ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগ দিলেন মো. আবেদুর রহমান সিকদার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে: অর্থমন্ত্রী মেঘ বাতাসের খেলা জন্ম-মৃত্যুর খেলা নোনা জলের প্রহসন বেদনার নীল আকাশ আধিভৌতিক স্বর: এক অভিযোজন বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব দায়িত্বে অবহেলাজনিত বন্যার দায়ভার কার? শহীদুল জহিরের সাহিত্য ও সাম্প্রতিক বিতর্ক ভিডিও ধারণ করে আপন বোনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক,  ফিল্মি কায়দায় ভাইকে হত্যা, বোন সহ গ্রেপ্তার ২ ব্যক্তি নয়, রাজনীতির ভাষার সংকট অচেনা শহরে মেহেরুননেসা এসেছেন শরণার্থী হিসেবে প্রণোদনা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে ৪.৯ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হলো পেলের বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি একজন হুমায়ূন আহমেদ নোয়াখালীতে বিধবা ভাতার টাকা নিয়ে প্রতারণা, অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্য নিরসনে কাজ করছে সরকার বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নদের আংটি দেবে ফিফা পূর্ণকালীন হলেন ঢাবির আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবছার কামাল মেসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নিয়ে মুখ খুললেন বেলিংহাম সামান্য বৃষ্টিতে অচল রাজধানী ২০২০ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীনা হস্তক্ষেপ: ট্রাম্প বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্যের দ্বৈরথ নিঝুমদ্বীপে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার খুলনায় মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা মেসির উত্তরাধিকার বনাম নতুন স্বপ্ন টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ যুবকের মৃত্যু ভক্তির আবহে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা

একজন হুমায়ূন আহমেদ

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
একজন হুমায়ূন আহমেদ
আঁকা: নিয়াজ চৌধুরী তুলি

হুমায়ূন আহমেদ বন্ধু হিসেবে ছিলেন এক অসাধারণ মানুষ। সমাজের নানা স্তরের অনেকেই ছিলেন তার বন্ধু। মিডিয়ার স্মরণীয় ও বরণীয় বহু সাংবাদিকও হুমায়ূনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। বন্ধুদের নিয়ে যখন বৈঠকি আড্ডা বসত তখন তো কথাই নেই, ক্ষণমুহূর্তেই তিনি হয়ে উঠতেন আড্ডার মধ্যমণি। কীভাবে যে সময় পার হতো, টেরই পাওয়া যেত না। সবার মনোযোগ আছড়ে পড়ত হুমায়ূনের ওপর। তার রসবোধ ছিল অসাধারণ। তিনি যখন হাসাতেন, তখন সবাই না হেসে পারতেন না। হুমায়ূন কী বলছেন, সেদিকেই থাকত সবার মনোযোগ। মন্ত্রমুগ্ধ শ্রোতায় পরিণত হওয়া ছাড়া তাদের আর করবার কিছুই ছিল না। অবিশ্বাস্য সেই সম্মোহনী জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবার কোনো শক্তিই কারোর ছিল না।...

হুমায়ূন আহমেদ বন্ধু হিসেবে ছিলেন তুলনাহীন এক অসাধারণ মানুষ। সেই সঙ্গে এ তথ্যটাও দেওয়া ভালো যে, তার বন্ধুভাগ্য ছিল খুব উজ্জ্বল। সমাজের নানা স্তরের অনেকেই ছিলেন তার বন্ধু। মিডিয়ার স্মরণীয় ও বরণীয় বহু সাংবাদিকও হুমায়ূনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। বন্ধুদের নিয়ে যখন বৈঠকী আড্ডা বসত তখন তো কথাই নেই, ক্ষণমুহূর্তেই তিনি হয়ে উঠতেন আড্ডার মধ্যমণি। কীভাবে যে সময় পার হতো, টেরই পাওয়া যেত না। সবার মনোযোগ আছড়ে পড়ত হুমায়ূনের ওপর। তার রসবোধ ছিল অসাধারণ। তিনি যখন হাসাতেন, তখন সবাই না-হেসে পারতেন না। যেন পুরো রুমে হাস্যোরোলের ঝড় উড়ত। হুমায়ূন কী বলছেন, সে দিকেই থাকত সবার মনোযোগ। সেই আড্ডায় উপস্থিত বন্ধুদের কেউই বুঝতেই পারতেন না যে তিনি শক্তিশালী এক সম্মোহনী জালে আটকা পড়ে আছেন। মন্ত্রমুগ্ধ শ্রোতায় পরিণত হওয়া ছাড়া তাদের আর করার কিছুই ছিল না। অবিশ্বাস্য সেই সম্মোহনী জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসার কোনো শক্তিই কারোর ছিল না।

