ফুটবল মাঠে এমন খুব কম কাজই আছে, যা লিওনেল মেসি এখনো করেননি। কিন্তু বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, সেখানে আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকার জন্য অপেক্ষা করছে একেবারেই নতুন এক অভিজ্ঞতা। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০-এর বেশি ম্যাচ খেলে এবং ১২৫টি গোল করলেও, আন্তর্জাতিক ফুটবলে থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে কখনো মাঠে নামেননি মেসি।
এক সময় মনে হচ্ছিল, ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার হয়তো থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার খেলার সুযোগই পাবেন না। রবিবার (১২ জুলাই) কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ফেলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে জিতে যায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে চলতি টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো গোল করতে পারেননি মেসি। তবু আটটি গোল নিয়ে তিনি এখনো ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে আছেন এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
বিবিসির বিশ্লেষক মাইকা রিচার্ডস বলেন, ‘ইংল্যান্ড দৌড়ে আর্জেন্টিনাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, কিন্তু তাদের দলে আছে ছোট্ট এক জিনিয়াস– মেসি। সবাই তার জন্যই খেলে। আমাদের সবারই এই ম্যাচ নিয়ে রোমাঞ্চিত হওয়া উচিত। ওকে মার্ক করা অসম্ভব। কারণ সে পেছনে নেমে আসে না। সে এমন ছোট ছোট জায়গায় চলে যায়, যেখানে তার থাকার কথা নয়। সঠিক সময়ে সে জ্বলে ওঠে। তার টেকনিক সবার সেরা। মাঠের ফাঁকা জায়গা বোঝার ক্ষমতা অসাধারণ। তার শটও দারুণ।’
তবে ইন্টার মিয়ামির এই ফরোয়ার্ডকে কি ইংল্যান্ডের ভয় পাওয়া উচিত? বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে ক্রিস সাটন বলেন, ‘আমার মনে হয় টমাস টুখেল এবং ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা বর্তমান আর্জেন্টিনা দলটির বিপক্ষে খেলতে মুখিয়ে থাকবে। কারণ এটি আর্জেন্টিনার সেরা দল নয়। তবে তারা সব সময়ই কোনো না কোনোভাবে জয়ের পথ খুঁজে নিতে জানে।’
বিবিসিকে সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি বলেন, ‘রক্ষণে মেসির অবদান খুব কম হলেও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে তার গুণগত মানই পার্থক্য গড়ে দেয়।’
আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম পুরোনো ও উত্তেজনাপূর্ণ দ্বৈরথ। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং একই ম্যাচে তার অবিশ্বাস্য একক নৈপুণ্যে করা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। এর পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সেন্ট-এতিয়েনে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড ঘিরে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে আসে দুই দলের লড়াই। বিশ্বকাপের ২০০২ সংস্করণে সবশেষ দেখা হয়েছিল দুই দলের।
দীর্ঘ দুই যুগ পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড। মেসিও প্রথমবার দেবেন ইংলিশ পরীক্ষা।
আর্জেন্টাইন তারকার তিনবার বা তার বেশি মুখোমুখি হওয়া জাতীয় দলের বিপক্ষে পরিসংখ্যান
প্রতিপক্ষ ম্যাচ গোল
প্যারাগুয়ে ১৪ ৫
ব্রাজিল ১৪ ৫
কলম্বিয়া ১৩ ৩
ভেনেজুয়েলা ১৩ ৭
চিলি ১৩ ৫
উরুগুয়ে ১৩ ৬
বলিভিয়া ১২ ১১
ইকুয়েডর ১১ ৭
পেরু ১০ ৩
মেক্সিকো ৬ ৪
ক্রোয়েশিয়া ৪ ৩
যুক্তরাষ্ট্র ৪ ১
জার্মানি ৪ ১
নাইজেরিয়া ৪ ৩
অস্ট্রেলিয়া ৩ ২
স্পেন ৩ ২
ফ্রান্স ৩ ৩
নেদারল্যান্ডস ৩ ১
সুইজারল্যান্ড ৩ ৩