ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মেঘ বাতাসের খেলা জন্ম-মৃত্যুর খেলা নোনা জলের প্রহসন বেদনার নীল আকাশ আধিভৌতিক স্বর: এক অভিযোজন বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব দায়িত্বে অবহেলাজনিত বন্যার দায়ভার কার? শহীদুল জহিরের সাহিত্য ও সাম্প্রতিক বিতর্ক ভিডিও ধারণ করে আপন বোনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক,  ফিল্মি কায়দায় ভাইকে হত্যা, বোন সহ গ্রেপ্তার ২ ব্যক্তি নয়, রাজনীতির ভাষার সংকট অচেনা শহরে মেহেরুননেসা এসেছেন শরণার্থী হিসেবে প্রণোদনা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে ৪.৯ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হলো পেলের বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি একজন হুমায়ূন আহমেদ নোয়াখালীতে বিধবা ভাতার টাকা নিয়ে প্রতারণা, অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্য নিরসনে কাজ করছে সরকার বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নদের আংটি দেবে ফিফা পূর্ণকালীন হলেন ঢাবির আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবছার কামাল মেসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নিয়ে মুখ খুললেন বেলিংহাম সামান্য বৃষ্টিতে অচল রাজধানী ২০২০ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীনা হস্তক্ষেপ: ট্রাম্প বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্যের দ্বৈরথ নিঝুমদ্বীপে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার খুলনায় মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা মেসির উত্তরাধিকার বনাম নতুন স্বপ্ন টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ যুবকের মৃত্যু ভক্তির আবহে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা সংসদে বাজেট আলোচনাকে হার মানিয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক দুপুরের মধ্যে ৮ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, সতর্ক সংকেত

৪.৯ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হলো পেলের বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
৪.৯ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হলো পেলের বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি
ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের পরা জার্সি ছবি: সংগৃহীত

১৯৫৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের পরা জার্সিটি রেকর্ড ৪.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (প্রায় ৪.৯ মিলিয়ন ডলার) বিক্রি হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিলাম প্রতিষ্ঠান সদবিস-এর আয়োজিত নিলামে জার্সিটি বিক্রি হয়। এটি পেলের ব্যবহৃত কোনো স্মারকের জন্য সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্যের নতুন রেকর্ড।

১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে মাঠে নামার সময় পেলের বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। ওই ম্যাচে তিনি দুটি গোল করে ব্রাজিলকে ৫-২ গোলে জিতিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন। এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে খেলা ও গোল করার রেকর্ড তার দখলেই রয়েছে।

ফাইনাল শেষে পেলে জার্সিটি সতীর্থ দিদাকে উপহার দেন। পরে দিদা সেটি রিও ডি জেনিরোর ‘মুজেউ দোস এস্পোর্তেস’ জাদুঘরে দান করেন। ২০০৪ সালে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ক্রিস্টিস-এর নিলামে জার্সিটি তুললে সেটি ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। 

সদবিস-এর স্পোর্টস স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান ব্রেন্ডন হকস বলেন, এই জার্সিটি শুধু ফুটবল ইতিহাসের একটি স্মারক নয়, বরং এটি সেই মুহূর্তের প্রতীক, যা পেলেকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম আইকনে পরিণত করেছিল। বিশ্বকাপ ফাইনালের সপ্তাহে জার্সিটির প্রতি সংগ্রাহকদের ব্যাপক আগ্রহও তিনি উল্লেখ করেন।

৪.৮৮ মিলিয়ন ডলারে বিক্রির মাধ্যমে পেলের এই জার্সি এখন ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যবান জার্সি। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচে পরা জার্সি, যা ৯.২৮ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছিল।

ক্রীড়া সামগ্রীর ইতিহাসে সবচেয়ে দামি জার্সি হলো বেসবল কিংবদন্তি বেব রুথের ‘কল্ড শট’ জার্সি, যার বিক্রয়মূল্য ২৪ মিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাস্কেটবল তারকা মাইকেল জর্ডানের ‘লাস্ট ড্যান্স’ জার্সি, যা বিক্রি হয়েছিল ১০.১ মিলিয়ন ডলারে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নদের আংটি দেবে ফিফা

