ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পাবলিক পরীক্ষা শুষ্ক মৌসুমে নেওয়া উচিত গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে এগিয়ে মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে পর যা বললেন মেসি ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা চাপের মুখেই আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরা ফুটবল খেলে: স্কালোনি মেট্রোরেলের ৭৩০ বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ, পিয়ার হেডে ফাটল ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া ট্রাম্প প্রকল্প ব্যয় সাড়ে ১৬ বছরে বরাদ্দের ৫৬ শতাংশ খরচ আবু সাঈদ হত্যার রায়: ৫ যুক্তিতে খালাস চেয়ে ৪ আসামির আপিল আজ মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা ৮৫ ফুটের মেসি এই আন্দোলন শতভাগ প্রশাসনিক ব্যর্থতা মেজাজ হারিয়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে চড় দিলেন বেলিংহাম করোনাকাল ও কোচিং সেন্টার দায়ী থাকতে পারে আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন বাংলাদেশ রেলওয়ের ১ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কিনতে ব্যয় হয় ৮ কোটি, লোপাট ৭ কোটি টাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে ছিদ্র রয়ে গেছে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো সাজেক ২৬ বছরেও সাংবাদিক শামছুর রহমান হত্যার বিচার হয়নি ব্যবস্থাপনার সংকটে ডুবছে ঢাকা কু‌ড়িগ্রামে দুই সপ্তাহে তিস্তার পেটে ২৫ ঘর সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীতে অন্ধকার নামলে শুরু হয় বালু লুট রায় কার্যকর না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ বাইক্কা বিলের হলুদ মোমলেজি ঈশ্বরগঞ্জে পুরোনো কৃষিযন্ত্রের হাট ব্যাপক দুর্নীতি: প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকার ১৬ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৬ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ১৮ বিশ্বকাপের সাক্ষী ৯১ বছরের ম্যাকাইয়া ফুটবল থামিয়ে মঞ্চে উঠবেন তারকারা

লন্ডন গ্লোবের প্রতিবেদন ব্যাপক দুর্নীতি: প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
ব্যাপক দুর্নীতি: প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকার
ছবি: সংগৃহীত

গণ-অভ্যুত্থানের পর সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচারের এক নতুন যুগের সূচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে স্বাগত জানায় জনগণ ও বিভিন্ন দেশ। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পার হতে না হতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তথাকথিত এই সংস্কারগুলো আসলে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয় লন্ডন গ্লোব।

  • উপদেষ্টাদের অর্থ পাচারসহ রেকর্ড অভিযোগ দুদকে 
  • সংস্কারের নামে নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা
  • সরকারি সেবা পেতে ৬১ শতাংশ মানুষ ঘুষের শিকার

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ইউনূস সরকারের আমলের দুর্নীতিবিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে দেখা গেছে, সংস্কারক হিসেবে প্রশংসিত হওয়া সত্ত্বেও ড. ইউনুস ক্ষমতায় থাকার সময় দুর্নীতির পরিস্থিতি আসলে আরও অবনতি হয়। দেশের ৮১ শতাংশ পরিবার মনে করত মৌলিক সরকারি সেবা পেতেও তাদের ঘুষ দিতে হবে এবং ঘুষ দেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষই বিষয়টি কোথাও জানায়নি। এমনকি ঘুষ ও দুর্নীতি দমনের দায়িত্বে থাকা সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্পর্কে ৩০ শতাংশেরও কম মানুষ জানত।

লন্ডন গ্লোব জানায়, ইউনূস সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার পদ পাইয়ে দিতে ঘুষ গ্রহণের রেকর্ডসংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছিল দুদকে। কিন্তু উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে। দুদক সূত্র জানায়, আশার কথা–তাদের দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের ব্যাপারে একটি ইতিবাচক আগ্রহ বা তাগিদ রয়েছে। দুদক ড. ইউনূস সরকারের এসব দুর্নীতির অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করতে প্রস্তুত। কিন্তু দুদকের শীর্ষ পদটি শূন্য থাকায় তারা তা করতে পারছে না। বর্তমান সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরাও সংসদীয় পর্যায়ে ইউনূস প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

