ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
অসুস্থ মির্জা ফখরুল আলমগীর ডিএনসিসির ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বাংলাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের জন্য নয়: মির্জা ফখরুল স্পিডবোট রক্ষণাবেক্ষণের সময় নদীতে পড়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি নিখোঁজ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক চেক প্রতারণার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন স্বাস্থ্যসেবার দাবিতে হাঁটু পানিতে নিঝুমদ্বীপবাসী ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব: মাহাদী আমীন বগুড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত নতুন উপজেলা ও পৌরসভার দাবিতে শৈলকুপায় মানববন্ধন গুগল পিক্সেল ওয়াচের ছবি ফাঁস ব্রিডিং গ্রাউন্ডের অফলাইন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ময়মনসিংহ মেডিকেলে দালালবিরোধী অভিযান, আটক ১৪ তরুণদের দক্ষতায় বদলে যাবে আগামীর বাংলাদেশ জয়ধ্বনি আর উচ্ছ্বাসে মানিকগঞ্জে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহন সিসা দূষণে ঝুঁকিতে কোটি কোটি শিশু, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি রথযাত্রা: ভালোবাসা ও সম্প্রীতির এক অবিরাম স্রোত শহিদ আবু সাঈদের স্মরণসভায় অর্ধেক চেয়ার খালি, হতাশ মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী সুশাসনের সঙ্গে টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা জরুরি হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু রক্ষক যখন ভক্ষক সংগঠন অধ্যায়ের ১৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র জাহাঙ্গীর হত্যায় ‘ভাড়াটে খুনি’ গ্রেপ্তার, পুলিশের দাবি ঢাকা থেকে আনা হয়েছিল আমি কখনো প্রেম করিনি: দীঘি ব্রাজিলের পরবর্তী সুপারস্টার কে এই কাওয়ান বাসিলে ? নতুন প্রেমে শেহনাজ! মেসির কোলে শিশু ইয়ামাল, ভাইরাল ছবি কি সত্য গল্প? আখাউড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির মৃত্যু নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডে ৫.৬২ মাত্রার ভূমিকম্প

দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহন
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পলাতক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও একজন সাক্ষী দিয়েছেন। এনিয়ে মোট ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ পঞ্চম আদালতে বিচারাধীন এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। 

সংশ্লিষ্ট বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আগামী ১৭ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। 

এদিন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বিটিএমসি বস্ত্র অধিদপ্তর (কারিগরি) সহকারী পরিচালক মো. ফয়সাল কবির। 

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে সাক্ষীকে জেরা করার আইনি সুযোগ নেই। 

গত ১৩ মে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ৩ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। 

বেনজীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত এগারো কোটি টাকার সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।

চার্জশিটে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।

বেনজীর আহমেদ এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এ মামলাটি দায়ের করে দুদক।

গত বছরের ৪ মে সপরিবার দেশ ছাড়া বেনজীরের দুবাইয়ে আবাসন ও সোনার ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়। 

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দায়ের করা বেশ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশ জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুন ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশ সরকারকে ই-মেইল করে বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।‌

কূটনৈতিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দ্রুতই তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

জলিল উজ্জ্বল/রিফাত/

চেক প্রতারণার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
চেক প্রতারণার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন
বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। ছবি: সংগৃহীত

১১২ কোটি টাকার চেক ডিজঅনারের এক মামলায় পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

অন্য মামলায় কারাগারে থাকা আসামি সালমান এফ রহমানকে শুনানির আগে আদালতে হাজির করা হয়।

এক হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মোহাদ্দেসুল আমিন। তিনি জানান, এই মামলা অন্য আসামিরাও জামিনের রয়েছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন– আহমেদ সইয়ন ফজলুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, ইমরান মন্ডল, মো. লুৎফর রহমান, মাশকুরা খানাম, মো. সাইফুর রহমান, অবু নাঈম মোহাম্মদ সেলেহীন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর ও এ এস এফ রহমান।

এ মামলা দায়েরের পর গত ৭ মে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশের পক্ষে উজ্জ্বল মন্ডল মামলা করেন।

