বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ শিশু সিসার বিষক্রিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি ভাঙা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ (রিসাইক্লিং) এই দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস বলে উল্লেখ করে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।
বুধবার (১৬ জুলাই) এ দাবিতে বরিশালে পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিসা দূষণ বন্ধ করুন, সুস্থ জীবন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করুন’ প্রতিপাদ্যে ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও পিওর আর্থ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নগরের অশ্বিনী কুমার হল প্রাঙ্গণ থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। এটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধশত মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অনিরাপদভাবে সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কারণে মাটি, পানি ও বাতাস দূষিত হচ্ছে। এতে শ্রমিক, শিশু ও আশপাশের বাসিন্দারা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, সিসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। অল্প পরিমাণ সিসাও শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার সক্ষমতা ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
সমাবেশ থেকে সিসাকে বিষাক্ত রাসায়নিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন, শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা, ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর) কার্যকর, ব্যবহৃত ব্যাটারির নিরাপদ সংগ্রহ ও পরিবেশবান্ধব রিসাইক্লিং নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়।
ইয়ুথনেট গ্লোবালের বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী সাজিদ মাহমুদ বলেন, সিসা দূষণ একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট, যার সবচেয়ে বড় শিকার শিশুরা। অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কারণে শুধু শ্রমিক নয়, আশপাশের পুরো জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। সিসামুক্ত ভবিষ্যৎ গড়তে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা, সামাজিক নজরদারি ও কার্যকর সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালি দাস বলেন, সিসা শুধু ব্যাটারি থেকেই নয়, খেলনা, গৃহস্থালি পণ্যসহ বিভিন্ন উৎস থেকেও মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই সিসা দূষণ কমাতে সরকারি নজরদারি জোরদার, নিরাপদ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা এবং ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, সরকার সিসা দূষণ কমাতে এনজিও, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও শিল্প খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। বিদ্যমান বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ, শিল্প খাতে নিরাপদ চর্চা নিশ্চিত করা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
সবুজ/এসএন/