ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ২০০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
Nagad desktop

ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসুন শেরপুরের গারো পাহাড়ে

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসুন শেরপুরের গারো পাহাড়ে
ছবি: খবরের কাগজ

কোরবানির ঈদের টানা ছুটিতে শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে চাইলে শেরপুরের গারো পাহাড় হতে পারে দারুণ এক গন্তব্য। সবুজ পাহাড়, শালবন, লেক, ঝরনা আর পাহাড়ি আবহে ঘেরা গজনী মধুটিলা এখন উত্তরাঞ্চলের জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্রগুলোর অন্যতম। স্বল্প খরচে পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর জন্য প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন নানা বয়সের পর্যটকরা।

ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেষা শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী শ্রীবরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চলজুড়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। ঈদের দীর্ঘ অবসরে প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন এই পাহাড়ি জনপদকে।

জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নে প্রায় ৯০ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত হয়েছে গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্র। সবুজ পাহাড়, টিলা, শাল-গজারি বন আর মনোমুগ্ধকর পরিবেশ পর্যটকদের আকর্ষণ করে সহজেই। এখানে রয়েছে কৃত্রিম ঝরনা, লেক, ঝুলন্ত ভাসমান সেতু, ক্যাবল কার, ওয়াচ টাওয়ার, মিনি ট্রেন, শিশুদের বিনোদনের নানা রাইড এবং দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য। পুরো এলাকাজুড়ে গারো সংস্কৃতির আবহও দর্শনার্থীদের আলাদা আনন্দ দেয়। ঈদের সময় কেন্দ্রটি হয়ে ওঠে পর্যটকদের মিলনমেলা।

অন্যদিকে, নালিতাবাড়ী উপজেলায় বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা মধুটিলা ইকোপার্ক প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। প্রায় ৩৮০ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত পার্কে রয়েছে পাহাড়চূড়ায় ওঠার সিঁড়ি, মনোরম লেক, বোটিং ব্যবস্থা, ওয়াচ টাওয়ার, স্টার ব্রিজ, শিশু পার্ক বিশ্রামাগার। ঘন বন আর পাহাড়ি পরিবেশে হাঁটাহাঁটি কিংবা সূর্যাস্ত উপভোগের অভিজ্ঞতা ভ্রমণপিপাসুদের দেয় ভিন্নরকম প্রশান্তি।

 এছাড়া শ্রীবরদী উপজেলার রাজার পাহাড়, নয়াবাড়ির টিলা, রাবার বাগান, শেরপুর সদরের অর্কিড পর্যটন কেন্দ্র অ্যান্ড রিসোর্ট, গোল্ডেন ভ্যালি পার্ক, বনরাণী ফরেস্ট রিসোর্ট, ঐতিহাসিক বারোদুয়ারী মসজিদ, নাকুগাঁও স্থলবন্দর, নারায়ণখোলার শিমুল গাছ, পানিহাটা-তারানি পাহাড়, পৌনে তিন আনি জমিদার বাড়ি, লোকনাথ মন্দির রঘুনাথ জিউ মন্দিরও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিত।

 যেভাবে যাবেন- ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি শেরপুরগামী বিভিন্ন বাস চলাচল করে। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা মাইক্রোবাসেও যাওয়া যায় সহজেই। রাজধানী থেকে শেরপুর পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর থেকে জামালপুর পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে বাস, সিএনজি বা অটোরিকশায় অল্প সময়েই শেরপুরে পৌঁছানো সম্ভব।

 থাকার ব্যবস্থা- সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি এলাকায় রাতযাপনের সুযোগ তুলনামূলক কম হওয়ায় অধিকাংশ পর্যটক শেরপুর জেলা শহরেই অবস্থান করেন। সেখানে আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস সরকারি ডাকবাংলোর সুবিধা রয়েছে।

 মধুটিলা ইকোপার্কের ইজারাদার মজিবুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন কিছু স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি সংস্কার কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ দেবে।

