ঢাকা ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
গোপালগঞ্জে দুটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩ রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক কিংবা অরাজনৈতিক—উভয়ই হতে পারেন: ডা. নিলুফার মনি রহস্যের অবসান, প্রকাশ পেল সৌদি যুবরাজের মৃত্যুর কারণ মতিঝিলে বোমাসদৃশ বস্তু ঘিরে চাঞ্চল্য, দুটি নিষ্ক্রিয় অর্থনীতি পুনর্গঠন ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল চট্টগ্রামে ১৫৫ কেজির বিশাল কোরাল বিক্রি হবে শনিবার সিলেটে উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হলো উল্টো রথযাত্রা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় সিজেপি বাকস্বাধীনতা সুরক্ষা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: মাহদী আমিন উল্টো রথটানের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে ধামরাইয়ের রথযাত্রা অপির ছোঁয়ায় ওল্ড ঢাকা ক্রিকেট একাডেমি সব মানুষের জন্য নাজিল হওয়া সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে স্পীকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ টন ভারতীয় জিরা উদ্ধার আবারও টিকটকার প্রিন্স মামুন কারাগারে জামালপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: ভূমিমন্ত্রী হামের প্রকোপ অব্যাহত, একদিনে মৃত্যু ৫ ‘মেয়েটিই এমপি গাজী নজরুলের সেবা করতে চেয়েছিল’ দাউদকান্দিতে ৭০ হাজার ইয়াবাসহ চালক গ্রেপ্তার দেশের নাম ভিয়েতনাম স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কুয়েতের মার্কিন একাধিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা পদত্যাগের পরও যেসব রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন রাষ্ট্রপতি পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ জোরদারে ‘তৃতীয় মেরু’র পারদ তথ্য-উপাত্ত  প্রকাশ চীনা বিজ্ঞানীদের ৬৪তম ফার্মেসি সার্টিফিকেট কোর্সের উদ্বোধন ও বই বিতরণ মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ সদস্য দেখলেন, নিহত শিশু তারই ছেলে বরগুনা হাসপাতালের নারী চিকিৎসককে হেনস্তা, তত্ত্বাবধায়ক বরখাস্ত বোয়ালমারীতে আঙুর চাষে বাজিমাত বাবর শেখের রাজবাড়ী কারাগারে হাজতির মৃত্যু

এনআরবিসি ব্যাংকের ঋণমান ‘এ প্লাস’

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
এনআরবিসি ব্যাংকের ঋণমান ‘এ প্লাস’
ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘ মেয়াদে ‘‌এ প্লাস’ ও স্বল্প মেয়াদে ‘‌এসটি-৩’।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সায়।

২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে এনআরবিসি ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৫৫ পয়সায়।

২০২৩ সমাপ্ত হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে এনআরবিসি ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৩৩ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৫৮ পয়সায়।

২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের সাড়ে ৪ শতাংশ স্টক ও সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে এনআরবিসি ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৮৫ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৭৩ পয়সায়।

২০২১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এনআরবিসি ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৮২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫৪২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩৪। এর ৫৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ রয়েছে

উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ৮১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

স্বর্ণের দামে বড় পতন, কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে আজ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
স্বর্ণের দামে বড় পতন, কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে আজ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। এবার ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমেছে। এতে করে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন দুই লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।

এর আগে, গত ২২ জুলাই স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে দুই হাজার ৭৪১ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল দুই লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।

স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসজি/

বৃষ্টির অজুহাতে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরাও বেপরোয়া, কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকা

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২০ এএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ এএম
বৃষ্টির অজুহাতে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরাও বেপরোয়া, কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকা
ছবি: সংগৃহীত

গত সপ্তাহেও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খুচরা পর্যায়ে এক কেজি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। গতকাল তা ১০ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে যে কাঁচামরিচ, গতকাল (২৩ জুলাই) তা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। বৃষ্টিতে সরবরাহ কমার অজুহাতে খুচরা বিক্রেতারা কাঁচামরিচের মতো পেঁয়াজও বেশি দামে বিক্রি করছেন।