লন্ডন গ্লোব আরও জানায়, ইউনূস প্রশাসন অন্যান্য ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও তিনি নিজে যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের বিরুদ্ধেও তহবিল অপব্যবহারের তদন্ত শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় ড. ইউনূস ও তার দুর্নীতিপরায়ণ সহযোগীদের প্রচার করা ত্রুটিপূর্ণ আর্থিক সংস্কারগুলোকে বিএনপি সরকার যদি সমর্থন দেয়, তবে তা হবে সরকারের জন্য একটি বড় ভুল। ড. ইউনূসের শাসনামলে যে দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছিল, তা মোকাবিলায় একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন এবং সরকারের উচিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখনই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

এ ছাড়া কোনো স্পষ্ট বা গণতান্ত্রিকভাবে নির্ধারিত জনরায় ছাড়াই তারা ব্যাংকিংব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের মতো অত্যন্ত বিতর্কিত সব সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়। এসব পদক্ষেপ গ্রহণের দায় তারা বেক্সিমকো, ওরিয়ন গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ ও নাবিল গ্রুপের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান মনসুরের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব সংস্কার ও পদক্ষেপ সে সময় আর্থিক খাতের অনেকের মধ্যেই উদ্বেগের সৃষ্টি করে। এখন সেই পদক্ষেপগুলোর পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্যও ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে বলে জানায় লন্ডন গ্লোব

মেট্রোরেলের ৭৩০ বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ, পিয়ার হেডে ফাটল

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
মেট্রোরেলের ৭৩০ বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ, পিয়ার হেডে ফাটল
ছবি: সংগৃহীত

মেট্রোরেলের ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া একাধিক স্থানে পিয়ার হেড (থামের উপরিভাগ) এবং কংক্রিটের বেজ বা ভিতে উল্লেখযোগ্য ফাটল দেখা দিয়েছে। মরিচা ধরা রেললাইন, ফাস্টেনিং (আটকানোর সরঞ্জাম) এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশেও ত্রুটি পাওয়া গেছে। মেট্রোরেলের নিরাপত্তা অডিটে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর ফার্মগেট স্টেশনের কাছে স্থানচ্যুত একটি লোড-বেয়ারিং প্যাড নিচে খুলে পড়ে একজন পথচারী নিহত হন। এরপর হাইকোর্ট ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই নিরাপত্তা অডিট কমিটি গঠন করে।

গত মে মাসে সর্বশেষ নিরাপত্তা অডিট প্রতিবেদনটি ডিএমটিসিএলের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং আগের নির্দেশনা অনুযায়ী উচ্চ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। চুয়েটের সাবেক উপাচার্য মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের এই কমিটি এই প্রতিবেদন তৈরি করে।

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এমআরটি-৬ লাইনে ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে নানা ত্রুটি শনাক্ত করেছে অডিট কমিটি।

এমআরটি লাইন-৬-এর পরিচালন ঝুঁকি ও কাঠামোগত অখণ্ডতা পরীক্ষা করেছে নিরাপত্তা অডিট কমিটি। কমিটি বলেছে, কম্পন, ঝাঁকুনি, ট্র্যাক-সাপোর্ট সমস্যা, ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাড এবং সাময়িক গতিসীমা সংকোচনের কারণে মেট্রোরেলের গতি ব্যাহত হচ্ছে, রাইড কোয়ালিটি কমছে। মেট্রোরেল চলাচলের সময় ট্র্যাক কাঁপছে, এই অতিরিক্ত কম্পনের কারণে মেট্রোরেল নির্ধারিত গতিসীমায় চলাচল করতে পারছে না।

এই সমস্যা সমাধানে ক্র্যাক গেজ ও সেটেলমেন্ট মার্কার স্থাপন এবং বিশেষ করে ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬ এবং ৪৪৮ নম্বর পিয়ারের ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাডগুলো প্রতিস্থাপন করার সুপারিশ করেছে কমিটি। 