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নদের আংটি দেবে ফিফা
ছবি: সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারণই করবে না, ফুটবল ইতিহাসেও যোগ করবে এক নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপজয়ী দলকে চ্যাম্পিয়নশিপ রিং প্রদান করবে ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের এনবিএ ও এনএফএল এর মতো জনপ্রিয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ঐতিহ্য এবার জায়গা করে নিচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরেও।

ফিফা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত ২০২৬ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে ২,০২৬টি নম্বরযুক্ত স্মারক আংটি। এর মধ্যে ৩০টি আংটি সংরক্ষিত থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের জন্য। বাকি ১,৯৯৬টি আংটি বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের জন্য সীমিত সংস্করণের অফিসিয়াল মার্চেন্ডাইজ হিসেবে বিক্রি করা হবে।

চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য নির্ধারিত আংটিগুলো ফাইনালের পর একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হবে। তার আগে প্রতিটি আংটির নকশায় বিজয়ী দলের পরিচয় যুক্ত করে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। এক পাশে থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীক, আর অন্য পাশে খোদাই করা হবে চ্যাম্পিয়ন দলের নাম ও পরিচয়।

তবে ফাইনাল শেষে মাঠের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই এই নতুন ঐতিহ্যের সূচনা হবে। আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বিজয়ী দলের অধিনায়ক ও কোচকে প্রতীকীভাবে দুটি চ্যাম্পিয়নশিপ রিং পরিয়ে দেওয়া হবে। পরে দলের অন্য সদস্যদের জন্য নির্ধারিত আংটিগুলো পৃথক অনুষ্ঠানে হস্তান্তর করা হবে।

মেসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নিয়ে মুখ খুললেন বেলিংহাম

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৪০ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
মেসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নিয়ে মুখ খুললেন বেলিংহাম
ছবি: সংগৃহীত

সেমিফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন লিওনেল মেসির সঙ্গে মাঠের উত্তপ্ত আলোচনাকে স্রেফ সাধারণ ঘটনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের তারকা মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মেসির জাদুকরী দুটি অ্যাসিস্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। এই জয়ের মাধ্যমে রবিবারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়া নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।

তবে প্রথমার্ধে বেলিংহাম ও মেসির মধ্যকার একটি মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরা পড়ে, যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেখানে দেখা যায়, হাত নেড়ে এবং চোখে-মুখে তীব্র অভিব্যক্তি প্রকাশ করে একে অপরের সাথে কথা বলছেন এই দুই তারকা।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে বেলিংহাম বলেন, ‘আসলে আমরা একটি ফাউল নিয়ে আলোচনা করছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘খারাপ কিছু ঘটেনি। আমি নিশ্চিত যে সবাই এটি নিয়ে তিলকে তাল করবে এবং বড় একটি ঘটনা বানানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু সত্যি বলতে, এটি মোটেও বড় কোনো বিষয় ছিল না।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বেলিংহাম বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল একটু আগে একটি ফাউল হয়েছিল, আর ও (মেসি) বলল, 'আমার ওপর যে ফাউলটি করা হলো সেটার কী হবে?' আমি বললাম: 'তুমি যথেষ্ট শক্তিশালী, এই ধাক্কা সহ্য করার ক্ষমতা তোমার আছে।' আশা করি বুঝতে পেরেছেন আমি কী বোঝাতে চেয়েছি।’

মেসির প্রতি সম্মান জানিয়ে এই ইংলিশ তারকা বলেন, ‘তার বিপক্ষে খেলাটা ছিল একটা পরম সৌভাগ্য, তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ ছিল না। অবশ্যই আমি পরাজিত দলে আছি এবং এই হার আমাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে। তবে সর্বকালের অন্যতম সেরা একজন খেলোয়াড়ের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারাটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের।’

পাপ্পু/নাঈম

বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্যের দ্বৈরথ

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এএম
বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্যের দ্বৈরথ
বামে স্কালোনি, ডানে দে লা ফুয়েন্তে। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিয়ে এসেছে এক অসাধারণ চমক। একদিকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মাঠের লড়াই যেমন শিরোপার, তেমনি ডাগআউটেও অপেক্ষা করছে এক বিরল দ্বৈরথ। মুখোমুখি হচ্ছেন শিক্ষক লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং তারই সাবেক ছাত্র লিওনেল স্কালোনি।

সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে স্পেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে আর্জেন্টিনা। ফলে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে এবার মুখোমুখি হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সফল দুই দল।

স্পেন ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি পাচ্ছে। অন্যদিকে স্কালোনির আর্জেন্টিনার সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ। ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়তে চায় আলবিসেলেস্তেরা।

তবে এই ফাইনালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায় দুই কোচের ব্যক্তিগত সম্পর্ক। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) লা রোজাস কোচিং একাডেমিতে দে লা ফুয়েন্তে ছিলেন প্রশিক্ষক, আর স্কালোনি ছিলেন তার ছাত্র। ২০১৭ সালে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর কোচিং লাইসেন্স অর্জনের জন্য ওই কোর্সে অংশ নেন স্কালোনি। সেখানেই শুরু হয় তাদের পেশাগত সম্পর্ক, যা সময়ের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্বে রূপ নেয়।

দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে পারলে তিনি খুশি হবেন। সেটি প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখার কারণে নয়; বরং নিজের সাবেক ছাত্র ও বন্ধু স্কালোনির বিপক্ষে এমন ঐতিহাসিক ম্যাচে অংশ নেওয়ার অনুভূতি থেকেই।

তবে বন্ধুত্ব মাঠের বাইরে। ফাইনাল প্রসঙ্গে স্কালোনি মজা করে বলেন, ‘আমাদের দিনটা যদি ভালো না যায়, তাহলে আমি তাকে ফোন করব। কিন্তু যদি ফাইনালে তার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে আশা করি ফাইনালের আগে আর কোনো কথা হবে না।’

মেসির উত্তরাধিকার বনাম নতুন স্বপ্ন

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
মেসির উত্তরাধিকার বনাম নতুন স্বপ্ন
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল গোলের খেলা। তবে গোল না করেও যে একটি ম্যাচে সবচেয়ে বড় প্রভাব রাখা যায়, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন লিওনেল মেসি। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকা মেসি নিজের গোলসংখ্যা বাড়াতে না পারলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ছিলেন অনন্য। দল যখন পিছিয়ে পড়ে প্রবল চাপে, ঠিক তখনই দুটি গোলের জোগান দিয়ে তিনি আবারও আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দিলেন বিশ্বকাপ ট্রফির দ্বারপ্রান্তে।

আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে হারায় ইংল্যান্ডকে। জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেজ। তবে গোলের পর সতীর্থরা ছুটে যান মেসির কাছেই। কারণ গোলটির সূচনা হয়েছিল তার দারুণ এক ক্রস থেকে। এর ৭ মিনিট আগে এনজো ফার্নান্দেজও মেসির ক্রস থেকেই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও আর্জেন্টিনার জয়ের নেপথ্যে ছিল মেসির ওই দুটি অ্যাসিস্ট।

৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপে নিজের ছাপ রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। সাত ম্যাচে আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও আছেন সবার ওপরে। নকআউট পর্বের চারটি ম্যাচেই খেলেছেন পুরো সময়। প্রথম পাঁচ ম্যাচে গোল করেছেন। শেষ দুই ম্যাচে যদিও গোল পাননি, তবে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের জন্য কীভাবে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে হয়, সেটিকে যেন শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তাই তো বারবার চাপের মুখে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখছে আর্জেন্টিনা। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের দুয়ারে।

ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবেন মেসি। ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে হেরে রানার্সআপ হতে হয়েছিল তাকে। তবে ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ পান। এবার ২০২৬-এর ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্পেন। ফল কী হবে, তা বলবে সময়। তবে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের এই লড়াইয়ে রয়েছে একটি গভীর যোগসূত্র–লা মাসিয়া। বার্সেলোনার বিখ্যাত এই যুব একাডেমি শুধু অসংখ্য ফুটবলারই তৈরি করেনি, গড়ে তুলেছে একটি স্বতন্ত্র ফুটবল দর্শন। এবারের ফাইনালে সেই দর্শনে বেড়ে ওঠা দুই ভিন্ন প্রজন্ম মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

