ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
খুলনায় মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা মেসির উত্তরাধিকার বনাম নতুন স্বপ্ন ভক্তির আবহে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা সংসদে বাজেট আলোচনাকে হার মানিয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক দুপুরের মধ্যে ৮ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, সতর্ক সংকেত সিসার বিষক্রিয়ার ঝুঁকিতে সাড়ে তিন কোটি শিশু ২০২৬ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ কবে? সংসদে কুস্তি ভাইয়ে দোস্তি বিশ্বকাপের পর রেহানের সিনেমার প্রচার শুরু টঙ্গীর ‘শীর্ষ মাদকসম্রাজ্ঞী’ কারিমা গ্রেপ্তার মব একটি ঘৃণিত অপরাধ প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে ক্ষোভের মুখে জেলেনস্কি ১১-দলীয় জামায়াত জোটে ভাঙনের সুর অনির্দিষ্টকালের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ডেটাবেজ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ-পুনর্বাসনের টার্গেট শেষ পর্যন্ত লড়বে ইরান আকাশপানে মেসির এক পলক, তারপরই ঝলক স্লুইসগেট খুলবে কে নতুন দেখা উইস্টারিয়া ফুল ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত রাজনৈতিক প্রভাবে কালো তালিকা থেকে মুক্তির অভিযোগ বৃষ্টির প্রভাবে ডিম মুরগি সবজির দাম বেড়েছে ‘মহাকাব্যেরও মহাকাব্য’ আর্জেন্টিনায় প্রশংসায় স্কালোনি ১৭ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৭ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স ‘মহাকাব্যেরও মহাকাব্য’ লাউতারোয় আর্জেন্টিনার নতুন মহাকাব্য যেভাবে সবকিছু ঘটছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য

মব একটি ঘৃণিত অপরাধ

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
মব একটি ঘৃণিত অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

একটি গুজব, সন্দেহ কিংবা উত্তেজিত স্লোগান–তারপর মুহূর্তেই জড়ো হয়ে যায় শত শত মানুষ। কারও কথা শোনার সুযোগ নেই, প্রমাণের বালাই নেই, বিচারের অপেক্ষা নেই। কিল, ঘুষি, লাঠির আঘাতে নিথর হয়ে যায় একটি প্রাণ। ইংরেজি ‘মব’ শব্দের অর্থ উচ্ছৃঙ্খল জনতা। আর সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় মব ভায়োলেন্স বা মব সহিংসতা হলো–উত্তেজিত জনতার আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে অভিযুক্ত সাব্যস্ত করে পিটিয়ে হত্যা, লাঞ্ছনা কিংবা তার সম্পদ ধ্বংস করা। একে কেউ কেউ ‘মব জাস্টিস’ বললেও প্রকৃতপক্ষে এখানে জাস্টিস বা ন্যায়বিচারের লেশমাত্র নেই; আছে কেবল বিশৃঙ্খলা, জুলুম আর রক্তপাত।

মবে জড়িত ব্যক্তিরা একসঙ্গে কয়েকটি গুরুতর অপরাধ করে। প্রথমত, তারা বিচারবহির্ভূত শাস্তি দেয়—অথচ অপরাধ প্রমাণ ও শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার কেবল আদালত ও রাষ্ট্রের। দ্বিতীয়ত, যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজবের ভিত্তিতে বহু নিরপরাধ মানুষ মবের শিকার হয়; ছেলেধরা সন্দেহে নিরীহ মায়ের প্রাণ যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের সমাজ দেখেছে। তৃতীয়ত, মব আইনের শাসন ভেঙে দেয়—আজ যে জনতা একজনকে ‘অপরাধী’ ভেবে মারছে, কাল সেই জনতাই যে কারও দিকে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। চতুর্থত, ভিড়ের আড়ালে ব্যক্তিগত শত্রুতা, চাঁদাবাজি ও দখলদারির প্রতিশোধ চরিতার্থ হয়। ফলে মব কোনো তাৎক্ষণিক ‘গণবিচার’ নয়; এটি সমাজের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রকাঠামোর বিরুদ্ধে সংঘটিত সম্মিলিত অপরাধ।