মেট্রোরেলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমের (ওসিএস) ইনসুলেটেড ওভারল্যাপগুলোতে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ বা স্পার্কিং শনাক্ত হয়েছে; যার ফলে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অডিট রিপোর্টে বলা হয়, এমআরটি লাইন-৬-এ মেট্রোরেল সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে। কিন্তু ট্রেনগুলো এখন ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতিতে চলছে। এমনকি কিছু কিছু সেকশনে ৪৪ থেকে ৪৭ কিলোমিটার গতিতে চলছে। ১০টি স্পটে সাময়িক গতিসীমা সংকোচনের কারণে প্রতিনিয়ত অস্বাভাবিক কম্পন ও ঝাঁকুনি তৈরি হচ্ছে।

কমিটি সতর্ক করেছে, যদি এখনই এসব ত্রুটি মেরামত করা না যায় তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও মেট্রোরেল ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেট্রোরেল চলাচলের সময় ৪৪২, ৪৪৬ এবং ৪৪৮ নম্বর পিয়ারের বিয়ারিং প্যাডগুলো সজোরে ধাক্কা খাচ্ছে। ৪২৩ নম্বর পিয়ারে একটি বিয়ারিং প্যাডের স্থানচ্যুতি রেকর্ড করা হয়েছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত বা স্থানচ্যুত বিয়ারিং প্যাডের পাশাপাশি পিয়ার হেড, কংক্রিট বেজ এবং বক্স গার্ডারে দৃশ্যমান ফাটলগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৪১ নম্বর পিয়ারে ১ মিলিমিটারের চেয়ে বড় একটি ফাটল দৃশ্যমান হয়েছে। 

সব কটি বিয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুতির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনকে দায়ী করেছে কমিটি। এ বিষয়ে জাপানি ডিজাইন কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান এনকেডিএম অ্যাসোসিয়েটসের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিটি। কমিটি এসব বিয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপন বা সংশোধনের সুপারিশ করেছে।

বিভিন্ন স্টেশনের ট্রান্সফরমারের ত্রুটি, বৈদ্যুতিক ও সিগনালিং রুমে পানি চুইয়ে পড়া এবং ওভারহেড ক্যাটেনারি তারে ক্রমাগত স্ফুলিঙ্গ তৈরির বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে শর্ট সার্কিট, অগ্নিকাণ্ড, তার ছিঁড়ে যাওয়া, যাত্রী আটকে পড়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কমিটি।

মেট্রোরেল প্রায় তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে নির্ধারিত স্টপেজের আগে থেমে যায়। এতে ট্রেনের দরজা এবং প্ল্যাটফর্মের স্ক্রিন ডোরের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা বা মিসঅ্যালাইনমেন্ট তৈরি হয়। এমন ত্রুটির জন্য ইতোমধ্যে পাঁচটি ট্রেন সেট পরিষেবা বা অপারেশন থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। কমিটি সতর্ক করেছে যে, চাকার এই ত্রুটিগুলো সমাধান না করা হলে তা ট্রেন লাইনচ্যুতির কারণ হতে পারে। 

এ সমস্যা সমাধানে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরো লাইনে ডাইনামিক ভাইব্রেশন টেস্টিংয়ের পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। পাশাপাশি মেট্রোরেলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য আগামী দুই বছরের মধ্যে একটি স্থায়ী স্মার্ট স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং সিস্টেম চালু করা, একটি স্বাধীন সেফটি স্টিয়ারিং কমিটি এবং ডিজিটাল ত্রুটি ব্যবস্থাপনা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশনের মধ্যে ১২টি বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অডিট প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনেক স্টেশনের কলাম বা খুঁটি পর্যাপ্ত ল্যাটারাল ব্রেসিং (পার্শ্বীয় বন্ধনী) ছাড়াই সিঙ্গেল-পাইল ফাউন্ডেশনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এতে আরও বলা হয়েছে যে, স্থায়ী পাইলগুলোর লোড ভার বহন ক্ষমতা যাচাই করা হয়নি। 

পরিদর্শন যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশের ঘাটতি এবং রিয়েল-টাইম স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং সিস্টেম না থাকার কথা উল্লেখ করেছে কমিটি। সব সাব-স্টেশন ও সিগনালিং রুম পানিনিরোধক করা; বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য জরুরি বহির্গমন বা ইভাকুয়েশন প্ল্যান তৈরি করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