একদিকে লিওনেল মেসি, যিনি আর্জেন্টাইন হলেও ফুটবলার হিসেবে বেড়ে উঠেছেন বার্সেলোনার লা মাসিয়ায়। অন্যদিকে স্পেনের নতুন প্রজন্ম, যাদের অনেকেই বেড়ে উঠেছে একই পাসিং, বল নিয়ন্ত্রণ ও দলগত ফুটবলের দর্শনে। তাই ফাইনালের লড়াই শুধু আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন নয়; এটা অনেকটা লা মাসিয়ার গড়ে তোলা ফুটবল সংস্কৃতিরও প্রতিফলন।

লিওনেল মেসি যখন অল্প বয়সে বার্সেলোনায় যোগ দেন, তখন কেউ ভাবতেও পারেনি যে একদিন তিনি বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠবেন। লা মাসিয়ায় তিনি শুধু ড্রিবলিং বা গোল করার দক্ষতাই শানিত করেননি; শিখেছেন দলগত ফুটবলের দর্শনও। সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ছোট পরিসরে খেলার অসাধারণ সক্ষমতা–এসবই তার খেলায় লা মাসিয়ার স্পষ্ট ছাপ। তাই মেসির সাফল্যের সঙ্গে এই একাডেমির নামও অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে স্পেনের সোনালি যুগের ফুটবলেও লা মাসিয়ার দর্শনের প্রভাব ছিল সুস্পষ্ট। জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও সার্জিও বুসকেটসের মতো খেলোয়াড়রা বার্সেলোনার একাডেমি থেকে উঠে এসে স্পেনের ঐতিহাসিক সাফল্যের অন্যতম কারিগর হয়েছেন। তাদের ফুটবলের মূলমন্ত্র ছিল–বল হারানোর আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া, মাঠের ফাঁকা জায়গা খুঁজে বের করা এবং দল হিসেবে খেলা। রদ্রি, লামিন ইয়ামালদের স্পেনও সেই ধারার উত্তরাধিকার বহন করছে। তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস, কারিগরি দক্ষতা এবং বল নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতির পেছনেও রয়েছে সেই দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ দর্শন।

একটি বিষয় নিশ্চিত, আগামী রবিবারের ফাইনালে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবেন লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামাল। প্রায় দুই দশকের বয়সের ব্যবধান হলেও তাদের ফুটবল বেড়ে ওঠার ঠিকানা একটাই। এই মুহূর্তে তরুণ মেসির কোলে শিশু ইয়ামালের ছবি তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

সেটি অবশ্য ভিন্ন এক গল্প। তবে দুজন দুই প্রজন্মের হলেও একই একাডেমি, একই দর্শন ও একই ফুটবল শিক্ষায় তারা বেড়ে উঠেছেন। আর ফাইনালে লা মাসিয়ার প্রতিনিধিত্ব শুধু এই দুজনেই সীমাবদ্ধ নয়। স্পেন দলে পাউ কুবার্সি, গাভি, এরিক গার্সিয়া, দানি ওলমো, মার্ক কুকুরেয়া, আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো, ভিক্টর মুনিয়োজসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ও এই একাডেমির সঙ্গে যুক্ত। তাই এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু দুই দেশের শিরোপার লড়াই নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল একাডেমি লা মাসিয়ার উত্তরাধিকার, দর্শন ও দর্শনের সফল বাস্তবায়নেরও এক অনন্য প্রদর্শনী।

আকাশপানে মেসির এক পলক, তারপরই ঝলক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আকাশপানে মেসির এক পলক, তারপরই ঝলক
ছবি: সংগৃহীত

