সরকারি বিধবা ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন এক অসহায় বৃদ্ধা। প্রতারকের হাতে তিন মাসের ভাতার পুরো অর্থ হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ছুটে যান তিনি। পরে ইউএনওর মানবিক সহায়তায় ফিরে পান হারানো টাকার সমপরিমাণ অর্থ আর তাতেই মুখে ফিরে আসে স্বস্তির হাসি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকালে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়লে ইউএনও মোহাম্মদ রাসেল ইকবালের মানবিক উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
জানা গেছে, হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খতিজা বেগম দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিধবা ভাতা পাচ্ছেন। সর্বশেষ তিন মাসের ভাতার দুই হাজার টাকা উত্তোলনের সময় একটি প্রতারক চক্র কৌশলে তার কাছ থেকে পুরো অর্থ হাতিয়ে নেয়। হঠাৎ করেই ভাতার টাকা হারিয়ে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন তিনি।
উপায়ান্তর না দেখে কান্নাজড়িত অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে নিজের দুর্ভোগের কথা জানান খতিজা বেগম।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ’আব্বা, আমার ট্যাকা লইয়া গেছে, আই অন কেমনে চলমু? অসহায় বৃদ্ধার আর্তনাদ শুনে তাকে শান্ত করেন ইউএনও মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল। তিনি সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, চিন্তা করবেন না, আপনার টাকা আমার কাছেই আছে। এরপর নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিন মাসের ভাতার সমপরিমাণ দুই হাজার টাকা তাকে তুলে দেন।’
অর্থ হাতে পেয়েই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন খতিজা বেগম। কান্নাভেজা চোখে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল খবরের কাগজকে বলেন, সরকারি ভাতাভোগীদের লক্ষ্য করে প্রতারক চক্র বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণা করছে। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত ব্যক্তির হাতে এটিএম কার্ড, মোবাইল ফোন, পিন নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য তুলে দেওয়া যাবে না। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করারও পরামর্শ দেন তিনি।
হানিফ উদ্দিন/আজহার/
জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্য নিরসনে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'জুলাই কেবল একটি গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি নয়। এটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। ২০২৪ সালের আন্দোলনে বৈষম্য ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়েই ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল। অনেকেই জীবন দিয়েছেন, অনেক পরিবার স্বজন হারিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছে।'
তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য কমাতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নানা ধরনের সেবা কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের ঋণ পুনঃতফসিল ও ঋণসহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার জন্য শিক্ষা ঋণ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতদের ভাতা বা সম্মানীর ব্যবস্থা এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।'
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য কমাতে সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। উচ্চশিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ঋণ, কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র (এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার) এবং দেশের আট বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইউজিসির এ সদস্য বলেন, 'চাকরি খোঁজার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নিলে সেখানে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় ইউজিসি সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে।'
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন তার বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের শহিদ আবু সাঈদসহ সব শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে তিনি শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শহিদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বক্তব্য দেন।
গাজী আজম/তামান্না রুপা
নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের কেওড়া বাগান থেকে জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ইউনিয়নের হাসি মার্কেট সংলগ্ন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেওড়া বাগান এলাকায় স্থানীয় লোকজন মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে কেওড়া বাগানের ভেতরে একটি মরদেহ ভেসে থাকতে দেখেন কয়েকজন জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দা। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। মরদেহটি দীর্ঘদিন পানিতে থাকার কারণে অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মরদেহটির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, জোয়ারের স্রোতে অন্য কোনো এলাকা থেকে মরদেহটি ভেসে এসে কেওড়া বাগানে আটকে যায়। তবে এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সে বিষয়ে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাদশা বলেন, 'আমরা মরদেহ দেখে পুলিশকে জানিয়েছি কিন্তু রাত হয়ে গেলেও এখনো মরদেহটি উদ্ধার করা হয়নি।'
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন নৌ পুলিশ কেন্দ্রের পরিদর্শক আশিকুর রহমান বলেন, 'আমরা মাত্র বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এদিকে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, 'খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয় কিন্তু সেটি নদীর কাছে হওয়ায় নৌ পুলিশের আওতায় পড়েছে। তারা উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।'
হানিফ সাকিব/তামান্না রুপা/
পূর্ব শত্রুতার জেরে খুলনার ডুমুরিয়ায় কারিমুল ইসলাম (৫০) নামে স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে ডুমুরিয়ার সাহস নোয়াকাটি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তিনি সাহস নোয়াকাটি বাজার মসজিদের মুয়াজ্জিন। চিকিৎসকরা জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার গলার শ্বাসনালি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।
স্থানীয়রা জানান, ভোররাতে মসজিদে ফজরের আজান দিতে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। দুর্বৃত্তরা তাকে বাড়ির পুকুরপাড়ে নিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তাকে মৃত ভেবে পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। কোনোরকমে সাঁতরে পুকুর পাড়ে উঠে তিনি জ্ঞান হারান। পরে পথচারীরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মসজিদটির ইমাম আব্দুল্লাহ সরদার জানান, নামাজ পড়তে এসে মুসল্লিরা মসজিদ তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে জানা যায়, কে বা কারা কারিমুলের গলা কেটে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। ডুমুরিয়া থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, জমিসংক্রান্ত স্থানীয় বিরোধের একটি তথ্য জানা গেছে। সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।