‘খামারিদের মুরগি শেষ। কোম্পানির মুরগি বাজারে আসছে। তাই দাম বেশি। কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টির কারণে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার ২০০ টাকা কেজি এবং সোনালি মুরগি ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’ রাজধানীর হাতিরপুল বাজারের মায়ের দোয়া চিকেন হাউসের বিক্রেতা মো. রাব্বি এ কথা জানান। শুধু মুরগির দাম নয়, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডিম, সবজির দামও অনেক বেড়ে গেছে। ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ২০ টাকা। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে অধিকাংশ সবজি সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে বাজারের এ চিত্র পাওয়া গেছে।
সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি (২০২৬-২৭) অর্থবছরের বাজেটে অনেক পণ্যে শুল্ক কমিয়েছে। তার পরও কোনো পণ্যের দাম কমেনি। বরং ভারী বৃষ্টির কারণে এ সপ্তাহে আরেক দফা দাম বেড়ে গেছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে কোনো পণ্যের দাম কমলেই কম দামে বিক্রি করা যায়। কিন্তু বিভিন্ন জেলা বন্যায় তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে সবজির খেত। এ জন্য সবজির সরবরাহ কমে গেছে। অনেক মুরগির খামারও ডুবে গেছে। কিন্তু চাহিদা তো কমেনি। তাই দাম বেড়েছে।
এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের চিকেন হাউসের স্বত্বাধিকারী মো. বিল্লাল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘এ মাসের প্রথমে মুরগির দাম কিছুটা কমেছিল। কিন্তু কয়েক দিন আগে ভারী বৃষ্টি হলে সরবরাহ কমে যায়। খামারিদের মুরগি আসে না। বর্তমানে বাজারে যা আসছে এগুলো বিভিন্ন করপোরেট কোম্পানির মুরগি। তারা দাম কমায় না। বরং সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। আগে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি করা হলেও কয়েক দিন ধরে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’ এ বাজারে অন্য খুচরা মুরগি বিক্রেতারাও একই কথা বলেন।
তবে দেশি মুরগি আগের মতোই ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
এদিকে মুরগি ও সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় ডিমের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ জন্য দামও বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে ডিমের ডজন ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল বিভিন্ন বাজারে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। টাউন হল বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. খোরশেদ বলেন, বৃষ্টিতে ডিমের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ জন্য দামও বাড়তি। আগে ১২০ টাকায় বিক্রি করা হলেও দুই দিন ধরে ১৪০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্য বিক্রেতারাও একই তথ্য জানান। নিউ মার্কেটেও দেখা গেছে একই চিত্র। সবজিসহ ডিম, মুরগি, পেঁয়াজ, আদা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
দেশে বন্যা শুরু হলেও মাছের দাম কমেনি। গতকালও আগের মতো তেলাপিয়া মাছ আকারভেদে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। রুই, কাতল মাছও ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে চাষের এসব মাছ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানান।
আদা-রসুন কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা
বাজেটে আদা-রসুনসহ ৬০ পণ্যের দাম কমাতে শুল্ক কমানো হলেও বাজারে তার ছিটেফোঁটা প্রভাব পড়েনি। বরং আগে আদার কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল বিভিন্ন বাজারে তা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০, চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। ৩৫ থেকে ৪৫ টাকার পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে আগের মতোই আলু ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। এদিকে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে শূন্য করা হলেও খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়ার দাম কমেনি। আগের মতোই লবঙ্গের কেজি দেড় হাজার টাকা, দারুচিনি ৫২০, জিরা ৬০০, কিশমিশ ৮০০ থেকে ৯০০, গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ ও এলাচ সাড়ে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গতকালও আগের মতো মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ ও মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হয়। দেশি মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, আমদানি করা ডাল ১২০, ছোলা ৯০ থেকে ১০০, দুই কেজির প্যাকেট আটা ১১০ থেকে ১৩০, চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
শসার কেজি ১৮০ টাকা
সবজির বাজারেও বাড়তি দাম দেখা গেছে। আগে অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। বিক্রেতারা জানান, বেগুনের কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০, শসা ১৬০ থেকে ১৮০, করলা ৮০ থেকে ১২০, পটোল ৮০ থেকে ১০০, কচুর লতি ১২০, গাজর ১০০ থেকে ১২০, টমেটো ১৬০, ঝিঙ্গা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে পেঁপে আগের মতোই ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. হাবিব ও নিউ মার্কেটের শহিদুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলার সবজি খেত হঠাৎ করে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে সবজির সরবরাহও কমে গেছে। এ জন্য আড়তে দাম বেড়ে গেছে। কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’