এক গোলে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা। ৫৫ মিনিটে গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে যাওয়ার পর নিজেদের গোলপোস্ট অক্ষত রাখার জন্য চীনের প্রাচীর গড়ে তোলে তারা। ১১ জন খেলোয়াড়ই তখন নিজেদের সীমানা পাহারায় ব্যস্ত। আর্জেন্টিনার একমাত্র গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ছাড়া বাকি সবাই ইংল্যান্ডের সীমানায়। ২১ জন খেলোয়াড় একটি সীমানায় গিজ গিজ করছেন। বলের পেছনে দুই দলের একাধিক খেলোয়াড়। কখনো কখনো খেলোয়াড়দের জটলা এমনই আকার ধারণ করে যে, বলই দেখা যায়নি। এর মাঝে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা নিজেদের মাঝে বল আদান-প্রদান করে গোল করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। কখনো ভাঙা সম্ভব হলেও প্রাচীর হয়ে উঠছেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। কখনো গোলপোস্ট। আবার কখনো কখনো রক্ষণের কোনো না কোনো খেলোয়াড়। এদিকে খেলার সময় ক্রমেই শেষের দিকে এগোচ্ছে। 

প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মিসরের বিপক্ষে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও মেসি ম্যাজিকে পরে ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এবার তো ১-০ গোলে পিছিয়ে। মাত্র একটি গোল। সেটি কি পরিশোধ করা সম্ভব হবে না? তাহলে কি মেসির আর্জেন্টিনার বিদায় ঘটবে। ফাইনালে খেলা হবে না! কোটি কোটি ভক্ত-সমর্থক হতাশায় নিমজ্জিত হবেন। খেলার সময় ৮০ মিনিটের কাঁটা অতিক্রম করে ফেলেছে। দর্শকরা ঘড়ির কাঁটা আর মাঠের খেলার দিকে সমানভাবে চোখ রাখছেন। ম্যাচের ৮৩ মিনিট। বক্সের বাইরে থেকে মেসির বাঁকানো ক্রস বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। এমন সময় টিভি ক্যামেরা মেসির দিকে তাক করে। দেখা যায় মেসি আকাশপানে তাকাচ্ছেন। মেসি সচরাচর গোল করার পর এভাবে আকাশের পানে চেয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকেন।

এবার আকাশের পানে চেয়ে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করছেন হয়তো গোল না হওয়ার কারণে। মনে মনে সৃষ্টিকর্তার কাছে সহযোগিতা চাচ্ছিলেন, ‘এ যাত্রায় রক্ষা করো প্রভু। এটি আমার শেষ বিশ্বকাপ। অন্তত আরেকটিবার আমাকে ফাইনাল খেলার সুযোগ করে দাও।’ পরক্ষণেই গোল করে আর্জেন্টিনা। যার উৎস আবার ছিলেন স্বয়ং মেসি । বক্সের বাইরে থেকে লাউতারো মার্তিনেজের বুলেট গতির শট পিকফোর্ড লাফিয়ে পাঞ্চ করে কর্নার করে রক্ষা করেন। কর্নার শট মেসি সরাসরি না মেরে সামনে থাকা দলের একজনকে দেন। সেই বল আবার আসে মেসির কাছে। মেসি বল ধরে নিজের ক্যারিশমা দিয়ে বক্সের দিকে এগিয়ে গিয়ে না ঢুকে বক্সের ওপরে অনেকটা ফাঁকায় দাঁড়ানো এনজো মার্তিনেজকে দেন। এবার আর নিশানা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। না গোলরক্ষক পিকফোর্ট, না গোলপোস্ট, না অন্য কোনো খেলোয়াড় কেউই বাধার প্রাচীর হয়ে উঠতে পারেননি। এনজোর বুলেট গতির শট পিকফোর্ট চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সফল হতে পারেননি। বল তার আপন জায়গায় পৌঁছে যায়। উল্লাসে ফেটে পড়েন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। মাঠে উপস্থিত দর্শকরা। আর টিভির কল্যাণে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অগণিত আর্জেন্টাইন সমর্থক। 

