ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
যেভাবে সবকিছু ঘটছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য হতাশার মাঝেও আলো গর্ডন নিভে গেল আশার আলো, তবু উজ্জ্বল গর্ডন ১৭ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি মালভিনাস ব্যানারে নতুন বিতর্ক ফিফার দ্বারস্থ ব্রিটেন ব্রিটিশ মিডিয়ায় শোকের মাতম টুখেলের কাঁধে হারের দায় কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুরের জন্মদিন আজ পুনঃপরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড নৌবাহিনী প্রধান হলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ময়মনসিংহে গ্যাংকার লাইনচ্যুত, দুই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ অতিরিক্ত ভিড়ে পুরীর রথযাত্রায় নিহত ২, আহত শতাধিক ঢাকায় উদ্বোধন হলো ডেল্টা অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার এবং ডেল্টা ফেস্টিভ্যাল অব আর্কিটেকচার ২০২৬ মাদকে বাধা দেওয়ার জেরে বিএনপি নেতা খুন বিমানের বহরে যুক্ত হবে বোয়িং ও এয়ারবাস: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু তিন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বদলি হলেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২৮ কর্মকর্তা আইইউবিতে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট মেজর চালু ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও ‘ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে: স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ যুবকের বিশ্বের সম্ভাব্য সব জায়গায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী শাহরাস্তিতে গৃহবুধু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন শেষ হলো অপেক্ষা, মিলল নিখোঁজ ডুবুরির মরদেহ গণ-অভ্যুত্থানের বিচার জনগণের, আদালতের নয়: ল' ইয়ার্স কাউন্সিল তুরাগে বাবার আছাড়ে প্রাণ গেল ৭ মাসের শিশুর মাদকবিরোধী র‍্যালির জেরে যুবককে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পাবেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুলের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে ফিনল্যান্ড বিএনপি ক্যাশলেস স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে যৌথ উদ্যোগ উপায় ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির চুক্তি ১৪ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের সতর্কতা

হতাশার মাঝেও আলো গর্ডন নিভে গেল আশার আলো, তবু উজ্জ্বল গর্ডন

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
হতাশার মাঝেও আলো গর্ডন নিভে গেল আশার আলো, তবু উজ্জ্বল গর্ডন
অ্যান্থনি মাইকেল গর্ডন। ছবি: সংগৃহীত

কখনো কখনো একটি গোল শুধু স্কোরলাইন বদলায় না। বদলে দেয় পুরো একটি জাতির স্বপ্নের রং। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলটি ঠিক তেমনই ছিল। মুহূর্তের মধ্যে ইংল্যান্ড স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল, দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান বুঝি এবারই হতে যাচ্ছে।

গর্ডনের গোলের পর আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংলিশ সমর্থকদের উল্লাসে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। কিন্তু ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত কোনো গল্পের সমাপ্তি লিখে না, সেটিই আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

শেষ দিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। ফলে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

তবে ইংলিশদের এই পরাজয়ের অন্ধকারে গর্ডনের পারফরম্যান্স হারিয়ে যায়নি। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন গোলরক্ষকের প্রশংসা করে বলেন, ‘অ্যান্থনি গর্ডন অসাধারণ খেলেছে।

বড় মঞ্চে সে ভয় পায়নি। এমন ম্যাচে গোল করা সহজ নয়। আমরা ফল পাইনি, কিন্তু ও ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তা দিয়েছে।’ ইংল্যান্ডের কোচও গর্ডনের প্রশংসায় ছিলেন উদার।

টমাস টুখেলে বলেন, ‘গর্ডন পুরো ম্যাচে দারুণ শক্তি, গতি আর সাহস দেখিয়েছে। শুধু গোল নয়, সে প্রতিপক্ষকে সারাক্ষণ চাপে রেখেছে। এই পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে, আগামী বছরগুলোতে ইংল্যান্ডের আক্রমণের অন্যতম ভরসা হতে পারে সে।’