ইসলামে মানুষের প্রাণের মর্যাদা এতটাই যে, আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করল–প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ কিংবা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির কারণ ছাড়া–সে যেন গোটা মানবজাতিকেই হত্যা করল। (সুরা মায়িদা, ৩২)। অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে, আল্লাহ যে প্রাণ হরণ নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তা হত্যা করো না। (সুরা ইসরা, ৩৩)। আর মবের প্রাণশক্তি যে গুজব, তার ব্যাপারে কোরআনের নির্দেশনা সুস্পষ্ট–হে মুমিনরা! কোনো ফাসিক যদি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও; নইলে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসবে, অতঃপর নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হবে। (সুরা হুজুরাত, ৬)। যাচাইহীন সংবাদে ঝাঁপিয়ে পড়া জনতা তাই সরাসরি কোরআনের নির্দেশ লঙ্ঘনকারী।

বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেন, নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান পরস্পরের জন্য তেমনই পবিত্র, যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিন, মাস ও শহর। (বুখারি, ১৭৩৯)।

মব একসঙ্গে এই তিনটিরই ওপর আঘাত হানে–মানুষের রক্ত ঝরায়, সম্পদ ধ্বংস করে ও সম্মান ভূলুণ্ঠিত করে। নবিজি (সা.) আরও বলেন, আল্লাহর কাছে গোটা দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া একজন মুমিনকে অন্যায়ভাবে হত্যার চেয়ে হালকা। (তিরমিজি, ১৩৯৫; নাসায়ি, ৩৯৮৭)।

গুজব ছড়ানো সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই (যাচাই ছাড়া) বলে বেড়ায়। (মুসলিম, ৫)।

আর প্রকৃত মুসলিমের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিভ ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। (বুখারি, ১০)। যে হাত নিরপরাধ মানুষের ওপর ওঠে, সে হাতের মালিক এই নববি সংজ্ঞা থেকে কত দূরে! মসজিদে নববিতে এক বেদুইন প্রস্রাব করে দিলে সাহাবিরা উত্তেজিত হয়ে তাকে শাস্তি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের থামিয়ে দিয়ে বললেন, তাকে ছেড়ে দাও... তোমাদের সহজকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, কঠোরতাকারী হিসেবে নয়। (বুখারি, ২২০)।  উত্তেজিত জনতাকে সংযত করাই যে নবিজির সুন্নাহ, এ ঘটনা তার উজ্জ্বল প্রমাণ। যুদ্ধক্ষেত্রে কালিমা পাঠ করা ব্যক্তিকে হত্যা করায় তিনি প্রিয় সাহাবি উসামা ইবনে জায়েদ (রা.)-কে বারবার তিরস্কার করে বলেছিলেন, তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে? (মুসলিম, ৯৬)

 আর মক্কা বিজয়ের দিন চরম শত্রুদের ওপর প্রতিশোধের পূর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি ঘোষণা করেছিলেন সাধারণ ক্ষমা। ক্ষমতা ও ক্ষোভের মুহূর্তে সংযমের এই আদর্শের সঙ্গে উন্মত্ত জনতার বিচারবহির্ভূত সহিংসতার কোনো সম্পর্কই নেই। ইসলামি আইনশাস্ত্রের সর্বসম্মত নীতি হলো–অপরাধ প্রমাণ ও দণ্ড কার্যকরের অধিকার কেবল রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগের; কোনো ব্যক্তি বা জনতার নয়।

সুতরাং মব কোনো বীরত্ব নয়, ধর্মরক্ষাও নয়–এটি কোরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে জুলুম, ফাসাদ ও অন্যায় হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের সমষ্টি। কেউ অপরাধ করলে তার প্রতিকারের পথ আইন ও আদালত; ভিড়ের হাতে লাঠি তুলে দেওয়া নয়। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

