ঢাকা ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দানি ওলমোর সঙ্গে হাতাহাতি নিয়ে ক্ষমা চাইলেন আয়ালা ঠোঁটকাটা-তালুকাটা শিশুদের পুনর্বাসনে জাতীয় কর্মসূচি করার প্রতিশ্রুতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ৫ বছরে ছানিজনিত অন্ধত্ব নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ইবিতে শিক্ষক নিয়োগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য কাসেমিরোকে ঘিরে ইন্টার মায়ামির বিরুদ্ধে তদন্তে এমএলএস ‘ফিকি এফডিআই কনফারেন্স-২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধর্ষণ মামলায় এনসিপি নেতা আফতাব মজুমদার জয় গ্রেপ্তার বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে যা বললো ফিফা ২৫ বছর পর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আহমদ ছফার দেহাবশেষ শীর্ষ ২৭-এর বাইরে থেকেই বিদায়, পুরস্কারবঞ্চিত নেইমার তীব্র গ্যাস সংকটের কারণ জানিয়ে সরকারের দুঃখ প্রকাশ ইরান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ৯৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট বিল পাস শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর হাতে ৯ ভারতীয় জেলে আটক প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংশোধনের সুযোগ বাড়লো ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই গোপন বিয়ে নিয়ে উমর (রা.)-এর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি ও ক্রেডেন্স হাউজিং লিমিটেডের মধ্যে হোম লোন সুবিধা প্রদানে চুক্তি সই কামরাঙ্গীরচরে মারামারি থামাতে গিয়ে প্রাণ গেল শ্রমিকের চাঁদপুরে এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং নিয়ে ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ মেক্সিকোর মেয়র গুলি করে হত্যা করল দুর্বৃত্তরা ফিফার সেরা একাদশে আর্জেন্টিনার ৩ জন, জায়গা পাননি কোনো ব্রাজিলিয়ান মাসাই মারার 'গ্রেট মাইগ্রেশন'-কে বিখ্যাত করে তোলা ৭টি প্রাণী বাংলাদেশি পাসপোর্টে ‘৩৫টি দেশে ভিসা ছাড়া’ ভ্রমণ, বাস্তবতা কতটুকু? প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ফাস্টট্র্যাক আদালত ঘোষণা নরেন্দ্র মোদির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর রাজশাহীতে ভ্যানচালক হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাতের হুশিয়ারি ইরানের নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস এডমিরাল র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কি পদত্যাগ করছেন? তাইওয়ানের গবেষণায় দাম্পত্যে ডিমেনশিয়ার নতুন আতঙ্ক ঢাকায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১০ অঞ্চলে নদীবন্দর সতর্কসংকেত

সাউথইস্ট ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়েছে ৬৪ শতাংশ

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
সাউথইস্ট ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়েছে ৬৪ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) নিট মুনাফা ৬৪ শতাংশ বেড়েছে।

আলোচ্য প্রান্তিকে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৩৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। গত মঙ্গলবার ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ১৬ পয়সায়।

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংকের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৭৪ পয়সায়।

২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি সাউথইস্ট ব্যাংকের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৩২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৬০ পয়সা (পুণর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৫৯ পয়সায়।

২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংকের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৬৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৩৬ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৯২ পয়সায়।

২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৪৪ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৮৭ পয়সায়।

সাউথইস্ট ব্যাংকের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘ মেয়াদে ‘এএ’ এবং স্বল্প মেয়াদে ‘এসটি-২’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।

২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথইস্ট ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৪৩১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৮১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ারসংখ্যা ১৪৩ কোটি ১০ লাখ ১৪ হাজার ১৩৫। এর ৩১ দশমিক ২৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ১ দশমিক ২২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ এএম
ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবা খাতকে সহায়তা করার লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সমন্বিত করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি-১) এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) এবং অন্যান্য অনলাইন পেশাগত সেবার মতো অদৃশ্য (নন-ফিজিক্যাল) সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্য রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত ইএক্সপি ফরম জমা দিতে হবে না। তবে এসব সেবা থেকে অর্জিত রপ্তানি আয় দেশে আনা, তা দেশে ফেরত পাঠানো (রিপ্যাট্রিয়েশন) এবং রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশি ক্রেতার কাছে সেবা দেওয়ার পর অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত চালান বা শিপিং ডকুমেন্ট না থাকলেও ইমেইল, অনলাইন চুক্তিপত্র, প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ডিজিটাল ইনভয়েস, রেমিট্যান্স বার্তাসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে ব্যাংক গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা করতে পারবে। একই সঙ্গে যোগ্য ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটার (ইআরকিউ) হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার অনুমোদিত অংশ সংরক্ষণের সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থ পর্যন্ত রেমিট্যান্স গ্রহণের ক্ষেত্রে ফর্ম-সি জমা দিতে হবে না। তবে এর বেশি অর্থ এলে নির্ধারিত নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন ফর্ম-সি (আইসিটি) জমা দিতে হবে, যদি না বিদ্যমান অন্য কোনো নির্দেশনায় ছাড় দেওয়া থাকে।

