গোলের পর গোল করে এবারের বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ত্রাস ছড়িয়েছিলেন আর্লিং হালান্ড। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাকে প্রথমবারের মতো পুরোপুরি থামিয়ে দিতে সক্ষম হয় প্রতিপক্ষ। অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় নরওয়ে। তবে হতাশার মধ্যেও হাসিমুখেই বিদায় বলেছেন হালান্ড। তার বিশ্বাস, এই বিশ্বকাপ শুধু একজন ফুটবলার নয়, একজন মানুষ হিসেবেও তাকে বদলে দিয়েছে।
ফিফা ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নরওয়েজিয়ান এই তারকা বলেন, ‘এই অভিজ্ঞতা অবিশ্বাস্য। আমি মনে করি, এই বিশ্বকাপ আমাকে একজন মানুষ হিসেবে বদলে দিয়েছে। আমার পরিচিতিও আরও বেড়েছে। ছোটবেলা থেকে বিশ্বকাপ টেলিভিশনে দেখেছি, আর এবার নিজেই এর অংশ হতে পেরেছি। এটা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি!’
বিশ্বকাপজুড়ে ইরাক, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলের বিপক্ষে ৭টি গোল করেছেন হালান্ড। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জন স্টোনস ও মার্ক গেহির দৃঢ় রক্ষণে তিনি ছিলেন নিষ্প্রভ। ম্যাচে তার দুটি শটই লক্ষ্যে ছিল, তবে কোনোটিই জালে জড়াতে পারেনি।
তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দেশের সাফল্যই বেশি আনন্দ দিয়েছে হালান্ডকে, ‘আমাদের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত। নরওয়েজুড়ে যে ঐক্য, ইতিবাচকতা আর আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে, সেটা ভাবতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি।’
ইংল্যান্ডের অনেক ফুটবলারই তার ম্যানচেস্টার সিটির সতীর্থ। তাই কি এখন ইংল্যান্ডকে সমর্থন করবেন? প্রশ্ন শুনে হেসে ফেলেন হালান্ড, ‘সিটিতে আমার সতীর্থরা আছে, এটা সত্যি। আমি ইংল্যান্ডেই বড় হয়েছি, আমার জীবনের প্রথম ফুটবল জার্সিটাও ছিল ইংল্যান্ডের। দেশটির প্রতি আলাদা টান আছে। তবে ফ্রান্স ও স্পেনেও আমার অনেক সতীর্থ আছে।’
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও এই আসরকে নরওয়ের ফুটবলের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। তার মতে, ‘অনেক দিন ধরেই বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখেছি। আমার মনে হয়, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা নরওয়েকে নতুনভাবে ফুটবল বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরেছি। এখন সেই মান ধরে রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
ব্রাজিলকে হারিয়ে শেষ আটে ওঠার স্মৃতি টেনে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখিয়ে দিয়েছি বিশ্বের সেরা দলগুলোকেও হারানো সম্ভব। ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছি ঠিকই, কিন্তু ওদের শেষ পর্যন্ত লড়তে বাধ্য করেছি। ফল অন্য রকমও হতে পারত। সামনে আরও বিশ্বকাপ ও ইউরো আসবে। এখন সময় এসেছে নরওয়েকে নিয়মিত বড় আসরের শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার। আমাদের সামনে দারুণ এক প্রজন্ম রয়েছে।’
বিশ্বকাপ শেষ হলেও হালান্ডের কণ্ঠে তাই হতাশার চেয়ে বেশি শোনা গেল ভবিষ্যতের প্রত্যয়। তার বিশ্বাস, নরওয়ের সেরা দিনগুলো এখন সামনে।