অমর প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেই চলেছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর ২০২৬ সংস্করণে অদম্য লা আলবিসেলেস্তেরা। উত্তর আমেরিকায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা পিছিয়ে পড়েও যেভাবে বারবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তা রূপকথার গল্পকেও হার হারায়। এমনই দলকে নিয়ে বলতে গিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি বলে উঠলেন, ‘মহাকাব্যেরও মহাকাব্য।’
আটলান্টায় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর থ্রি লায়ন্সরা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিল। সেই মুহূর্তেই জয়ের গন্ধ পেয়েছিল স্কালোনির দল এবং সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাপ্য ২-১ ব্যবধানের সাফল্য নিশ্চিত করে। শিষ্যদের নজরকাড়া সেই পারফরম্যান্সের পর স্কালোনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়লেই এই দলটি সবচেয়ে ভালো ফুটবল খেলে। এটি ছিল কঠিন একটি ম্যাচ, কঠিন একটি পরিস্থিতি। জয়ের গন্ধ আমরা পেয়ে গিয়েছিলাম, আর আমরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। অন্তত আমার অনুভূতি ছিল ঠিক এমনই।’
স্কালোনি আরও বলেন, ‘আপনাকে শুধু লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আমরা (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে) ক্রসবারে বল মেরেছি। পোস্টেও বল লেগেছে, কিন্তু গোল হচ্ছিল না। ছয়-সাতটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তারপরও আমি খুবই সন্তুষ্ট, কারণ দলটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে। আমার মনে হয়, এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
নকআউট পর্বে এটি দ্বিতীয়বার, যখন ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিল আর্জেন্টিনা। এর আগে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষেও নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতেছিল তারা। সেই জয়কে তখন স্কালোনি ‘মহাকাব্যিক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়কে কীভাবে বর্ণনা করবেন–এমন প্রশ্নের জবাবে স্কালোনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘মহাকাব্যেরও মহাকাব্য।’ রবিবার নিউ জার্সিতে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা। স্কালোনির মতে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় ছিল পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল, ‘এই দলটিকে ভাষায় ব্যাখ্যা করা কঠিন। এটি আমাদের দলগত শক্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতার এক অসাধারণ উদাহরণ।’
২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের আগে ও পরে দুটি কোপা আমেরিকা জিতে ইতোমধ্যেই তিনটি বড় শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা। এবার স্কালোনির সামনে সুযোগ রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে টানা চারটি বড় শিরোপা এনে দেওয়ার। স্কালোনি বলেন, ম্যাচে পিছিয়ে পড়লেও তার দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো ধরনের ভয় বা চাপ কাজ করেনি, ‘আমি এই ছেলেদের চিনি। তারা কোনো কিছুকেই ভয় পায় না। তারা কাঁধে কোনো চাপ অনুভব করে না। তারা যেন সাত-আট বছরের শিশুদের মতো খেলছে। তারা এটা ভাবছে না যে, ‘সুযোগ মিস করলে কী হবে?’ কিংবা তারা সেমিফাইনাল বা ফাইনাল নিয়ে বাড়তি কিছু ভাবছে না।”