ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সংসদে কুস্তি ভাইয়ে দোস্তি বিশ্বকাপের পর রেহানের সিনেমার প্রচার শুরু টঙ্গীর ‘শীর্ষ মাদকসম্রাজ্ঞী’ কারিমা গ্রেপ্তার মব একটি ঘৃণিত অপরাধ প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে ক্ষোভের মুখে জেলেনস্কি ১১-দলীয় জামায়াত জোটে ভাঙনের সুর অনির্দিষ্টকালের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ডেটাবেজ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ-পুনর্বাসনের টার্গেট শেষ পর্যন্ত লড়বে ইরান আকাশপানে মেসির এক পলক, তারপরই ঝলক স্লুইসগেট খুলবে কে নতুন দেখা উইস্টারিয়া ফুল ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত রাজনৈতিক প্রভাবে কালো তালিকা থেকে মুক্তির অভিযোগ বৃষ্টির প্রভাবে ডিম মুরগি সবজির দাম বেড়েছে ‘মহাকাব্যেরও মহাকাব্য’ আর্জেন্টিনায় প্রশংসায় স্কালোনি ১৭ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৭ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স ‘মহাকাব্যেরও মহাকাব্য’ লাউতারোয় আর্জেন্টিনার নতুন মহাকাব্য যেভাবে সবকিছু ঘটছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য হতাশার মাঝেও আলো গর্ডন নিভে গেল আশার আলো, তবু উজ্জ্বল গর্ডন ১৭ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি মালভিনাস ব্যানারে নতুন বিতর্ক ফিফার দ্বারস্থ ব্রিটেন ব্রিটিশ মিডিয়ায় শোকের মাতম টুখেলের কাঁধে হারের দায় কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুরের জন্মদিন আজ পুনঃপরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড নৌবাহিনী প্রধান হলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

স্লুইসগেট খুলবে কে

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ এএম
স্লুইসগেট খুলবে কে
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাঁশখালী এবং কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবার ভারী বৃষ্টিপাতের সময় স্লুইসগেট বন্ধ থাকার কারণে পানি নামতে পারেনি। এসব স্লুইসগেট খুলে দেওয়ার জন্য কয়েকজন মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো–এই স্লুইসগেট খুলবে কে? খোলার দায়িত্ব কার? পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে তাদের লোকবল নেই। অন্যদিকে এর ওপর স্থানীয় প্রশাসনেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যেসব স্লুইসগেট রয়েছে তা নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্লুইসগেট রয়েছে ৮৫টি। তবে স্থানীয়দের তথ্যমতে, বাঁশখালী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আরও প্রায় ১৫০টি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। আর কক্সবাজারে রয়েছে প্রায় ২৫০টি স্লুইসগেট। দুই জেলার প্রায় ৫০০ স্লুইসগেট ব্যবহার হয় উপকারভোগীর ইচ্ছামতো। এখানে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। পাউবোও তা নিয়ন্ত্রণ করে না। যে কারণে সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে লবণচাষি, মৎস্যচাষি যে যার সুবিধামতো স্লুইসগেটের পানি ছাড়ে ও বন্ধ করে।

সরেজমিন গিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যার পর পানি নামতে শুরু করলেও এখনো কিছু এলাকার মানুষ পানিবন্দি। পানি নামতে দেরি করায় সবার নজর পড়ে বন্ধ থাকা স্লুইসগেটগুলোর দিকে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য এবং বন্যার মাত্রা ও ভয়াবহতা বৃদ্ধির জন্য স্লুইসগেট দখলে থাকা প্রভাবশালীদের দায়ী করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, যথাসময়ে স্লুইসগেটগুলো খুলে দিলে এই ভয়াবহ অবস্থা হতো না।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সরল ইউনিয়নের মিনজিরিতলা, সরল, কাথরিয়া ইউনিয়নের বরইতলী, শীলকূপের জালিয়াখালী, মনকিচর, গণ্ডামারা, চাম্বলের ডেপুটিঘোনা, শেখেরখিল, ছনুয়া এবং পুঁইছড়ি ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্লুইসগেট বন্ধ ছিল। এর মধ্যে অনেকগুলো অচল। যেগুলো সচল ছিল তাও সময়মতো খোলা হয়নি। এ জন্য ভুক্তভোগীরা প্রভাবশালী মাছচাষিদের দায়ী করেছেন।

