বিবাহিত জীবন নিয়ে সাধারণ ধারণা হলো এটি হৃদরোগের ঝুঁকি ও স্থূলতা কমানোর মতো স্বাস্থ্যের জন্য নানাভাবে উপকারী। তবে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা জটিল ও উদ্বেগজনক আকার নিয়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কারো জীবনসঙ্গীর ডিমেনশিয়া থাকলে অপর সঙ্গীরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়া বা প্রজ্ঞাগত ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
ডিমেনশিয়া কিন্তু একা কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়; এটি মূলত স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া, বিভ্রান্তি এবং চিন্তাভাবনার ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো একাধিক লক্ষণের একটি সমষ্টিগত রূপ। আলঝেইমার্স কিংবা স্ট্রোকের মতো মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণে এ সিন্ড্রোম দেখা দেয়, যা দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
তাইওয়ানের প্রায় ১০ লাখ বিবাহিত ব্যক্তির ওপর এই গবেষণা করা হয়। যাদের জীবনসঙ্গীর ডিমেনশিয়া রয়েছে, তাদের নিজেদেরও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুলাংশে বেশি।
যে দম্পতির কারোই ডিমেনশিয়া নেই, তাদের তুলনায় সঙ্গীর ডিমেনশিয়া থাকলে নারীদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে ৭৪% পর্যন্ত এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে বাড়ে ৬৯% পর্যন্ত।
তাইওয়ানের ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা ডেটাবেজের উপর ভিত্তি করে এই বিশ্বস্ত ও বিস্তৃত গবেষণাটি চালানো হয়। এর আগে ছোট পরিসরে গবেষণা হলেও এত বিশাল জনসংখ্যার ওপর এমন স্পষ্ট তথ্য আগে পাওয়া যায়নি।
গবেষকরা নিখুঁত তথ্য পাওয়ার জন্য ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গীদের বয়স, লিঙ্গ, আয় ও জীবনযাত্রার মান অনুযায়ী অন্য সাধারণ বিবাহিত মানুষদের সাথে মিলিয়ে ডেটা পর্যালোচনা করেছেন।
গবেষকদের মতে, এই ঝুঁকি বাড়ার পেছনে যৌথ জীবনযাপনের প্রভাব, মানসিক চাপ বা কেয়ারগিভিং এর ফলে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রান্তির ভূমিকা থাকতে পারে। তবে সঙ্গীর যত্ন নেওয়ার তীব্রতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জীবনযাত্রা এবং পারস্পরিক যোগাযোগের প্রভাব বিস্তারিতভাবে বুঝতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেছেন। সূত্র: এনডিটিভি
তামান্না রুপা/