গত সপ্তাহেও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খুচরা পর্যায়ে এক কেজি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। গতকাল তা ১০ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে যে কাঁচামরিচ, গতকাল (২৩ জুলাই) তা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। বৃষ্টিতে সরবরাহ কমার অজুহাতে খুচরা বিক্রেতারা কাঁচামরিচের মতো পেঁয়াজও বেশি দামে বিক্রি করছেন।
পাইকারি ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে নেই কোনো মনিটরিং ব্যবস্থা। এ সুযোগে অসাধু খুচরা বিক্রেতারা বেপরোয়া হয়ে গেছেন। বেশি দামে বিক্রি করছেন পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ। মাছের দামও চড়া। গত সপ্তাহ থেকে অধিকাংশ সবজির দাম একশ টাকা ছাড়িয়েছে, আর কমেনি। গতকাল ডিম, মুরগি, চালও বেশি দামে বিক্রি হয়। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
গত সপ্তাহ থেকেই সারা দেশে বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে পণ্য সরবরাহ কিছুটা কমায় দাম বেড়ে গেছে সবজি, পেঁয়াজ ও মাছের। পাইকারিতে তেমন না বাড়লেও খুচরায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি, পেঁয়াজ। গত দুই দিন ধরে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
এ ব্যাপারে রাজধানীর শ্যামবাজার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবদুল মাজেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘এবার অনেক বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। তাই দাম তেমন বাড়েনি। তবে বৃষ্টির কারণে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে গতকাল মানভেদে পাইকারি পর্যায়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। যা আগের দিন ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়।’ কিন্তু খুচরায় তা দাম বেড়ে ৬০ টাকায় ঠেকেছে। এমন প্রশ্নের ব্যাপারে এই পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কিছুটা সরবরাহ কমেছে। তাই বলে এত বেশি দামে কেন বিক্রি হচ্ছে এটা তারাই বলতে পারবে। বাজার মনিটরিং করলে ধরা পড়বে কেন খুচরা পর্যায়ে এত বেশি দাম।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউনহল বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘দুই দিন ধরে পেঁয়াজের বাজার চড়া। ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আগে এটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। তবে আগের মতোই আদার কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০, চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৬০, আলু ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারাও একই তথ্য জানান।
ধুন্দলও ১২০ টাকা কেজি
কয়েক দিনের মতো গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকালে বৃষ্টি হয়। তার মধ্যেও বাজারে বিভিন্ন সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত ছিল। দামের ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা মো. মেহেদীসহ অন্য বিক্রেতারা খবরের কাগজকে জানান, ‘বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হচ্ছে। সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এ জন্য দাম বেশি। কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে ১৪০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও তিন দিন ধরে কাঁচামরিচ ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্য সবজির দামও বেশি। পেঁপে ছাড়া প্রায় সব সবজিই ১০০ টাকার ওপরে। মো. খাইরুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বন্যায় সব জেলা তো ডোবেনি। ধুন্দুলের কেজি ১২০ টাকা কেন? ৮০ টাকায় না দিলে কিনব না। বৃষ্টির অজুহাতে সব কিছুর দাম চড়া। সরকারের উচিত এ বিষয়ে নজর দেওয়া।
বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, আগের সপ্তাহের মতো গতকালও বেগুনের কেজি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৬০ থেকে ৩০০, শসা ১২০ থেকে ১৬০, করলা ৮০ থেকে ১২০, পটোল ৮০ থেকে ১০০, কচুর লতি ১২০, গাজর ১০০ থেকে ১২০, টমেটো ১৬০, ঝিঙ্গা, ধুন্দল ১০০ থেকে ১২০, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ ও পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি মো. এমরান মাস্টার বলেন, ‘সারাদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে ঢাকায় সবজির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। এর বেশি নয়।’
মাছের দামও চড়া
বৃষ্টির কারণে গত সপ্তাহে দাম বেড়ে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হয়। এরপর আর দাম কমেনি। গতকালও বিভিন্ন বাজারে এই দামে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি বিক্রি হয়, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। ডিমের দামও কমেনি। গত সপ্তাহের মতো তা ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হয়।
বৃষ্টির অজুহাতে মাছের দামও চড়ে গেছে। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে গতকালও তেলাপিয়া মাছ আকারভেদে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। রুই, কাতল মাছও ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। হাতিরপুল বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. লালু মিয়া বলেন, ‘দাম বেড়ে গেছে। পাঙাশের কেজিও ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।