ঢাকা ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩, রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সাকার হ্যাটট্রিক, ১০ গোলের ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতল ইংল্যান্ড স্পেনের নীরব নায়ক ওইয়ারসাবাল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এমবাপ্পের এমবাপ্পে-বারকোলার গোলে ৪-০ থেকে ৪-৩, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পথে ফ্রান্স ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে ইংল্যান্ড সাকার গোল বাতিলের পরেও ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড ৩ মিনিটেই ফ্রান্সের জালে ইংল্যান্ডের গোল ফ্রান্সের একাদশে ৭ পরিবর্তন, ইংল্যান্ডের বেঞ্চে বেলিংহাম-কেইনসহ ৭ জন মায়ামিতে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড লড়াই, ম্যাচ পরিচালনায় ভেনেজুয়েলার রেফারি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা, ট্রাম্পের সহায়তা চাইলেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জিতলেই ব্রোঞ্জ পদক, কত টাকা পাবে বিজয়ী দল? হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু হাসপাতালে শয্যা সংকট গুজরাটে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৮ এবার চবি ছাত্রীকে বিয়ে করলেন চীনা অধ্যাপক ভোলায় ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৩৪ বস্তা ভিজিএফের চাল উদ্ধার ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে ১০ স্পোর্টস ভিলেজ গড়বে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিজয়নগরে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেটকারের যাত্রী নিহত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল পুলিশ সদস্যের বংশালে পোশাক কারখানা থেকে কর্মীর মরদেহ উদ্ধার মাতামুহুরী নদী রক্ষায় সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দশ প্রখ্যাত গ্রাফিক্স ডিজাইনারের শৈল্পিক স্বকীয়তা প্রকাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাকাতের হামলায় জেলে নিহত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আ.লীগ ঠেকাতে ইসিতে জামায়াতের তৎপরতা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক: প্রবাসীদের জন্য আসছে ডেবিট সুবিধাসহ ‘প্রবাসী কার্ড’ ফের আর্চারির নেতৃত্বে চপল, এবার সভাপতির চেয়ারে পাবনায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা প্রথমবারের মতো বেসরকারি অরবিটাল রকেটের সফল উৎক্ষেপণ করল ভারত পর্যটন কেন্দ্র ও পাথর কোয়ারি পরিদর্শন করেছেন সিলেটের নতুন ডিসি দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাবের বার্তা দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬

গাড়িচালকের সঙ্গে প্রেম, বিমার টাকা পেতে বিছানায় বিষধর সাপ ছাড়েন স্ত্রী

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
গাড়িচালকের সঙ্গে প্রেম, বিমার টাকা পেতে বিছানায় বিষধর সাপ ছাড়েন স্ত্রী
অতুল পওয়ার ও তার স্ত্রী দামিনী

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মেরঠে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে এক নারী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, ২০ লাখ রুপির বিমার টাকা হাতিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে ঘুমন্ত স্বামীর বিছানায় বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মেরঠের হস্তিনাপুরের বাসিন্দা অতুল পওয়ার ও তার স্ত্রী দামিনী একটি শিশুদের স্কুল পরিচালনা করতেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে অতুলের মৃত্যুর পর দামিনী দাবি করেন, সাপের ছোবলে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। পরে অতুলের বিছানায় একটি বিষধর সাপও পাওয়া যায়।

তবে ঘটনাটি নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে অতুলের পরিবার। তাদের অভিযোগ, পরিপাটি ঘরের ভেতরে সাপ ঢোকার মতো কোনো পথ ছিল না। এরপর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তদন্তে পুলিশের দাবি, বিদ্যালয়ের গাড়িচালক তুষারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দামিনীর পরকীয়া চলছিল। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যার পরিকল্পনার নানা তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, পরিকল্পনা অনুযায়ী অতুলকে প্রথমে ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ পান করানো হয়। তিনি ঘুমিয়ে পড়ার পর তুষারের কাছ থেকে আনা বিষধর সাপটি বিছানায় ছেড়ে দেন দামিনী।

তদন্তে আরও জানা গেছে, অতুলের নামে ২০ লাখ রুপির বিমা ছিল। সেই অর্থ হাতিয়ে নিতেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

এ ঘটনায় আরও দুজন সহযোগীকে পাঁচ লাখ রুপি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, তুষার ও দামিনীর মোবাইল ফোনে সাপের ছবি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। সূত্র: আনন্দবাজার

অমিয়/

হার্টেও জমছে প্লাস্টিক! কীভাবে সম্ভব?

