সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়ে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের শিরোপাখরা কাটানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। আজ (১৫ জুলাই) রাত ১টায় ম্যাচটি শুরু হবে আটলান্টায়।
২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে থ্রি লায়ন্সরা। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামকে সামনে রেখে ট্রফি ঘরে ফেরানোর স্বপ্ন দেখছে দলটি। সেমিফাইনালের আগে দেখে নেওয়া যাক কীভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছাল ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ড ৪-২ ক্রোয়েশিয়া
হ্যারি কেইনের জোড়া গোলের সঙ্গে জুড বেলিংহ্যাম ও মার্কাস রাশফোর্ডের গোলের সুবাদে দারুণ লড়াই শেষে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান দুর্দান্তভাবে শুরু করে ইংল্যান্ড।
ডমিনিক লিভাকোভিচ প্রথমে কেইনের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন। তবে লাইন ছেড়ে আগেভাগে বেরিয়ে আসায় সেটি পুনরায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি কেইন। শক্তিশালী শটে বল ডান কোণে জড়িয়ে গোলরক্ষককে ভুল দিকে পাঠিয়ে দেন তিনি। তবে ৩৬ মিনিটে মার্টিন বাতুরিনা জোরালো ও নিখুঁত শটে সমতা ফেরান। জর্ডান পিকফোর্ড বল ছুঁতে পারলেও ঠেকাতে পারেননি।
৪২ মিনিটে আবারও ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন কেইন। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ডে সমতা আনেন তিনি। তবে বিরতির ঠিক আগে ইভান পেরিসিচের দারুণ এক হেড থেকে পাওয়া বলে পেতার মুসা গোল করলে আবারও সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। ৪৭ মিনিটে বেলিংহ্যাম ইংল্যান্ডের তৃতীয় গোলটি করেন। এরপর ৮৫ মিনিটে রাশফোর্ড গোল করে ম্যাচের জয় নিশ্চিত করেন।
ইংল্যান্ড ০-০ ঘানা
দৃঢ় রক্ষণে খেলা ঘানার বিপক্ষে গোলের দেখা পায়নি ইংল্যান্ড। ফলে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। এই ফল দুই দলকেই পরের পর্বে ওঠার ভালো অবস্থানে রাখলেও টমাস টুখেলের দলের জন্য তা ছিল হতাশার।
উদ্বোধনী ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারানো ঘানা অঁতোয়ান সেমেনিও এবং বদলি প্রিন্স কোয়াবেনা আদুর গতির ওপর ভর করে পাল্টা আক্রমণে ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে।
তবে ম্যাচের সেরা সুযোগটি নষ্ট করে ইংল্যান্ডই। ৮৬ মিনিটে নিকো ও’রাইলির হেড ক্রসবারে লাগে এবং ফিরতি বলে কেইনের শট অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়।
পানামা ০-২ ইংল্যান্ড
বৃষ্টিভেজা নিউ জার্সিতে কঠিন লড়াইয়ে জুড বেলিংহ্যাম এক গোল করেন এবং আরেকটি গোলে সহায়তা করে ইংল্যান্ডকে পানামার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জিততে সাহায্য করেন। প্রথমার্ধ ছিল নিষ্প্রভ। প্রায় এক ঘণ্টা বলের দখল ধরে রেখেও পানামার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৬২ মিনিটে বেলিংহ্যামই অচলাবস্থা ভাঙেন।
বুকায়ো সাকার বাঁ দিক থেকে নেওয়া কর্নার ভিড়ের মধ্যে পড়লে, একজন ডিফেন্ডারের চাপে থেকেও বেলিংহ্যাম জায়গা তৈরি করে বাঁ পায়ের শটে গোলরক্ষক অরল্যান্ডোকে পরাস্ত করেন। পাঁচ মিনিট পর আবারও বাম দিক থেকে আক্রমণ গড়ে ক্রস দেন বেলিংহ্যাম। সেই বলে ডিফেন্ডারের ওপর দিয়ে উঠে হেডে গোল করেন কেইন।
ইংল্যান্ড ২-১ ডিআর কঙ্গো
শেষ ১৫ মিনিটে হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থাকার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি।
দেশের জার্সিতে আরেকটি ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স উপহার দেন অধিনায়ক কেইন। ৭৫ মিনিটে হেডে সমতা ফেরানোর পর নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে দুর্দান্ত এক গোলে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এর আগে টানা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ম্যাচে পিছিয়ে ছিল ইংল্যান্ড।
মেক্সিকো ২-৩ ইংল্যান্ড
প্রথমার্ধের আধাঘণ্টা পেরোনোর পর বুকায়ো সাকার ক্রস থেকে দুর্দান্ত ডাইভিং হেডে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন বেলিংহ্যাম। দুই মিনিটের মধ্যেই ডান দিক দিয়ে আরেকটি আক্রমণে অধিনায়ক কেইনের অ্যাসিস্টে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি।
মেক্সিকোর সমর্থকেরা তখন “হ্যাঁ, আমরা পারি” স্লোগান দিতে শুরু করেন। মাঠেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। ফ্রি-কিকের পর সৃষ্ট জটলার মধ্যে বক্সের ভেতর থেকে জুলিয়ান কুইনোনেস ভলিতে গোল করে স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরান।
ঘণ্টার মাথায় পেনাল্টি থেকে শান্তভাবে গোল করেন কেইন। তবে নয় মিনিট পর তিনিই একটি পেনাল্টি উপহার দেন, যা থেকে রাউল গিমেনেস গোল করেন। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।
নরওয়ে ১-২ ইংল্যান্ড
জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে, যার একটি আসে অতিরিক্ত সময়ে, লড়াকু নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। ৩৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে বেলিংহ্যাম বক্সে ঢুকে গোল করে সমতা ফেরান।
অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিটে মরগান রজার্স দূরপাল্লার শট নিলে নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নাইল্যান্ড কেবল বলটি ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হন। ফিরতি বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে গোল করেন বেলিংহ্যাম। ৬৪ হাজার ৪৭৮ দর্শকের মধ্যে উপস্থিত সাদা জার্সিধারী ইংল্যান্ড সমর্থকদের উল্লাসে তখন ভরে ওঠে স্টেডিয়াম।
অনিক/