২০৩০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
সুইস সংবাদমাধ্যম ব্লুউইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এবারের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা ও আলোচনা করা হবে।’
বিশ্বকাপে দল বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ইনফান্তিনো বলেন, এই টুর্নামেন্ট কেবল ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক দেশেরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা উচিত। এখন বিশ্বব্যাপী দলের মান অনেক বেড়েছে এবং প্রতিনিয়ত তাদের আরও উন্নতি হচ্ছে। ছোট দেশগুলোকে যদি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে তাদের উন্নতির প্রেরণাও কমে যাবে।’
১৯৯৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপে ৩২টি দল অংশ নিলেও, চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল খেলছে।
কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এবারের আসরের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেন। নির্ধারিত ১০৪ ম্যাচের মধ্যে বাকি রয়েছে দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল।
ইনফান্তিনোর মতে, ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন ইতোমধ্যেই বড় সাফল্য প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দলই উচ্চমানের ফুটবল খেলেছে। সব মহাদেশের দলই গোল করেছে এবং অন্তত একটি করে পয়েন্ট অর্জন করেছে। আফ্রিকার ১০টি দলের মধ্যে ৯টিই নকআউট পর্বে উঠেছে। অথচ আগের বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে মাত্র পাঁচটি দল খেলেছিল। এটিই প্রমাণ করে, অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’
২০৩০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে তিন মহাদেশের ছয়টি দেশে। শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে প্রথম তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি দেশে হবে একটি করে ম্যাচ। এরপর বাকি ম্যাচগুলো আয়োজন করবে মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন।
৬৪ দলের বিশ্বকাপ বাস্তবায়িত হলে ম্যাচের সংখ্যাও বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশ কেবল একটি করে ম্যাচ নয়, বরং গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে।
এসজি/