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
হার্টেও জমছে প্লাস্টিক! কীভাবে সম্ভব?
ছবি: সংগৃহীত

মানবদেহে মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত বা হার্ট অ্যাটাক হওয়া রোগীদের রক্ত এবং হৃদ্‌যন্ত্রের ধমনীতেও প্লাস্টিকের অতি সূক্ষ্ম কণা জমা হচ্ছে। 

গবেষকদের মতে, এই কণাগুলো ধমনীর ক্ষতি করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নাল এবং দি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে।

প্লাস্টিকের ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর চেয়েও অনেক ছোট, খালি চোখে প্রায় অদৃশ্য কণাগুলো হলো ন্যানোপ্লাস্টিক। ইতোমধ্যে মস্তিষ্ক, মায়ের গর্ভ, এমনকি চোখেও এসব কণার উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। এবার গবেষণায় দেখা গেল, হৃদ্‌যন্ত্রও এর বাইরে নয়।

গবেষকদের মতে, প্লাস্টিক সহজে নষ্ট হয় না। ফলে একবার শরীরে প্রবেশ করলে তা দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঙ্গে জমা হতে থাকে। হৃদ্‌যন্ত্রের ধমনীতে এসব কণা জমলে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হতে পারে, ধমনীর স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

ইতালির স্যাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা হৃদ্‌রোগীদের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখেছেন, সদ্য হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বা দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগে ভুগছেন- এমন প্রায় ৮৪ শতাংশ রোগীর রক্ত ও হৃদ্‌যন্ত্রের ধমনীতে মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। 

তাদের মতে, এসব কণা ধমনীর ভেতরে প্লাক (চর্বি ও কোলেস্টেরলের স্তর) জমাকে ত্বরান্বিত করে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আরও বাড়ায়।

কীভাবে প্লাস্টিক পৌঁছায় হৃদ্‌যন্ত্রে?

মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিক এতটাই সূক্ষ্ম যে বাতাসের ধুলাবালি ও দূষিত কণার সঙ্গে মিশে শ্বাসের মাধ্যমে সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবার ও পানীয়ের মাধ্যমেও এগুলো শরীরে ঢুকে পড়ে।

গবেষণায় হৃদ্‌রোগীদের ধমনীতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে পলিথিনজাত প্লাস্টিক, যা বিভিন্ন প্যাকেজিং, পানির বোতল এবং গৃহস্থালির নানা প্লাস্টিকপণ্যে ব্যবহৃত হয়। 

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পরিবেশ দূষণ এবং প্লাস্টিকনির্ভর জীবনযাপনই শরীরে প্লাস্টিক প্রবেশের প্রধান উৎস।

প্লাস্টিকের কাপ, প্লেট, খাবারের বাক্স, পানির বোতল কিংবা প্যাকেটজাত খাবারের মোড়ক থেকে ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা খাদ্যে মিশে যেতে পারে। অন্যদিকে, ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে সিগারেটের ফিল্টার এবং তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় মিশে যাওয়া প্লাস্টিকও শরীরে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

ফুসফুসের অ্যালভিওলাই (বায়ুথলি) দিয়ে এসব সূক্ষ্ম কণা রক্তে প্রবেশ করে এবং রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এগুলো হৃদ্‌যন্ত্রের ধমনীর দেয়ালে জমে থাকা চর্বি বা প্লাকের মধ্যে আটকে যায়। এর ফলে ধমনীতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে, রক্তনালির দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ধীরে ধীরে ব্লকেজ তৈরি হয়। পাশাপাশি ধমনী শক্ত ও সংকুচিত হয়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, প্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং হৃদ্‌রোগের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক পাওয়া গেলেও, এটি সরাসরি হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র কারণ- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। সূত্র: আনন্দবাজার

ম্যান্ডেলা দিবস আজ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
ম্যান্ডেলা দিবস আজ
‘শিক্ষা সব থেকে শক্তিশালী অস্ত্র, যার মধ্য দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়।’ ‌- নেলসন ম্যান্ডেলা। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক নেলসন ম্যান্ডেলা দিবস আজ।

