ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সংসদে কুস্তি ভাইয়ে দোস্তি বিশ্বকাপের পর রেহানের সিনেমার প্রচার শুরু টঙ্গীর ‘শীর্ষ মাদকসম্রাজ্ঞী’ কারিমা গ্রেপ্তার মব একটি ঘৃণিত অপরাধ প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে ক্ষোভের মুখে জেলেনস্কি ১১-দলীয় জামায়াত জোটে ভাঙনের সুর অনির্দিষ্টকালের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ডেটাবেজ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ-পুনর্বাসনের টার্গেট শেষ পর্যন্ত লড়বে ইরান আকাশপানে মেসির এক পলক, তারপরই ঝলক স্লুইসগেট খুলবে কে নতুন দেখা উইস্টারিয়া ফুল ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত রাজনৈতিক প্রভাবে কালো তালিকা থেকে মুক্তির অভিযোগ বৃষ্টির প্রভাবে ডিম মুরগি সবজির দাম বেড়েছে ‘মহাকাব্যেরও মহাকাব্য’ আর্জেন্টিনায় প্রশংসায় স্কালোনি ১৭ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৭ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স ‘মহাকাব্যেরও মহাকাব্য’ লাউতারোয় আর্জেন্টিনার নতুন মহাকাব্য যেভাবে সবকিছু ঘটছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য হতাশার মাঝেও আলো গর্ডন নিভে গেল আশার আলো, তবু উজ্জ্বল গর্ডন ১৭ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি মালভিনাস ব্যানারে নতুন বিতর্ক ফিফার দ্বারস্থ ব্রিটেন ব্রিটিশ মিডিয়ায় শোকের মাতম টুখেলের কাঁধে হারের দায় কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুরের জন্মদিন আজ পুনঃপরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড নৌবাহিনী প্রধান হলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে গত সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৩৫ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূল এবং হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। যা দুই দেশের পুনরায় সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের মহাসচিব জাসেম আল-বুদাইউই বুধবার (১৫ জুলাই) বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানের ওপর ইরানের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই হামলা অঞ্চলটিকে ‘আরও বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার’ দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। এক বিবৃতিতে আল-বুদাইউই এই হামলাগুলোকে নজিরবিহীন উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোথায় কোথায় হামলা করেছে?

গত সপ্তাহে ইরানের দক্ষিণ উপকূল, মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন শহর ও দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে বন্দর আব্বাস, বুশেহর, চাবাহার, কেশম, সিরিক, কোনার্ক, আহভাজ, ডেহলোরান, ইরানশাহর বিমানবন্দরসহ আরও কয়েকটি এলাকা। সশস্ত্র সংঘাতের অবস্থান ও ঘটনা তথ্য (এসিএলইডি) এর তথ্যানুযায়ী, মে ও জুন মাসেও বন্দর আব্বাস, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ, কং, কেশম দ্বীপ এবং শহিদ রাহবার নৌ-ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা করেছিল। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় ৩০টিরও বেশি দ্বীপ রয়েছে, যার অনেকই হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত। এসব দ্বীপ জাহাজ চলাচল নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করিডরের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তেহরানভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মেহদি ইয়াজদির মতে, হরমুজ প্রণালিই ইরানের প্রধান কৌশলগত প্রতিরোধের হাতিয়ার। তার ভাষ্য, এই প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের সক্ষমতাও ধরে রেখেছে। এদিকে ইরান জানিয়েছে, অঞ্চলের যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে, সেসব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকেও বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সূত্র: আল-জাজিরা

প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে ক্ষোভের মুখে জেলেনস্কি

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে ক্ষোভের মুখে জেলেনস্কি
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে অপসারণ করায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাজধানী কিয়েভে বিক্ষোভ করে জনতা। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করায় দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রাজধানী কিয়েভে প্রধান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশিরভাগই ছিলেন তরুণ। তারা ‘ফেদোরভের ওপর হাত দেবেন না’ এবং ‘বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করা বন্ধ করুন’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে ‘লজ্জা! লজ্জা!’ বলে স্লোগান দেন।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এখনও এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেননি। এতে সামরিক বাহিনী, বিশ্লেষক এবং নাগরিক সমাজের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সি ফেদোরভ চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংস্কার এবং যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পার্লামেন্টে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কোকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদনের জন্য ভোট হওয়ার কথা। অনেকে মনে করছেন, ফেদোরভের সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির মতপার্থক্য এবং সেনা সমাবেশ (মোবিলাইজেশন) সংস্কারে ধীরগতির কারণে তাকে সরানো হয়েছে।