 গজনী অবকাশ কেন্দ্রের ইজারাদার ফরিদ মিয়া বলেন, পর্যটকদের জন্য নতুন রাইড যুক্ত করা হয়েছে। সারাবছরই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে ভ্রমণে আসেন, তবে ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

 জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, পর্যটন স্থানীয় ঐতিহ্যকে সামনে রেখে শেরপুরকে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে। গজনী অবকাশ কেন্দ্রকে আরও আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 এসএন/

দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে
ঢাকার দোহার উপজেলায় অবস্থিত মৈনট ঘাটটি রাজধানী থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে।

ঢাকার কাছে একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসার মতো দারুণ এক আকর্ষণীয় জায়গা মৈনট ঘাট, যা অনেকের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের নিয়ে ঢাকার বাইরে পুরো দিন কাটানোর জন্য এটি হতে পারে এক চমৎকার গন্তব্য।
ঢাকার দোহার উপজেলায় অবস্থিত এ ঘাটটি রাজধানী থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে। ফলে খুব সহজেই সকাল সকাল রওনা হয়ে সারা দিন ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যেই আবার ঘরে ফিরে আসা সম্ভব। 
এখানে এসে যখন আপনি দাঁড়াবেন, তখন চোখের সামনে ভেসে উঠবে পদ্মা নদীর এক অন্তহীন ও সুবিশাল জলরাশি। পদ্মার বুকে হেলেদুলে ভেসে চলা জেলেদের নৌকা, মৃদু বাতাস আর নদীর পাড় ধরে হেঁটে বেড়ানোর অনুভূতি আপনাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও শহরের কোলাহল ভুলিয়ে দেবে। এই চমৎকার পরিবেশের কারণেই ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে এটি মিনি কক্সবাজার হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

 

মৈনট ঘাট যাওয়ার উপায়

ঢাকা শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকেই আপনি খুব সহজে দোহারে আসতে পারবেন। যাতায়াতের জন্য নিচে কয়েকটি সহজ ও সুবিধাজনক বিকল্প মাধ্যম তুলে ধরা হলো–
১. সরাসরি বাস সার্ভিস: গুলিস্তান মাজারের সামনে থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশে ‘যমুনা ডিলাক্স’ বাস ছেড়ে যায়। এই রুটে এটিই একমাত্র বাস যা আপনাকে একেবারে ঘাটের কাছাকাছি নামিয়ে দেবে। রাস্তা ফাঁকা থাকলে সাধারণত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, মৈনট ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে শেষ বাসটি ছেড়ে আসে সন্ধ্যা ৬টায়। তাই ফেরার তাড়া থাকলে অবশ্যই ৬টার আগেই বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত হতে হবে।
২. মুন্সীগঞ্জ হয়ে যাতায়াত: গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে আপনি ‘নগর পরিবহন’-এর বাসেও আসতে পারেন। নগর পরিবহন নবাবগঞ্জের রাস্তা ব্যবহার না করে মুন্সীগঞ্জ হয়ে যাতায়াত করে। এই বাসে এলে আপনাকে নামতে হবে কার্তিকপুর বাজারে। সেখান থেকে সহজে ঘাটে যাওয়া যায়।
৩. সিএনজি: ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে কদমতলী থেকে কার্তিকপুর বাজার পর্যন্ত লোকাল সিএনজি পাওয়া যায়। জনপ্রতি ভাড়া সাধারণত ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মতো। কার্তিকপুর বাজারে নেমে সেখান থেকে যেকোনো অটোরিকশায় চড়ে আপনি অনায়াসেই মৈনট ঘাট চলে যেতে পারবেন।

 

