টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশে ১২টি জেলার ওপর দিয়ে এখন বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি এখন নাজুক দশায় পরিণত হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় রাষ্ট্রের অনেক কিছু করার ছিল কিন্তু চোখে পড়ার মতো দৃশ্যমান কিছু দেখা যাচ্ছে না।
বিশেষ করে এবারের বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসে ৩৫ জনের মতো মৃত্যু হয়েছে। রাষ্ট্রের যেন এতে কোনো দায় নেই। তাছাড়া চট্টগ্রাম, বান্দারবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুরে লাখ লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অন্যদিকে ঢাকা শহরে যুগের পর যুগ সামান্য বৃষ্টি হলেই জলের স্রোত বয়ে চলে, অবিরত বর্ষায় তার পরিস্থিতি কতটা নাজুক হয় তা ঢাকা শহরের মানুষ হারে হারে টের পাচ্ছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন কত ঢাকঢোল পেটাল। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করল।
কিন্তু ড্রেন আর কালভার্টগুলো সময়মতো পরিষ্কার না করার কারণে বর্ষায় তাদের নাকাল হতেই হলো। যেন রাষ্ট্রের কোনো ভাবাবেগ নেই, কোনো দায়িত্ব নেই। সড়কগুলোতে নদীর মতো পানির ঢেউ চলছে। মানুষ ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। কর্মজীবীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপত্তিতে। কোথাও কোমর আবার কোথায়ও গলাসমান পানিতে নেমে অফিসে যেতে হচ্ছে।
ঢাকার একটি হাসপাতাল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। রোগী ও তার স্বজনরা হাসপাতালে যেতে মহাবিপাকের শিকার হচ্ছেন। সিটি করপোশেনের কুম্ভকর্ণের ঘুম আর কবে ভাঙবে, সেটাই দেশের মানুষ এখন জানতে চায়?
হাজি মো. রাসেল ভূঁইয়া
খলিফাবাড়ি, সিপাহিপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
[email protected]