১৯৭১ সালে হুমায়ূনের বয়স ছিল ২৩ বছর। ওই সময়ে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। তার পর তার ওপর চলে ভয়াবহ নির্যাতন। তাকে গুলিও করা হয়, কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র হুমায়ূন আহমেদ থাকতেন ৫৯৪ নম্বর রুমে। এ রুমে বসেই তিনি লেখেন তার বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘নন্দিত নরক’। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে আহমদ ছফার উদ্যোগে ‘খান ব্রাদার্স’ প্রকাশনী থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। ছফা ভাই এই উপন্যাস নিয়ে এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিলেন যে এর জন্য সর্বজন শ্রদ্ধেয় ড. আহমদ শরীফকে দিয়ে একটি ভূমিকাও লিখিয়ে আনেন। এতে উপন্যাসটি ঘিরে সুধী মহলসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র তো বটেই, রাজধানী ঢাকার অন্যান্য কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তো প্রতিদিনই লেখাপড়ার পাশাপাশি হুমায়ূন আহমেদের ‘নন্দিত নরক’ নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠতেন। আমি নিজে যেহেতু লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত, তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সহপাঠী জানতে চেয়েছেন, আমার কাছে উপন্যাসটি আছে কি না! হ্যাঁ, ছিল বলেই বইটি আমি তাদের পর্যায়ক্রমে এক এক করে পাঁচজনকে পড়তে দিই। পঞ্চমজনকে পড়তে দেওয়ার পর থেকে উপন্যাসটি আর আমার হাতে ফিরে আসেনি। পড়ে শুনেছি, হাত বদল হতে হতে বইটি ধরাছোঁয়ার বাইরে দীর্ঘ ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ে। 

আমি তো রীতিমতো বিস্মিত! একটি বই নিয়ে কেন এই উন্মাদনা? এর উত্তর খুঁজে বের করার জন্য জটিল গবেষণার প্রয়োজন নেই। সোজাসাপটা উত্তর হলো, ১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জনপ্রিয় স্বনামধন্য অধ্যাপক ড. আহমদ শরীফের ভূমিকাসহ উপন্যাসটির আত্মপ্রকাশ, ২. প্রথাবিরোধী লেখক আহমদ ছফার উজ্জ্বল ভূমিকা, ৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির উত্তর পাশে অবস্থিত নাটমণ্ডলে ‘নন্দিত নরক’ উপন্যাসের প্রকাশনা উৎসব, ৪. লেখকের নিজ ভাষারীতি এবং মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের সুখ-দুঃখ ও স্বপ্ন নিখুঁতভাবে তুলে ধরার সক্ষমতা ইত্যাদি। এসব ছিল হুমায়ূন আহমেদের প্রথম পর্যায়ের জনপ্রিয়তার আশু কারণ। 

আর দ্বিতীয় পর্যায়ের জনপ্রিয়তা বহু গুণ বৃদ্ধি পায় বিটিভির সৌজন্যে। তখন প্রাইভেট চ্যানেলগুলোর জন্ম হয়নি। হুমায়ূন আহমেদের সফল ধারাবাহিক নাটকগুলো বিটিভিতে সম্প্রচার শুরু হলে সাধারণ দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তাদের দুচোখ আটকে যায় টিভি পর্দায়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সৌজন্যে তার নাম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে পৌঁছায়। ফলে জনপ্রিয়তায় তিনি খুব দ্রুত আকাশসমান উচ্চতায় উঠে আসেন। ফলে তার উপন্যাসের কাটতি বেড়ে দাঁড়ায় কয়েক শ গুণ।