প্রতিবছর ১৮ জুলাই ম্যান্ডেলা দিবস পালন করা হয়।

বর্তমান দক্ষিণ আফ্রিকা যখন তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, চরম বৈষম্য ও সামাজিক বিভাজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ম্যান্ডেলা দিবসকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে এক বড় বিতর্ক।

ম্যান্ডেলা দিবসের নিয়ম হলো ম্যান্ডেলার ৬৭ বছরের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রামকে সম্মান জানিয়ে যেকোনো সমাজসেবামূলক কাজে ৬৭ মিনিট সময় দেওয়া। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার 'মার্চ অ্যান্ড মার্চ' নামের একটি অভিবাসী-বিরোধী জোট ঘোষণা করেছে যে, তারা এই ৬৭ মিনিট সমাজসেবার বদলে ম্যান্ডেলার নিজ প্রদেশ ইস্টার্ন কেপে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং নথিপত্রহীন প্রবাসী শ্রমিকদের খুঁজে বের করে শহর থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করবে। তাদের দাবি, সরকার সীমান্ত রক্ষা করতে এবং দক্ষিণ আফ্রিকানদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এমবঙ্গিসেনি বুথেলেজি এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, 'সেবামূলক দিনকে বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।' তিনি আরও জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য অভিবাসীরা দায়ী নন, বরং এটি সরকারেরই ব্যর্থতা।

ম্যান্ডেলার সঙ্গে রাজনীতি করা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস ভেটেরান্স লিগের প্রেসিডেন্ট স্নুকি জিকালারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'ম্যান্ডেলার নাম ব্যবহার করে এভাবে মানুষকে পশুর মতো তাড়িয়ে দেওয়া যায় না।'

বিশেষজ্ঞদের মতে, নেলসন ম্যান্ডেলার মূল পরিচয় ছিল একজন আপসহীন মুক্তি সংগ্রামী। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তার সেই বিপ্লবী পরিচয়কে আড়াল করে তাকে কেবল 'সমাজসেবার' প্রতীকে পরিণত করা হয়েছে। যার ফলে বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী ম্যান্ডেলার নামের অপব্যবহার করছে।

দারিদ্র্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা নিয়ে এবারের ম্যান্ডেলা দিবসটি যখন পালিত হচ্ছে, ঠিক তখনই তার দেশের ভেতরে তারই আদর্শ ও উত্তরাধিকার নিয়ে শুরু হয়েছে এক টানাপোড়েন। সূত্র: আলজাজিরা

তামান্না রুপা/

কেন তসলিমা নাসরিনকে কলকাতায় ফেরালেন শুভেন্দু অধিকারী?

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
কেন তসলিমা নাসরিনকে কলকাতায় ফেরালেন শুভেন্দু অধিকারী?
ছবি: পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন

২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তাকে। অবশেষে দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে  কলকাতায় ফিরছেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

রাজ্যে নতুন (বিজেপি) সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তসলিমার কলকাতায় ফেরার পথ উন্মুক্ত হলো। আর এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তনের পর নতুন রাজ্য সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নাম না করে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক বাম ও তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন তিনি।

তসলিমা কলকাতায় ফেরার প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত তসলিমা নাসরিন বলেন, 'আমি বলব সরকার বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু কলকাতায় ফেরার আকাঙ্ক্ষা আমার কখনও বদলায়নি। আগের সরকারগুলি যে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি অথবা নিতে চায়নি, নতুন সরকার সেই অচলাবস্থা ভাঙার চেষ্টা করেছে।'

নিজের একটি বিখ্যাত কবিতার কথা উল্লেখ করে লেখিকা আরও বলেন, 'আমার লেখা 'প্রশ্ন' কবিতাটি ব্যর্থ হয়েছে, একথা শুনতে আমার খুব ভালো লাগছে। কবিতাটি কোনও ভবিষ্যদ্বাণী ছিল না, ছিল গভীর বেদনা, প্রত্যাখ্যান এবং নির্বাসনের সময় লেখা একটি প্রশ্ন। তখন সত্যিই মনে হয়েছিল হয়তো মৃত্যুর পরই কলকাতা আমাকে গ্রহণ করবে। আজ জীবিত অবস্থায় কলকাতায় যদি আমাকে ফিরিয়ে নেয়, তার থেকে আনন্দের কিছু হতে পারে না। আমি প্রথমে কলকাতার মানুষকে ধন্যবাদ জানাব। কারণ এত বছর পরেও তারা আমাকে ভুলে যাননি, আমার ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করেছেন। এরপর ধন্যবাদ জানাব নতুন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে, আমার ফেরার পথ উন্মুক্ত করার জন্য এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য।

তিনি আরও যোগ করেন, একজন লেখককে তার প্রিয় শহর থেকে এভাবে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বার্থে নির্বাসিত করে রাখা কোনও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য গৌরবের বিষয় নয়। নতুন সরকার এই অন্যায় সংশোধন করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে একটি বড় বার্তা দিল।

বাম আমলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজেপি-র কটাক্ষ তসলিমা নাসরিনের এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি-র বর্তমান রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি গত বছর (২০২৫ সালে) তসলিমার কলকাতায় ফেরার পক্ষে রাজ্যসভায় জোরালো সওয়াল করেছিলেন।

তসলিমার প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বাম আমলের কড়া সমালোচনা করে বলেন, 'তসলিমা নাসরিনকে ফিরিয়ে আনার দাবি আমি রাজ্যসভায় তুলেছিলাম। তিনি বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর চলা নির্যাতনের বিরুদ্ধে 'লজ্জা' উপন্যাস লিখেছিলেন। কিন্তু ভোটব্যাংকের স্বার্থে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সেই বই বাজেয়াপ্ত করিয়েছিলেন, যাতে প্রকৃত সত্য সামনে না আসে। আজ তিনি ফিরছেন, এটি অত্যন্ত আনন্দের।'

 আজহার/

ভাষাহীন বার্তার দুনিয়া! কীভাবে ইমোজি বদলে দিল আমাদের যোগাযোগমাধ্যম

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০২ এএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
ভাষাহীন বার্তার দুনিয়া! কীভাবে ইমোজি বদলে দিল আমাদের যোগাযোগমাধ্যম
ইমোজিকে পিকটোগ্রাম, লোগোগ্রাম, আইডিওগ্রাম বা স্মাইলিও বলা হয়। ছবি: সংগৃহীত

আজকের ডিজিটাল যুগে ইমোজি আমাদের দৈনন্দিন যোগাযোগের এক অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। ভাষা ও সংস্কৃতির সীমানা পেরিয়ে এই প্রতীকগুলো মানুষের আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। সাধারণ টেক্সট মেসেজকে প্রাণবন্ত করে তুলতে এই ইমোজিগুলোর জুড়ি মেলা ভার।

ইমোজিপিডিয়া-র প্রতিষ্ঠাতা জেরেমি বার্জের হাত ধরে এই ডিজিটাল মাধ্যমের জনপ্রিয়তা উদযাপন শুরু হয়। মূলত বেশিরভাগ ক্যালেন্ডার প্রতীকে ১৭ জুলাই তারিখটি প্রদর্শিত হওয়ায় এই মাধ্যমটিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর বিশেষ উন্মাদনা দেখা যায়।

ইমোজির পথচলা শুরু হয়েছিল মূলত টেক্সট-ভিত্তিক ইমোটিকন দিয়ে, যা ১৯৮২ সালে কম্পিউটার বিজ্ঞানী স্কট ফাহলম্যান প্রস্তাব করেছিলেন। এরপর ১৯৯৯ সালে জাপানি ডিজাইনার শিগেতাকা কুরিতা একটি মোবাইল কোম্পানির জন্য ১৭৬টি পিক্সেল আইকন বিশিষ্ট প্রথম ইমোজি সেট তৈরি করেন। ২০০৭ সালে গুগল একে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ‘ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম’ এর কাছে আবেদন করে। ২০১১ সালে অ্যাপল তাদের আইওএস কিবোর্ডে অফিশিয়াল ইমোজি যুক্ত করার পর এটি বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে এই তালিকায় ৩,৯৫০টিরও বেশি প্রতীক রয়েছে এবং প্রতি বছরই নতুন নতুন নকশা যুক্ত হচ্ছে।

ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্যায়ের সঙ্গে মিল রেখে সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ তাদের ফুটবল প্রতীকে সাময়িকভাবে নতুন রূপ দিয়েছে।

২০২৬ সালের সবচেয়ে জনপ্রিয় নতুন প্রতীক হিসেবে ‘ডিসটর্টেড ফেস’-কে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে বরাবরের মতোই বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তালিকার শীর্ষে রয়েছে ‘আনন্দের কান্না’, ‘উচ্চস্বরে কান্না’ এবং ‘লাল হার্ট’।

জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ইমোজি নিয়ে কিছু সমালোচনা ও আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছে। শুরুর দিকে এগুলোতে বর্ণ ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ছিল না, যা ২০১৫ সালে ত্বকের রঙের পরিবর্তনের সুবিধা যুক্ত করে সমাধান করা হয়। তবে ইন্টারনেটে স্বয়ংক্রিয় ফিল্টার ফাঁকি দিয়ে বর্ণবাদ ও বিদ্বেষ ছড়াতে এই প্রতীকগুলোর অপব্যবহার এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এছাড়া, ইমোজি এখন আদালতের কাঠগড়ায়ও পৌঁছাল। সম্প্রতি ‘ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক ল জার্নাল’-এ প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এমন মামলার সংখ্যা বাড়ছে যেখানে বিচারকদের নির্ধারণ করতে হচ্ছে যে একটি ‘থাম্বস আপ’ ইমোজি কোনো আইনি চুক্তির স্বাক্ষর বা সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে কি না, কিংবা কোনো নির্দিষ্ট প্রতীক হেনস্তার আওতায় পড়ে কি না।

প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই দৃশ্যমান ডিজিটাল ভাষাটি আজ আমাদের প্রতিদিনের যোগাযোগকে করে তুলেছে আরও অর্থবহ। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

গুগলে ‘কুকুরেয়া’ লিখলেই হাজির কোঁকড়ানো চুলের বিড়াল!

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
গুগলে ‘কুকুরেয়া’ লিখলেই হাজির কোঁকড়ানো চুলের বিড়াল!
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে কেউ যদি গুগলে মার্ক কুকুরেয়া লিখে সার্চ করেন, তবে স্ক্রিনের নিচের কোঁকড়ানো চুলের একটি ছোট লোমশ বিড়ালের অ্যানিমেশন দেখতে পাবেন।

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার জন্য যখন স্পেন প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয়ে পরিণত হয়েছেন। গুগলের কাছ থেকে অনন্য এক সম্মাননা পাওয়া ফুটবলারদের তালিকায় সর্বশেষ নাম হিসেবে যুক্ত হলেন ২৭ বছর বয়সী মার্ক কুকুরেয়া।  

তবে তা শুধু মাঠে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্যই নয়, বরং ইন্টারনেট মিমের ওপর ভিত্তি করে গুগলের একটি ভাইরাল ইস্টার এগের কারণেও।

এই টুর্নামেন্টের অন্যতম জনপ্রিয় একটি মিমকে সম্মান জানিয়ে এই অ্যানিমেশনটি তৈরি করা হয়েছে। মিমটিতে কুকুরেয়ার বিখ্যাত লম্বা কোঁকড়ানো চুলের সঙ্গে পরচুলা পরা একটি লোমশ বিড়ালের তুলনা করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মিমটি ছড়াতে শুরু করে যখন ভক্তরা কুকুরেয়ার ট্রেডমার্ক হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে কোঁকড়ানো লোমের একটি বিড়ালের অদ্ভুত মিল খুঁজে পান। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে এটি একটি নিয়মিত চর্চার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই স্প্যানিশ লেফট-ব্যাক যখন প্রতিপক্ষের বড় বড় তারকাদের আটকে দিচ্ছিলেন, তখন তাকে বোঝাতে এই বিড়ালটির ছবি ব্যবহার করা হচ্ছিল।

টুর্নামেন্টে স্পেনের অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে এই মিমটিতে দেখা যায় যে কুকুরেয়া কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং লিওনেল মেসির মতো বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ডদের পাহারা দিচ্ছেন। মূলত অত্যন্ত রসাত্মক ভঙ্গিতে তার রক্ষণভাগের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উদযাপন করতেই এই মিমগুলো তৈরি করা হয়েছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

তামান্না রুপা/