ইউক্রেনীয় সেনা সদস্য ওলেক্সান্দর বিবিসিকে বলেন, ‘জেলেনস্কির পুরো প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ভুল এটি।’ তিনি জানান, ফেদোরভের নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।

কিয়েভের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩১ বছর বয়সি মারিয়া লাভরিনেতস বলেন, ‘আমরা ফেদোরভের কাজের ফল দেখেছি। সেনাদের মনোবল বেড়েছে। তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।’

এর আগে ডিজিটাল রূপান্তরমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফেদোরভ রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ‘আইটি আর্মি অব ইউক্রেন’ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে তিনি ‘আর্মি অব ড্রোনস’ তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করেন এবং রুশ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের ভিত্তিতে সামরিক ইউনিটগুলোকে পয়েন্ট দেওয়ার একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি ড্রোন, উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ এবং অস্ত্র ক্রয়ব্যবস্থার আধুনিকায়নে জোর দেন। তিনি স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের কাছে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় স্টারলিংক ব্যবহারে বাধা দেওয়ারও অনুরোধ করেছিলেন, যা রুশ বাহিনীর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।

সম্প্রতি রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের হামলায়ও তার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। গত মাসে তিনি ড্রোন হামলার মাধ্যমে ক্রিমিয়াকে রাশিয়া থেকে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন’ করার অঙ্গীকার করেছিলেন।

বরখাস্ত হওয়ার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফেদোরভ তার বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, উদ্ভাবন, গতিশীলতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার মাধ্যমে তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।

তার সাবেক উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী ব্লগার সেরহি স্টেরনেঙ্কো ফেদোরভকে ‘ইউক্রেনের ইতিহাসের সেরা প্রতিরক্ষামন্ত্রী’ অভিহিত করে বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কৃত্রিম বিলম্ব গভীর সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন খ্যাতনামা ড্রোন ইউনিট কমান্ডার পাভলো ইয়েলিজারভ। তিনি ফেদোরভের অপসারণকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ বলে মন্তব্য করেছেন। সূত্র: বিবিসি

শেষ পর্যন্ত লড়বে ইরান

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
শেষ পর্যন্ত লড়বে ইরান
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিকে ইরানের জন্য অলঙ্ঘনীয় ‘রেড লাইন’ বলে ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সব অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে টানা পঞ্চম দিনের মতো ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

প্রথম দফার হামলার পর ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্তিত্বের লড়াই করছি।’

বৃহস্পতিবার ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের পথ ছিল হরমুজ প্রণালি। এটি ইরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ এবং এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতেই রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল দক্ষিণ উপকূলে আমাদের কয়েকটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে এই কৌশলগত প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। কিন্তু ইরান তার ভূখণ্ডের প্রতিটি অংশ থেকেই হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। এটি উপকূল বা দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল নয়।’

রয়টার্সকে তিন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হরমুজ খুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও জটিল সামরিক অভিযান পরিচালনার আগে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাও এর উদ্দেশ্য।

ইরানের সেনাবাহিনীও এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাব এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ব্যর্থ করে দেব।’

তেহরানের দাবি, হরমুজ পুনরায় চালু করার একমাত্র উপায় হলো জুনে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক মেনে চলা এবং জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত ইরানের নির্ধারিত বিধি বাস্তবায়ন করা।

অবকাঠামোতে হামলা হলে পাল্টা জবাব

ট্রাম্প গত মঙ্গলবার হুমকি দেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালানো হবে।

এর জবাবে আকরামিনিয়া বলেন, এমন হামলা হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘অবশিষ্ট সব অবকাঠামো’ লক্ষ্যবস্তু করবে। তিনি বলেন, ইরানের প্রতিক্রিয়া আগের যেকোনো হামলার তুলনায় আরও কঠোর, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক হবে।

কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে উত্তেজনা

ইরান জানিয়েছে, তারা কুয়েত ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিলে তার জবাব দেওয়া হবে বলে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। কুয়েতও জানায়, তারা শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলার হুমকি মোকাবিলা করছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, তারা জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির স্যাটেলাইট যোগাযোগকেন্দ্র, আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং আল-শুয়াইবা এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক জেটি ধ্বংস করা হয়েছে।

বাহরাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের ছোঁড়া একাধিক আকাশপথের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ বন্ধ রাখা, উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি এবং ইয়েমেনের হুতিদের মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালিও অচল করে দেওয়ার সম্ভাবনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

চলমান যুদ্ধে ইরান ও লেবাননে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স

ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে গত সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৩৫ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূল এবং হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। যা দুই দেশের পুনরায় সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের মহাসচিব জাসেম আল-বুদাইউই বুধবার (১৫ জুলাই) বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানের ওপর ইরানের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই হামলা অঞ্চলটিকে ‘আরও বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার’ দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। এক বিবৃতিতে আল-বুদাইউই এই হামলাগুলোকে নজিরবিহীন উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোথায় কোথায় হামলা করেছে?