পাইকারি ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে নেই কোনো মনিটরিং ব্যবস্থা। এ সুযোগে অসাধু খুচরা বিক্রেতারা বেপরোয়া হয়ে গেছেন। বেশি দামে বিক্রি করছেন পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ। মাছের দামও চড়া। গত সপ্তাহ থেকে অধিকাংশ সবজির দাম একশ টাকা ছাড়িয়েছে, আর কমেনি। গতকাল ডিম, মুরগি, চালও বেশি দামে বিক্রি হয়। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গত সপ্তাহ থেকেই সারা দেশে বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে পণ্য সরবরাহ কিছুটা কমায় দাম বেড়ে গেছে সবজি, পেঁয়াজ ও মাছের। পাইকারিতে তেমন না বাড়লেও খুচরায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি, পেঁয়াজ। গত দুই দিন ধরে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। 

এ ব্যাপারে রাজধানীর শ্যামবাজার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবদুল মাজেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘এবার অনেক বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। তাই দাম তেমন বাড়েনি। তবে বৃষ্টির কারণে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে গতকাল মানভেদে পাইকারি পর্যায়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। যা আগের দিন ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়।’ কিন্তু খুচরায় তা দাম বেড়ে ৬০ টাকায় ঠেকেছে। এমন প্রশ্নের ব্যাপারে এই পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কিছুটা সরবরাহ কমেছে। তাই বলে এত বেশি দামে কেন বিক্রি হচ্ছে এটা তারাই বলতে পারবে। বাজার মনিটরিং করলে ধরা পড়বে কেন খুচরা পর্যায়ে এত বেশি দাম।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউনহল বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘দুই দিন ধরে পেঁয়াজের বাজার চড়া। ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আগে এটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। তবে আগের মতোই আদার কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০, চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৬০, আলু ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারাও একই তথ্য জানান। 

ধুন্দলও ১২০ টাকা কেজি 

কয়েক দিনের মতো গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকালে বৃষ্টি হয়। তার মধ্যেও বাজারে বিভিন্ন সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত ছিল। দামের ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা মো. মেহেদীসহ অন্য বিক্রেতারা খবরের কাগজকে জানান, ‘বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হচ্ছে। সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এ জন্য দাম বেশি। কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে ১৪০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও তিন দিন ধরে কাঁচামরিচ ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্য সবজির দামও বেশি। পেঁপে ছাড়া প্রায় সব সবজিই ১০০ টাকার ওপরে। মো. খাইরুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বন্যায় সব জেলা তো ডোবেনি। ধুন্দুলের কেজি ১২০ টাকা কেন? ৮০ টাকায় না দিলে কিনব না। বৃষ্টির অজুহাতে সব কিছুর দাম চড়া। সরকারের উচিত এ বিষয়ে নজর দেওয়া।  

বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, আগের সপ্তাহের মতো গতকালও বেগুনের কেজি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৬০ থেকে ৩০০, শসা ১২০ থেকে ১৬০, করলা ৮০ থেকে ১২০, পটোল ৮০ থেকে ১০০, কচুর লতি ১২০, গাজর ১০০ থেকে ১২০, টমেটো ১৬০, ঝিঙ্গা, ধুন্দল ১০০ থেকে ১২০, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ ও পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি মো. এমরান মাস্টার বলেন, ‘সারাদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে ঢাকায় সবজির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। এর বেশি নয়।’ 

মাছের দামও চড়া  

বৃষ্টির কারণে গত সপ্তাহে দাম বেড়ে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হয়। এরপর আর দাম কমেনি। গতকালও বিভিন্ন বাজারে এই দামে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি বিক্রি হয়, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। ডিমের দামও কমেনি। গত সপ্তাহের মতো তা ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হয়। 

