ভারতের রাজধানীজুড়ে শিক্ষার্থীদের ও সংসদ বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদ, বিক্ষোভের মুখে প্রশ্নফাঁসের বিচারে ফাস্টট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার ফাস্টট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যত আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্টট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমাদের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এটি অব্যাহত রয়েছে। যারা আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) এনডিএ বৈঠকে মোদি প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে ‘ঘোর পাপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নফাঁসের বিচারে ফাস্টট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা পরপরই লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী কয়েক মিনিটের মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
এক্সে পোস্ট করে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি অভিযুক্ত করে লেখেন, ‘আপনিই আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন। আপনি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুরোপুরি দখল ও ধ্বংস করার সুযোগ ও উৎসাহ দিয়েছেন।’
রাহুল গান্ধী পুনরায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৩টি প্রধান দাবি তুলে ধরেন:
১. শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে।
২. শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, গত ১০ বছরে ১৫০টিরও বেশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও একটি ঘটনাতেও কাউকে সাজা দেওয়া হয়নি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে অনড় বিরোধীপক্ষ।
বর্তমানে এই ইস্যুতে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত। বিরোধী দলগুলো এবং সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক আন্দোলনকারী 'কাকরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছে। বিরোধীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া সংসদে কোনো আলোচনা হতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, সরকার পক্ষ জানিয়েছে তারা সংসদে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ বিতর্কে রাজি রয়েছে, তবে বিরোধীরা শর্ত দিয়ে আলোচনা আটকে রাখছে বলে পাল্টা অভিযোগ এনেছে শাসকদল। সূত্র: এনডিটিভি
খাদিজা রুমি/