বাঁশখালীর কাথরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিজেদের স্লুইসগেট এবং অবৈধভাবে নির্মিত গেটগুলোর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের। যে কারণে এগুলো বাঁশখালীর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তদারকি না থাকা এবং ভারী বৃষ্টির সময় যথাসময়ে এগুলো খুলে না দেওয়ায় পানি আটকে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ জন্য পাউবোর নিষ্ক্রিয়তার পাশাপাশি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার-চেয়ারম্যানরাও কম দায়ী নন। তিনি বলেন, স্লুইসগেটগুলো বন্ধ রেখে বাঁশখালীর মানুষকে বন্যা ও পানিবন্দি করে রাখা হয়েছে। পাউবোর লোকজন বাঁশখালীতে কোনো দায়িত্ব পালন করেন না। তারা স্পটে না গিয়ে মাঝেমধ্যে গুনাগারির অফিসে এসে চলে যান।

জানতে চাইলে বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, বাঁশখালীতে বন্যার কারণে ছয় হাজারের বেশি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুর্যোগের জন্য অনেকগুলো কারণ দায়ী। ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে উজানের পানি যোগ হয়েছে। জলকদর খাল উঁচু হয়ে গেছে। বাঁশখালীর ৫০ শতাংশ স্লুইসগেট অকেজো। আবার অনেক স্লুইসগেট বন্ধ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। বাস্তবতা হলো, স্লুইসগেটগুলো পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই। যে কারণে আশপাশের জমির মালিকরা তাদের সুবিধামতো সেটি ব্যবহার করেন। কিন্তু এই গেট নিয়ন্ত্রণের জন্য লোকবল দরকার। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার-চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দিলে তারাও মাস্টাররোলে লোক নিয়োগ দিয়ে সেটি পরিচালনা করতে পারেন। সদিচ্ছা থাকলে পানি ব্যবস্থাপনা করা কোনো ব্যাপার না।

বিষয়টি নিয়ে তিনি ভাবছেন উল্লেখ করে বলেন, নিয়ন্ত্রণের জন্য পাউবো কিংবা স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে কেউ না থাকলে বিশৃঙ্খলা হবেই। যার পরিণতি জনদুর্ভোগ। এর থেকে বের হওয়ার উপায় খোঁজা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন করে বড় তিনটি স্লুইসগেইট নির্মাণ এবং জলকদর খাল খননের উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন।

এদিকে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের চিঠি দিয়ে স্লুইসগেট দখলদারদের তালিকা দিতে বলেছেন। কী কারণে স্লুইসগেটগুলো যথাসময়ে খোলেনি তার ব্যাখ্যাও তিনি চেয়েছেন। খবরের কাগজকে তিনি জানান, বাঁশখালীর বন্যা পরিস্থিতির সঙ্গে স্লুইসগেট, বেড়িবাঁধ এবং জলকদর খালের বিষয়টি উঠে এসেছে। এ বিষয়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে আগামীতে কেউ আর এই অপতৎপরতার সুযোগ না পায়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, বাঁশখালীতে ৮৫টি স্লুইসগেট রয়েছে। তার মধ্যে ৭৫টি সচল। ১০টি মেরামত করতে হবে। জলকদর খাল দখল এবং ভরাট হয়ে গেছে। বাঁশখালীর মানুষ এত বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাত অতীতে কখনো দেখেনি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাতের হার আরও বাড়বে। তাই স্লুইসগেট আরও বাড়াতে হবে। বর্তমানে যেগুলো আছে তা আরও বড় করতে হবে। এগুলো কে নিয়ন্ত্রণ করে–এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রক্ষণাবেক্ষণ করে পাউবো। নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় উপকারভোগীরা। তাদের কাছে চাবি থাকে। তারাই প্রয়োজনে খুলে দেয়। যখন প্রয়োজন হয় বন্ধ করে। এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য পাউবোর কোনো লোকবল নেই। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্লুইসগেট নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না–এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তাদেরও লোকবল নেই। তা ছাড়া বিষয়টি পাউবোর। 

অন্যদিকে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ২৫০টি স্লুইসগেট রয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো অচল। যেসব সচল আছে তাও লবণ ও মৎস্যচাষিদের দখলে। মূলত যার জমির পাশে পড়েছে তিনি সেটি নিয়ন্ত্রণ করেন। নিজের মাছ রক্ষায় প্রভাবশালীরা নিজ নিজ এলাকার স্লুইসগেট বন্ধ রাখেন। পাউবোর কোনো মাঠপর্যায়ের তদারকি বা স্থায়ী গেট অপারেটর না থাকায় পুরো অঞ্চলের লাখো মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েন। 

জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খবরের কাগজকে জানান, এলাকার অধিকাংশ স্লুইসগেট প্রায় ৭০ বছর আগে নির্মিত। দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় সেগুলো এখন আগের মতো কার্যকরভাবে পানি নিষ্কাশন করতে পারছে না। অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলের পানির চাপও অনেক বেড়েছে। যার চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় স্থানে দুটি বা তিনটি করে নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ এবং এগুলোর নিয়ন্ত্রণ উপজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে আনা হলে পানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে গেট পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।

আরেক স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ বিএ বলেন, অধিকাংশ স্লুইসগেট অকেজো। তাই নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ করে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে। 
জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। পুলিশ সদস্যরা স্লুইসগেট এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল পরিচালিত অভিযানে একটি অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। কেউ গোপনে স্লুইসগেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা পানি চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করেছি, যাতে কেউ গোপনে এমন কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন দেলোয়ার বলেন, বন্যা শুরুর প্রথম দিন থেকেই স্লুইসগেট বন্ধ রাখার অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকার বদরখালী, ডেমুশিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের পর সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি সুইসগেটে দিন-রাত পাহারার জন্য গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর আর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সুইসগেট বন্ধ করে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে কক্সবাজার পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু রায়হান খবরের কাগজকে বলেন, স্লুইসগেট মেরামত করে পাউবো। কিন্তু কখন খুলবে, আর কখন বন্ধ করবে তা উপকারভোগীরা করেন। পাউবোর পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কমিটি গঠন করা হয়। কিছু এলাকায় কমিটি আছে। আবার অনেক এলাকায় নেই। যেখানে কমিটি কার্যকর না সেখানে সমস্যা নেই। যেখানে কমিটি কার্যকর এবং স্বার্থ জড়িত, সেখানে সমস্যা হচ্ছে। 

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী প্রতিনিধি শফকত চাটগামী এবং কক্সবাজারের পেকুয়া প্রতিনিধি রকিবুল হাসান।

টঙ্গীর ‘শীর্ষ মাদকসম্রাজ্ঞী’ কারিমা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০৪ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ এএম
টঙ্গীর ‘শীর্ষ মাদকসম্রাজ্ঞী’ কারিমা গ্রেপ্তার
মাদকের ডিলার কারিমা বেগম। ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরে টঙ্গীর কেরানীরটেক বস্তির মাদকের ডিলার ও ‘শীর্ষ মাদকসম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত কারিমা বেগমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার কারিমা বেগম কেরানীর টেক এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, কেরানীরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কারিমাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও পুলিশের ওপর হামলাসহ এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে।

পুলিশের দাবি, কারিমা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানের সময় তার নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুহীন বলেন, 'গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে কারিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।'

পলাশ প্রধান/তামান্না রুপা

অনির্দিষ্টকালের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
অনির্দিষ্টকালের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রন্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুধুমাত্র চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও কোন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।  তবে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড ব্যতীত অন্যান্য বোর্ডের অধীন জেলাগুলোতে পরীক্ষা যথা সময় অনুষ্ঠিত হবে।

আসিফ হাসান/অন্তরা/

ডেটাবেজ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ-পুনর্বাসনের টার্গেট

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
ডেটাবেজ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ-পুনর্বাসনের টার্গেট

বন্যা-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সরকার ডেটাবেজ তৈরি করে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডেটাবেজের আওতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে তাদের প্রয়োজন অনুসারে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বিতর্কমুক্ত রাখতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ত না করে মাঠ প্রশাসনের যোগ্য কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে সাত জেলায় আকস্মিক বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সমন্বিত পরিকল্পনা কাজে লাগানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই আন্তমন্ত্রণালয় সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত, বীজ ও সারসহ বিশেষ কৃষি প্যাকেজ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্তদের জাতীয় ডেটাবেজ তৈরি, বাঁধ ও সড়ক দ্রুত মেরামত, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা এবং ত্রাণ বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা নিয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ বন্যাকে শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সুশাসনের জন্য পরীক্ষা হিসেবেও দেখতে চাইছে সরকার। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দেশের বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