বৃষ্টির অজুহাতে মাছের দামও চড়ে গেছে। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে গতকালও তেলাপিয়া মাছ আকারভেদে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। রুই, কাতল মাছও ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। হাতিরপুল বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. লালু মিয়া বলেন, ‘দাম বেড়ে গেছে। পাঙাশের কেজিও ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ এএম
ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবা খাতকে সহায়তা করার লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সমন্বিত করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি-১) এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) এবং অন্যান্য অনলাইন পেশাগত সেবার মতো অদৃশ্য (নন-ফিজিক্যাল) সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্য রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত ইএক্সপি ফরম জমা দিতে হবে না। তবে এসব সেবা থেকে অর্জিত রপ্তানি আয় দেশে আনা, তা দেশে ফেরত পাঠানো (রিপ্যাট্রিয়েশন) এবং রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশি ক্রেতার কাছে সেবা দেওয়ার পর অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত চালান বা শিপিং ডকুমেন্ট না থাকলেও ইমেইল, অনলাইন চুক্তিপত্র, প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ডিজিটাল ইনভয়েস, রেমিট্যান্স বার্তাসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে ব্যাংক গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা করতে পারবে। একই সঙ্গে যোগ্য ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটার (ইআরকিউ) হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার অনুমোদিত অংশ সংরক্ষণের সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থ পর্যন্ত রেমিট্যান্স গ্রহণের ক্ষেত্রে ফর্ম-সি জমা দিতে হবে না। তবে এর বেশি অর্থ এলে নির্ধারিত নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন ফর্ম-সি (আইসিটি) জমা দিতে হবে, যদি না বিদ্যমান অন্য কোনো নির্দেশনায় ছাড় দেওয়া থাকে।

সার্কুলারে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি) ব্যবহার করে ক্ষুদ্র অঙ্কের সেবা রপ্তানি আয় দেশে আনার সুযোগও বহাল রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে কোনো ন্যাশনাল হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখা যাবে না; সব অর্থ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

এ ছাড়া যোগ্য ফ্রিল্যান্সারদের জন্য দ্বৈত মুদ্রাভিত্তিক ফ্রিল্যান্সার কার্ড ইস্যু, বিদেশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের সঙ্গে সমন্বয়ে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) মাধ্যমে রপ্তানি আয় দেশে আনা এবং ডিজিটাল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার, ডেটা প্রসেসিংসহ আইসিটি খাতের সেবা রপ্তানিকারকেরা তাদের নিট রপ্তানি আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রায় ইআরকিউ হিসাবে রাখতে পারবেন। অন্যান্য বৈধ সেবা রপ্তানিকারকের ক্ষেত্রে এই সীমা ৩০ শতাংশ। অবশিষ্ট অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে টাকায় রূপান্তর করে স্থানীয় হিসাবে জমা দিতে হবে। ইআরকিউ হিসাবের অর্থ বিদেশ ভ্রমণ, সফটওয়্যার নিবন্ধন, ডোমেইন ও হোস্টিং ফি, সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রপাতি আমদানি এবং বৈধ ব্যক্তিগত ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা যাবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী কর কর্তন ও পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সব লেনদেনে কেওয়াইসি, এএমএল/সিএফটি এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। সেবা রপ্তানির অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে আনতে হবে এবং অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে বিদেশে ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বা ভার্চুয়াল সম্পদের মাধ্যমে রপ্তানি আয় রেখে দেওয়া বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই নির্দেশনা ডিজিটাল বাণিজ্য ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার ফলে বৈদেশিক আয় আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে দেশে আনার প্রবণতা বাড়বে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও শক্তিশালী হবে।

ব্যবসায়িক মহলের মতে, এ উদ্যোগ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বৈদেশিক লেনদেন সহজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সেবা রপ্তানিকে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সূত্র: ইউএনবি

অমিয়/

সাউথইস্ট ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়েছে ৬৪ শতাংশ

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
সাউথইস্ট ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়েছে ৬৪ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) নিট মুনাফা ৬৪ শতাংশ বেড়েছে।

আলোচ্য প্রান্তিকে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৩৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। গত মঙ্গলবার ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ১৬ পয়সায়।

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংকের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৭৪ পয়সায়।

২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি সাউথইস্ট ব্যাংকের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৩২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৬০ পয়সা (পুণর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৫৯ পয়সায়।

২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংকের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৬৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৩৬ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৯২ পয়সায়।

২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৪৪ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৮৭ পয়সায়।

সাউথইস্ট ব্যাংকের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘ মেয়াদে ‘এএ’ এবং স্বল্প মেয়াদে ‘এসটি-২’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।