সাবেক ইংলিশ ফুটবলারদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গর্ডনের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সেমিফাইনালের মতো চাপের ম্যাচে যেভাবে তিনি সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন, সেটি একজন পরিণত ফরোয়ার্ডের লক্ষণ।

অনেকেই লিখেছেন, ফল হতাশাজনক হলেও গর্ডন মাথা উঁচু করেই মাঠ ছাড়তে পারে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রাও গর্ডনের পারফরম্যান্সকে সম্মান জানিয়েছেন। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা বলেন, ‘গর্ডন খুবই বিপজ্জনক ছিল। ওকে সামলাতে আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।’

তবে সবচেয়ে আবেগঘন কথাগুলো এসেছে গর্ডনের নিজের মুখ থেকেই। ম্যাচ শেষে চোখে স্পষ্ট হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুব কষ্টের। আমরা ফাইনালের খুব কাছে ছিলাম। গোল করার মুহূর্তটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অনুভূতি ছিল। কিন্তু এখন সেটা উপভোগ করাও কঠিন। কারণ আমরা জিততে পারিনি।’

স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় খেলা ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার বলেন, ‘আমি আমার সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়েছি। সমর্থকদের জন্য খারাপ লাগছে, কারণ তারা আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিল। কিন্তু আমরা ফিরে আসব। এই দল আরও শক্তিশালী হবে।’

নিজের গোল নিয়ে গর্ডনের মন্তব্য ছিল সংযত, ‘ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয় আমার কাছে অনেক বড়। গোল করেছি, কিন্তু সেটা কোনো আনন্দ এনে দিচ্ছে না। যদি সেই গোল আমাদের ফাইনালে তুলতে পারত, তাহলে হয়তো আজকের অনুভূতিটা অন্যরকম হতো।’

বিশ্বকাপের এই আসরে গর্ডনের উত্থানও কম নাটকীয় নয়। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট; প্রতিটি ধাপে নিজের গতি, নির্ভীক ড্রিবলিং এবং গোল করার দক্ষতায় তিনি নজর কেড়েছেন। সেমিফাইনালের গোলটি যেন সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিচ্ছবি।

ইংল্যান্ডের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। গর্ডনের জ্বালানো আশার আলোও শেষ বাঁশির আগে নিভে গেছে। কিন্তু অনেক সময় হারও ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে দেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপ হয়তো ইংল্যান্ডকে আরেকটি হৃদয়ভাঙার গল্প উপহার দিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি নতুন নায়কের জন্মও দেখেছে।

ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙেছে, কিন্তু গর্ডনের নামটি থেকে গেছে আলোচনার কেন্দ্রেই। ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ গোলের আত্মবিশ্বাস হয়তো তার সামনের পথচলায় টনিক হিসেবে কাজ করবে।

সব প্রাচীরই একদিন ভাঙে, ভাঙল পিকফোর্ডেরটাও

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
সব প্রাচীরই একদিন ভাঙে, ভাঙল পিকফোর্ডেরটাও
ছবি: সংগৃহীত

কখনো কখনো একজন গোলরক্ষক একাই একটি দলের শেষ আশ্রয় হয়ে ওঠেন। গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে তিনি যেন বুক পেতে ঠেকিয়ে দেন প্রতিপক্ষের সব ঝড়। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে জর্ডান পিকফোর্ড ছিলেন ঠিক তেমনই এক প্রহরী। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তার দৃঢ়তা, ক্ষিপ্রতা আর অবিশ্বাস্য সব সেভ ইংল্যান্ডকে বারবার বিপদ থেকে উদ্ধার করেছে। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো- সব প্রাচীরেরই একদিন ভাঙন ধরে।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে সেই ভাঙনের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হয়নি পিকফোর্ডের ইংল্যান্ডের। অদম্য আর্জেন্টাইনদের কাছে হেরে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছিল। কিন্তু প্রতিবারই তাদের সামনে অদম্য হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইংলিশ ক্লাব এভারটনে খেলা পিকফোর্ড। কখনো ডান দিকে ঝাঁপিয়ে, কখনো দুই হাত প্রসারিত করে, আবার কখনো বিদ্যুৎগতির প্রতিক্রিয়ায় নিশ্চিত গোল ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। যেন গোলপোস্টের সামনে একজন গোলরক্ষক নন, দাঁড়িয়ে ছিলেন এক অবিচল প্রাচীর।