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখতে এখানে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে একেক ঋতুতে মৈনট ঘাটের সৌন্দর্য একেক রকম রূপ ধারণ করে–
• বর্ষাকাল: আপনি যদি পদ্মার উত্তাল রূপ, বিশাল ঢেউ আর চারপাশের সতেজ সবুজ প্রকৃতি দেখতে চান, তবে বর্ষাকাল আপনার জন্য সেরা সময়।
• শরৎকাল: সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের দিকে এই অঞ্চলের নদীর চারপাশ কাশফুলে ছেয়ে যায়। মনোরম নীল আকাশ আর সাদা কাশফুলের এই কম্বিনেশন ছবি তোলার জন্য দারুণ এক পরিবেশ তৈরি করে।
• শীতকাল: শীতের সময়ে পদ্মা নদী থাকে একদম শান্ত। এই সময়ে মৈনট ঘাট যাওয়ার পথে রাস্তার দুপাশে মাইলের পর মাইল সোনালি সরিষাখেতের দেখা মেলে। এছাড়া শীতকালে নদীর বুকে ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে ওঠে। স্পিডবোট বা নৌকা ভাড়া করে সেই নির্জন চরে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই আলাদা।

 

দর্শনীয় স্থান ও আশপাশের পুরাকীর্তি

মৈনট ঘাটের মূল সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি আপনি এর কাছাকাছি এলাকার কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা ও জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখতে পারেন। ঘাট এলাকায় পৌঁছানোর আগেই বান্দুরা নামক স্থানে চোখে পড়বে প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো ইতিহাস জড়ানো ‘কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি’। স্থানীয় মানুষ একে ‘কালাকোপা জমিদার বাড়ি’ নামেও ডাকেন। ভাগ্যকুলের তৎকালীন বিখ্যাত জমিদার যদুনাথ রায় তার সন্তানদের বসবাসের জন্য এই দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন।
এই বাড়ির ঠিক কাছাকাছি এলাকাতেই রয়েছে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন, যার মধ্যে জজবাড়ি, উকিলবাড়ি এবং আন্ধারকোঠা অন্যতম। প্রতিটি স্থাপনাই জমিদার যদুনাথ রায়ের কীর্তি। আপনি যদি ইতিহাসপ্রেমী হয়ে থাকেন কিংবা পুরোনো দিনের স্থাপত্যশৈলী ও পুরাকীর্তি দেখতে ভালোবাসেন, তবে মৈনট ঘাট যাওয়ার পথে এই ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোয় একবার ঢুঁ মারতে ভুলবেন না।

খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা

ভ্রমণের সময় খাওয়া-দাওয়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মৈনট ঘাটে ঋতুভেদে খাবারের ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা থাকে–
• শুকনো ও শীতকালীন মৌসুম: এই সময়ে নদীর পাড়ে অসংখ্য অস্থায়ী খাবারের হোটেল ও দোকান গড়ে ওঠে। পদ্মার একদম টাটকা ইলিশ মাছ ভাজা দিয়ে দুপুরের খাবার শেষ করার মজাই আলাদা। 
• বর্ষাকাল: বর্ষার সময়ে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে ঘাটের সব অস্থায়ী দোকানপাট বন্ধ থাকে। তখন দুপুরের খাবারের জন্য আপনাকে কাছেই অবস্থিত কার্তিকপুর বাজারে যেতে হবে। এই বাজারে চলনসই ও মাঝারি মানের বেশ কিছু ভাতের হোটেল রয়েছে।
• মিষ্টির স্বাদ: কার্তিকপুর বাজারে এলে বিখ্যাত ‘রণজিৎ মোদক’ এবং ‘নিরঞ্জন মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-এর রসগোল্লা চেখে দেখতে একদম ভুলবেন না। মিষ্টির পাশাপাশি এখানকার সুস্বাদু টক ও মিষ্টি দইও বেশ জনপ্রিয়।

 

