ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পাবলিক পরীক্ষা শুষ্ক মৌসুমে নেওয়া উচিত গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে এগিয়ে মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে পর যা বললেন মেসি ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা চাপের মুখেই আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরা ফুটবল খেলে: স্কালোনি মেট্রোরেলের ৭৩০ বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ, পিয়ার হেডে ফাটল ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া ট্রাম্প প্রকল্প ব্যয় সাড়ে ১৬ বছরে বরাদ্দের ৫৬ শতাংশ খরচ আবু সাঈদ হত্যার রায়: ৫ যুক্তিতে খালাস চেয়ে ৪ আসামির আপিল আজ মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা ৮৫ ফুটের মেসি এই আন্দোলন শতভাগ প্রশাসনিক ব্যর্থতা মেজাজ হারিয়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে চড় দিলেন বেলিংহাম করোনাকাল ও কোচিং সেন্টার দায়ী থাকতে পারে আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন বাংলাদেশ রেলওয়ের ১ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কিনতে ব্যয় হয় ৮ কোটি, লোপাট ৭ কোটি টাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে ছিদ্র রয়ে গেছে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো সাজেক ২৬ বছরেও সাংবাদিক শামছুর রহমান হত্যার বিচার হয়নি ব্যবস্থাপনার সংকটে ডুবছে ঢাকা কু‌ড়িগ্রামে দুই সপ্তাহে তিস্তার পেটে ২৫ ঘর সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীতে অন্ধকার নামলে শুরু হয় বালু লুট রায় কার্যকর না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ বাইক্কা বিলের হলুদ মোমলেজি ঈশ্বরগঞ্জে পুরোনো কৃষিযন্ত্রের হাট ব্যাপক দুর্নীতি: প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকার ১৬ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৬ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ১৮ বিশ্বকাপের সাক্ষী ৯১ বছরের ম্যাকাইয়া ফুটবল থামিয়ে মঞ্চে উঠবেন তারকারা

ব্যবস্থাপনার সংকটে ডুবছে ঢাকা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২ এএম
ব্যবস্থাপনার সংকটে ডুবছে ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে আবারও নগর ব্যবস্থাপনার সংকট সামনে এসেছে। রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি–অসংখ্য এলাকা গত শনি ও রবিবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানির নিচে তলিয়ে ছিল। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় পানি নামতে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও নগরজীবনে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বিভিন্ন সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও ম্যানহোলের ঢাকনা ভেঙে গেছে, কোথাও আবার চুরি হয়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

রাজধানীর এই বেহাল অবস্থার জন্য শুধু অতিবৃষ্টিকে দায়ী করছেন না সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরাও। বরং তারা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন, খাল দখল, নদী ভরাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং নগর পরিচালনায় দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতাই জলাবদ্ধতাকে ভয়াবহ করে তুলেছে। যদিও সমস্যা চিহ্নিত হলেও সমাধানে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এখনো করেননি। 

এর আগে গত শুক্র-শনি-রবিবারের টানা বৃষ্টিতে হাজারও পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। নিচতলার বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদেরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অনেক ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল পানিতে বিকল হয়ে পড়ে।

এসব বিষয়ে গতকাল বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক সেমিনারে রাজধানীর জলাবদ্ধতার কারণ ও নগর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে রাজধানীর জলাবদ্ধতার দুটি প্রধান কারণ উঠে আসে। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং খাল-নদী দখল। জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঢাকার প্রাকৃতিক খাল দখল ও ভরাট হওয়ার কারণেই জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যেসব খাল এখনো টিকে আছে, সেগুলো উদ্ধার, পরিষ্কার এবং নদীর সঙ্গে পুনঃসংযোগ করা গেলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব। 

মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘তুরাগ নিয়মিতভাবে দখলের শিকার হয়েছে। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ দখলমুক্ত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। এই নদীগুলোকে বাঁচাতে না পারলে ঢাকা শহরকেও রক্ষা করা সম্ভব হবে না!’ 