ইংল্যান্ডও সেই আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। সময় যত গড়িয়েছে, ইংলিশ সমর্থকদের স্বপ্ন ততই রঙিন হয়েছে। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, বহু প্রতীক্ষার আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল বুঝি হাতছানি দিচ্ছে। কিন্তু ফুটবল মাঝে মাঝে সময়ের হিসাব মানে না। কয়েক মিনিটেই বদলে যায় ইতিহাসের রং। শেষ সাত মিনিটে যেন জেগে উঠে আর্জেন্টিনা। হঠাৎ করেই ম্যাচের ছন্দ বদলে যায়। একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়তে থাকে ইংল্যান্ডের রক্ষণে। এতক্ষণ যিনি একাই সব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, সেই পিকফোর্ডও শেষ পর্যন্ত আর পারেননি।

প্রথম গোলটি যেন ভেঙে দিয়েছিল ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস। আর দ্বিতীয় গোলটি নিভিয়ে দেয় ফাইনালের স্বপ্ন। পিকফোর্ডের গ্লাভস ছুঁয়ে যাওয়া বলও আর থামানো যায়নি। কয়েক মিনিটের ঝড়ে ভেসে গেছে ৮৪ মিনিট ধরে গড়ে তোলা সব আশা। তবু এই পরাজয় পিকফোর্ডের অবদানকে ম্লান করতে পারে না। স্কোরলাইন হয়তো বলবে ইংল্যান্ড হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। কিন্তু যারা ম্যাচটি দেখেছেন, তারা জানেন ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। পিকফোর্ডের একের পর এক দুর্দান্ত সেভই ইংল্যান্ডকে এতক্ষণ লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিল।

গোলরক্ষকের জীবনটাই এমন। অসংখ্য অসাধারণ সেভের পরও শেষ মুহূর্তে একটি বল জালে জড়ালেই সব আলো চলে যায় অন্যদিকে। অথচ সেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার গল্পটি অনেক সময় ফলাফলের আড়ালে চাপা পড়ে যায়।

২০২৬ বিশ্বকাপে ৩২ বছর বয়সী পিকফোর্ডের যাত্রা তাই কেবল একটি হারের গল্প নয়। এটি একজন যোদ্ধার গল্প, যিনি শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। ভাগ্য শেষ পর্যন্ত তার পাশে দাঁড়ায়নি। কিন্তু তার সাহস, লড়াই আর আত্মনিবেদন বিশ্বকাপের স্মৃতিতে আলাদা জায়গা করে নেবে। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ওঠা হয়নি ইংল্যান্ডের। শেষ রক্ষা হয়নি পিকফোর্ডেরও। তবু গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাওয়া সেই প্রহরীর নাম বিশ্বকাপের অধ্যায়ে শ্রদ্ধার সঙ্গেই উচ্চারিত হবে।

তবে পুরো ম্যাচজুড়েই পিকফোর্ডকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল চোখে পডার মতো। আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডাও হয়। অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেওয়ার পর পিকফোর্ড উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরানোর পর আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো তার কাছে দৌড়ে গিয়ে গোল উদযাপন করেন, যা ছিল পিকফোর্ডের আগের সেই উচ্ছ্বাসের জবাব।

ম্যাচজুড়ে বেশ কয়েকটি ভালো সেভ করলেও শেষ পর্যন্ত হার সঙ্গী হয়েছে ইংলিশদের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়া এই গোলরক্ষকের। ম্যাচ শেষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমি বিধ্বস্ত। ছেলেদের জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে। দল, স্টাফ এবং ভক্ত সবার জন্যই আমি ভীষণ দুঃখিত। আমরা ম্যাচের সিংহভাগ সময় দারুণ ফুটবল খেলেছি। কিন্তু একবার যখন আমরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলাম, আমরা কেবল সেই ব্যবধান ধরে রাখার চেষ্টা করতে লাগলাম; যা এই সর্বোচ্চ স্তরের ফুটবলে মোটেও যথেষ্ট নয়। তাই আমি খুবই হতাশ। আমরা এখানে আসার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম। ছেলেরা তাদের দৌড়, ঘাম, রক্ত আর চোখের জল সব উজাড় করে দিয়েছিল। তাই এভাবে শেষ মুহূর্তে এসে হেরে যাওয়াটা সত্যিই বুক ভাঙার মতো।’