মামলাটিতে পাঁচটি কোম্পানি নাম উল্লেখ করে ১০ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

কোম্পানিগুলো হলো– বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেড, স্ক্যাপ হোল্ডিং লিমিটেড, এসএফ আর হোল্ডিং লিমিটেড, এএসআর হোল্ডিং লিমিটেড এবং বেক্সিমকো হোল্ডিং লিমিটেডের পক্ষে প্রতিনিধিরা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যাংকের বারবার তাগিদের পর বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের পক্ষে ১১২ কোটি টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর চেকটি এক্সিম ব্যাংকের হেড অফিস করপোরেট শাখায় জমা দিলে একই দিন ব্যাংক সেটি "Insufficient Fund" (অপর্যাপ্ত তহবিল) উল্লেখ করে ফেরত দেয়।

পরবর্তী সময়ে ২৬ নভেম্বর নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ও ১৪০ ধারার বিধান অনুযায়ী নিবন্ধিত ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে চেকের অর্থ পরিশোধের কথা জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা অর্থ পরিশোধ করেননি।

এম এ জলিল উজ্জ্বল/এএফ

আবু সাঈদ হত্যার রায়: ৫ যুক্তিতে খালাস চেয়ে ৪ আসামির আপিল আজ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
আবু সাঈদ হত্যার রায়: ৫ যুক্তিতে খালাস চেয়ে ৪ আসামির আপিল আজ
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনকালীন বহুল আলোচিত-সমালোচিত ঘটনা রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ছাত্র আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড। ওই বছরের ১৬ জুলাই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ওই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ আবু সাঈদকে সাজা দেওয়া হয়।

দণ্ডিতদের মধ্যে চারজন খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই)। তাদের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু গতকাল বুধবার দৈনিক খবরের কাগজকে এই তথ্য জানান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে পাঁচটি যুক্তি তুলে ধরে তাদের খালাস চেয়ে এই আপিল করা হবে। 

তিনি জানান, যুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে–ভুক্তভোগী আবু সাঈদের পরনে ঘটনার সময় থাকা পোশাকে কোনো ছিদ্র ছিল না, কিন্তু বুকে বা পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলে তো পরনের পোশাক ছিদ্র হওয়ার কথা। 

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে কেউ মারা গেলে তার শরীরে গুলি প্রবেশের ছিদ্র থাকার কথা। তা ছিল না। আবার শরীরে গুলি প্রবেশ করলে গুলিটি বের হওয়ার একটি ছিদ্র থাকার কথা। তাও ছিল না। সুরতহাল বা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে ভুক্তভোগীর পোশাক বা ত্বকে গুলির কোনো উল্লেখ নেই। অথবা গুলি যদি বের না হয়ে শরীরের ভেতরে থেকে যায়, তবে তা প্রমাণে এক্স-রে বা রেডিওগ্রাফিক টেস্টের প্রতিবেদনে থাকার কথা। তবে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে তেমন কিছু উপস্থাপন করতে পারেনি। সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মাথার পেছন দিকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী মারা গেছেন। ভুক্তভোগীর বাবাও লাশের গোসল দেওয়ার সময় মাথার পেছন দিকে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন বলে ট্রাইব্যুনালে বলেছেন।

এসব যুক্তি ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরা যেত–এই কথার জবাবে আইনজীবী বলেন, ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেছি। তবে রায়ে এ নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। আশা করি সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ তা শুনবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। ন্যায়বিচার শুধু আসামিদের জন্য না, ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্যও দরকার। সন্তান হারানো মা-বাবা তো ন্যায়বিচারটুকু চাইতেই পারেন। কে তাদের সন্তানকে হত্যা করেছে–এই সত্য জানা তাদের অধিকার। উল্লেখ্য এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

গত ১৪ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় প্রকাশ করেন। এর আগে গত ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন, পাঁচজনকে ১০ বছর করে, আটজনকে ৫ বছর করে এবং ১১ জনকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া একজনের হাজতবাসের সময়কে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই দুজনসহ মোট চারজনের পক্ষে আজ আপিল করবেন বলে জানান আইনজীবী।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