একই সঙ্গে ত্রাণ বিতরণে দলীয় হস্তক্ষেপ এড়িয়ে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করাই সরকারের লক্ষ্য। কার্যতালিকার আওতায় রয়েছে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত, পুনর্বাসনের জন্য জাতীয় ডেটাবেজ তৈরি এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সভায় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বক্তারা জানিয়েছেন, বন্যা মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন ত্রাণ বিতরণ নয়; বরং পানি নেমে যাওয়ার পর দুর্গত মানুষকে পুনর্বাসন করা। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনাও রয়েছে সরকারের লক্ষ্যে। এ জন্যই সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।

আন্তমন্ত্রণালয় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং কার্যক্রম সফল করতে ত্রাণ বিতরণে কোনো অনিয়ম, অপচয় বা বিতর্কের সুযোগ রাখা যাবে না। স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃত্বে সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি স্লুইসগেট পরিচালনায় ইজারাভিত্তিক ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানান, যেন পানি নিষ্কাশনে কোনো বাধা না থাকে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের একটি নির্ভুল ডেটাবেজ তৈরি করতে হবে। সেই ডেটাবেজের ভিত্তিতেই পুনর্বাসন, কৃষি সহায়তা ও আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। তিনি সরকারি ত্রাণ কার্যক্রমে দলীয় ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এতে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও একই মত দিয়ে বলেন, সরকারি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হলে সবচেয়ে কার্যকর হবে।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, সাত জেলার ৫৯ উপজেলা, ৩৬৮ ইউনিয়ন ও ১২ পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেড় লাখের বেশি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। পাহাড়ধস ও বন্যায় ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। ইতোমধ্যে এক হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, ১০ হাজার ৫০৪ হেক্টর বীজতলা নষ্ট হয়েছে। কৃষকদের পুনর্বাসনে ধানের বীজ ও সারসহ বিশেষ কৃষি প্যাকেজ দেওয়া হবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) জানান, পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় বিপুল পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইন ও অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সরবরাহ করা হয়েছে এবং দুর্গত এলাকার চিকিৎসক-নার্সদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বন্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে নিয়মিত সরকারি ব্রিফিং করা হবে। এ জন্য সব মন্ত্রণালয়কে প্রতিদিন তথ্য সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় নেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্তের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি, বীজ ও সার প্যাকেজ বিতরণ, সড়ক-বাঁধ দ্রুত মেরামত, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু, পশুসম্পদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পানি নেমে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্লুইসগেট খুলবে কে

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ এএম
স্লুইসগেট খুলবে কে
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাঁশখালী এবং কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবার ভারী বৃষ্টিপাতের সময় স্লুইসগেট বন্ধ থাকার কারণে পানি নামতে পারেনি। এসব স্লুইসগেট খুলে দেওয়ার জন্য কয়েকজন মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো–এই স্লুইসগেট খুলবে কে? খোলার দায়িত্ব কার? পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে তাদের লোকবল নেই। অন্যদিকে এর ওপর স্থানীয় প্রশাসনেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যেসব স্লুইসগেট রয়েছে তা নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্লুইসগেট রয়েছে ৮৫টি। তবে স্থানীয়দের তথ্যমতে, বাঁশখালী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আরও প্রায় ১৫০টি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। আর কক্সবাজারে রয়েছে প্রায় ২৫০টি স্লুইসগেট। দুই জেলার প্রায় ৫০০ স্লুইসগেট ব্যবহার হয় উপকারভোগীর ইচ্ছামতো। এখানে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। পাউবোও তা নিয়ন্ত্রণ করে না। যে কারণে সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে লবণচাষি, মৎস্যচাষি যে যার সুবিধামতো স্লুইসগেটের পানি ছাড়ে ও বন্ধ করে।

সরেজমিন গিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যার পর পানি নামতে শুরু করলেও এখনো কিছু এলাকার মানুষ পানিবন্দি। পানি নামতে দেরি করায় সবার নজর পড়ে বন্ধ থাকা স্লুইসগেটগুলোর দিকে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য এবং বন্যার মাত্রা ও ভয়াবহতা বৃদ্ধির জন্য স্লুইসগেট দখলে থাকা প্রভাবশালীদের দায়ী করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, যথাসময়ে স্লুইসগেটগুলো খুলে দিলে এই ভয়াবহ অবস্থা হতো না।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সরল ইউনিয়নের মিনজিরিতলা, সরল, কাথরিয়া ইউনিয়নের বরইতলী, শীলকূপের জালিয়াখালী, মনকিচর, গণ্ডামারা, চাম্বলের ডেপুটিঘোনা, শেখেরখিল, ছনুয়া এবং পুঁইছড়ি ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্লুইসগেট বন্ধ ছিল। এর মধ্যে অনেকগুলো অচল। যেগুলো সচল ছিল তাও সময়মতো খোলা হয়নি। এ জন্য ভুক্তভোগীরা প্রভাবশালী মাছচাষিদের দায়ী করেছেন।

