ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
হতাশার মাঝেও আলো গর্ডন নিভে গেল আশার আলো, তবু উজ্জ্বল গর্ডন ১৭ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি মালভিনাস ব্যানারে নতুন বিতর্ক ফিফার দ্বারস্থ ব্রিটেন ব্রিটিশ মিডিয়ায় শোকের মাতম টুখেলের কাঁধে হারের দায় কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুরের জন্মদিন আজ পুনঃপরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড নৌবাহিনী প্রধান হলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ময়মনসিংহে গ্যাংকার লাইনচ্যুত, দুই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ অতিরিক্ত ভিড়ে পুরীর রথযাত্রায় নিহত ২, আহত শতাধিক ঢাকায় উদ্বোধন হলো ডেল্টা অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার এবং ডেল্টা ফেস্টিভ্যাল অব আর্কিটেকচার ২০২৬ মাদকে বাধা দেওয়ার জেরে বিএনপি নেতা খুন বিমানের বহরে যুক্ত হবে বোয়িং ও এয়ারবাস: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু তিন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বদলি হলেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২৮ কর্মকর্তা আইইউবিতে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট মেজর চালু ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও ‘ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে: স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ যুবকের বিশ্বের সম্ভাব্য সব জায়গায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী শাহরাস্তিতে গৃহবুধু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন শেষ হলো অপেক্ষা, মিলল নিখোঁজ ডুবুরির মরদেহ গণ-অভ্যুত্থানের বিচার জনগণের, আদালতের নয়: ল' ইয়ার্স কাউন্সিল তুরাগে বাবার আছাড়ে প্রাণ গেল ৭ মাসের শিশুর মাদকবিরোধী র‍্যালির জেরে যুবককে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পাবেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুলের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে ফিনল্যান্ড বিএনপি ক্যাশলেস স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে যৌথ উদ্যোগ উপায় ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির চুক্তি ১৪ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের সতর্কতা তেঁতুলিয়ায় ১৩টি জাল পাসপোর্টসহ যুবক গ্রেপ্তার

মালভিনাস ব্যানারে নতুন বিতর্ক ফিফার দ্বারস্থ ব্রিটেন

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩০ এএম
মালভিনাস ব্যানারে নতুন বিতর্ক ফিফার দ্বারস্থ ব্রিটেন
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের উদযাপনে ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন কয়েকজন ফুটবলার। এর জেরে ফিফার কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি ফিফার আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে গ্যালারি থেকে ছুড়ে দেওয়া একটি ব্যানার হাতে তুলে নেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো সেলসোসহ কয়েকজন ফুটবলার। ব্যানারটিতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’, অর্থাৎ ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’।

ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, মাঠ বা গ্যালারিতে রাজনৈতিক, বৈষম্যমূলক কিংবা আপত্তিকর বার্তাসংবলিত ব্যানার বা অন্যান্য উপকরণ প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জকে ব্রিটেন ফকল্যান্ডস এবং আর্জেন্টিনা মালভিনাস নামে ডাকে। এর মালিকানা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধও হয়েছিল। সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ব্রিটেন।

এই বিরোধের ছায়া ফুটবল মাঠেও বহুবার দেখা গেছে। বিশেষ করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ম্যাচের পর থেকে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই মানেই রাজনৈতিক ইতিহাসও আলোচনায় চলে আসে। এবারের বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালের পর সেই পুরোনো বিতর্কই আবার নতুন করে সামনে এল।

হতাশার মাঝেও আলো গর্ডন নিভে গেল আশার আলো, তবু উজ্জ্বল গর্ডন

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
হতাশার মাঝেও আলো গর্ডন নিভে গেল আশার আলো, তবু উজ্জ্বল গর্ডন
অ্যান্থনি মাইকেল গর্ডন। ছবি: সংগৃহীত