মব একটি ঘৃণিত অপরাধ

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
মব একটি ঘৃণিত অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

একটি গুজব, সন্দেহ কিংবা উত্তেজিত স্লোগান–তারপর মুহূর্তেই জড়ো হয়ে যায় শত শত মানুষ। কারও কথা শোনার সুযোগ নেই, প্রমাণের বালাই নেই, বিচারের অপেক্ষা নেই। কিল, ঘুষি, লাঠির আঘাতে নিথর হয়ে যায় একটি প্রাণ। ইংরেজি ‘মব’ শব্দের অর্থ উচ্ছৃঙ্খল জনতা। আর সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় মব ভায়োলেন্স বা মব সহিংসতা হলো–উত্তেজিত জনতার আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে অভিযুক্ত সাব্যস্ত করে পিটিয়ে হত্যা, লাঞ্ছনা কিংবা তার সম্পদ ধ্বংস করা। একে কেউ কেউ ‘মব জাস্টিস’ বললেও প্রকৃতপক্ষে এখানে জাস্টিস বা ন্যায়বিচারের লেশমাত্র নেই; আছে কেবল বিশৃঙ্খলা, জুলুম আর রক্তপাত।

মবে জড়িত ব্যক্তিরা একসঙ্গে কয়েকটি গুরুতর অপরাধ করে। প্রথমত, তারা বিচারবহির্ভূত শাস্তি দেয়—অথচ অপরাধ প্রমাণ ও শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার কেবল আদালত ও রাষ্ট্রের। দ্বিতীয়ত, যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজবের ভিত্তিতে বহু নিরপরাধ মানুষ মবের শিকার হয়; ছেলেধরা সন্দেহে নিরীহ মায়ের প্রাণ যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের সমাজ দেখেছে। তৃতীয়ত, মব আইনের শাসন ভেঙে দেয়—আজ যে জনতা একজনকে ‘অপরাধী’ ভেবে মারছে, কাল সেই জনতাই যে কারও দিকে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। চতুর্থত, ভিড়ের আড়ালে ব্যক্তিগত শত্রুতা, চাঁদাবাজি ও দখলদারির প্রতিশোধ চরিতার্থ হয়। ফলে মব কোনো তাৎক্ষণিক ‘গণবিচার’ নয়; এটি সমাজের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রকাঠামোর বিরুদ্ধে সংঘটিত সম্মিলিত অপরাধ।

ইসলামে মানুষের প্রাণের মর্যাদা এতটাই যে, আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করল–প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ কিংবা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির কারণ ছাড়া–সে যেন গোটা মানবজাতিকেই হত্যা করল। (সুরা মায়িদা, ৩২)। অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে, আল্লাহ যে প্রাণ হরণ নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তা হত্যা করো না। (সুরা ইসরা, ৩৩)। আর মবের প্রাণশক্তি যে গুজব, তার ব্যাপারে কোরআনের নির্দেশনা সুস্পষ্ট–হে মুমিনরা! কোনো ফাসিক যদি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও; নইলে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসবে, অতঃপর নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হবে। (সুরা হুজুরাত, ৬)। যাচাইহীন সংবাদে ঝাঁপিয়ে পড়া জনতা তাই সরাসরি কোরআনের নির্দেশ লঙ্ঘনকারী।

বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেন, নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান পরস্পরের জন্য তেমনই পবিত্র, যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিন, মাস ও শহর। (বুখারি, ১৭৩৯)।

মব একসঙ্গে এই তিনটিরই ওপর আঘাত হানে–মানুষের রক্ত ঝরায়, সম্পদ ধ্বংস করে ও সম্মান ভূলুণ্ঠিত করে। নবিজি (সা.) আরও বলেন, আল্লাহর কাছে গোটা দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া একজন মুমিনকে অন্যায়ভাবে হত্যার চেয়ে হালকা। (তিরমিজি, ১৩৯৫; নাসায়ি, ৩৯৮৭)।

গুজব ছড়ানো সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই (যাচাই ছাড়া) বলে বেড়ায়। (মুসলিম, ৫)।