রাতযাপনের সুবিধা

পর্যটকদের রাতে থাকার জন্য মৈনট ঘাট বা এর আশপাশে ভালো মানের কোনো হোটেল, গেস্টহাউস, বোর্ডিং কিংবা আধুনিক রিসোর্ট গড়ে ওঠেনি। এরপরও যদি আপনি বিশেষ প্রয়োজনে সেখানে রাত কাটাতে চান, তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে কোনো বাসা বা থাকার জায়গা ম্যানেজ করতে হবে। অন্যথায়, ডে ট্যুর বা দিনের আলো থাকতেই ঘুরে ঢাকায় ফিরে আসাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ভ্রমণকালীন সতর্কতা

যেকোনো ট্যুর সুন্দর ও নিরাপদ করতে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত। মৈনট ঘাট ভ্রমণের সময় নিচের বিষয়গুলো বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন–
• সাঁতার ও গোসল: আপনি যদি ভালো সাঁতার না জানেন, তবে পদ্মা নদীতে গোসল করার সময় একদমই বেশি গভীরে যাবেন না। পদ্মার স্রোত অত্যন্ত তীব্র ও বিপজ্জনক হতে পারে।
• পরিবেশ রক্ষা: চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের ফিল্টার, প্লাস্টিকের পানির বোতল কিংবা যেকোনো ধরনের বর্জ্য নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন। নদীর পানি বা ঘাটের পরিবেশ নোংরা করবেন না।
• বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ: নদী বা চরের আশপাশে পাখি শিকার করা অথবা পাখিদের বিরক্ত করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
• সামাজিক শিষ্টাচার: জনসমক্ষে বা অপরিচিত মানুষের সামনে ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন। স্থানীয় দোকানদার, অটোরিকশাচালক ও ট্রলারের মাঝিসহ সবার সঙ্গে সব সময় মার্জিত ও বিনয়ী ব্যবহার করুন। কাউকে কখনো ছোট করে দেখবেন না।
• নারীদের প্রতি সম্মান: আপনার কোনো আচরণ বা কথায় যেন একক বা দলবদ্ধভাবে ঘুরতে আসা কোনো নারী পর্যটক কিংবা স্থানীয় নারীরা বিন্দুমাত্র অস্বস্তি বা বিরক্তিবোধ না করেন, সেদিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখুন।

সিনচিয়াং ঘুরে এলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
সিনচিয়াং ঘুরে এলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক
আল মামুন হারুন উর রশিদ

