গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল করার সময় বিএনপির দুই নেতাকে মারধর এবং তাদের মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ১৮জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে মারধরের শিকার হয়ে কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় মামলাটি করেন।
এদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেন কোর্ট ইন্সেপেক্টর বিধান কুমার চন্দ্র।
গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের আজ বুধবার সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। প্রিজন ভ্যানে আদালতে হাজির করার সময় গ্রেপ্তার হওয়া নেতা-কর্মীরা "জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু", "আমরা সবাই মুজিব সেনা, নেত্রী মোদের শেখ হাসিনা" এবং "শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে"সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পুরো ঘটনার ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে গেলে গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কোর্ট ইন্সেপেক্টর বিধান কুমার চন্দ্র সাংবাদিকদের বাধা দেন। এ সময় সাংবাদিকরা তাদের পরিচয় দিলেও তিনি ক্যামেরায় হাত দিয়ে ভিডিও করতে বাধা দেন। পরে তাকে ভিডিও করতে বাধা দিলেন কেন? এমন প্রশ্ন করা হলে সেখান থেকে তিনি সরে যান। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে শতাধিক নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সড়কের তিলছড়া এলাকায় অবস্থানরত রাতইল ইউনিয়ন বিএনপির দুই নেতাকে মারধর করেন এবং তাদের মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়ে দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরে যায়। এ ঘটনায় মামলায় ১০৬ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাফিছুর রহমান বলেন, বিএনপির দুই নেতাকে মারধর, তাদের মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নামে সড়কে বিক্ষোভ করার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকী দোষীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাদল সাহা/নাঈম