প্রসঙ্গক্রমে দুটি ঘটনার কথা নিচে উল্লেখ করতে চাই, এতে হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা লাভ করা যাবে। 
এক. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা শুরু হওয়ার বেশ আগে বাংলা একাডেমি বইমেলা উপলক্ষে একবার কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও সমরেশ মজুমদার। তারা পাঁচ দিন ঢাকায় ছিলেন। প্রতিদিনই কয়েক ঘণ্টা করে বইমেলায় বিভিন্ন বুক স্টল ঘুরে সময় কাটাতেন। বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকের সঙ্গে গল্পও করতেন। একদিন সুনীল ও সমরেশদার সঙ্গে বেলাল চৌধুরী, রফিক আজাদ ও আমি দাঁড়িয়ে গল্প করছিলাম। তখন বিকেল বেলা। ভিড়ও যথেষ্ট। এর ঠিক পরপর হঠাৎই বইমেলার অধিকাংশ মানুষই হুড়মুড় করে একটা বিশাল ঢেউয়ের মতো দুলে উঠে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লেন। সেই লাইন বড় হতে হতে ফুলের মালার মতো গোল আকার ধারণ করে গেট পার হয়ে মূল রাস্তায় গিয়ে পড়ে। ঘটনাটা মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে। বিষয়টি লক্ষ করে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় চমকে ওঠেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বেলাল চৌধুরীকে ভীতকণ্ঠে জিজ্ঞেস করেন, কী হচ্ছে এসব?

বেলাল চৌধুরী হেসে বলেন, দাদা হুমায়ূন আহমেদ সবেমাত্র এসে উপস্থিত হয়েছেন মেলায়। আমরা সুদীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো অসংখ্য মানষ দেখছি, তারা হুমায়ূনের অটোগ্রাফ দেওয়া বই কিনবেন বলে এসেছেন। এজন্যই দীর্ঘ লাইন।

সুনীল দা বললেন, আমরাও অটোগ্রাফ দিই, কিন্তু একজন জনপ্রিয় লেখককে ঘিরে এই যে বিশাল এবং বিপুল ক্রেজ তা চোখে না দেখলে সত্যই বিশ্বাসই হতো না। এমন অভিজ্ঞতা অর্জন আমার জীবনে এই প্রথম।

২০১২ সালে নিউইয়র্কের এক হাসপাতালে হুমায়ূন আহমেদ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় হুমায়ূনকে নিয়ে একটি স্মৃতিচারণমূলক রচনা লিখেছিলেন। তাতে তিনি হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের কাটতি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চেয়ে অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেছিলেন। 

এবার আসা যাক ঘটনা দুই প্রসঙ্গে। তখনো আমি সাপ্তাহিক জাতীয় ম্যাগাজিন ‘পূর্ণিমা’র সার্বিক দায়িত্বে। আমার সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রতি সপ্তাহে প্রকাশিত হয়। সময়টি সম্ভবত ২০০৪ সাল। এই প্রতিষ্ঠানে আমার চাকরির বয়স টানা ১৭ বছর। একদিন কর্তৃপক্ষ আমাকে জানান যে, হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে পত্রিকায় মাঝেমধ্যে খবর হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করুন। আমি জানতাম, ২০০৩ সালে স্ত্রী গুলতেকিনের সঙ্গে তার বিয়ে বিচ্ছদ ঘটে। নেপথ্য কারণ ছিল অল্পবয়সী এক মেয়ে মেহের আফরোজ শাওনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা।

সাধারণত পত্রিকায় কী যাবে না-যাবে সব আমিই ঠিক করে থাকি। তাছাড়া কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রতিবেদন করা আমি নীতিগতভাবে সমর্থন করি না। 

