নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর জনসাধারণের জন্য সহজ যোগাযোগযোগ্য ও ভৌগোলিকভাবে যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে হরতাল পালিত হচ্ছে উত্তর ফটিকছড়িতে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ডাকে ভোর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলছে দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে।
সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা এই তিন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে হেয়াকো ও বালুটিলা বাজার এলাকায় পিকেটিং ও ব্যারিকেড দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। ফলে সংশ্লিষ্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি এবং ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী ও দূরপাল্লার যানবাহন আটকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। সমাবেশে আন্দোলনকারীরা ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’, ‘দালালি না রাজপথ’, ‘উত্তর না দক্ষিণ’ সহ নানা স্লোগান দেন।
৮ জুলাই সরকারি গেজেটের মাধ্যমে দাঁতমারা, বাগানবাজার, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল- এ ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা ঘোষণা করা হয় এবং এর সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হয় পশ্চিম ভূজপুর মৌজায়। আন্দোলনকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূজপুর মৌজা থেকে ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র আট থেকে দশ কিলোমিটার, কিন্তু উত্তরের ইউনিয়নগুলো থেকে এই দূরত্ব ২৫ থেকে ৩৮ কিলোমিটার পর্যন্ত।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ব্যাংকার হাসান শামসুদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, আমরা নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। কিন্তু নির্ধারিত স্থানে সদরদপ্তর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের দূরবর্তী ইউনিয়নগুলোর সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হবেন।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক কাজের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য করা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা ও যাতায়াত সুবিধা বিবেচনা করে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে একটি মধ্যবর্তী স্থানে (জুজখোলা মৌজা) সদর দপ্তর স্থানান্তর করতে হবে।
১০ জুলাই ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছিল সমন্বয় পরিষদ। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় হরতালের ডাক দেওয়া হয় বলে সংগঠকেরা জানান।
পরিষদের সমন্বয়করা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংগঠকেরা আরও জানান, আজকের কর্মসূচি সবে শুরু হয়েছে এবং বেলা তিনটায় একটি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বিবেচনা করে হাসপাতাল, ওষুধের দোকান, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের জরুরি সেবা হরতালের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এই কর্মসূচির বাইরে রয়েছে।
এখন পর্যন্ত হরতালকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়ির কোথাও বড় ধরনের সংঘাত, ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ভূজপুর থানা পুলিশের একাধিক টিম দায়িত্ব পালন করছে।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে খবরের কাগজকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হলে, পুলিশ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিবে।
এ দিকে হরতালের বিপক্ষে একই দিন বিকেলে ভূজপুরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে স্থানীয় সাধারণ জনসাধারণের একাংশ।
নাজমুল আলম/থিওটোনিয়াস/