ইরানে গত সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৩৫ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূল এবং হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। যা দুই দেশের পুনরায় সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের মহাসচিব জাসেম আল-বুদাইউই বুধবার (১৫ জুলাই) বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানের ওপর ইরানের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই হামলা অঞ্চলটিকে ‘আরও বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার’ দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। এক বিবৃতিতে আল-বুদাইউই এই হামলাগুলোকে নজিরবিহীন উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোথায় কোথায় হামলা করেছে?
গত সপ্তাহে ইরানের দক্ষিণ উপকূল, মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন শহর ও দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে বন্দর আব্বাস, বুশেহর, চাবাহার, কেশম, সিরিক, কোনার্ক, আহভাজ, ডেহলোরান, ইরানশাহর বিমানবন্দরসহ আরও কয়েকটি এলাকা। সশস্ত্র সংঘাতের অবস্থান ও ঘটনা তথ্য (এসিএলইডি) এর তথ্যানুযায়ী, মে ও জুন মাসেও বন্দর আব্বাস, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ, কং, কেশম দ্বীপ এবং শহিদ রাহবার নৌ-ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা করেছিল। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় ৩০টিরও বেশি দ্বীপ রয়েছে, যার অনেকই হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত। এসব দ্বীপ জাহাজ চলাচল নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করিডরের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তেহরানভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মেহদি ইয়াজদির মতে, হরমুজ প্রণালিই ইরানের প্রধান কৌশলগত প্রতিরোধের হাতিয়ার। তার ভাষ্য, এই প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের সক্ষমতাও ধরে রেখেছে। এদিকে ইরান জানিয়েছে, অঞ্চলের যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে, সেসব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকেও বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সূত্র: আল-জাজিরা