কর্তৃপক্ষকে জানাই, আমাদের লেখক তালিকায় হুমায়ূন আহমেদ একটি উজ্জ্বল নাম। তিনি সব সময়ে লেখা দিয়ে সাহায্য করছেন। আপনারা আরও জানেন, হুমায়ূন আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এই সম্পর্ককে আমি যত্নের সঙ্গে রক্ষা করতে চাই। কথাগুলো বলে আমি আমার রুমে ফিরে আসি।
চেয়ারে বসে ভাবছি কী করা যায়! কর্তৃপক্ষ যা চান তা আমার করা উচিত। রিপোর্ট করতেই হবে। শেষমেশ ভেবে হুমায়ূন আহমেদকে টেলিফোনে আমার অফিসে আসার জন্য অনুরোধ করি। তিনি বলেন, আসতে পারি, কিন্তু রাত হবে। আমি বললাম, ঠিক আছে। আমি অপেক্ষা করব। 

রাত ১২টার পর হুমায়ূন আমার অফিসে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন টিভি তারকা মাহফুজ আহমেদ। আলোচনা যখন শুরু হয় তখন মাহফুজ পাশের রুমে গিয়ে বসেন। পুরো বিষয় নিয়ে আমরা দুজনে একান্তে আলাপ করি। হুমায়ূন একসময় বলে ওঠেন, রিপোর্টটি প্রকাশ পেলে মেয়েটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ওকে কেউ আর বিয়ে করতে চাইবে না। 

আমি হুমায়ূনকে বললাম, ঘটনা যতদূর এগিয়েছে তাতে মনে হয়, আপনারা বয়সের ব্যবধান ভুলে গিয়ে একে অন্যকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। আপনি তো ইচ্ছ করলেই একে একটি শুভ পরিণতির দিকে এগিয়ে নিতে পারেন। হুমায়ূন বললেন, খুলে বলুন! 

আমি বললাম, আপনি শাওন ম্যাডামকে বিয়ে করুন। তাতে উভয়ই একটা সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগোতে পারবেন। কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গে হুমায়ূন আমার চোখে চোখ রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। পরে আমি প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে বলি, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের সঙ্গে আপনার একটি সাক্ষাৎকারও যাবে। সিদ্ধান্তটি এভাবেই দুজনে মিলে নিই।

পরে খবর পাই, হুমায়ূন ও শাওন দুজনে মিলে নতুন সংসার সাজিয়েছেন। তারা বিয়ে করেন ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আজ আমরা বড় একটা শূন্যতা বয়ে বেড়াচ্ছি। যাকে ঘিরে আমাদের ঝিমিয়ে পড়া প্রকাশনাশিল্প প্রাণ ফিরে পেয়েছিল, চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকে গড়ে উঠেছিল নতুন ধারা, সেই তিনি, মানে হুমায়ূন আহমদ এত তাড়াতাড়ি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, আমরা কেউ ভাবতে পারিনি।

কবিতা মেঘ বাতাসের খেলা

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১২ পিএম
মেঘ বাতাসের খেলা

মেঘেরা আজ বাতাসের হাতে তুলে দিয়েছে তাদের সমস্ত ঠিকানা,
আকাশজুড়ে ভেসে বেড়ায় হারিয়ে যাওয়া দিনের গোপন আনাগোনা।
বাতাস কখনও আলতো ছোঁয়ায়, কখনও এলোমেলো করে দেয় মন,
মেঘেরা তারই সুরে সুর মিলিয়ে আঁকে বিষণ্নতার জলরং।
দিগন্তজোড়া এই খেলায়–সময়ও থমকে দাঁড়ায় নীরব হয়ে
মেঘ-বাতাসের খেলায় যেন প্রকৃতিও হাসে আপন মনে।

 

কবিতা জন্ম-মৃত্যুর খেলা

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ পিএম
জন্ম-মৃত্যুর খেলা

ঘুম ভাঙতেই দেখি
চারদিক ধোঁয়ায় ভরে গেছে
ভাবি, আগুন ধরেছে, না
শীতকাল এসে গেছে?
তারপরই মনে হয়,
না, এখন তো শীতকাল নয়,
তবে এই ধোঁয়ার উৎপত্তি কোথায়?
প্রশ্ন জাগে মনে
উত্তর আসে, শ্মশান

আসলে জন্মালে তো মৃত্যু হবেই
জন্ম-মৃত্যুর মাঝে কেটে যাওয়া জীবনে
কত ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় আমাদের
এমনকি মুখোমুখি হতে হয়
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না আর চিন্তারও