সবাই বলে থাকেন মেসি ‘গড গিফটেড’। বিধাতা যেন তাকে নিজ হাতে বানিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ৩৯ বছর বয়সে এসেও তিনি যে খেলা খেলছেন, তা উপরওয়ালার আশীর্বাদ ছাড়া সম্ভব নয়। মেসির এই বয়সের খেলা দেখে ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও নিজেই বলেছেন, ‘মেসির বয়সে আমার ওজন ছিল ১২০ কেজি।’ উপরওয়ালার দিকে মাথা তুলে মেসির চাওয়া বিধাতা হয়তো শুনে থাকবেন। যার ফলাফল পাওয়া যায় সমতাসূচক গোল থেকে। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি মেসি। ইনজুরি টাইমে গিয়ে তিনি আবার দেখান ম্যাজিক। ডান প্রান্ত থেকে তার ডান পায়ের মাপা ক্রস কিছুক্ষণ আগে বদলি হিসেবে মাঠে নামা লাউতারো মার্তিনেজ ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মাঝ থেকে লাফিয়ে উঠে বল জালে পাঠালে গগনবিদারী আওয়াজে সর্বত্র কেঁপে ওঠে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় পটকা ফোটানো। সঙ্গে ভুভুজেলার আওয়াজ। সেই উল্লাস আর আওয়াজ থামেনি। খেলার শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে মাত্রা আরও বেড়ে যায়। রাতের আঁধার হারিয়ে গিয়ে চলে জয়োৎসব। এভাবেই আকাশপানে ক্ষণিকের চাহনিতে মেসি ফেরেন নিজের মতো করে। 

জিতেছে আর্জেন্টিনা। স্কোরশিটে নেই মেসির নাম। আছে এনজো ফার্নান্দেজ আর লাউতারো মার্তিনেজের। কিন্তু মেসিই আসল ত্রাতা। দুটি গোলের উৎসই তিনি। তার কারণেই আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো শেষ চার বিশ্বকাপে তিনবারই ফাইনালে। এর আগে তারা ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চার বিশ্বকাপে তিনবার খেলেছিল ফাইনাল। দুইবার হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। এবার টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অবারিত সুযোগ। ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মেসি তার দল নিয়ে নামবেন টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মিশনে। যেখানে প্রতিপক্ষ স্পেন। 
ক্যারিয়ারের ক্রান্তিকালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম মাঠে নেমেছিলেন মেসি। ইংল্যান্ডরা টের পেয়েছে মেসির ঝাঁজ কী? ৮৫ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখতে পারলেও পরে আর পারেনি। ৭ মিনিটের ঝাঁজে তারা পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। যেমনটি প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে হয়েছিল মিসর। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও মেসি ঝলকে তারা হেরেছিল ৩-২ গোলে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন মনে করেন এক মেসির কাছেই তারা হেরেছেন। তিনি বলেন, ‘মেসি তো আর এমনি এমনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হননি।’

ইংল্যান্ডের সাবেক গোলকিপার জো হার্টের মতে, ‘ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিট মেসি একাই নিয়ন্ত্রণ করেছেন।’ ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের সাবেক খেলোয়াড় মিকা রিচার্ডসের দৃষ্টিতে মেসি হেঁটে হেঁটে খেলেন। তিনি বলেছেন, ‘মাঠের মধ্যে মেসি হেঁটে হেঁটে বেড়ান। কিন্তু বল পাওয়া মাত্রই তিনি জ্বলে ওঠেন এবং অধিকাংশ ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেন।’ তাদের কথার যথার্থতা পাওয়া যায় ম্যচের দিকে নজর ফেরালে। মেসি সফলভাবে ড্রিবলিং করেছেন ৯ বার।গোটা ইংল্যান্ড দলের ড্রিবলিং ছিল ৭টি। ইংল্যান্ডের বক্সে মেসি বল টাচ করেছেন ৭টি। আর্জেন্টিনার সীমানায় ইংল্যান্ড দলের টাচ ছিল মেসির সমান। মেসি একাই গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন ৪টি। ইংল্যান্ড দলের সুযোগও তৈরি হয়েছিল মেসির সমান ৪টি। মেসি সবচেয়ে বেশি ৯টি ক্রসও করেছেন।

মেসির সঙ্গে প্রথম দেখাতে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের নোনতা স্বাদ হয়েছে। তারা হয়তো এই ম্যাচ ভুলেই যেতে চাইবে। কিন্তু চাইলেই কি আর ভোলা সম্ভব হবে? ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনোর সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল আর ইতিহাসে শতাব্দীর সেরা গোল যেন বারবার সামনে আসে, তেমনি মেসিময় এই ম্যাচও আসবে আগামীতে।