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যে দীর্ঘদিন থাকা সমন্বয়হীনতার চিত্র ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, রাজধানীর নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক ও সমন্বয়হীনতার সংকট রয়েছে। তার ভাষায়, সিটি করপোরেশনগুলোকে আরও স্বাবলম্বী ও পূর্ণাঙ্গ কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সময়ের দাবি। রাজউক, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ নগর উন্নয়নে নিয়োজিত সব সংস্থাকে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় না আনলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকার জলাবদ্ধতা কোনো সাময়িক বা মৌসুমি সমস্যা নয়। বছরের পর বছর ধরে খাল দখল, জলাধার ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল ড্রেনেজব্যবস্থা এবং অকার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফলই এখন প্রতি বর্ষায় ভয়াবহ আকারে দেখা দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একসময়ে রাজধানীর বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার। কিন্তু দখল ও ভরাটের কারণে অধিকাংশ খাল স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে। কোথাও খাল সংকুচিত হয়েছে, কোথাও ময়লা-আবর্জনা ও পলিতে ভরে গেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা জলাবদ্ধতায় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় অনেক সড়কের কার্পেটিং উঠে খোয়া ছড়িয়ে পড়েছে এবং ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।

বাড্ডা লিংক রোডের একটি অংশ ধসে লেকে পড়ে গেছে। এ ছাড়া নিকেতন, মহানগর প্রজেক্ট, কাঁঠালবাগান, কলাবাগান, হাতিরপুল, রাজাবাজার, মীরবাগ, বংশাল, কদমতলীর পাটেরবাগ ও কোদারবাজার এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরা অংশের সার্ভিস রোডও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। পুরান ঢাকার ধোলাইখালসংলগ্ন নারিন্দা মোড়ে ওয়াসার পুরোনো পানির পাইপ ফেটে মাটি সরে যাওয়ায় সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

জলাবদ্ধতার পাশাপাশি রাজধানীতে খোলা ম্যানহোলও বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, রাজধানীর অসখ্য ম্যানহোলের ঢাকনা ভেঙে গেছে। আবার কোথাও রাস্তা ভেঙে পড়ায় ম্যানহোলের ঢাকনা সহজে আলাদা হয়ে থাকছে, তা রিকশা-সিএনজিচালিত অটোচালকরা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এর আগে গত রবিবার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় কোমরসমান পানি জমে যায়। ওই সময় খোলা ম্যানহোলে এক পথচারী পানির স্রোতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গতকাল বুধবার ধানমন্ডি, পান্থপথ, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পুরান ঢাকার একাধিক এলাকায় ম্যানহোলের ঢাকনা ছিল না–খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু ড্রেন পরিষ্কার করলেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে না। রাজধানীর প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত ড্রেন রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজব্যবস্থা চালু এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করার পাশাপাশি রাজউক, ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও অন্য সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।

দায়িত্বে অবহেলাকারী সরকারি সংস্থাগুলোকে চিহ্নিত করে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ঢাকার নদী, খাল ও জলাশয়ের দখলদারদের তালিকা অনেক আগেই নদী রক্ষা কমিশন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। কিন্তু এখনো তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের সহযোগী এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী সরকারি সংস্থাগুলোকে চিহ্নিত করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু বক্তব্য নয়, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, শিল্পকারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ইটিপি ছাড়া পরিচালিত কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নদীতীরের অননুমোদিত শিল্পকারখানা নির্ধারিত শিল্পাঞ্চলে স্থানান্তর করা জরুরি।

ড. আদিলের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব থাকলে খাল-নদী দখল ও দূষণ বন্ধ হবে না। এর ফলে ঢাকার বাতাস, পানি ও মাটির দূষণ যেমন বাড়বে, তেমনি প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

লন্ডন গ্লোবের প্রতিবেদন ব্যাপক দুর্নীতি: প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
ব্যাপক দুর্নীতি: প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকার
ছবি: সংগৃহীত

গণ-অভ্যুত্থানের পর সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচারের এক নতুন যুগের সূচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে স্বাগত জানায় জনগণ ও বিভিন্ন দেশ। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পার হতে না হতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তথাকথিত এই সংস্কারগুলো আসলে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয় লন্ডন গ্লোব।

  • উপদেষ্টাদের অর্থ পাচারসহ রেকর্ড অভিযোগ দুদকে 
  • সংস্কারের নামে নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা
  • সরকারি সেবা পেতে ৬১ শতাংশ মানুষ ঘুষের শিকার