ডিএমটিসিএলের কোম্পানি সচিব খোন্দকার এহতেশামুল কবীর খবরের কাগজকে বলেন, ‘ফার্মগেটের সেই দুর্ঘটনার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে সেফটি সার্ভে বা অডিট রিপোর্ট করতে হয়েছে। এখানে বিশেষজ্ঞরা মেট্রোরেলের অবকাঠামোতে নানা ত্রুটির কথা বলেছেন। আমরা সেই রিপোর্ট উচ্চ আদালতে পেশ করেছি। আদালতের নির্দেশনা ও কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’

লন্ডন গ্লোবের প্রতিবেদন ব্যাপক দুর্নীতি: প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
ব্যাপক দুর্নীতি: প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকার
ছবি: সংগৃহীত

গণ-অভ্যুত্থানের পর সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচারের এক নতুন যুগের সূচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে স্বাগত জানায় জনগণ ও বিভিন্ন দেশ। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পার হতে না হতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তথাকথিত এই সংস্কারগুলো আসলে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয় লন্ডন গ্লোব।

  • উপদেষ্টাদের অর্থ পাচারসহ রেকর্ড অভিযোগ দুদকে 
  • সংস্কারের নামে নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা
  • সরকারি সেবা পেতে ৬১ শতাংশ মানুষ ঘুষের শিকার

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ইউনূস সরকারের আমলের দুর্নীতিবিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে দেখা গেছে, সংস্কারক হিসেবে প্রশংসিত হওয়া সত্ত্বেও ড. ইউনুস ক্ষমতায় থাকার সময় দুর্নীতির পরিস্থিতি আসলে আরও অবনতি হয়। দেশের ৮১ শতাংশ পরিবার মনে করত মৌলিক সরকারি সেবা পেতেও তাদের ঘুষ দিতে হবে এবং ঘুষ দেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষই বিষয়টি কোথাও জানায়নি। এমনকি ঘুষ ও দুর্নীতি দমনের দায়িত্বে থাকা সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্পর্কে ৩০ শতাংশেরও কম মানুষ জানত।

লন্ডন গ্লোব জানায়, ইউনূস সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার পদ পাইয়ে দিতে ঘুষ গ্রহণের রেকর্ডসংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছিল দুদকে। কিন্তু উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে। দুদক সূত্র জানায়, আশার কথা–তাদের দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের ব্যাপারে একটি ইতিবাচক আগ্রহ বা তাগিদ রয়েছে। দুদক ড. ইউনূস সরকারের এসব দুর্নীতির অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করতে প্রস্তুত। কিন্তু দুদকের শীর্ষ পদটি শূন্য থাকায় তারা তা করতে পারছে না। বর্তমান সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরাও সংসদীয় পর্যায়ে ইউনূস প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

লন্ডন গ্লোব আরও জানায়, ইউনূস প্রশাসন অন্যান্য ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও তিনি নিজে যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের বিরুদ্ধেও তহবিল অপব্যবহারের তদন্ত শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় ড. ইউনূস ও তার দুর্নীতিপরায়ণ সহযোগীদের প্রচার করা ত্রুটিপূর্ণ আর্থিক সংস্কারগুলোকে বিএনপি সরকার যদি সমর্থন দেয়, তবে তা হবে সরকারের জন্য একটি বড় ভুল। ড. ইউনূসের শাসনামলে যে দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছিল, তা মোকাবিলায় একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন এবং সরকারের উচিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখনই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

এ ছাড়া কোনো স্পষ্ট বা গণতান্ত্রিকভাবে নির্ধারিত জনরায় ছাড়াই তারা ব্যাংকিংব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের মতো অত্যন্ত বিতর্কিত সব সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়। এসব পদক্ষেপ গ্রহণের দায় তারা বেক্সিমকো, ওরিয়ন গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ ও নাবিল গ্রুপের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান মনসুরের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব সংস্কার ও পদক্ষেপ সে সময় আর্থিক খাতের অনেকের মধ্যেই উদ্বেগের সৃষ্টি করে। এখন সেই পদক্ষেপগুলোর পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্যও ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে বলে জানায় লন্ডন গ্লোব