সার্কুলারে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি) ব্যবহার করে ক্ষুদ্র অঙ্কের সেবা রপ্তানি আয় দেশে আনার সুযোগও বহাল রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে কোনো ন্যাশনাল হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখা যাবে না; সব অর্থ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

এ ছাড়া যোগ্য ফ্রিল্যান্সারদের জন্য দ্বৈত মুদ্রাভিত্তিক ফ্রিল্যান্সার কার্ড ইস্যু, বিদেশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের সঙ্গে সমন্বয়ে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) মাধ্যমে রপ্তানি আয় দেশে আনা এবং ডিজিটাল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার, ডেটা প্রসেসিংসহ আইসিটি খাতের সেবা রপ্তানিকারকেরা তাদের নিট রপ্তানি আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রায় ইআরকিউ হিসাবে রাখতে পারবেন। অন্যান্য বৈধ সেবা রপ্তানিকারকের ক্ষেত্রে এই সীমা ৩০ শতাংশ। অবশিষ্ট অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে টাকায় রূপান্তর করে স্থানীয় হিসাবে জমা দিতে হবে। ইআরকিউ হিসাবের অর্থ বিদেশ ভ্রমণ, সফটওয়্যার নিবন্ধন, ডোমেইন ও হোস্টিং ফি, সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রপাতি আমদানি এবং বৈধ ব্যক্তিগত ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা যাবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী কর কর্তন ও পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সব লেনদেনে কেওয়াইসি, এএমএল/সিএফটি এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। সেবা রপ্তানির অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে আনতে হবে এবং অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে বিদেশে ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বা ভার্চুয়াল সম্পদের মাধ্যমে রপ্তানি আয় রেখে দেওয়া বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই নির্দেশনা ডিজিটাল বাণিজ্য ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার ফলে বৈদেশিক আয় আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে দেশে আনার প্রবণতা বাড়বে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও শক্তিশালী হবে।

ব্যবসায়িক মহলের মতে, এ উদ্যোগ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বৈদেশিক লেনদেন সহজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সেবা রপ্তানিকে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সূত্র: ইউএনবি

অমিয়/

এনআরবিসি ব্যাংকের ঋণমান ‘এ প্লাস’

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
এনআরবিসি ব্যাংকের ঋণমান ‘এ প্লাস’
ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘ মেয়াদে ‘‌এ প্লাস’ ও স্বল্প মেয়াদে ‘‌এসটি-৩’।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সায়।

২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে এনআরবিসি ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৫৫ পয়সায়।

২০২৩ সমাপ্ত হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে এনআরবিসি ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৩৩ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৫৮ পয়সায়।

২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের সাড়ে ৪ শতাংশ স্টক ও সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে এনআরবিসি ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৮৫ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৭৩ পয়সায়।

২০২১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এনআরবিসি ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৮২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫৪২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩৪। এর ৫৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ রয়েছে

উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ৮১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ডিজিটাল লেনদেনে দক্ষতা দেখাচ্ছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
ডিজিটাল লেনদেনে দক্ষতা দেখাচ্ছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশের অর্থনীতির বেশির ভাগ এখনো নগদ টাকার ওপর নির্ভরশীল। ফলে সময়, ব্যয় ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির চাপ বহন করতে হয় সাধারণ মানুষকে। এই বাস্তবতা বদলে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক চালু করেছে সর্বজনীন ও আন্তব্যাংক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’।

এই জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য বাংলা কিউআরভিত্তিক একাধিক ডিজিটাল সেবা চালু করেছে। শুধু ডিজিটাল পেমেন্ট চালু নয়, বরং নিরাপদ, স্বচ্ছ, শরিয়াহ্‌সম্মত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই ব্যাংকের লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এক দেশ, এক কিউআর’ উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল পেমেন্টব্যবস্থাকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে। আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের ইলমনেট, ডিজিটাল দানবাক্স, ডিজিটাল হাদিয়া এবং দেশব্যাপী এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজেই অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। ব্যবসায়ীদের আর একাধিক কিউআর ব্যবহার করতে হয় না, গ্রাহকরাও তাদের পছন্দের ব্যাংক বা ডিজিটাল ওয়ালেট থেকেই নির্বিঘ্নে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন।

