ভারতের উত্তরপ্রদেশের মেরঠে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে এক নারী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, ২০ লাখ রুপির বিমার টাকা হাতিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে ঘুমন্ত স্বামীর বিছানায় বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মেরঠের হস্তিনাপুরের বাসিন্দা অতুল পওয়ার ও তার স্ত্রী দামিনী একটি শিশুদের স্কুল পরিচালনা করতেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে অতুলের মৃত্যুর পর দামিনী দাবি করেন, সাপের ছোবলে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। পরে অতুলের বিছানায় একটি বিষধর সাপও পাওয়া যায়।
তবে ঘটনাটি নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে অতুলের পরিবার। তাদের অভিযোগ, পরিপাটি ঘরের ভেতরে সাপ ঢোকার মতো কোনো পথ ছিল না। এরপর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে পুলিশের দাবি, বিদ্যালয়ের গাড়িচালক তুষারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দামিনীর পরকীয়া চলছিল। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যার পরিকল্পনার নানা তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, পরিকল্পনা অনুযায়ী অতুলকে প্রথমে ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ পান করানো হয়। তিনি ঘুমিয়ে পড়ার পর তুষারের কাছ থেকে আনা বিষধর সাপটি বিছানায় ছেড়ে দেন দামিনী।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অতুলের নামে ২০ লাখ রুপির বিমা ছিল। সেই অর্থ হাতিয়ে নিতেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
এ ঘটনায় আরও দুজন সহযোগীকে পাঁচ লাখ রুপি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, তুষার ও দামিনীর মোবাইল ফোনে সাপের ছবি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। সূত্র: আনন্দবাজার
অমিয়/