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সরকারের ৫ উদ্যোগ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সরকারের ৫ উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত

চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে ৫টি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন তিনি।

 শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ব্যতীত সারাদেশে ২ হাজার ৫৮৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তার পোস্টে সরকারের গৃহীত সময়োপযোগী ৫টি শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

১) দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব বোর্ডে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছে।

২) পরীক্ষা চলাকালীন কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা তৈরি হলে স্থানীয় প্রশাসনকে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত কিংবা পরীক্ষার সময় বাড়ানোর মতো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

৩) প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশ নিতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে।

৪) গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের প্রশ্নপত্রের ভুল ও অসঙ্গতির কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের বিপরীতে সকল পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

৫)পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রিফাত/

ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না: ত্রাণমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না: ত্রাণমন্ত্রী
বাঁশখালীতে ত্রাণ বিতরণ শেষে বক্তব্য রাখছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ছবি: খবরের কাগজ

ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মতভেদ বা স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের সহায়তায় কোনো রাজনীতি নেই। ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রী পূর্ব রায়ছটা গ্রামে জলকদরের খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ সিলেট ও হবিগঞ্জের কয়েকটি জেলায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত ৪৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বর্তমানে কয়েকজন মন্ত্রী ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছি। ইনশাআল্লাহ পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়ে এই এলাকাকে আবার গড়ে তোলা হবে। মানুষ যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গুনাগরী থেকে খানখানাবাদ আসার সময়ে যে সড়কের ভয়াবহ অবস্থা দেখলাম সেটি দ্রুত সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ সভা করা হয়েছে। মৎস্য খাত, ঘরবাড়ি ও কৃষির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার একটি দ্রুত মূল্যায়ন তৈরি করতে বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা নির্ধারণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

একই সঙ্গে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বিনামূল্যে বীজতলা তৈরি, বীজের চারা, বীজ ও সার সরবরাহ করা হবে। এছাড়া, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব না ঘটে, সেজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

চলতি খাল খনন কর্মসূচিকে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখনন করছি। আজ যে খালটির পাশে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেটি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উদ্বোধন করেছিলেন। গত ১৭ বছর অযত্ন ও অবহেলায় ফেলে রাখার কারণে খালটির পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এই খালটি পুনঃ খননের ফলে এলাকায় পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজের জন্য পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে। পরিবেশ রক্ষায় খালের পাড়ে গাছ লাগানো হবে এবং খালের বাকি অংশের কাজ সম্পন্ন করতে দ্রুত বরাদ্দ দেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ৫০টি জেলায় একটি করে মডেল খাল চিহ্নিত করা হবে। বাঁশখালীর এই জলকদরের খালটিকেও সেই মডেল খালের অন্তর্ভুক্ত করার আশা প্রকাশ করেন।

খাল পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন, বিএনপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী, খানখানাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সবুর চৌধুরী, বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।

শফকত/নাঈম

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ২৭ আগস্টের মধ্যে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তের নির্দেশ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ২৭ আগস্টের মধ্যে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তের নির্দেশ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে আগামী ২৭ আগস্টের মধ্যে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করে পাঠাতে মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে ইসির এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো.রশিদ মিয়া ।

অক্টোবরে নির্বাচন করার প্রস্তুতির মধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্তের পর এবার ভোটকেন্দ্র তালিকা করা হচ্ছে।

সবশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৪৩ হাজার কেন্দ্র ছিল। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ৪৫ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্র হতে পারে।

ইতোমধ্যে ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমাল‘ জারি হয়েছে।

মাঠ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভোটার এলাকার নাম সুনির্দিষ্টভাবে করে ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ, ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকার উপর দাবি-আপত্তি নিষ্পন্ন করে ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ১০ অগাস্ট ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। খসড়া তালিকার উপর দাবি বা আপত্তি নেওয়া হবে ১৮ অগাস্ট পর্যন্ত। দাবি বা আপত্তি নিষ্পত্তি হবে ২৩ অগাস্টের মধ্যে। আর সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৭ অগাস্ট।

প্রতি স্তরের স্থানীয় নির্বাচনের ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা সংরক্ষণ ও চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করবে ইসি।

এসএন/