এই উদ্যোগের অন্যতম সংযোজন ‘ইলমনেট’। এটি একটি ডায়নামিক বাংলা কিউআরভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম। দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলোতে এখনো বেতন সংগ্রহ নগদ টাকানির্ভর। ইলমনেটের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য পৃথক বাংলা কিউআর তৈরি হয়। অভিভাবক যেকোনো স্থান থেকে কিউআর স্ক্যান করে বেতন ও অন্যান্য ফি পরিশোধ করতে পারেন। অর্থ সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা হয় এবং পুরো লেনদেন ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়। সম্প্রতি ভূঁইগড় দারুচ্ছুন্নাত ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার সঙ্গে ইলমনেটের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

শুধু শিক্ষা নয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অনুদান ব্যবস্থাপনাকেও ডিজিটাল করছে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক। ডিজিটাল দান বাক্স সেবার মাধ্যমে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে দেশ-বিদেশের যেকোনো স্থান থেকে মুহূর্তেই অনুদান পাঠানো যায়। প্রতিটি লেনদেন ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। একইভাবে ইমাম, খতিব, হাফেজ এবং ওয়াজ মাহফিলের বক্তাদের হাদিয়া ও সম্মানীও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংকটি। ফলে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন কমবে এবং লেনদেন হবে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও স্বচ্ছ।

প্রান্তিক মানুষের কাছে এই সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক। এজেন্ট পয়েন্টগুলো শুধু টাকা জমা ও উত্তোলনের কেন্দ্র নয়; বাংলা কিউআরভিত্তিক মার্চেন্ট নিবন্ধন, গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে হাটবাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মুদি দোকান, ওষুধের দোকান এবং স্থানীয় নারী উদ্যোক্তারাও সহজেই ডিজিটাল পেমেন্টব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।

শরিয়াহ্‌ভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি শরিয়াহ্‌ নীতির প্রতিও সমান গুরুত্ব দেয়। শিক্ষা, অনুদান, হাদিয়া ও ক্ষুদ্র ব্যবসা–সব ক্ষেত্রেই বাংলা কিউআরভিত্তিক সেবাগুলো নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং শরিয়াহ্‌সম্মত লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ স্মার্ট অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই যাত্রায় বাংলা কিউআর কেবল একটি পেমেন্ট প্রযুক্তি নয়, এটি একটি নতুন আর্থিক সংস্কৃতির ভিত্তি। শিগগিরই মাদ্রাসার বেতন পরিশোধ হবে একটি কিউআর স্ক্যানেই, মসজিদের অনুদান পৌঁছে যাবে মুহূর্তে, হাদিয়া হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং হাট-বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে সহজেই মূল্য গ্রহণ করবেন। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও শরিয়াহ্‌সম্মত একটি ক্যাশলেস অর্থনীতি। সেই অভিযাত্রার অন্যতম অগ্রযাত্রার অংশীদার হতে চায় আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

পতনের বাজারে দাপট মিউচুয়াল ফান্ডের

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ এএম
আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
পতনের বাজারে দাপট মিউচুয়াল ফান্ডের
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস গতকাল বুধবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমেছে। তবে এই পতনের বাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দাপট দেখিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড। মিউচুয়াল ফান্ডের দাপট দেখালেও সূচকের ডিএসইতে মূল্যসূচকের পতন হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমলেও অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। এরপরও বাজারটিতে মূল্যসূচক কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হতেই দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে মিউচুয়াল খাত। লেনদেন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যে বেশ কিছু মিউচুয়াল ফান্ড দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমায় চলে আসে। লেনদেন শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ার ক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ডের দাপট অব্যাহত থাকে। কিন্তু অন্য খাতের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমায় দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। দাম কমেছে ২৪৫টির এবং ৪৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে ২৯টি মিউচুয়াল ফান্ডর দাম বাড়ার বিপরীতে ১টির দাম কমেছে এবং ৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ১২৭টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৭টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৫৫টির এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৬৩টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ২৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৭১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১৬ পয়েন্টে নেমে গেছে। ডিএসই শরিয়াহ্‌ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২১১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ১২৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। লেনদেন বেড়েছে ৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে আইটি কনসালটেন্টসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা টেকনো ড্রাগসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৬৯ লাখ টাকার। ১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফারইস্ট নিটিং।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ফুওয়াং সিরামিক, স্যালভো কেমিক্যাল, সিটি ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, সায়হাম কটন এবং ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের। ফান্ডটির শেয়ার দর ৬ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ডের ইউনিট দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০-এ থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড, এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড, কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস, এমবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-ওয়ান, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড ও এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫ পয়সা বা ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমেছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর ৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ কমেছে । এ ছাড়া ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০-এ থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো জিল বাংলা সুগার মিলস, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, নিটল ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স এবং শ্যামপুর সুগার মিলস।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ ২৫১ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৭টির দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ১০৮টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

ওষুধশিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৫ এএম
আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
ওষুধশিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ব ছাড়ের সুবিধা পাবে না। একই সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারাবে। পাশাপাশি নগদ রপ্তানি সহায়তা পাবে না। এতে ওষুধ উৎপাদন ও আমদানি খরচ বাড়বে। ফলে দেশে ওষুধের দাম বাড়বে। 