‘অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তথ্য ও বাস্তবতার আলোকেই সত্যকে সন্ধান করা উচিত। এটাই চীনের মূল দর্শন এবং যেকোনো বিভ্রান্তি দূর করার সবচেয়ে বড় উপায়’। চীনের উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিনচিয়াং প্রথমবার সফর করে এসে সিনচিয়াং ডেইলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক আল মামুন হারুন উর রশিদ। 
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ও বিশেষ করে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে সিনচিয়াংকে নিয়ে একপাক্ষিক ও নেতিবাচক প্রচারণাই দেখে এসেছেন বাংলাদেশের মানুষ। তবে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক 'দ্য নিউ নেশন'-এর এই সাংবাদিকের সাম্প্রতিক সিনচিয়াং সফর সেই চেনা বৃত্ত ভেঙে দিয়েছে। পশ্চিমা চশমা সরিয়ে সরাসরি সিনচিয়াংয়ের স্থিতিশীলতা, দ্রুত বিকাশমান পর্যটন শিল্প এবং স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জীবনযাত্রা দেখে তিনি মুগ্ধ।   
এবারের সফরটি হারুন উর রশিদের চতুর্থ চীন সফর হলেও, সিনচিয়াংয়ে এটিই ছিল তার প্রথম পদার্পণ। এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভূগোল নিয়ে আগে থেকেই তার প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে সেখানে গিয়ে তার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।  
তিনি জানান, পশ্চিমা মিডিয়া সিনচিয়াংয়ের যে চিত্র দেখায়, বাস্তবতার সাথে তার আকাশ-পাতাল তফাত। এখানকার স্থানীয় মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ, প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি।  
সিনচিয়াংয়ের জাদুঘরগুলো ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনো সমাজ বা মানবতা মেনে নিতে পারে না। অতীতে এই অঞ্চলে যে সহিংসতার চ্যালেঞ্জ ছিল, তা মোকাবিলা করে সব স্তরের মানুষকে এক ছাতার নিচে এনে শান্তি ফিরিয়েছে প্রশাসন। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো বর্তমানে চীন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ পর্যটক ভয়হীনভাবে সিনচিয়াংয়ে ঘুরতে আসছেন। 
বাংলাদেশি পাঠকরা কেন সিনচিয়াং নিয়ে পশ্চিমা সংবাদ সহজেই বিশ্বাস করে— সাক্ষাৎকারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে হারুন উর রশিদ অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের চোখের সামনে ২০টি নিউজ পোর্টাল বা মিডিয়া একটি নির্দিষ্ট সুরেই কথা বলে, আর তার বিপরীতে মাত্র একটি মিডিয়া ভিন্ন কিছু বলে, তবে মানুষ ওই ২০টি মিডিয়ার কথাই বিশ্বাস করবে। বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশেই দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমা মিডিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে’।  
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভাষার একটি বড় বাধা রয়েছে। চীন তাদের সত্য গল্পগুলো নিজেদের ভাষায় লিখলেও তা সাধারণ বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে পৌঁছায় না। কারণ সবাই ইংরেজি বা চীনা ভাষা পড়তে পারেন না। তাই এই শূন্যতা পূরণ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে বাংলা ভাষায় সিনচিয়াংয়ের আসল তথ্য ও উপাত্ত তুলে ধরা জরুরি। যখন মানুষ দুই পক্ষের তথ্যই হাতে পাবে, তখন তারা নিজেরাই সত্য-মিথ্যা বিচার করতে পারবেন। 
'বেল্ট অ্যান্ড রোড' উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ এবং সিনচিয়াংয়ের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা দেখছেন এই সাংবাদিক। ভৌগোলিকভাবে সিনচিয়াং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল, যার সাথে আটটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। ফলে এটি ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার সাথে যোগাযোগের একটি অন্যতম প্রধান হাব।  
সিনচিয়াংয়ের কৃষি ও পশুপালন খাত পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সভ্যতার মূলে রয়েছে কৃষি ও ধান চাষ। সিনচিয়াং যেভাবে আধুনিক প্রযুক্তিতে চাল এবং নানারকম শাকসবজি উৎপাদন করছে, তা থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে।  
পাশাপাশি, সিনচিয়াংয়ের উন্নত ডেইরি শিল্প ও অর্গানিক মিল্ক প্রোডাক্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ গুঁড়োদুধ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে। চীন আমাদের অনেক কাছাকাছি দেশ এবং সিনচিয়াং দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য একটি বিশাল কেন্দ্র। ফলে এই খাতে বাংলাদেশ ও সিনচিয়াংয়ের মধ্যে চমৎকার বাণিজ্যিক সহযোগিতা গড়ে উঠতে পারে’।   
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের গণমাধ্যমের এই মেলবন্ধন আরও জোরালো হবে। বাংলাদেশি সাংবাদিকরা আরও বেশি সংখ্যায় সিনচিয়াং সফর করবেন এবং কোনো অন্ধবিশ্বাস বা চাপিয়ে দেওয়া মতবাদে কান না দিয়ে বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সত্য গল্পগুলো বাংলাদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।


সূত্র: সিএমজি

পর্যটকে মুখর রাঙামাটি

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ১০:৩২ এএম
পর্যটকে মুখর রাঙামাটি
‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি কন্যা পর্যটন শহর রাঙামাটি এখন পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। টানা দীর্ঘ ছুটির কারণে ঈদের আগে থেকেই পাহাড়ে পর্যটকের আগমন বাড়তে শুরু করলেও বর্তমানে পর্যটকের আগমন আরও বেড়েছে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়েছে পাহাড়ের প্রতিটি পর্যটন স্পট।