আর প্রকৃত মুসলিমের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিভ ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। (বুখারি, ১০)। যে হাত নিরপরাধ মানুষের ওপর ওঠে, সে হাতের মালিক এই নববি সংজ্ঞা থেকে কত দূরে! মসজিদে নববিতে এক বেদুইন প্রস্রাব করে দিলে সাহাবিরা উত্তেজিত হয়ে তাকে শাস্তি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের থামিয়ে দিয়ে বললেন, তাকে ছেড়ে দাও... তোমাদের সহজকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, কঠোরতাকারী হিসেবে নয়। (বুখারি, ২২০)।  উত্তেজিত জনতাকে সংযত করাই যে নবিজির সুন্নাহ, এ ঘটনা তার উজ্জ্বল প্রমাণ। যুদ্ধক্ষেত্রে কালিমা পাঠ করা ব্যক্তিকে হত্যা করায় তিনি প্রিয় সাহাবি উসামা ইবনে জায়েদ (রা.)-কে বারবার তিরস্কার করে বলেছিলেন, তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে? (মুসলিম, ৯৬)

 আর মক্কা বিজয়ের দিন চরম শত্রুদের ওপর প্রতিশোধের পূর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি ঘোষণা করেছিলেন সাধারণ ক্ষমা। ক্ষমতা ও ক্ষোভের মুহূর্তে সংযমের এই আদর্শের সঙ্গে উন্মত্ত জনতার বিচারবহির্ভূত সহিংসতার কোনো সম্পর্কই নেই। ইসলামি আইনশাস্ত্রের সর্বসম্মত নীতি হলো–অপরাধ প্রমাণ ও দণ্ড কার্যকরের অধিকার কেবল রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগের; কোনো ব্যক্তি বা জনতার নয়।

সুতরাং মব কোনো বীরত্ব নয়, ধর্মরক্ষাও নয়–এটি কোরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে জুলুম, ফাসাদ ও অন্যায় হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের সমষ্টি। কেউ অপরাধ করলে তার প্রতিকারের পথ আইন ও আদালত; ভিড়ের হাতে লাঠি তুলে দেওয়া নয়। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

১৭ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৭ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৭ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৩ মিনিট

মাগরিব

৬.৫ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৮ জুলাই)

.৫৭ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ
ছবি: সংগৃহীত

সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে যখন শরীর আর চলতে চায় না, তখন ক্লান্তি দূর করার জন্য আপনার প্রথম পছন্দ কী? এককাপ কড়া চা, নাকি কোনো এনার্জি ড্রিংক?
আধুনিক জীবনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অন্তহীন ব্যস্ততায় আমরা প্রত্যেকেই দিনশেষে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ি। গৃহিণী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ–সবারই একটাই চাওয়া থাকে, যদি একটু বাড়তি শক্তি পাওয়া যেত! ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে আমরা কত রকমের কৃত্রিম উপায়ের খোঁজ করি। অথচ প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের ক্লান্তি দূর করার এবং আত্মিক শক্তি অর্জনের এমন এক জাদুকরী ও অনন্য সুন্নত শিখিয়ে গেছেন, যা যেকোনো বাহ্যিক সহায়তার চেয়ে উত্তম।

ক্লান্তি দূর করার এই মহৌষধের বর্ণনা পাওয়া যায় ইসলামের এক আবেগঘন পারিবারিক ঘটনার মাধ্যমে। হযরত আলি (রা.) হতে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, হযরত ফাতিমা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে (গৃহস্থালি কাজের সহায়তার জন্য) একটি চাকর চাইলে, তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাদের দুজনকে এমন জিনিস বলে দেব না, যা তোমাদের চাকরের চেয়ে উত্তম? তোমরা যখন বিছানায় শুতে যাবে, তখন ৩৪ বার আল্লাহু আকবর, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ এবং ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ পড়বে। এটা তোমাদের চাকরের চেয়েও উত্তম। (বুখারি, ৬৩১৮; মুসলিম, ৬৯১৫) 

