ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জয়ধ্বনি আর উচ্ছ্বাসে মানিকগঞ্জে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহন সিসা দূষণে ঝুঁকিতে কোটি কোটি শিশু, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি রথযাত্রা: ভালোবাসা ও সম্প্রীতির এক অবিরাম স্রোত শহিদ আবু সাঈদের স্মরণসভায় অর্ধেক চেয়ার খালি, হতাশ মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী সুশাসনের সঙ্গে টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা জরুরি হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু রক্ষক যখন ভক্ষক সংগঠন অধ্যায়ের ১৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র জাহাঙ্গীর হত্যায় ‘ভাড়াটে খুনি’ গ্রেপ্তার, পুলিশের দাবি ঢাকা থেকে আনা হয়েছিল আমি কখনো প্রেম করিনি: দীঘি ব্রাজিলের পরবর্তী সুপারস্টার কে এই কাওয়ান বাসিলে ? নতুন প্রেমে শেহনাজ! মেসির কোলে শিশু ইয়ামাল, ভাইরাল ছবি কি সত্য গল্প? আখাউড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির মৃত্যু নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডে ৫.৬২ মাত্রার ভূমিকম্প নরসিংদীতে পানিতে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু আবহাওয়ার উন্নতি, বান্দরবানে উন্মুক্ত পর্যটনকেন্দ্র পুলিশকে মানবিক ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে: আইজিপি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার বেনাপোলে জুলাই শহিদ আব্দুল্লাহর কবর জিয়ারত করলেন উপজেলা প্রশাসন কুমিল্লায় জুলাই শহিদ দিবস পালন জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু খাদ্য অধ্যায়ের ১টি বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান ইসলামে মুতা বিয়ের আসল বিধান কী? সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে বিভক্ত ফটিকছড়ি উত্তর, চলছে হরতাল আলজেরিয়ায় এতিমখানায় আগুনে মৃত ১১ অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর আন্দোলনকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরসিংদীর পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু, আহত ৩ লক্ষ্মীপুরে জুলাই শহিদ দিবস পালন

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে অভিযোগ থাকা পলাতক মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। 

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মোজাফফরকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে রাতের অন্ধকারে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যার ঘটনা ঘটায় একদল বিপথগামী সেনা। এই মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম। 

বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান, ‘The President has been killed’.

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তখন মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।

অবশেষে ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এল।

সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আলমগীর/অমিয়/

হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ১৭১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
 
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে খুলনা বিভাগে ২ জন ছাড়াও সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৭৭৯ জনের মৃত্যু হলো।

এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৯৭৪ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৪ হাজার ১০৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৭ হাজার ৯১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৯৪ হাজার ২৭৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

রিফাত/

পুলিশকে মানবিক ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে: আইজিপি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
পুলিশকে মানবিক ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে: আইজিপি
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

পুলিশকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারত্ব, সততা ও মানবিক আচরণের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনই হতে হবে নবীন কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪২তম ব্যাচের ৫০০ জন ক্যাডেট উপ-পরিদর্শকের (এসআই) মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে ভয়-ভীতি ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে সততা, নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পুলিশ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনয়ী, মানবিক ও বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হবে। সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশ সদস্যদের সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোসহ নানা ধরনের ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’- এই আদর্শকে ধারণ করে জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সন্তানরা আজ থেকে রাষ্ট্রসেবার একটি গৌরবময় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেল।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ জি এম আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী পুলিশ সুপার শুভ কুমার ঘোষ প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী এসআইদের অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আইজিপি সমাপনী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টরদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এনায়েত করিম/থিওটোনিয়াস/

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে অভিযোগ থাকা পলাতক মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। 

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মোজাফফরকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে রাতের অন্ধকারে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যার ঘটনা ঘটায় একদল বিপথগামী সেনা। এই মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম। 

বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান, ‘The President has been killed’.

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তখন মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।

অবশেষে ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এল।

সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আলমগীর/অমিয়/

জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
ছবি:খবরের কাগজ

জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ‘জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সকালে টাঙ্গাইল জেলা হ্যালিপ্যাড মাঠ স্মৃতিচত্বরে জুলাই আন্দোলনের শহিদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ঘটনার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে তা সম্পন্ন হবে। 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অনিয়ম দূর করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সকল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। জুলাই আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব। সরকার শহিদ ও আহত পরিবারের পাশে রয়েছে এবং তাদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা, পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোর দ্রুত চার্জশিট দাখিল এবং শহিদ ও আহত পরিবারের পাশে কার্যকরভাবে দাঁড়ানোর দাবি জানান।

সভায় জুলাই আন্দোলনে শহিদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মহসিন কবিরসহ সকল শহিদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। 

মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা, জুলাই শহিদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জুয়েল রানা/খাদিজা রুমি/ 

অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর আন্দোলনকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর আন্দোলনকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশের আড়ালে কেউ কেউ ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চাচ্ছে। তবে সরকার বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর এই আন্দোলনকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না। আন্দোলনের মাধ্যমে পরীক্ষা বাতিল বা অটোপাস দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে আইনে আপিলের সুযোগ থাকলে তিনি উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি জানান, দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদ এবং ভারতে গ্রেপ্তার ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

জুলাইয়ের শহীদের সংখ্যা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাদের বিষয়টি প্রমাণিত হবে, তাদের সংখ্যা তালিকায় যুক্ত হতে পারে। আর কেউ ভুয়া প্রমাণিত হলে তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে বিএনপি নয়। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।

অন্তরা/