বাঁশখালীর কাথরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিজেদের স্লুইসগেট এবং অবৈধভাবে নির্মিত গেটগুলোর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের। যে কারণে এগুলো বাঁশখালীর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তদারকি না থাকা এবং ভারী বৃষ্টির সময় যথাসময়ে এগুলো খুলে না দেওয়ায় পানি আটকে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ জন্য পাউবোর নিষ্ক্রিয়তার পাশাপাশি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার-চেয়ারম্যানরাও কম দায়ী নন। তিনি বলেন, স্লুইসগেটগুলো বন্ধ রেখে বাঁশখালীর মানুষকে বন্যা ও পানিবন্দি করে রাখা হয়েছে। পাউবোর লোকজন বাঁশখালীতে কোনো দায়িত্ব পালন করেন না। তারা স্পটে না গিয়ে মাঝেমধ্যে গুনাগারির অফিসে এসে চলে যান।

জানতে চাইলে বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, বাঁশখালীতে বন্যার কারণে ছয় হাজারের বেশি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুর্যোগের জন্য অনেকগুলো কারণ দায়ী। ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে উজানের পানি যোগ হয়েছে। জলকদর খাল উঁচু হয়ে গেছে। বাঁশখালীর ৫০ শতাংশ স্লুইসগেট অকেজো। আবার অনেক স্লুইসগেট বন্ধ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। বাস্তবতা হলো, স্লুইসগেটগুলো পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই। যে কারণে আশপাশের জমির মালিকরা তাদের সুবিধামতো সেটি ব্যবহার করেন। কিন্তু এই গেট নিয়ন্ত্রণের জন্য লোকবল দরকার। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার-চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দিলে তারাও মাস্টাররোলে লোক নিয়োগ দিয়ে সেটি পরিচালনা করতে পারেন। সদিচ্ছা থাকলে পানি ব্যবস্থাপনা করা কোনো ব্যাপার না।

বিষয়টি নিয়ে তিনি ভাবছেন উল্লেখ করে বলেন, নিয়ন্ত্রণের জন্য পাউবো কিংবা স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে কেউ না থাকলে বিশৃঙ্খলা হবেই। যার পরিণতি জনদুর্ভোগ। এর থেকে বের হওয়ার উপায় খোঁজা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন করে বড় তিনটি স্লুইসগেইট নির্মাণ এবং জলকদর খাল খননের উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন।

এদিকে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের চিঠি দিয়ে স্লুইসগেট দখলদারদের তালিকা দিতে বলেছেন। কী কারণে স্লুইসগেটগুলো যথাসময়ে খোলেনি তার ব্যাখ্যাও তিনি চেয়েছেন। খবরের কাগজকে তিনি জানান, বাঁশখালীর বন্যা পরিস্থিতির সঙ্গে স্লুইসগেট, বেড়িবাঁধ এবং জলকদর খালের বিষয়টি উঠে এসেছে। এ বিষয়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে আগামীতে কেউ আর এই অপতৎপরতার সুযোগ না পায়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, বাঁশখালীতে ৮৫টি স্লুইসগেট রয়েছে। তার মধ্যে ৭৫টি সচল। ১০টি মেরামত করতে হবে। জলকদর খাল দখল এবং ভরাট হয়ে গেছে। বাঁশখালীর মানুষ এত বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাত অতীতে কখনো দেখেনি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাতের হার আরও বাড়বে। তাই স্লুইসগেট আরও বাড়াতে হবে। বর্তমানে যেগুলো আছে তা আরও বড় করতে হবে। এগুলো কে নিয়ন্ত্রণ করে–এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রক্ষণাবেক্ষণ করে পাউবো। নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় উপকারভোগীরা। তাদের কাছে চাবি থাকে। তারাই প্রয়োজনে খুলে দেয়। যখন প্রয়োজন হয় বন্ধ করে। এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য পাউবোর কোনো লোকবল নেই। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্লুইসগেট নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না–এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তাদেরও লোকবল নেই। তা ছাড়া বিষয়টি পাউবোর। 