পাহাড়, হ্রদ আর সবুজ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের টানে পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে পাহাড়ের এপার থেকে ওপারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঈদের আগে থেকেই এখানকার হোটেল-মোটেলসহ পাহাড়ের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রের রিসোর্টগুলো ৭০-৮০ ভাগই বুকিং হয়ে গেছে। সাজেক ভ্যালিও এখন পর্যটকে ভরপুর। 

রাঙামাটি শহরে ৫৬টি আবাসিক হোটেল, ১৭টি রিসোর্ট ও সাজেকে ১১৬টি হোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁ আছে ১৪টির বেশি। সবগুলোই পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় জমে উঠেছে ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, সুবলং ঝরনাসহ জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলো। পর্যটকের আগমনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটন খাতও।

শহুরে ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে পাহাড়-হ্রদের শহর রাঙামাটি। কয়েক মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে এখন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে সকাল থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করছেন পাহাড় আর হ্রদের মেলবন্ধনের মনোরম দৃশ্য। প্রকৃতির শান্ত পরিবেশে সময় কাটিয়ে স্বস্তির কথা জানালেন পর্যটকরা।

চট্টগ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, রাঙামাটিতে এসে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখে আমরা অভিভূত। এখানে কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়ের যে মিতালি, সেটা অন্য কোথাও দেখা সম্ভব না। পর্যটন শহরটি আরও আধুনিকায়ন করা গেলে এখানে সারা বছরই পর্যটকরা তাদের পরিবার নিয়ে ছুটে আসবে।

রাঙামাটিতে হ্রদ-পাহাড়ের মিতালি দেখে আগত পর্যটকরা খুবই খুশি। জেলায় বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পর্যটন স্পট। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙামাটি জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিতভাবে নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তোলাসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পর্যটন খাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকেই অনেক রাজস্ব আদায় সম্ভব।

পাশাপাশি এই অঞ্চল দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হতে পারে বলে মনে করেন পর্যটকরা।

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতুর টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে নিয়োজিত মো. ইউসুফ বাসসকে বলেন, ঈদের আগে থেকে কিছু পর্যটক আসতে শুরু করলেও বর্তমানে তা অনেক বেড়েছে। শুধু ঝুলন্ত সেতু দেখতে দৈনিক ২-৩ হাজার মানুষ আসছেন।
এখানে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদে নৌ-ভ্রমণ। তাই সকাল থেকেই পর্যটকরা ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করে ঘুরে দেখছেন সুবলং ঝরনাসহ হ্রদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। 

এ বছর ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে স্থানীয় হোটেল মালিক সমিতি। রাঙামাটি হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ চৌধুরী জানান, রাঙামাটিতে ঈদের আগে থেকেই পর্যটক আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে তা আরও বেড়েছে। 

তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমরা পুরো মাসজুড়েই পর্যটকদের বিশেষ প্যাকেজ সুবিধা দিচ্ছি। এ ছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে আমরা হোটেল মালিক সমিতি বিশেষভাবে নজর দিচ্ছি।

বর্তমানে জেলার সাজেক ভ্যালি, ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, পলওয়েল পার্ক, মায়াবী দ্বীপ, আরণ্যক ও সুবলং ঝরনা, রাঙা দ্বীপ, লেকভিউ আইল্যান্ড, কাপ্তাই পট হাউসসহ মনোমুগ্ধকর সব পর্যটন স্পটগুলো এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে পর্যটকদের উপস্থিতিতে। রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলার পর্যটন স্পটসহ সাজেকের ১১২টি রিসোর্ট-কটেজের মধ্যে প্রায় সব রিসোর্টই শতভাগ পর্যটকে পরিপূর্ণ। 

রাঙামাটি পর্যটন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, এবার ঈদের ছুটিতে রাঙামাটিতে আশানুরূপ পর্যটকের সমাগম ঘটেছে এবং তা দিন দিন আরও বাড়ছে। পর্যটকরা অনলাইন বা অফলাইনে আমাদের হলিডে কমপ্লেক্সের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ রুম বুকিং করেছেন। 