২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথইস্ট ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৪৩১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৮১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ারসংখ্যা ১৪৩ কোটি ১০ লাখ ১৪ হাজার ১৩৫। এর ৩১ দশমিক ২৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ১ দশমিক ২২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ডিজিটাল লেনদেনে দক্ষতা দেখাচ্ছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
ডিজিটাল লেনদেনে দক্ষতা দেখাচ্ছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশের অর্থনীতির বেশির ভাগ এখনো নগদ টাকার ওপর নির্ভরশীল। ফলে সময়, ব্যয় ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির চাপ বহন করতে হয় সাধারণ মানুষকে। এই বাস্তবতা বদলে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক চালু করেছে সর্বজনীন ও আন্তব্যাংক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’।

এই জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য বাংলা কিউআরভিত্তিক একাধিক ডিজিটাল সেবা চালু করেছে। শুধু ডিজিটাল পেমেন্ট চালু নয়, বরং নিরাপদ, স্বচ্ছ, শরিয়াহ্‌সম্মত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই ব্যাংকের লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এক দেশ, এক কিউআর’ উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল পেমেন্টব্যবস্থাকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে। আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের ইলমনেট, ডিজিটাল দানবাক্স, ডিজিটাল হাদিয়া এবং দেশব্যাপী এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজেই অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। ব্যবসায়ীদের আর একাধিক কিউআর ব্যবহার করতে হয় না, গ্রাহকরাও তাদের পছন্দের ব্যাংক বা ডিজিটাল ওয়ালেট থেকেই নির্বিঘ্নে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন।

এই উদ্যোগের অন্যতম সংযোজন ‘ইলমনেট’। এটি একটি ডায়নামিক বাংলা কিউআরভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম। দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলোতে এখনো বেতন সংগ্রহ নগদ টাকানির্ভর। ইলমনেটের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য পৃথক বাংলা কিউআর তৈরি হয়। অভিভাবক যেকোনো স্থান থেকে কিউআর স্ক্যান করে বেতন ও অন্যান্য ফি পরিশোধ করতে পারেন। অর্থ সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা হয় এবং পুরো লেনদেন ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়। সম্প্রতি ভূঁইগড় দারুচ্ছুন্নাত ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার সঙ্গে ইলমনেটের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

শুধু শিক্ষা নয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অনুদান ব্যবস্থাপনাকেও ডিজিটাল করছে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক। ডিজিটাল দান বাক্স সেবার মাধ্যমে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে দেশ-বিদেশের যেকোনো স্থান থেকে মুহূর্তেই অনুদান পাঠানো যায়। প্রতিটি লেনদেন ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। একইভাবে ইমাম, খতিব, হাফেজ এবং ওয়াজ মাহফিলের বক্তাদের হাদিয়া ও সম্মানীও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংকটি। ফলে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন কমবে এবং লেনদেন হবে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও স্বচ্ছ।

প্রান্তিক মানুষের কাছে এই সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক। এজেন্ট পয়েন্টগুলো শুধু টাকা জমা ও উত্তোলনের কেন্দ্র নয়; বাংলা কিউআরভিত্তিক মার্চেন্ট নিবন্ধন, গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে হাটবাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মুদি দোকান, ওষুধের দোকান এবং স্থানীয় নারী উদ্যোক্তারাও সহজেই ডিজিটাল পেমেন্টব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।

শরিয়াহ্‌ভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি শরিয়াহ্‌ নীতির প্রতিও সমান গুরুত্ব দেয়। শিক্ষা, অনুদান, হাদিয়া ও ক্ষুদ্র ব্যবসা–সব ক্ষেত্রেই বাংলা কিউআরভিত্তিক সেবাগুলো নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং শরিয়াহ্‌সম্মত লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ স্মার্ট অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই যাত্রায় বাংলা কিউআর কেবল একটি পেমেন্ট প্রযুক্তি নয়, এটি একটি নতুন আর্থিক সংস্কৃতির ভিত্তি। শিগগিরই মাদ্রাসার বেতন পরিশোধ হবে একটি কিউআর স্ক্যানেই, মসজিদের অনুদান পৌঁছে যাবে মুহূর্তে, হাদিয়া হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং হাট-বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে সহজেই মূল্য গ্রহণ করবেন। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও শরিয়াহ্‌সম্মত একটি ক্যাশলেস অর্থনীতি। সেই অভিযাত্রার অন্যতম অগ্রযাত্রার অংশীদার হতে চায় আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।