১০ বছর করে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরোবির গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ ও ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া। তারা সবাই পলাতক।

৫ বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আরএমপির সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন মো. মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামীম। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলুসহ আরও কয়েকজন। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া। 

মিরপুর থানার আরেক মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সচিব জিয়াউল

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
মিরপুর থানার আরেক মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সচিব জিয়াউল
ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের একটি মামলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে  পুলিশের করা আবেদন মঞ্জুর করেন। 

শুনানির সময় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আদালতসূত্র। 

রাজধানীর কাফরুল থানায় দায়ের হওয়া মাহবুব হাসান মামুন হত্যা মামলায় গত ৯ জুলাই জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. আব্দুল আলীম। 

আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাকে আসামি হিসাবে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

কারাগারে থাকায় আসামির উপস্থিতিতে আবেদন শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুর থানার বিআরটিএর সামনে আন্দোলনে অংশ নেন মাহবুব হাসান মামুন। বিকেল সাড়ে ৪টায় আসামিদের ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। 

এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬১ জনকে আসামি করে রাজধানীর কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী। 

এম এ জলিল উজ্জ্বল/অন্তরা/

কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক ফল উৎসব অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

আইন-আদালতের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ঢাকা কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আনন্দঘন পরিবেশে ‘বার্ষিক ফল উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ৪র্থ তলায় জগন্নাথ- সোহেল স্মৃতি মিলনায়তনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি এবং মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এমন উৎসবে আমরা আনন্দিত। আমার চাকুরির জীবনে এ পর্যন্ত সাতবার অ্যাসোসিয়েশনের ফল উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।’ 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির বলেন, ‘বিচারকদের সৌজন্যে অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ফল উৎসবে পূর্বেও অংশগ্রহণ করেছি। চমৎকার এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করে উচ্ছ্বসিত বলে জানান।’ 

কোর্ট রিপোর্টার সদস্যরা আইনজীবী ও সাংবাদিক। আইন আদালতের নিয়ম অনুসরণপূর্বক সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইবুনালের বিচারক মো. আবদুল হালিম, দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক শ্যাম সুন্দর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মুন্সী মশিয়ার রহমান, ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য বিচাররা। 

এছাড়া মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী, জেলা পিপি মো. ইকবাল হোসেন, বিডিআর হত্যা মামলার চিফ প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিনসহ অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টাগণ ও কার্যকরি কমিটির নেতারাসহ অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। 

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জাকারিয়া হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। 

জলিল উজ্জ্বল/রিফাত/

কুড়িগ্রামে স্বামী হত্যার ২০ বছর পর স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
কুড়িগ্রামে স্বামী হত্যার ২০ বছর পর স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার গোড়ক মন্ডল গ্রামে পরকীয়ার জেরে স্বামী কেতাব উদ্দিনকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিকসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
 
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা দায়রা আদালতের অতিরিক্ত বিচারক জয়নাল আবেদীন এই রায় দেন।

যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামিরা হলেন,  স্ত্রী নুর নাহার, শাশুড়ি ছকিনা বেগম, শ্বশুর নুর মোহাম্মদ ও পরকীয়া প্রেমিক গফুর।

মামলা সুত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৮ এপ্রিল উপজেলার গোড়কমন্ডল গ্রামে স্ত্রী নুরনাহার তার স্বামীকে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে কৌশলে পাশ্ববর্তী তার প্রেমিকের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী নুর নাহার ও তার বাবা-মা এবং তার পরকীয়া প্রেমিক মিলে কেতাব উদ্দিনকে হত্যা করে বাড়ির পাশের জমিতে মরদেহ ফেলে রাখেন।
 
পরদিন (১৯ এপ্রিল) কেতাব উদ্দিনের বাবা আলী মুদ্দিন বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযুক্ত ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন আলো ও সরকার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। 
 
গোলাম মওলা সিরাজ/আজহার/