তিনি বলেন, শুধু পর্যটন কমপ্লেক্স নয়, রাঙামাটির সব হোটেল-মোটেলই এখন পর্যটকে পরিপূর্ণ। কোথাও কোনো রুম খালি নেই। পর্যটকের আগমন আরও বাড়বে বলে আশা করছি। বর্তমানে পর্যটন কমপ্লেক্সে গড়ে ২-৩ হাজার পর্যটক আসছেন। এবার পর্যটন ব্যবসায় আশানুরূপ সরকারি রাজস্ব আদায় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন এলাকার বোট ইজারাদার সমিতির সহ-সভাপতি মো. রজমান আলী বলেন, পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাওয়ায় বোটের ব্যবসা অনেক ভালো হচ্ছে। বোট সমিতির পক্ষ থেকে আগত পর্যটকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে হেল্প ডেস্ক। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে জেলার সব স্পটে ঘুরে বেড়াতে পারেন তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি আছে। এবারের ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা নিরাপদে সর্বত্র ভ্রমণ করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সূত্র: বাসস

ঈদে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
ঈদে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুর জেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জন্য কোন ধরণের বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদসহ অন্যান্য উৎসবে ভ্রমন প্রিয় লোকজন ভিড় জমায় শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে।

এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এই স্থানে ছুটে আসছে বিভিন্ন বয়সী লোকজন। যার ফলে তিন নদীর মোহনা এখন দর্শনার্থীদের পদাচরণায় মুখর হয়ে উঠেছে।

শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মানুষ উপভোগ করছেন মোহনার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিন নদীর মোহনা বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে বিকেলে সূর্যাস্তের সময় এই স্থানটি খুবই চমৎকার দৃশ্য ধারণ করে। আর ওই মুহুর্তটি অনেকেই প্রিয়জনদের নিয়ে উপভোগ করেন।

এদিকে তিন নদীর মোহনা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ থানা ও সদর মডেল থানা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সাদা পোষাকেও রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

মোহনা এলাকা ঘুরে ও দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাঁদপুর ছাড়াও কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন সময় কাটাতে এসেছেন। কেউ নদীর পাড়ে বসে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছেন, কেউবা মোবাইল ক্যামেরায় স্মৃতিবন্দি করছেন আনন্দঘন মুহূর্ত। অনেকে আবার ট্রলার ও নৌকায় করে ঘুরে আসছেন মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে। যা স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত।

তবে মোহনার এই মনোরম পরিবেশে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। শিশুদের হাসি, তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার ব্যস্ততা এবং নদীর ঢেউয়ের মৃদু শব্দ মিলিয়ে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।  

চাঁদপুর সদরের চান্দ্রা এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন সময় কাটাতে। তিনি বলেন, এই স্থান ছাড়া আমাদের সময় কাটানোর আর ভালো বিনোদন কেন্দ্র নেই। যে কারণে বারবার এখানে সময় কাটাতে আসি।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানিকগঞ্জের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে একটু ভিন্ন পরিবেশে সময় কাটাতে চাঁদপুরে এসেছি। তিন নদীর মোহনার সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে এসে মনটা অনেক ভালো হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে ঈদের ছুটিতে আবারো পরিবার নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন পাঁচ বন্ধু। তাদের একজন মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সময় পেলে এই স্থানে ঘুরতে আসি। ঈদে সময় কাটানোর জন্য বন্ধুরা মিলে এসেছি। এই স্থানে আসলে কিছু সময় হলেও আনন্দ উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে তিন নদীর মিলনস্থলের ঢেউ সকলের নজর কাড়ে।