কখনো কখনো একটি গোল শুধু স্কোরলাইন বদলায় না। বদলে দেয় পুরো একটি জাতির স্বপ্নের রং। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলটি ঠিক তেমনই ছিল। মুহূর্তের মধ্যে ইংল্যান্ড স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল, দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান বুঝি এবারই হতে যাচ্ছে।

গর্ডনের গোলের পর আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংলিশ সমর্থকদের উল্লাসে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। কিন্তু ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত কোনো গল্পের সমাপ্তি লিখে না, সেটিই আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

শেষ দিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। ফলে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

তবে ইংলিশদের এই পরাজয়ের অন্ধকারে গর্ডনের পারফরম্যান্স হারিয়ে যায়নি। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন গোলরক্ষকের প্রশংসা করে বলেন, ‘অ্যান্থনি গর্ডন অসাধারণ খেলেছে।

বড় মঞ্চে সে ভয় পায়নি। এমন ম্যাচে গোল করা সহজ নয়। আমরা ফল পাইনি, কিন্তু ও ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তা দিয়েছে।’ ইংল্যান্ডের কোচও গর্ডনের প্রশংসায় ছিলেন উদার।

টমাস টুখেলে বলেন, ‘গর্ডন পুরো ম্যাচে দারুণ শক্তি, গতি আর সাহস দেখিয়েছে। শুধু গোল নয়, সে প্রতিপক্ষকে সারাক্ষণ চাপে রেখেছে। এই পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে, আগামী বছরগুলোতে ইংল্যান্ডের আক্রমণের অন্যতম ভরসা হতে পারে সে।’

সাবেক ইংলিশ ফুটবলারদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গর্ডনের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সেমিফাইনালের মতো চাপের ম্যাচে যেভাবে তিনি সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন, সেটি একজন পরিণত ফরোয়ার্ডের লক্ষণ।

অনেকেই লিখেছেন, ফল হতাশাজনক হলেও গর্ডন মাথা উঁচু করেই মাঠ ছাড়তে পারে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রাও গর্ডনের পারফরম্যান্সকে সম্মান জানিয়েছেন। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা বলেন, ‘গর্ডন খুবই বিপজ্জনক ছিল। ওকে সামলাতে আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।’

তবে সবচেয়ে আবেগঘন কথাগুলো এসেছে গর্ডনের নিজের মুখ থেকেই। ম্যাচ শেষে চোখে স্পষ্ট হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুব কষ্টের। আমরা ফাইনালের খুব কাছে ছিলাম। গোল করার মুহূর্তটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অনুভূতি ছিল। কিন্তু এখন সেটা উপভোগ করাও কঠিন। কারণ আমরা জিততে পারিনি।’

স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় খেলা ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার বলেন, ‘আমি আমার সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়েছি। সমর্থকদের জন্য খারাপ লাগছে, কারণ তারা আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিল। কিন্তু আমরা ফিরে আসব। এই দল আরও শক্তিশালী হবে।’

নিজের গোল নিয়ে গর্ডনের মন্তব্য ছিল সংযত, ‘ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয় আমার কাছে অনেক বড়। গোল করেছি, কিন্তু সেটা কোনো আনন্দ এনে দিচ্ছে না। যদি সেই গোল আমাদের ফাইনালে তুলতে পারত, তাহলে হয়তো আজকের অনুভূতিটা অন্যরকম হতো।’

বিশ্বকাপের এই আসরে গর্ডনের উত্থানও কম নাটকীয় নয়। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট; প্রতিটি ধাপে নিজের গতি, নির্ভীক ড্রিবলিং এবং গোল করার দক্ষতায় তিনি নজর কেড়েছেন। সেমিফাইনালের গোলটি যেন সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিচ্ছবি।

ইংল্যান্ডের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। গর্ডনের জ্বালানো আশার আলোও শেষ বাঁশির আগে নিভে গেছে। কিন্তু অনেক সময় হারও ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে দেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপ হয়তো ইংল্যান্ডকে আরেকটি হৃদয়ভাঙার গল্প উপহার দিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি নতুন নায়কের জন্মও দেখেছে।

ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙেছে, কিন্তু গর্ডনের নামটি থেকে গেছে আলোচনার কেন্দ্রেই। ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ গোলের আত্মবিশ্বাস হয়তো তার সামনের পথচলায় টনিক হিসেবে কাজ করবে।

মালভিনাস ব্যানারে নতুন বিতর্ক ফিফার দ্বারস্থ ব্রিটেন

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩০ এএম
মালভিনাস ব্যানারে নতুন বিতর্ক ফিফার দ্বারস্থ ব্রিটেন
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের উদযাপনে ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন কয়েকজন ফুটবলার। এর জেরে ফিফার কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি ফিফার আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে গ্যালারি থেকে ছুড়ে দেওয়া একটি ব্যানার হাতে তুলে নেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো সেলসোসহ কয়েকজন ফুটবলার। ব্যানারটিতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’, অর্থাৎ ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’।

ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, মাঠ বা গ্যালারিতে রাজনৈতিক, বৈষম্যমূলক কিংবা আপত্তিকর বার্তাসংবলিত ব্যানার বা অন্যান্য উপকরণ প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জকে ব্রিটেন ফকল্যান্ডস এবং আর্জেন্টিনা মালভিনাস নামে ডাকে। এর মালিকানা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধও হয়েছিল। সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ব্রিটেন।

এই বিরোধের ছায়া ফুটবল মাঠেও বহুবার দেখা গেছে। বিশেষ করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ম্যাচের পর থেকে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই মানেই রাজনৈতিক ইতিহাসও আলোচনায় চলে আসে। এবারের বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালের পর সেই পুরোনো বিতর্কই আবার নতুন করে সামনে এল।

ব্রিটিশ মিডিয়ায় শোকের মাতম টুখেলের কাঁধে হারের দায়

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ এএম
ব্রিটিশ মিডিয়ায় শোকের মাতম টুখেলের কাঁধে হারের দায়
ছবি: সংগৃহীত

আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ। ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালেই থেমে গেল ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হারের পর দেশটির সংবাদমাধ্যমে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া। বেশির ভাগ পত্রিকাই হারের জন্য সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে কোচ টমাস টুখেলকে।

জনপ্রিয় ট্যাবলয়েড দ্য সান প্রথম পাতায় লিখেছে, ‘৬০ বছরের অপেক্ষা চলছেই।’ ভেতরের প্রতিবেদনে তারা মন্তব্য করেছে, ‘যন্ত্রণার পৃথিবী।’ তাদের মতে, ইংল্যান্ডের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে টুখেল সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। মোটা অঙ্কের বেতন পাওয়া এই জার্মান কোচও শেষ পর্যন্ত আগের ব্যর্থ কোচদের তালিকাতেই নাম লেখালেন।

দ্য টাইমস এই হারকে ইংল্যান্ডের জন্য ‘হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছে। আর ডেইলি মেইল লিখেছে, এটি যেন পুরোনো গল্পেরই পুনরাবৃত্তি। বড় মঞ্চে আবারও হোঁচট খেল থ্রি লায়ন্সরা।

দ্য গার্ডিয়ান আরও কড়া ভাষায় লিখেছে, টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ডের নতুন অধ্যায়ের আশা ছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা দেখিয়েছে সাহস, আর ইংল্যান্ড খেলেছে ভয় নিয়ে।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই ছিল, অথচ শেষ পর্যন্ত সেটি নিজেরাই হারিয়েছে। কোচের বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা করেছে ডেইলি মিরর। তাদের মতে, টুখেলের পরিবর্তনগুলো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার বদলে ইংল্যান্ডের ছন্দই নষ্ট করেছে।

