সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, বন্যার ফলে কবরস্থানে দাফন করার মতো জায়গা না পেয়ে একটি মরদেহ কলাগাছের ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়ার যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে এটি সম্পূর্ণ গুজব। মূলত যে ব্যক্তি মারা গেছেন তিনি তার ছেলের সঙ্গে কলাগাছের ভেলা নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান। এরপর তাকে ওই ভেলায় করে বাড়িতে নেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে জানাজা সহকারে তার দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মাহমুদুল করিম কাসেমী বলেন, ওইদিন আসরের নামাজের পর ফোরকান মাছ ধরার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলাগাছের ভেলার সাহায্যে কেরানীহাট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে পুনরায় ভেলার সাহায্যে বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দাফন করার মতো কোন জায়গা না থাকায় আমিসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দস্তিদারহাট এলাকার ফকিরমুড়া নামক একটি পাহাড়ে দাফন করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ওইদিন রাত ৯টার দিকে দস্তিদারহাট বাজারে জানাজা শেষে সেখানে তাকে দাফন করা হয়। আমি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলাম।
প্রসঙ্গত, উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক মো. ফোরকান বাড়ির পাশে মাছ ধরার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপরও পরিবারের সদস্যরা তিনি বেঁচে আছেন মনে করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ৩০০ গজ দূরে অপেক্ষমান সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলার জন্য কলাগাছের ভেলার সাহায্যে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা এ ভিডিওটিকে কবর দেওয়ার মতো জায়গা না পেয়ে মরদেহ ভেলায় বেঁধে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে প্রচার করতে থাকেন।
আরিফুল ইসলাম/এসএন