এসব নিয়েই কেটে যায় দিন-রাত
তবুও সবকিছুর শেষে উঠতেই হয় চিতায়
যে চিতা বলে যায় বারবার–
চিতাতে জ্বলে মৃত মানুষ
আর
চিন্তাতে জ্বলে জীবিত মানুষ।।

কবিতা নোনা জলের প্রহসন

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
নোনা জলের প্রহসন

তুমি বলো,
দুটো চোখে কতটা বিষণ্নতা লুকিয়ে রেখেছো– 
আমি তার সবটুকু দেখিনি, 
তবু বৃষ্টিভেজা বিকেলের মতো কিছু নীরবতা এসে ছুঁয়েছে আমাকে...

আমি জানি, যে মানুষ চোখের জল লুকোতে পারে না, 
সে মানুষ ভালোবাসাও লুকোতে পারে না কখনো,
অভিমান তার বুকের ভেতর শুকনো পাতার শব্দ তোলে, 
অবহেলা তাকে পোড়ায়, তবু সে আগুন হয়ে ওঠে না।

তুমি বলো উদাসীনতা, আমি দেখি ক্লান্তি, 
তুমি বলো আঁধার, আমি দেখি আলো হারিয়ে ফেলা কোনো প্রদীপ, 
যে এখনও নিভে যায়নি।

অপরাজিতার কথা বলেছো–জানো কি, 
মাটির খুব কাছাকাছি বলেই তার এত বেঁচে থাকার ক্ষমতা,
ঝড় তাকে ভাঙে, পায়ের নিচে পিষ্ট হয়, 
তবু সে আবার ফোটে, আকাশের দিকে নয়, জীবনের দিকে তাকিয়ে...
তুমিও ঠিক তেমন–অযুত কোটি,
মৃত্যু ঠেলে নিযুত লক্ষ  
জীবনের স্বপ্ন বয়ে নিয়ে চলা এক অনমনীয় সবুজ অন্ধকারে, 

তাই যদি কোনোদিন বৃষ্টি আর চোখের জলের ফারাক ভুলে যাও, 
মনে রেখো–কিছু মানুষ আছে, 
যারা তোমার কান্নার শব্দ শোনে না, 
তবু তোমার নীরবতার ভাষা পড়ে...
আর যদি পৃথিবী তোমাকে আগাছা বলে ডাকে, 
তবে জেনে রেখো– 
সব ফুল বাগানে জন্মায় না, 
কিছু ফুল জন্মায় টিকে থাকার ইতিহাস হয়ে...

কবিতা বেদনার নীল আকাশ

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
বেদনার নীল আকাশ

হয়তো এখন তোমার  সুখের পালা 
কে পারে বল স‌ইতে এ বিরহ জ্বালা?
বিনয়হীন সুখে মন আনন্দে নাচো 
নিত্য আগুন হয়ে মোর হৃদয়ে বাঁচো!

পোড়া হৃদয় কঙ্কাল দান বাক্স নয় 
পুড়তে পুড়তে যদি মন খাঁটি হয় 
তাহলে এসো আমার এ আকাশ খোলা 
তব সুখ উল্লাস যাবে না কভু ভোলা।

সুখ স্বর্গে আমার এই ধরণী ভরা
তোমার আকাশজুড়ে জন্মসুখ খরা
থাকবে না বাধা তোমার অমল সুখে 
ফুটুক তবু সৌম্য হাসি তোমার মুখে। 

এ নীলাকাশ আমার, কর তুমি খেলা 
সুখ আনন্দে কাটুক তব সারা বেলা। 

আধিভৌতিক স্বর: এক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
আধিভৌতিক স্বর: এক

তোমার ঠোঁটে চুমু–স্বর্গ হতে বিদায়!

রঙিন গার্ডারে বোতাম আটকে গেছে
পাপের পায়ে আমি মহাবিশ্বের দিকে
পেছনে কয়েকটি লোভ–সবুজ;
তাকে খারিজ করে আদম ও ইভের মোনাজাত।

আমি কী রাজহাঁস? সাঁতার কাটি পুলসিরাতের পাড়ে!