টুখেলকে ঘিরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তীব্র প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ার দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড-এর প্রতিবেদনে। তারা লিখেছে, ‘টুখেল এখন ইংল্যান্ডের এক নম্বর গণশত্রু।’ একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে, তিনি কোন মুখে দেশে ফিরবেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমর্থক ও বিশ্লেষকদের একটাই প্রশ্ন; টুখেল কি খুব দ্রুত রক্ষণাত্মক কৌশলে চলে গিয়েছিলেন? নিজের দলের ওপর কেন তিনি শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখতে পারলেন না? ইংল্যান্ডের আরেকটি বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের পর এসব প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে পুরো দেশ।

বিশ্বকাপ ফাইনাল: জেনে নিন আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণের সব তথ্য

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
বিশ্বকাপ ফাইনাল: জেনে নিন আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণের সব তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর দৃষ্টি এখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের দিকে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান শক্তি স্পেন। দুই দলের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে বিশ্ব ফুটবলের নতুন রাজা।

ফিফার সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুলাই (রবিবার)। ম্যাচটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে (মেটলাইফ স্টেডিয়াম), নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা এবং বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

৮২ হাজারের বেশি দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মেটলাইফ স্টেডিয়ামটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল- সব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, স্পেন ২-০ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা নিশ্চিত করেছে।

আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। লিওনেল মেসির দল ফাইনালে জিততে পারলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে। অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে স্পেন।

এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে আরও একটি নতুনত্ব থাকছে। ফিফার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালের বিরতিতে (হাফটাইম) বিশেষ বিনোদনমূলক আয়োজন রাখা হয়েছে, যা সুপার বোলের আদলে অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ম্যাচটি সরাসরি উপভোগ করবেন। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটি হতে যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি ফাইনাল।

অমিয়/

মেসির কোলে শিশু ইয়ামাল, ভাইরাল ছবি কি সত্য গল্প?

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
মেসির কোলে শিশু ইয়ামাল, ভাইরাল ছবি কি সত্য গল্প?
ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ যখন তুঙ্গে। এমন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের একটি পুরোনো ছবি। ছবিতে দেখা যায়, ২০ বছর বয়সী মেসির কোলে শিশু ইয়ামালকে গোসল করানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই ছবিটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে মনে করলেও, বাস্তবে এটি একটি সত্য ঘটনা।

২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউনিসেফ এবং এফসি বার্সেলোনা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিটি তোলা হয়েছিল। ওই ফটোশুটের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট জানান, এটি ছিল একটি চ্যারিটি ক্যাম্পেইনের অংশ। স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে লটারির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হয় এবং সৌভাগ্যক্রমে লামিনে ইয়ামালের পরিবার সেই সুযোগ পায়। কাকতালীয়ভাবে, শিশু ইয়ামালের সঙ্গে ছবি তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বার্সেলোনার তরুণ প্রতিভা লিওনেল মেসিকে।

তখন কেউ কল্পনাও করেননি, মেসির কোলে থাকা সেই শিশুই একদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হবে। ভাইরাল হওয়া ছবিটি সম্পর্কে ইয়ামাল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন তিনি নিজেই ছবিটির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতেন না। পরে তার বাবার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

মেসি এই ফটোশুট নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও ইয়ামালের প্রতিভার প্রশংসা একাধিকবার করেছেন। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বলেছেন, ইয়ামালকে দেখলে তার নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনের কথা মনে পড়ে। এত অল্প বয়সেই ইয়ামাল যেভাবে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

প্রায় দুই দশক আগে দাতব্য উদ্যোগের একটি স্মরণীয় মুহূর্তে একই ফ্রেমে ধরা পড়েছিলেন মেসি ও ইয়ামাল। সময়ের পরিক্রমায় সেই ছবিই আজ ইতিহাসের অংশ। আর এখন ফুটবল বিশ্বের নজর তাদের সম্ভাব্য আরেকটি মুখোমুখি লড়াইয়ের দিকে।

পাপ্পু/