ম্যাচটি শুরুর আগে পিকফোর্ড বলেছিলেন তারা লিওনেল মেসি এবং পুরো আর্জেন্টিনা দলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং মাথা ঠাণ্ডা রেখে ম্যাচটি জিততে চান। ব্যক্তিগতভাবে ম্যাচে তিনি বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও মেসির জাদুকরী দুটি অ্যাসিস্ট এবং আর্জেন্টিনার শেষ মুহূর্তের আক্রমণভাগের তীব্রতার কাছে শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হতে হয়েছে পিকফোর্ড ও তার রক্ষণভাগকে। ফলে ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার স্বপ্ন আরও একবার অধরাই থেকে গেল।

যেভাবে সবকিছু ঘটছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ এএম
যেভাবে সবকিছু ঘটছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য
লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

স্কোরশিটে তার নাম না থাকলেও আর্জেন্টিনার দুটি গোলের অ্যাসিস্টই এসেছে একই মানুষের পা থেকে। সেই মানুষটি লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই তিনি নিজের ছাপ রেখে চলেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সেমিফাইনাল জয়ও তার ব্যতিক্রম নয়। দৃঢ়তা, লড়াকু মানসিকতা এবং দারুণ ফুটবল খেলে আর্জেন্টিনা যে ৪০ মিনিটের ঝড় তুলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়, তার অন্যতম চালিকাশক্তি ছিলেন মেসি।

মাঠের মতো মাঠের বাইরেও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক নিজের ছাপ রেখে চলেছেন। প্রতিটি ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন স্পষ্টতা ও শান্ত স্বরে, ‘যেভাবে সবকিছু ঘটছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সত্যি বলতে, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই আমি এই দলটিকে বিশ্বাস করতাম। আমি জানতাম আমরা শেষ চারে উঠব এবং শিরোপার লড়াইয়ে থাকব। আর এখন আমরা আবারও একটি ফাইনালে উঠেছি। আমার মনে হয় এটা টানা পঞ্চম ফাইনাল। আমি নিশ্চিত নই। ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য।’

রবিবার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামবেন মেসি। ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে রানার্সআপ হওয়া এবং ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের দুই ফাইনালেই তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার অংশ। এবার নিউইয়র্ক নিউ জার্সিতে তিনি মুখোমুখি হবেন এমন একটি দলের, যাদের সম্পর্কে তার জানাশোনা অনেক। স্পেনকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওরা অসাধারণ একটি দল, দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় রয়েছে তাদের। তারা চমৎকার ফুটবল খেলে।’

মেসি আরও বলেন, ‘স্পেন দলটিকে আমি খুব ভালো করেই চিনি। বহু বছর ধরে তারা একটি নির্দিষ্ট খেলার ধারা গড়ে তুলেছে। খেলোয়াড়দেরও আমি চিনি। তাদের অনেকের বিপক্ষেই আমি খেলেছি এবং আমি তাদের নিয়মিত অনুসরণ করি। এই স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন বার্সেলোনার খেলোয়াড়, যে ক্লাবটি আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং যেটিকে আমি এখনো অনুসরণ করি। এটি একটি বিশেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল হতে যাচ্ছে এবং অবশ্যই আমি আশা করছি ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’

তবে মেসির কাছে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা কোনো বিচ্ছিন্ন সাফল্য নয়। এটি বহু বছরের এক যাত্রার অংশ, যেখানে তিনি এমন একটি ঘনিষ্ঠ দলের সঙ্গে আছেন, যাদের মধ্যে তিনি নিজেকে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, ‘২০১৯ সালের কোপা আমেরিকায় ফিরে আসার পর থেকে এই দলটির সঙ্গে যা কিছু আমি অনুভব করেছি, তা অবিশ্বাস্য। আমি যা কখনোই কল্পনাও করিনি, তারও অনেক বেশি। আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। শুধু সাফল্য আর জেতা ট্রফিগুলো নয়, তাদের সঙ্গে প্রতিদিনের জীবন ভাগ করে নেওয়া এবং তাদের সঙ্গে মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাও... সব মিলিয়ে এটি ছিল সত্যিই অসাধারণ এক যাত্রা। আর আমরা সমর্থকদেরও অনেক আনন্দ উপহার দিতে পেরেছি। আমি খুবই আনন্দিত।’

আর্জেন্টিনার জয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেসি ব্যাখ্যা করেন, অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে যাওয়ার পর কীভাবে তার দল ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শট এবং লাউতারো মার্টিনেজের হেডে আসে সেই প্রত্যাবর্তন। তার কথায়, ‘আমার মনে হয়, আজও আমরা আবার দেখিয়েছি যে আমরা বহু বছর ধরেই কী করে আসছি। এই দলটি ছন্দময়, আক্রমণাত্মক এবং উচ্চমানের ফুটবল খেলে। আমরা ধৈর্য ধরে খেলি এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কীভাবে পড়তে হয়, তা জানি। আমার মনে হয় শুরু থেকেই আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি। প্রথমার্ধে খুব পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিলাম এবং বলের দখলও ছিল আমাদের। আর তারা গোল করার পর আমরা আরও ভালো খেলেছি।’

মেসির মতে, মূল বিষয়টি ছিল–এখনো যেমন, তখনো তেমনি। এক শব্দে–ধৈর্য। আর্জেন্টিনা বল ঘুরিয়েছে, সুযোগের অপেক্ষা করেছে এবং মাঝমাঠ ও দুই প্রান্ত–দুই দিক দিয়েই আক্রমণ চালিয়েছে। সহজ কথায়, তারা কোনো অবস্থাতেই হাল ছাড়েনি। গোলপোস্টে বল লাগা, নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া হওয়া কিংবা ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের একের পর এক দারুণ সেভ, কোনোটিই তাদের থামাতে পারেনি। তার ভাষ্য, ‘আমার মনে হয়, এটি আবারও প্রমাণ করে আমরা দল হিসেবে কতটা শক্তিশালী। মানসিকভাবে আমরা খুবই দৃঢ় এবং আমরা দারুণ ফুটবল খেলি। এই সবকিছুই আজ আমাদের জয় এনে দিয়েছে।’

সব ছাপিয়ে মেসি আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে। আর তার নিজের ভাষায়, তিনি এর চেয়ে বেশি সুখী হতে পারেন না।

মালভিনাস ব্যানারে নতুন বিতর্ক ফিফার দ্বারস্থ ব্রিটেন

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩০ এএম
মালভিনাস ব্যানারে নতুন বিতর্ক ফিফার দ্বারস্থ ব্রিটেন
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের উদযাপনে ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন কয়েকজন ফুটবলার। এর জেরে ফিফার কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি ফিফার আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে গ্যালারি থেকে ছুড়ে দেওয়া একটি ব্যানার হাতে তুলে নেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো সেলসোসহ কয়েকজন ফুটবলার। ব্যানারটিতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’, অর্থাৎ ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’।

ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, মাঠ বা গ্যালারিতে রাজনৈতিক, বৈষম্যমূলক কিংবা আপত্তিকর বার্তাসংবলিত ব্যানার বা অন্যান্য উপকরণ প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জকে ব্রিটেন ফকল্যান্ডস এবং আর্জেন্টিনা মালভিনাস নামে ডাকে। এর মালিকানা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধও হয়েছিল। সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ব্রিটেন।

এই বিরোধের ছায়া ফুটবল মাঠেও বহুবার দেখা গেছে। বিশেষ করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ম্যাচের পর থেকে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই মানেই রাজনৈতিক ইতিহাসও আলোচনায় চলে আসে। এবারের বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালের পর সেই পুরোনো বিতর্কই আবার নতুন করে সামনে এল।

ব্রিটিশ মিডিয়ায় শোকের মাতম টুখেলের কাঁধে হারের দায়

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ এএম
ব্রিটিশ মিডিয়ায় শোকের মাতম টুখেলের কাঁধে হারের দায়
ছবি: সংগৃহীত

আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ। ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালেই থেমে গেল ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হারের পর দেশটির সংবাদমাধ্যমে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া। বেশির ভাগ পত্রিকাই হারের জন্য সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে কোচ টমাস টুখেলকে।

জনপ্রিয় ট্যাবলয়েড দ্য সান প্রথম পাতায় লিখেছে, ‘৬০ বছরের অপেক্ষা চলছেই।’ ভেতরের প্রতিবেদনে তারা মন্তব্য করেছে, ‘যন্ত্রণার পৃথিবী।’ তাদের মতে, ইংল্যান্ডের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে টুখেল সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। মোটা অঙ্কের বেতন পাওয়া এই জার্মান কোচও শেষ পর্যন্ত আগের ব্যর্থ কোচদের তালিকাতেই নাম লেখালেন।

দ্য টাইমস এই হারকে ইংল্যান্ডের জন্য ‘হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছে। আর ডেইলি মেইল লিখেছে, এটি যেন পুরোনো গল্পেরই পুনরাবৃত্তি। বড় মঞ্চে আবারও হোঁচট খেল থ্রি লায়ন্সরা।

দ্য গার্ডিয়ান আরও কড়া ভাষায় লিখেছে, টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ডের নতুন অধ্যায়ের আশা ছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা দেখিয়েছে সাহস, আর ইংল্যান্ড খেলেছে ভয় নিয়ে।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই ছিল, অথচ শেষ পর্যন্ত সেটি নিজেরাই হারিয়েছে। কোচের বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা করেছে ডেইলি মিরর। তাদের মতে, টুখেলের পরিবর্তনগুলো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার বদলে ইংল্যান্ডের ছন্দই নষ্ট করেছে।

টুখেলকে ঘিরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তীব্র প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ার দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড-এর প্রতিবেদনে। তারা লিখেছে, ‘টুখেল এখন ইংল্যান্ডের এক নম্বর গণশত্রু।’ একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে, তিনি কোন মুখে দেশে ফিরবেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমর্থক ও বিশ্লেষকদের একটাই প্রশ্ন; টুখেল কি খুব দ্রুত রক্ষণাত্মক কৌশলে চলে গিয়েছিলেন? নিজের দলের ওপর কেন তিনি শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখতে পারলেন না? ইংল্যান্ডের আরেকটি বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের পর এসব প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে পুরো দেশ।

বিশ্বকাপ ফাইনাল: জেনে নিন আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণের সব তথ্য

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
বিশ্বকাপ ফাইনাল: জেনে নিন আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণের সব তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর দৃষ্টি এখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের দিকে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান শক্তি স্পেন। দুই দলের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে বিশ্ব ফুটবলের নতুন রাজা।

ফিফার সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুলাই (রবিবার)। ম্যাচটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে (মেটলাইফ স্টেডিয়াম), নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা এবং বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

৮২ হাজারের বেশি দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মেটলাইফ স্টেডিয়ামটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল- সব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, স্পেন ২-০ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা নিশ্চিত করেছে।

আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। লিওনেল মেসির দল ফাইনালে জিততে পারলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে। অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে স্পেন।

এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে আরও একটি নতুনত্ব থাকছে। ফিফার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালের বিরতিতে (হাফটাইম) বিশেষ বিনোদনমূলক আয়োজন রাখা হয়েছে, যা সুপার বোলের আদলে অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ম্যাচটি সরাসরি উপভোগ করবেন। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটি হতে যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি ফাইনাল।

অমিয়/