ওষুধ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এ পরিস্থিতি এড়াতে এলডিসি থেকে উত্তরণের আগেই ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। আর এর জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। 

তারা বলেছেন, দেশের বাজারে ওষুধ উৎপাদন ও আমদানি করা সম্ভব হলে কম দামে ওষুধ বিক্রি করা সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে। পাশাপাশি রপ্তানিও বাড়বে। এর জন্য অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) কম দামে সংগ্রহ করতে হলে এপিআই শিল্প পার্ক পুরোপুরি চালু করতে হবে। 

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ট্রিপ্স-সংক্রান্ত পেটেন্ট সুবিধা সীমিত হয়ে গেলে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন ও রপ্তানিতে নতুন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে দেশের শিল্প। পাশাপাশি ওষুধ তৈরির প্রধান কাঁচামাল এপিআইর প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ এখনও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, সারা বিশ্বে সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট এবং কাঁচামালের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। এপরিস্থিতি এড়াতে ওষুধ শিল্পে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। 

শিল্প মন্ত্রণালয়ের ডিপিডিটির উপসচিব ড. অশোক কুমার রায় খবরের কাগজকে জানান, আমরা এখনো এলডিসিতে আছি। এখান থেকে উত্তরণ না হওয়া পর্যন্ত ওষুধে পেটেন্ট ছাড় পাওয়া যাবে। বর্তমানে পেটেন্ট ছাড় থাকায় কম দামে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু পেটেন্ট দেওয়া শুরু হলে ওষুধের দাম অনেক বেড়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের আগেই দেশের ওষুধ শিল্পের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে জোর দিতে হবে। আর এর জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। 

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ট্রিপ্স (ট্রেড-রিলেটেড আস্পেক্টস অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপেরটি রাইটস) চুক্তির আওতায় ওষুধের পেটেন্ট বাস্তবায়নে বিশেষ ছাড় পেয়ে থাকে। এই সুবিধার ফলে দেশীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিকভাবে পেটেন্টধারী অনেক ওষুধের জেনেরিক সংস্করণ উৎপাদন, বাজারজাত ও রপ্তানি করতে পেরেছে, যেখানে অন্য অনেক উন্নয়নশীল দেশকে পেটেন্টধারী প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিতে হয়। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন শেষ হওয়ার পর নতুন পেটেন্টধারী ওষুধ উৎপাদন বা বাজারজাত করতে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স ফিও দিতে হতে পারে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এই বিশেষ ছাড় শেষ হবে। তখন নতুন পেটেন্টধারী ওষুধ উৎপাদনে আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব আইন মেনে চলতে হবে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে পারে এবং দেশীয় ওষুধ শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন জেনেরিক ওষুধ বাজারে আনাও কঠিন হয়ে যেতে পারে। এর ফলে, ওষুধের দাম মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওষুধের গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিকমানের ক্লিনিক্যাল গবেষণা এবং মেধাস্বত্ব ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন হবে।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পেটেন্ট হলো কোনো নতুন পণ্য বা পদ্ধতির উদ্ভাবকের জন্য সরকারের দেওয়া একটি বিশেষ আইনি অধিকার, যা অন্য কাউকে অনুমতি ছাড়া সেই উদ্ভাবন তৈরি, ব্যবহার বা বিক্রি করতে বাধা দেয়। এটি মেধাসম্পদের একটি অংশ, যা সাধারণত সীমিত সময়ের জন্য অর্থাৎ ২০ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর দেশের ওষুধ শিল্প সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারলে দেশীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো উচ্চমূল্যের বাজার—যেমন ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এতে প্রযুক্তি উন্নয়ন, গবেষণাভিত্তিক উৎপাদন এবং উচ্চমূল্য সংযোজিত ওষুধ তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ কাঁচামাল বা এপিআই। দেশের অধিকাংশ এপিআই এখনও চীন, ভারত ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, সারা বিশ্বে সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি দেশের ওষুধ উৎপাদনে পড়ে। এর জন্য এপিআই শিল্প পার্ক পুরোপুরি চালু করা প্রয়োজন। 

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের বাজার প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা। যা প্রতিবছর গড়ে ১০-১২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধের চাহিদা স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করছে দেশি কোম্পানিগুলো। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ২০০। তবে বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ ১০-১২টি কোম্পানি।

ওষুধ শিল্পে বর্তমানে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনেটা পিএলসি, বেক্সিমকো ফার্মা, এসিআইর মতো প্রতিষ্ঠান ওষুধ বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এসব কোম্পানি শুধু দেশীয় বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে চলছে। ওষুধ রপ্তানির প্রধান দেশগুলো হলো শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, নেপাল, ফিলিপাইন, কেনিয়া, ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।