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ইউনূস সরকারের আমলের দুর্নীতিবিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে দেখা গেছে, সংস্কারক হিসেবে প্রশংসিত হওয়া সত্ত্বেও ড. ইউনুস ক্ষমতায় থাকার সময় দুর্নীতির পরিস্থিতি আসলে আরও অবনতি হয়। দেশের ৮১ শতাংশ পরিবার মনে করত মৌলিক সরকারি সেবা পেতেও তাদের ঘুষ দিতে হবে এবং ঘুষ দেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষই বিষয়টি কোথাও জানায়নি। এমনকি ঘুষ ও দুর্নীতি দমনের দায়িত্বে থাকা সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্পর্কে ৩০ শতাংশেরও কম মানুষ জানত।

লন্ডন গ্লোব জানায়, ইউনূস সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার পদ পাইয়ে দিতে ঘুষ গ্রহণের রেকর্ডসংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছিল দুদকে। কিন্তু উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে। দুদক সূত্র জানায়, আশার কথা–তাদের দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের ব্যাপারে একটি ইতিবাচক আগ্রহ বা তাগিদ রয়েছে। দুদক ড. ইউনূস সরকারের এসব দুর্নীতির অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করতে প্রস্তুত। কিন্তু দুদকের শীর্ষ পদটি শূন্য থাকায় তারা তা করতে পারছে না। বর্তমান সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরাও সংসদীয় পর্যায়ে ইউনূস প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

লন্ডন গ্লোব আরও জানায়, ইউনূস প্রশাসন অন্যান্য ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও তিনি নিজে যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের বিরুদ্ধেও তহবিল অপব্যবহারের তদন্ত শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় ড. ইউনূস ও তার দুর্নীতিপরায়ণ সহযোগীদের প্রচার করা ত্রুটিপূর্ণ আর্থিক সংস্কারগুলোকে বিএনপি সরকার যদি সমর্থন দেয়, তবে তা হবে সরকারের জন্য একটি বড় ভুল। ড. ইউনূসের শাসনামলে যে দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছিল, তা মোকাবিলায় একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন এবং সরকারের উচিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখনই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

এ ছাড়া কোনো স্পষ্ট বা গণতান্ত্রিকভাবে নির্ধারিত জনরায় ছাড়াই তারা ব্যাংকিংব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের মতো অত্যন্ত বিতর্কিত সব সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়। এসব পদক্ষেপ গ্রহণের দায় তারা বেক্সিমকো, ওরিয়ন গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ ও নাবিল গ্রুপের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান মনসুরের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব সংস্কার ও পদক্ষেপ সে সময় আর্থিক খাতের অনেকের মধ্যেই উদ্বেগের সৃষ্টি করে। এখন সেই পদক্ষেপগুলোর পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্যও ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে বলে জানায় লন্ডন গ্লোব

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সরকারের ৫ উদ্যোগ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সরকারের ৫ উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত

চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে ৫টি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন তিনি।

 শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ব্যতীত সারাদেশে ২ হাজার ৫৮৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তার পোস্টে সরকারের গৃহীত সময়োপযোগী ৫টি শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

১) দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব বোর্ডে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছে।

২) পরীক্ষা চলাকালীন কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা তৈরি হলে স্থানীয় প্রশাসনকে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত কিংবা পরীক্ষার সময় বাড়ানোর মতো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

৩) প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশ নিতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে।

৪) গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের প্রশ্নপত্রের ভুল ও অসঙ্গতির কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের বিপরীতে সকল পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

৫)পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রিফাত/

ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না: ত্রাণমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না: ত্রাণমন্ত্রী
বাঁশখালীতে ত্রাণ বিতরণ শেষে বক্তব্য রাখছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ছবি: খবরের কাগজ

ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মতভেদ বা স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের সহায়তায় কোনো রাজনীতি নেই। ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রী পূর্ব রায়ছটা গ্রামে জলকদরের খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ সিলেট ও হবিগঞ্জের কয়েকটি জেলায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত ৪৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বর্তমানে কয়েকজন মন্ত্রী ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছি। ইনশাআল্লাহ পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়ে এই এলাকাকে আবার গড়ে তোলা হবে। মানুষ যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গুনাগরী থেকে খানখানাবাদ আসার সময়ে যে সড়কের ভয়াবহ অবস্থা দেখলাম সেটি দ্রুত সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ সভা করা হয়েছে। মৎস্য খাত, ঘরবাড়ি ও কৃষির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার একটি দ্রুত মূল্যায়ন তৈরি করতে বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা নির্ধারণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

একই সঙ্গে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বিনামূল্যে বীজতলা তৈরি, বীজের চারা, বীজ ও সার সরবরাহ করা হবে। এছাড়া, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব না ঘটে, সেজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

চলতি খাল খনন কর্মসূচিকে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখনন করছি। আজ যে খালটির পাশে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেটি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উদ্বোধন করেছিলেন। গত ১৭ বছর অযত্ন ও অবহেলায় ফেলে রাখার কারণে খালটির পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এই খালটি পুনঃ খননের ফলে এলাকায় পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজের জন্য পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে। পরিবেশ রক্ষায় খালের পাড়ে গাছ লাগানো হবে এবং খালের বাকি অংশের কাজ সম্পন্ন করতে দ্রুত বরাদ্দ দেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ৫০টি জেলায় একটি করে মডেল খাল চিহ্নিত করা হবে। বাঁশখালীর এই জলকদরের খালটিকেও সেই মডেল খালের অন্তর্ভুক্ত করার আশা প্রকাশ করেন।

খাল পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন, বিএনপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী, খানখানাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সবুর চৌধুরী, বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।

শফকত/নাঈম

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ২৭ আগস্টের মধ্যে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তের নির্দেশ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ২৭ আগস্টের মধ্যে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তের নির্দেশ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে আগামী ২৭ আগস্টের মধ্যে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করে পাঠাতে মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে ইসির এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো.রশিদ মিয়া ।

অক্টোবরে নির্বাচন করার প্রস্তুতির মধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্তের পর এবার ভোটকেন্দ্র তালিকা করা হচ্ছে।

সবশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৪৩ হাজার কেন্দ্র ছিল। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ৪৫ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্র হতে পারে।

ইতোমধ্যে ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমাল‘ জারি হয়েছে।

মাঠ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভোটার এলাকার নাম সুনির্দিষ্টভাবে করে ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ, ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকার উপর দাবি-আপত্তি নিষ্পন্ন করে ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ১০ অগাস্ট ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। খসড়া তালিকার উপর দাবি বা আপত্তি নেওয়া হবে ১৮ অগাস্ট পর্যন্ত। দাবি বা আপত্তি নিষ্পত্তি হবে ২৩ অগাস্টের মধ্যে। আর সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৭ অগাস্ট।

প্রতি স্তরের স্থানীয় নির্বাচনের ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা সংরক্ষণ ও চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করবে ইসি।

এসএন/

২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন বুধবার (১৫ জুলাই) শেষ হয়েছে। গত ৭ জুন শুরু হওয়া ২৬ কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস হয়েছে। বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা চলে ১৪ কার্যদিবস ধরে, যেখানে ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।

সংসদ সচিবালয় জানায়, বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট স্থায়ী হয়। আলোচনায় সরকারি দলের ২০০ জন এবং বিরোধী দলের ৯১ জন সদস্য বক্তব্য রাখেন। এছাড়া সংরক্ষিত আসনের সদস্য ও স্বতন্ত্র সদস্যরাও আলোচনায় অংশ নেন।

অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী মোট ৭১৫টি নোটিশ জমা পড়ে। এর মধ্যে ২৪টি গৃহীত হয় এবং ২২টি নোটিশের ওপর সংসদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে ৭১(ক) বিধির আওতায় ১২৫টি দুই মিনিটের নোটিশ উত্থাপন ও আলোচনা করা হয়। কার্যপ্রণালি-বিধির ১৩১ বিধি অনুযায়ী চারটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য ২৭৮টি প্রশ্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উদ্দেশে জমা পড়া ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্নের মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৪টির উত্তর দেওয়া হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিসহ মোট ১৮টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া কার্য উপদেষ্টা কমিটি একবার পুনর্গঠন করা হয়েছে।

এটি ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন।

এলিস/এএফ