আমলটি দেখতে খুব সাধারণ মনে হলেও এর প্রভাব অসাধারণ। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে তাসবিহে ফাতেমির এই আমলটি মানুষের সারা দিনের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দেয়। ঘুমানোর মুহূর্তে মহান আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর বড়ত্ব ঘোষণার মাধ্যমে মনের ভেতর এক পরম তৃপ্তি ও অলৌকিক শক্তি সঞ্চারিত হয়, যা পরের দিন নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রেরণা জোগায়।

জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের উপযোগী এই অনন্য সুন্নতটি শুধু পরকালের সওয়াবই বাড়ায় না, বরং আমাদের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে এক নিয়ামতস্বরূপ। আসুন, আজ রাত থেকেই বিছানায় শুয়ে এই সহজ কিন্তু শক্তিশালী আমলটি শুরু করি এবং রাসুলের (সা.) সুন্নতের সুবাসে জীবনকে সতেজ রাখি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

ইসলামে মুতা বিয়ের আসল বিধান কী?

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
ইসলামে মুতা বিয়ের আসল বিধান কী?
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনের অন্যতম সুন্দর এবং পবিত্র অধ্যায় হলো বিয়ে। এটি কেবল দুটি মানুষের শারীরিক বা মানসিক চাহিদার মিলন নয়, বরং আজীবনের এক দায়িত্ব ও সামাজিক বন্ধন। কিন্তু আধুনিক যুগে এসে কেউ কেউ যখন লিভ-ইন টুগেদার বা চুক্তির নামে ক্ষণস্থায়ী সম্পর্ককে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—ইসলামি শরিয়াহ কি এমন কোনো অস্থায়ী সম্পর্কের সুযোগ দেয়? ঠিক এখানেই চলে আসে মুতা বিয়ে বা সাময়িক বিবাহের প্রসঙ্গটি। ইসলামে এই বিধানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

মুতা বিয়ে কী?

মুতা শব্দের অর্থ হলো ভোগ বা আনন্দ লাভ করা। ইসলামি পরিভাষায়, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরানার বিনিময়ে কোনো নারীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে মুতা বিয়ে বলা হয়। এই বিয়ের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, চুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই কোনো তালাক ছাড়াই বিয়েটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

অনুমতির প্রাথমিক প্রেক্ষাপট

ইসলামের প্রাথমিক যুগে দীর্ঘ সফর বা যুদ্ধক্ষেত্রে সাহাবিদের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো। সেই বিশেষ ও জরুরি প্রয়োজনে সাময়িকভাবে এই বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সহিহ মুসলিম শরিফের ৩২৮৫ হাদিসে বর্ণনায়ে এসেছে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) উল্লেখ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এবং আবু বকর (রা.)-এর খেলাফতকালের প্রথম দিকেও বিশেষ প্রয়োজনে এর চর্চা ছিল। মূলত জাহেলি যুগের একটি অভ্যাসকে ইসলাম ধাপে ধাপে সংস্কার করার উদ্দেশ্যে শুরুতে কিছুটা শিথিলতা রেখেছিল।

ইসলামি শরিয়তের পূর্ণাঙ্গ রূপায়ণের সাথে সাথে মুতা বিয়ের এই সাময়িক অনুমতি চিরতরে রহিত করা হয়। আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, খায়বার যুদ্ধের সময়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুতা বিয়ে এবং গৃহপালিত গাধার মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করেন (সুনান আত তিরমিজি, ১১২১)।

মক্কা বিজয়ের পর এই নিষেধাজ্ঞা আরও দৃঢ়ভাবে ঘোষিত হয়। রাবি বিন সাবরাহ (রহ.) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, আমি তোমাদেরকে মেয়েদের সাথে মুতা করার অনুমতি দিয়েছিলাম। অবশ্য আল্লাহ তায়ালা এখন কিয়ামত পর্যন্ত তা হারাম করে দিয়েছেন। (বুলুগুল মারাম, ৯৯৭)।