গত সপ্তাহে ইরানের দক্ষিণ উপকূল, মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন শহর ও দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে বন্দর আব্বাস, বুশেহর, চাবাহার, কেশম, সিরিক, কোনার্ক, আহভাজ, ডেহলোরান, ইরানশাহর বিমানবন্দরসহ আরও কয়েকটি এলাকা। সশস্ত্র সংঘাতের অবস্থান ও ঘটনা তথ্য (এসিএলইডি) এর তথ্যানুযায়ী, মে ও জুন মাসেও বন্দর আব্বাস, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ, কং, কেশম দ্বীপ এবং শহিদ রাহবার নৌ-ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা করেছিল। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় ৩০টিরও বেশি দ্বীপ রয়েছে, যার অনেকই হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত। এসব দ্বীপ জাহাজ চলাচল নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করিডরের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তেহরানভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মেহদি ইয়াজদির মতে, হরমুজ প্রণালিই ইরানের প্রধান কৌশলগত প্রতিরোধের হাতিয়ার। তার ভাষ্য, এই প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের সক্ষমতাও ধরে রেখেছে। এদিকে ইরান জানিয়েছে, অঞ্চলের যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে, সেসব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকেও বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সূত্র: আল-জাজিরা

নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ এএম
নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের শেষকৃত্যের সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়ায় আগামী সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, তিনি আগামী সপ্তাহে নয়, বরং জুলাইয়ের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন। এর আগে বুধবার এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, আগামীকাল শনিবার রাতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল।

ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সমর্থক এবং নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের বন্ধু, ৭১ বছর বয়সি মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম চলতি সপ্তাহে আকস্মিকভাবে মারা যান। তার শেষকৃত্যের সময়সূচি পরিবর্তন হওয়ায় সফরও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সফরে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এমন সময়ে এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে এবং লেবাননকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা এগোচ্ছে।

তবে এখনও নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সময় নির্ধারণ করা হয়নি। হোয়াইট হাউসও সম্ভাব্য সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

হিব্রু ভাষার একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের নির্ধারিত ওয়াশিংটন সফরের আগেই ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহী ছিলেন নেতানিয়াহু।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-লেবানন আলোচনা বুধবার ইতালির রোমে শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, ‘ওয়াশিংটন এখন আমাদের কথা শুনতে শুরু করেছে’ এবং ‘লেবাননের বিষয়টি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টেবিলে রয়েছে।’ সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

অতিরিক্ত ভিড়ে পুরীর রথযাত্রায় নিহত ২, আহত শতাধিক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
অতিরিক্ত ভিড়ে পুরীর রথযাত্রায় নিহত ২, আহত শতাধিক
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ওডিশার পুরীতে ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় লাখো ভক্তের ঢলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে অন্তত দুইজন ভক্তের মৃত্যু হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত অবশ্য এক জনের মৃত্যুর খবর সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রায় ১২০ জন হাসপাতালে ভর্তি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রথ টানার সময় পুরীর বড়দাণ্ডা (গ্র্যান্ড রোড) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, রথযাত্রা দেখতে জড়ো হওয়া বিপুল সংখ্যক মানুষের চাপে এক ভক্ত গুরুতর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। দ্রুত তাকে পুরী জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

এ ছাড়া পদদলিত হওয়ার ঘটনায় আরও অনেকে আহত হন। তাদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

এ বারের উৎসবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কমতি ছিল না। নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা ছিল বিপুল। কোনও বিপত্তি ঘটলে আহতদের দ্রুত চিকিৎসাস্থলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ক্যামেরা। যাতে ভিড়ের পরিমাপ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা যায়। তা সত্ত্বেও সমস্যা হল কোথায়?

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ব্যবস্থা যেমনই থাকুক না কেন, ভক্ত সমাগম ঠেকাবে কে? সময় যত গড়িয়েছে ভিড় ততই বেড়েছে। অল্প জায়গার মধ্যে এগোতে চেষ্টা করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। এমনকি, রথের কাছেও বিপুল ভিড় হয়েছিল। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, ভক্তদের এই আবেদন নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল। ফলে ঠেকানো কঠিন জনসমাগমও। এই অবস্থায় হঠাৎই শ্বাসরুদ্ধ হওয়ার অবস্থা তৈরি হয়।

জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ভারতের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন। প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে লাখো ভক্ত এই উৎসবে অংশ নিতে পুরীতে সমবেত হন।

এসএন/