অন্যদিকে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ২৫০টি স্লুইসগেট রয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো অচল। যেসব সচল আছে তাও লবণ ও মৎস্যচাষিদের দখলে। মূলত যার জমির পাশে পড়েছে তিনি সেটি নিয়ন্ত্রণ করেন। নিজের মাছ রক্ষায় প্রভাবশালীরা নিজ নিজ এলাকার স্লুইসগেট বন্ধ রাখেন। পাউবোর কোনো মাঠপর্যায়ের তদারকি বা স্থায়ী গেট অপারেটর না থাকায় পুরো অঞ্চলের লাখো মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েন। 

জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খবরের কাগজকে জানান, এলাকার অধিকাংশ স্লুইসগেট প্রায় ৭০ বছর আগে নির্মিত। দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় সেগুলো এখন আগের মতো কার্যকরভাবে পানি নিষ্কাশন করতে পারছে না। অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলের পানির চাপও অনেক বেড়েছে। যার চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় স্থানে দুটি বা তিনটি করে নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ এবং এগুলোর নিয়ন্ত্রণ উপজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে আনা হলে পানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে গেট পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।

আরেক স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ বিএ বলেন, অধিকাংশ স্লুইসগেট অকেজো। তাই নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ করে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে। 
জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। পুলিশ সদস্যরা স্লুইসগেট এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল পরিচালিত অভিযানে একটি অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। কেউ গোপনে স্লুইসগেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা পানি চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করেছি, যাতে কেউ গোপনে এমন কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন দেলোয়ার বলেন, বন্যা শুরুর প্রথম দিন থেকেই স্লুইসগেট বন্ধ রাখার অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকার বদরখালী, ডেমুশিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের পর সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি সুইসগেটে দিন-রাত পাহারার জন্য গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর আর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সুইসগেট বন্ধ করে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে কক্সবাজার পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু রায়হান খবরের কাগজকে বলেন, স্লুইসগেট মেরামত করে পাউবো। কিন্তু কখন খুলবে, আর কখন বন্ধ করবে তা উপকারভোগীরা করেন। পাউবোর পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কমিটি গঠন করা হয়। কিছু এলাকায় কমিটি আছে। আবার অনেক এলাকায় নেই। যেখানে কমিটি কার্যকর না সেখানে সমস্যা নেই। যেখানে কমিটি কার্যকর এবং স্বার্থ জড়িত, সেখানে সমস্যা হচ্ছে। 

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী প্রতিনিধি শফকত চাটগামী এবং কক্সবাজারের পেকুয়া প্রতিনিধি রকিবুল হাসান।

মাদকে বাধা দেওয়ার জেরে বিএনপি নেতা খুন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
মাদকে বাধা দেওয়ার জেরে বিএনপি নেতা খুন
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর কবিরহাটে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় মো. ফারুক ওরফে শহিদ নামে এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন।

এর আগে, বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ২টার দিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ফারুক ওরফে শহিদ উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন। 

গ্রেপ্তার দুজন হলেন, একই গ্রামের মুন্সিবাড়ির আল আমিনের ছেলে মো. আরশাদ ওরফে আকাশ (২৪) ও দুলালের ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন (১৯)।

নিহতের বড় ছেলে মো. ইমরান হোসেন বলেন, আকাশ আগে মাঝেমধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন এবং এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। তার বেপরোয়া মাদকসেবনের প্রতিবাদ করেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা জহির।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের একটি দোকানে আকাশের মাদকসেবন নিয়ে কথা উঠে। এ সময় আকাশ বেপরোয়া আচরণ করে ছাত্রদল নেতা জহিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি তার মাদকসেবনের প্রতিবাদ করার কে? তখন ওই দোকানে থাকা তার বাবা ফারুক তাকে বলেন, ‘তুমি কাউকে মানো না।’ একপর্যায়ে তিনি আকাশকে ঘাড় ধরে দোকান থেকে বের করে দেন।

তিনি আরও বলেন, পরদিন বুধবার সকালে আকাশ কয়েকজনের কাছে তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেন। পরে রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে পেছন থেকে তার বাবার মেরুদণ্ডে ছুরিকাঘাত করেন আকাশ।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুককে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়।

ওসি রোমেল বড়ুয়া বলেন, মাদকসেবনের প্রতিবাদ করার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন