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুলের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে ফিনল্যান্ড বিএনপি ক্যাশলেস স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে যৌথ উদ্যোগ উপায় ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির চুক্তি ১৪ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের সতর্কতা তেঁতুলিয়ায় ১৩টি জাল পাসপোর্টসহ যুবক গ্রেপ্তার বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ সিলেটে রথযাত্রা মহোৎসব শুরু ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ সন্তানদের অবহেলায় জীবিত থাকতেই কবর তৈরি মায়ের লৌহজংয়ে পদ্মাপাড়ে ভয়াবহ ভাঙন বরিশালে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার মাগুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত লিবিয়ার বন্দিশিবির থেকে দেশে ফিরলেন ১৭১ বাংলাদেশি বিশ্বকাপ ফাইনাল: জেনে নিন আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণের সব তথ্য শ্রীমঙ্গলে ওয়ালটন ক্যাবলসের বার্ষিক ডিলার কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠিত অসুস্থ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডিএনসিসির ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বাংলাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের জন্য নয়: মির্জা ফখরুল স্পিডবোট রক্ষণাবেক্ষণের সময় নদীতে পড়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি নিখোঁজ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক চেক প্রতারণার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন স্বাস্থ্যসেবার দাবিতে হাঁটু পানিতে নিঝুমদ্বীপবাসী ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব: মাহাদী আমীন বগুড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত নতুন উপজেলা ও পৌরসভার দাবিতে শৈলকুপায় মানববন্ধন গুগল পিক্সেল ওয়াচের ছবি ফাঁস ব্রিডিং গ্রাউন্ডের অফলাইন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ময়মনসিংহ মেডিকেলে দালালবিরোধী অভিযান, আটক ১৪

ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ
ছবি: সংগৃহীত

সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে যখন শরীর আর চলতে চায় না, তখন ক্লান্তি দূর করার জন্য আপনার প্রথম পছন্দ কী? এককাপ কড়া চা, নাকি কোনো এনার্জি ড্রিংক?
আধুনিক জীবনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অন্তহীন ব্যস্ততায় আমরা প্রত্যেকেই দিনশেষে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ি। গৃহিণী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ–সবারই একটাই চাওয়া থাকে, যদি একটু বাড়তি শক্তি পাওয়া যেত! ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে আমরা কত রকমের কৃত্রিম উপায়ের খোঁজ করি। অথচ প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের ক্লান্তি দূর করার এবং আত্মিক শক্তি অর্জনের এমন এক জাদুকরী ও অনন্য সুন্নত শিখিয়ে গেছেন, যা যেকোনো বাহ্যিক সহায়তার চেয়ে উত্তম।

ক্লান্তি দূর করার এই মহৌষধের বর্ণনা পাওয়া যায় ইসলামের এক আবেগঘন পারিবারিক ঘটনার মাধ্যমে। হযরত আলি (রা.) হতে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, হযরত ফাতিমা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে (গৃহস্থালি কাজের সহায়তার জন্য) একটি চাকর চাইলে, তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাদের দুজনকে এমন জিনিস বলে দেব না, যা তোমাদের চাকরের চেয়ে উত্তম? তোমরা যখন বিছানায় শুতে যাবে, তখন ৩৪ বার আল্লাহু আকবর, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ এবং ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ পড়বে। এটা তোমাদের চাকরের চেয়েও উত্তম। (বুখারি, ৬৩১৮; মুসলিম, ৬৯১৫) 

আমলটি দেখতে খুব সাধারণ মনে হলেও এর প্রভাব অসাধারণ। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে তাসবিহে ফাতেমির এই আমলটি মানুষের সারা দিনের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দেয়। ঘুমানোর মুহূর্তে মহান আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর বড়ত্ব ঘোষণার মাধ্যমে মনের ভেতর এক পরম তৃপ্তি ও অলৌকিক শক্তি সঞ্চারিত হয়, যা পরের দিন নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রেরণা জোগায়।

জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের উপযোগী এই অনন্য সুন্নতটি শুধু পরকালের সওয়াবই বাড়ায় না, বরং আমাদের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে এক নিয়ামতস্বরূপ। আসুন, আজ রাত থেকেই বিছানায় শুয়ে এই সহজ কিন্তু শক্তিশালী আমলটি শুরু করি এবং রাসুলের (সা.) সুন্নতের সুবাসে জীবনকে সতেজ রাখি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ
ছবি: সংগৃহীত

সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে যখন শরীর আর চলতে চায় না, তখন ক্লান্তি দূর করার জন্য আপনার প্রথম পছন্দ কী? এককাপ কড়া চা, নাকি কোনো এনার্জি ড্রিংক?
আধুনিক জীবনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অন্তহীন ব্যস্ততায় আমরা প্রত্যেকেই দিনশেষে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ি। গৃহিণী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ–সবারই একটাই চাওয়া থাকে, যদি একটু বাড়তি শক্তি পাওয়া যেত! ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে আমরা কত রকমের কৃত্রিম উপায়ের খোঁজ করি। অথচ প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের ক্লান্তি দূর করার এবং আত্মিক শক্তি অর্জনের এমন এক জাদুকরী ও অনন্য সুন্নত শিখিয়ে গেছেন, যা যেকোনো বাহ্যিক সহায়তার চেয়ে উত্তম।

ক্লান্তি দূর করার এই মহৌষধের বর্ণনা পাওয়া যায় ইসলামের এক আবেগঘন পারিবারিক ঘটনার মাধ্যমে। হযরত আলি (রা.) হতে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, হযরত ফাতিমা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে (গৃহস্থালি কাজের সহায়তার জন্য) একটি চাকর চাইলে, তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাদের দুজনকে এমন জিনিস বলে দেব না, যা তোমাদের চাকরের চেয়ে উত্তম? তোমরা যখন বিছানায় শুতে যাবে, তখন ৩৪ বার আল্লাহু আকবর, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ এবং ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ পড়বে। এটা তোমাদের চাকরের চেয়েও উত্তম। (বুখারি, ৬৩১৮; মুসলিম, ৬৯১৫) 

আমলটি দেখতে খুব সাধারণ মনে হলেও এর প্রভাব অসাধারণ। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে তাসবিহে ফাতেমির এই আমলটি মানুষের সারা দিনের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দেয়। ঘুমানোর মুহূর্তে মহান আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর বড়ত্ব ঘোষণার মাধ্যমে মনের ভেতর এক পরম তৃপ্তি ও অলৌকিক শক্তি সঞ্চারিত হয়, যা পরের দিন নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রেরণা জোগায়।

জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের উপযোগী এই অনন্য সুন্নতটি শুধু পরকালের সওয়াবই বাড়ায় না, বরং আমাদের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে এক নিয়ামতস্বরূপ। আসুন, আজ রাত থেকেই বিছানায় শুয়ে এই সহজ কিন্তু শক্তিশালী আমলটি শুরু করি এবং রাসুলের (সা.) সুন্নতের সুবাসে জীবনকে সতেজ রাখি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

ইসলামে মুতা বিয়ের আসল বিধান কী?

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
ইসলামে মুতা বিয়ের আসল বিধান কী?
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনের অন্যতম সুন্দর এবং পবিত্র অধ্যায় হলো বিয়ে। এটি কেবল দুটি মানুষের শারীরিক বা মানসিক চাহিদার মিলন নয়, বরং আজীবনের এক দায়িত্ব ও সামাজিক বন্ধন। কিন্তু আধুনিক যুগে এসে কেউ কেউ যখন লিভ-ইন টুগেদার বা চুক্তির নামে ক্ষণস্থায়ী সম্পর্ককে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—ইসলামি শরিয়াহ কি এমন কোনো অস্থায়ী সম্পর্কের সুযোগ দেয়? ঠিক এখানেই চলে আসে মুতা বিয়ে বা সাময়িক বিবাহের প্রসঙ্গটি। ইসলামে এই বিধানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

মুতা বিয়ে কী?

মুতা শব্দের অর্থ হলো ভোগ বা আনন্দ লাভ করা। ইসলামি পরিভাষায়, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরানার বিনিময়ে কোনো নারীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে মুতা বিয়ে বলা হয়। এই বিয়ের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, চুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই কোনো তালাক ছাড়াই বিয়েটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

অনুমতির প্রাথমিক প্রেক্ষাপট

ইসলামের প্রাথমিক যুগে দীর্ঘ সফর বা যুদ্ধক্ষেত্রে সাহাবিদের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো। সেই বিশেষ ও জরুরি প্রয়োজনে সাময়িকভাবে এই বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সহিহ মুসলিম শরিফের ৩২৮৫ হাদিসে বর্ণনায়ে এসেছে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) উল্লেখ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এবং আবু বকর (রা.)-এর খেলাফতকালের প্রথম দিকেও বিশেষ প্রয়োজনে এর চর্চা ছিল। মূলত জাহেলি যুগের একটি অভ্যাসকে ইসলাম ধাপে ধাপে সংস্কার করার উদ্দেশ্যে শুরুতে কিছুটা শিথিলতা রেখেছিল।

ইসলামি শরিয়তের পূর্ণাঙ্গ রূপায়ণের সাথে সাথে মুতা বিয়ের এই সাময়িক অনুমতি চিরতরে রহিত করা হয়। আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, খায়বার যুদ্ধের সময়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুতা বিয়ে এবং গৃহপালিত গাধার মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করেন (সুনান আত তিরমিজি, ১১২১)।

মক্কা বিজয়ের পর এই নিষেধাজ্ঞা আরও দৃঢ়ভাবে ঘোষিত হয়। রাবি বিন সাবরাহ (রহ.) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, আমি তোমাদেরকে মেয়েদের সাথে মুতা করার অনুমতি দিয়েছিলাম। অবশ্য আল্লাহ তায়ালা এখন কিয়ামত পর্যন্ত তা হারাম করে দিয়েছেন। (বুলুগুল মারাম, ৯৯৭)।

সাহাবি ইবনু আব্বাস (রা.) শুরুতে এর বৈধতার পক্ষে মতামত দিলেও, নিষেধাজ্ঞা ও রহিতকরণের হাদিস জানতে পেরে পরবর্তীতে নিজের মত প্রত্যাহার করে নেন।

কোরআনের ব্যাখ্যা ও আলেমদের ঐকমত্য

সুরা আন-নিসার ২৪ নম্বর আয়াতের একটি অংশকে কেউ কেউ ভুল ব্যাখ্যা করে মুতা বিয়ের দলিল হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ইমাম ও মুফাসসিরদের মতে, এই আয়াতটি সাধারণ ও স্থায়ী বিবাহের মোহরানা আদায়ের নির্দেশ দেয়, সাময়িক বিয়ের নয়। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহ.)-সহ অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, মুতা বিয়ে সম্পূর্ণ বাতিল এবং কিয়ামত পর্যন্ত হারাম।

ইসলাম বিয়েকে একটি দীর্ঘমেয়াদি, দায়িত্বশীল ও সম্মানজনক পারিবারিক কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই সাময়িক আনন্দের মোড়কে কোনো অস্থায়ী চুক্তি ইসলামি শরিয়ায় কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সাহাবিদের গল্প—১১ ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এএম
‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’
ছবি: সংগৃহীত

তাবুক অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘতম পথ, কাঠফাটা গরম, শক্তিশালী রোমান বাহিনী— মুসলমানদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের দান করার আহ্বান জানালেন।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মনে এক পবিত্র উচ্চাশা জাগল। তিনি নিজেই বলছেন, ‘সেদিন আমার কাছে সম্পদ ছিল। মনে মনে বললাম— কোনোদিন যদি আবু বকরকে ছাড়িয়ে যেতে পারি, তবে আজই সেই দিন!’ তিনি বাড়ি গিয়ে সম্পদের অর্ধেক নিয়ে হাজির হলেন। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উমর বললেন, ‘এর সমপরিমাণ।’

এরপর এলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু— ঘরে যা ছিল, সব নিয়ে। রাসুল (সা.) একই প্রশ্ন করলেন, ‘আবু বকর, পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উত্তর এল ইতিহাসে গাথা সেই বাক্য, ‘তাদের জন্য রেখে এসেছি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে।’ উমর বললেন, ‘সেদিন বুঝলাম—আমি কোনোদিন কোনো বিষয়ে আবু বকরকে ছাড়িয়ে যেতে পারব না।’ (সুনানে আবু দাউদ,  ১৬৭৮; জামে তিরমিজি, ৩৬৭৫)

এই ঘটনায় দুটি স্তর দেখুন। উমরের অর্ধেক সম্পদ দান—এই তো অকল্পনীয় ত্যাগ! কিন্তু আবু বকরের তাওয়াক্কুল ছিল আরও ঊর্ধ্বে—তাঁর কাছে ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল’ ছিল দুনিয়ার সব সঞ্চয়ের চেয়ে নির্ভরযোগ্য জামানত। আলেমরা অবশ্য সতর্ক করেছেন, সর্বস্ব দান আবু বকরের স্তরের ঈমানের জন্য; সাধারণ মানুষের জন্য মধ্যপন্থাই বিধান। কিন্তু শিক্ষাটা সবার— দানের প্রতিযোগিতা হোক, কৃপণতার নয়।

আমরা প্রতিযোগিতা করি কার গাড়ি বড়, কার ফ্ল্যাট দামি। সাহাবিরা প্রতিযোগিতা করতেন কে আগে দান করবেন, কে বেশি দেবেন। দুই প্রতিযোগিতার ফলাফল দুই জায়গায় জমা হয়—একটি দুনিয়ার শোকেসে, অন্যটি আখিরাতের আমলনামায়।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে দানের সেই প্রতিযোগিতার আগুন জ্বালিয়ে দিন, আর আপনার ওপর ভরসাকে সম্পদের চেয়ে দামি করে দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে সফর মাস। এ উপলক্ষে আগামী ১২ আগস্ট (বুধবার) যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা পালিত হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি।

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলো, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ছাদেক আহমদ, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো)-এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. সাহেদুল ইসলাম, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত প্রশাসক মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মো. মহিউদ্দিন, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/

১৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৬ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৭ জুলাই): ৩.৫৬ মিনিট

.৫৬ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন