গণ-অভ্যুত্থানের বৈধতা বা অবৈধতার বিচার আদালতের বিষয় নয়। এক্ষেত্রে জনগণই সর্বোচ্চ বিচারক। ফলে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশই জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায় প্রকাশের একমাত্র আইনগত মাধ্যম বলে এক সংবাদ সম্মেলনে মত প্রকাশ করা হয়েছে। জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ল' ইয়ার্স কাউন্সিল এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ‘গণ-অভ্যুত্থান-জুলাই সনদ-গণভোট-সংবিধান সংস্কার-পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায় : বর্তমান বাস্তবতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট বারের শহিদ শাফিউর রহমান অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
শিশির মনির বলেন - ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে পাতানো নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। এতে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকারও ভূলুণ্ঠিত করে বিচারালয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। গুম-খুন, নির্যাতন ও আয়নাঘর ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। এছাড়া একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী যুক্ত করা হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পুনর্লিখিত হয়। বিলুপ্ত করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। গণভোটের ব্যবস্থাও বিলুপ্ত করা হয়।
তিনি বলেন, বছরের পর বছর ক্ষমতার চরম অপব্যবহারে মানুষের মনে হতাশা ও গভীর ক্ষোভের জন্ম হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিস্ফোরিত হয় দীর্ঘদিনের সেই চাপা ক্ষোভ। জনতার স্রোতে ভেঙে যায় ১৬ বছর ধরে গড়ে ওঠা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে পথ চলতে শুরু করে এ সরকার। এর মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হলেও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রসংস্কার এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
শিশির মনির বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের আইন সংশ্লিষ্ট সবার ওপর বাধ্যকর। বাংলাদেশের কোনো আদালত এই আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেনি। কারণ এই আইনই জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের লিখিত রূপ। তাই জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫-এর ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে। আদেশে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক সংবিধানের প্রয়োজনীয় সব সংস্কার সম্পন্ন করাই হবে আইনসম্মত ও যথাযথ পদক্ষেপ।
কাউন্সিলের সভাপতি ও সদ্যসম্পন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকারের সভাপতিত্বে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিব মোমেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনি ঐক্য থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এবং এবি পার্টির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্যসাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
মাহমুদুল আলম/এসএন