ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করায় দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রাজধানী কিয়েভে প্রধান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশিরভাগই ছিলেন তরুণ। তারা ‘ফেদোরভের ওপর হাত দেবেন না’ এবং ‘বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করা বন্ধ করুন’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে ‘লজ্জা! লজ্জা!’ বলে স্লোগান দেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এখনও এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেননি। এতে সামরিক বাহিনী, বিশ্লেষক এবং নাগরিক সমাজের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সি ফেদোরভ চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংস্কার এবং যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পার্লামেন্টে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কোকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদনের জন্য ভোট হওয়ার কথা। অনেকে মনে করছেন, ফেদোরভের সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির মতপার্থক্য এবং সেনা সমাবেশ (মোবিলাইজেশন) সংস্কারে ধীরগতির কারণে তাকে সরানো হয়েছে।
ইউক্রেনীয় সেনা সদস্য ওলেক্সান্দর বিবিসিকে বলেন, ‘জেলেনস্কির পুরো প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ভুল এটি।’ তিনি জানান, ফেদোরভের নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।
কিয়েভের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩১ বছর বয়সি মারিয়া লাভরিনেতস বলেন, ‘আমরা ফেদোরভের কাজের ফল দেখেছি। সেনাদের মনোবল বেড়েছে। তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।’
এর আগে ডিজিটাল রূপান্তরমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফেদোরভ রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ‘আইটি আর্মি অব ইউক্রেন’ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে তিনি ‘আর্মি অব ড্রোনস’ তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করেন এবং রুশ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের ভিত্তিতে সামরিক ইউনিটগুলোকে পয়েন্ট দেওয়ার একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি ড্রোন, উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ এবং অস্ত্র ক্রয়ব্যবস্থার আধুনিকায়নে জোর দেন। তিনি স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের কাছে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় স্টারলিংক ব্যবহারে বাধা দেওয়ারও অনুরোধ করেছিলেন, যা রুশ বাহিনীর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।
সম্প্রতি রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের হামলায়ও তার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। গত মাসে তিনি ড্রোন হামলার মাধ্যমে ক্রিমিয়াকে রাশিয়া থেকে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন’ করার অঙ্গীকার করেছিলেন।
বরখাস্ত হওয়ার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফেদোরভ তার বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, উদ্ভাবন, গতিশীলতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার মাধ্যমে তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
তার সাবেক উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী ব্লগার সেরহি স্টেরনেঙ্কো ফেদোরভকে ‘ইউক্রেনের ইতিহাসের সেরা প্রতিরক্ষামন্ত্রী’ অভিহিত করে বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কৃত্রিম বিলম্ব গভীর সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন খ্যাতনামা ড্রোন ইউনিট কমান্ডার পাভলো ইয়েলিজারভ। তিনি ফেদোরভের অপসারণকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ বলে মন্তব্য করেছেন। সূত্র: বিবিসি