একসময় জনপ্রিয় শিশুশিল্পী হিসেবে দর্শকের মন জয় করা প্রার্থনা ফারদিন দীঘি এখনো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায় থাকেন। বিশেষ করে তার প্রেম ও সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এবার একটি পডকাস্টে এসব বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই অভিনেত্রী।
পডকাস্টে উপস্থাপক জানতে চান, এখন পর্যন্ত তিনি কয়টি প্রেম করেছেন। জবাবে দীঘি বলেন, তিনি কখনো প্রেম করেননি। এমনকি সুযোগ পেয়েও কোনো প্রেমের সম্পর্কে তিনি জড়াননি।
দীঘির ভাষ্য, স্কুলজীবন থেকেই তার ওপর পরিবারের কঠোর নজরদারি ছিল। ক্লাস সিক্স থেকে চলাফেরায় নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তিনি জানান, এসএসসি পরীক্ষার আগে পর্যন্ত মোবাইল ফোনও ব্যবহার করতেন না। এমনকি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তার খোঁজ নিত পরিবার।
অভিনেত্রীর মতে, দীর্ঘদিন এমন কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে প্রেম করার সুযোগ বা মানসিক পরিবেশ–কোনোটিই তৈরি হয়নি।
যদিও প্রেমের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দীঘি, অতীতে তাকে ঘিরে একাধিক সম্পর্কের গুঞ্জন শোবিজ অঙ্গনে আলোচিত হয়েছিল। কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। এছাড়া মুহাইমিন রাশিদ নামে এক তরুণের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ছবিও আলোচনা তৈরি করেছিল।
তবে ওই সময়ও দীঘি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, তৌহিদ আফ্রিদি ও মুহাইমিন রাশিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল কেবল বন্ধুত্বের। প্রেমের খবর বা গুঞ্জনের কোনো সত্যতা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
সাম্প্রতিক এই সাক্ষাৎকারেও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দীঘি বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো প্রেমের সম্পর্কে জড়াননি।
প্রসঙ্গত, কাজী হায়াত পরিচালিত ‘কাবুলিওয়ালা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শিশু শিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন দীঘি। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগে গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে সবার নজরে আসেন দীঘি। প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেই ২০০৬ সালে শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে দীঘি। তারপরে আরও দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কারণে শ্রেষ্ঠ শিশু চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। পরবর্তী সময়ে নায়িকা হিসেবে ‘তুমি আছ তুমি নেই’ ও ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’, ‘জংলি’সহ বেশকিছু চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
/এমটি