কুমিল্লা থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা কলেজ শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, অনেকদিন ধরেই বড় স্টেশন মোলহেডে আসার ইচ্ছা ছিল। ঈদের ছুটিতে সুযোগ পেয়ে চলে এসেছি। নদীর মাঝখানে ট্রলারে ঘোরাঘুরি আর বালুচরে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা দারুণ।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ঈদ উৎসব কেন্দ্রিক মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় তিনটি টহল টিম কাজ করছে। এছাড়া বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিন নদীর মোহনায় আলাদা একটি টিম রয়েছে। এছাড়া সড়কের প্রতিটি মোড়ে আলাদা ট্রাফিক টিম রয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে এবং ঘুরতে পারে এজন্য পুলিশ সর্বদা সজাগ রয়েছে।

এসএন/

পর্যটকের পদচারণায় প্রাণ ফিরেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
আপডেট: ৩০ মে ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
পর্যটকের পদচারণায় প্রাণ ফিরেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে
ছবি:সংগৃহীত

ঈদুল আজহার ছুটি ঘিরে শুরুতে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ফিরতে শুরু করেছে প্রাণচাঞ্চল্য। 

শনিবার (৩০ মে) বিকেলের দিকে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের ঢল। সমুদ্রের গর্জন, শীতল বাতাস আর অপরূপ সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতে ভিড় করছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ।

সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। কেউ সমুদ্রস্নানে মেতেছেন, কেউবা বালুচরে হেঁটে সময় কাটাচ্ছেন। অনেকে আবার স্মার্টফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ঈদের আনন্দের মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখছেন।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ ছুটি থাকা সত্ত্বেও এবার আগাম বুকিং প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। কারণ ঈদের সরকারি ছুটির বড় অংশ সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অনেকেই সংক্ষিপ্ত সফরের পরিকল্পনা করেন। তবে ঈদের দিন পেরিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। বর্তমানে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে বুকিং বাড়ছে এবং আগামী কয়েক দিনে আরও বেশি পর্যটক আসার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে নানা ধরনের জুস, ফুড ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করেছে। সেখানে মৌসুমি নানা ফল দিয়ে তৈরি বিশেষ সব খাবার ও ডেজার্ট উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা। 

ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক মাহমুদ মিঞা বলেন, “শহরের কর্মব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে এসেছি। বিকেলের সমুদ্র আর পরিবেশ সত্যিই মনকে প্রশান্ত করে।”

রাজশাহী থেকে আসা কলেজশিক্ষার্থী শশী জান্নাত বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে প্রথমবার কক্সবাজারে ঈদের ছুটি কাটাচ্ছি। সৈকতের পরিবেশ এবং মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে খুব ভালো লাগছে।”

গাজীপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী সিরাজ হাসান বলেন, “আগে ভেবেছিলাম পর্যটক কম থাকবে। কিন্তু বিকেলে সৈকতে এসে দেখি মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি। ঈদের আমেজটা এখানেই বেশি অনুভব করছি।”

সৈকতে দায়িত্ব পালনরত সি-সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার মুহাম্মদ ওসমান বলেন, “পর্যটকদের নিরাপদ সমুদ্রস্নান নিশ্চিত করতে আমাদের সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সবাইকে নির্ধারিত এলাকার মধ্যে থেকে গোসল করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

ট্যুরস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক)-এর সভাপতি আনোয়ার মোস্তফা বলেন, “আগাম বুকিং খুব বেশি না থাকলেও ঈদের পর থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনে পর্যটন খাতে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা আশা করছি।”

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, “ছুটির কাঠামোর কারণে এবার পর্যটক আসার সময় কিছুটা সীমিত হয়েছে। তারপরও কক্সবাজারে কয়েক দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আমরা মনে করছি। অধিকাংশ আবাসিক হোটেলেই এখন বুকিং বাড়ছে।”

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সদ্য বদলি আদেশ পাওয়া পুলিশ সুপার নাহিদ আদনান তাইয়ান বলেন, “ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ছাড়াও ইনানী, হিমছড়ি ও পাটোয়ারটেক এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”

এসএন/