সাহাবি ইবনু আব্বাস (রা.) শুরুতে এর বৈধতার পক্ষে মতামত দিলেও, নিষেধাজ্ঞা ও রহিতকরণের হাদিস জানতে পেরে পরবর্তীতে নিজের মত প্রত্যাহার করে নেন।

কোরআনের ব্যাখ্যা ও আলেমদের ঐকমত্য

সুরা আন-নিসার ২৪ নম্বর আয়াতের একটি অংশকে কেউ কেউ ভুল ব্যাখ্যা করে মুতা বিয়ের দলিল হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ইমাম ও মুফাসসিরদের মতে, এই আয়াতটি সাধারণ ও স্থায়ী বিবাহের মোহরানা আদায়ের নির্দেশ দেয়, সাময়িক বিয়ের নয়। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহ.)-সহ অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, মুতা বিয়ে সম্পূর্ণ বাতিল এবং কিয়ামত পর্যন্ত হারাম।

ইসলাম বিয়েকে একটি দীর্ঘমেয়াদি, দায়িত্বশীল ও সম্মানজনক পারিবারিক কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই সাময়িক আনন্দের মোড়কে কোনো অস্থায়ী চুক্তি ইসলামি শরিয়ায় কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সাহাবিদের গল্প—১১ ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এএম
‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’
ছবি: সংগৃহীত

তাবুক অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘতম পথ, কাঠফাটা গরম, শক্তিশালী রোমান বাহিনী— মুসলমানদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের দান করার আহ্বান জানালেন।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মনে এক পবিত্র উচ্চাশা জাগল। তিনি নিজেই বলছেন, ‘সেদিন আমার কাছে সম্পদ ছিল। মনে মনে বললাম— কোনোদিন যদি আবু বকরকে ছাড়িয়ে যেতে পারি, তবে আজই সেই দিন!’ তিনি বাড়ি গিয়ে সম্পদের অর্ধেক নিয়ে হাজির হলেন। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উমর বললেন, ‘এর সমপরিমাণ।’

এরপর এলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু— ঘরে যা ছিল, সব নিয়ে। রাসুল (সা.) একই প্রশ্ন করলেন, ‘আবু বকর, পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উত্তর এল ইতিহাসে গাথা সেই বাক্য, ‘তাদের জন্য রেখে এসেছি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে।’ উমর বললেন, ‘সেদিন বুঝলাম—আমি কোনোদিন কোনো বিষয়ে আবু বকরকে ছাড়িয়ে যেতে পারব না।’ (সুনানে আবু দাউদ,  ১৬৭৮; জামে তিরমিজি, ৩৬৭৫)

এই ঘটনায় দুটি স্তর দেখুন। উমরের অর্ধেক সম্পদ দান—এই তো অকল্পনীয় ত্যাগ! কিন্তু আবু বকরের তাওয়াক্কুল ছিল আরও ঊর্ধ্বে—তাঁর কাছে ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল’ ছিল দুনিয়ার সব সঞ্চয়ের চেয়ে নির্ভরযোগ্য জামানত। আলেমরা অবশ্য সতর্ক করেছেন, সর্বস্ব দান আবু বকরের স্তরের ঈমানের জন্য; সাধারণ মানুষের জন্য মধ্যপন্থাই বিধান। কিন্তু শিক্ষাটা সবার— দানের প্রতিযোগিতা হোক, কৃপণতার নয়।

আমরা প্রতিযোগিতা করি কার গাড়ি বড়, কার ফ্ল্যাট দামি। সাহাবিরা প্রতিযোগিতা করতেন কে আগে দান করবেন, কে বেশি দেবেন। দুই প্রতিযোগিতার ফলাফল দুই জায়গায় জমা হয়—একটি দুনিয়ার শোকেসে, অন্যটি আখিরাতের আমলনামায়।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে দানের সেই প্রতিযোগিতার আগুন জ্বালিয়ে দিন, আর আপনার ওপর ভরসাকে সম্পদের চেয়ে দামি করে দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক