আর্জেন্টিনার নিউকুয়েন প্রদেশের পাতাগোনিয়ার ছোট শহর কুত্রাল কো। এখানেই দাঁড়িয়ে আছে ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির ৮৫ ফুট উঁচু একটি বিশাল মূর্তি। সেই মূর্তির পাদদেশেই কয়েক শ মানুষ একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখলেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল।
ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠতেই মুহূর্তেই আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়েন তারা।
শুধু কুত্রাল কো নয়, রাজধানী বুয়েনস আইরেসসহ পুরো আর্জেন্টিনাজুড়েই দেখা যায় একই দৃশ্য।
এখন শিরোপার লড়াইয়ে তাদের সামনে শেষ বাধা স্পেন। রবিবারের ফাইনাল জিততে পারলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুই বার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়বে আর্জেন্টিনা।

দক্ষিণাঞ্চলীয় নেউকেন প্রদেশের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের শহর কুত্রাল কোতে শুরুতে প্রায় ৩০০ সমর্থক মেসির বিশাল মূর্তির পাশে বসানো জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখছিলেন। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন সবাই। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ দিকে দুটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।
স্থানীয় বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী লুকাস রোমেরো বলেন, ‘এটি ছিল কষ্টের মধ্য দিয়ে অর্জিত এক জয়।’
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেসির মূর্তির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘মেসি আর্জেন্টিনার জন্য যা করেছেন, এই মূর্তিটি তারই যথাযথ স্বীকৃতি।’
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই বরাবরই ইতিহাস ও আবেগে ঘেরা। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ, ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনায় মালভিনাস) যুদ্ধ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল- সব মিলিয়ে এই ম্যাচ দুই দেশের কাছে সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘এটি আর দশটি ম্যাচের মতো নয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই আরও বেশি কিছু। এটি মালভিনাসের স্মৃতি, এটি দিয়েগো, এটি লিওর শেষ বিশ্বকাপ, আর এটি আক্রমণকারীদের থামিয়ে দেওয়ার লড়াই।’

কুত্রাল কো শহরের অনেক বাসিন্দাই কাছের ভাকা মুয়ের্তা তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে কাজ করেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শেল তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে এই এলাকায়।
গত জুনে স্থানীয় শিল্পী আলদো বেরোইসার নির্মিত ৮৫ ফুট উচ্চতার হাস্যোজ্জ্বল মেসির একটি ভাস্কর্য উদ্বোধনের পর শহরটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। আকাশের দিকে আঙুল তুলে হাঁটু গেড়ে থাকা মেসির এই ভাস্কর্যকে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মেসি স্মৃতিস্তম্ভ বলে দাবি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সেমিফাইনাল জয়ের পর মূর্তির চারপাশে সমর্থকের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছে যায়। আতশবাজির রঙিন আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সূত্র: রয়টার্স
অমিয়/