ঢাকা ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কক্সবাজারে ইয়াবাসহ আটক ৩ গাংনীতে এনসিপির সমাবেশস্থলের পাশ থেকে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার ঢামেক চত্বরে ২ ভবঘুরে নারীর মৃত্যু আইন করে মৃত্যু নিষিদ্ধ! পৃথিবীর অদ্ভুত এক ‘মৃত্যুহীন’ গ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত শেয়ারবাজার কারসাজিতে সাকিবসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন ২৩ সেপ্টেম্বর কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ল ফ্রান্স-স্পেনে দাবানল: বাস্তুচ্যুত ৩ লাখ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃহত্তম স্থানান্তর রাবিতে প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় জুনিয়রকে হুমকি মাটিরাঙ্গায় বিজিবি-চোরাকারবারীদের গোলাগুলি, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক? কী কী ক্ষতি হতে পারে আপনার? আজাদ কাশ্মীরে বিতর্কিত ১২ কেন্দ্রে নির্বাচন শুরু জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নে উচ্চপর্যায়ের সভা ব্রাজিলে কারাগার পাহারা দেয় রাজহাঁস! চাঁদপুরে সংস্কারের মধ্যেই সেচ প্রকল্পের বাঁধে ধস বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে চাকরির সুযোগ, পদ ৬ শতাধিক রোমানিয়ার আকাশে অনুপ্রবেশকারী ড্রোন ভূপাতিত যারা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দল বলে, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে: মির্জা ফখরুল ধামরাইয়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও সাধারণ মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের পার্থক্য বুঝবেন যেভাবে কমলার খোসা তত্ত্ব: সঙ্গীর ভালোবাসার সহজ পরীক্ষা কমিউনিটি ব্যাংকে এ-চালান বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষার মডেল টেস্ট : বাংলা বিষয়ের ২টি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল তিস্তা ভাঙন রোধে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাও, জিওব্যাগ ফেলার দাবি জঙ্গল সলিমপুরে পানি পান করে হাসপাতালে ৩ পুলিশ সদস্য চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের বিক্ষোভ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ‘নয়াবাজার শাখা’ নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর ফটিকছড়িতে হরতালবিরোধী মিছিল ও আনন্দ শোভাযাত্রা বড়াইগ্রামে বান্ধবীর বাড়িতে চীনা নাগরিক, স্ত্রী উপস্থিত হতেই পলায়ন!

যানজটে নাকাল ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের বাসিন্দারা

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
যানজটে নাকাল ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের বাসিন্দারা
যানজটের এমন দৃশ্য ময়মনসিংহ নগরীর নিত্যদিনের চিত্র। ছবিটি সম্প্রতি শহরের ছোট বাজার এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সরণি সড়ক থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

সাইরেন বাজছে। জীবন বাঁচানোর তাগিদে ছুটতে চাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি দাঁড়িয়ে আছে স্থির হয়ে। ভেতরে একজন রোগী, বাইরে উদ্বিগ্ন স্বজন। সামনে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। রেলগেট বন্ধ। রাস্তার এক পাশে সারি সারি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অন্য পাশে ফুটপাত দখল করে দোকান। মাঝখানে আটকে আছে পুরো শহর। এটি কোনো নাটকের দৃশ্য নয়, ময়মনসিংহ নগরীর প্রতিদিনের সকালের চিত্র।

একসময়ে শান্ত, স্বস্তির শহর হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহ আজ পরিচিত অন্য এক নামে–যানজটের শহর। ২০১৫ সালে বিভাগীয় শহরের মর্যাদা পাওয়ার পর প্রশাসনিক, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে শহরটির গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে মানুষের চাপ। কিন্তু নগর পরিকল্পনা যেন সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে প্রতিদিন হাজারও মানুষ আটকে যাচ্ছেন একই যন্ত্রণার চক্রে।

যানবাহনের স্রোত, কিন্তু রাস্তা সেই পুরোনো

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন হওয়ার পর নগরীর আয়তন বেড়েছে, জনসংখ্যা বেড়েছে, নতুন নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। কিন্তু শহরের অধিকাংশ সড়ক আজও বহু বছর আগের মতোই সরু। সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, নগরীতে নিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রায় ছয় হাজার। রয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মিশুক এবং প্রায় ৫ হাজার ৪০০ চিকন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন অর্ধেক অটোরিকশা চলার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রায় সবই রাস্তায় নামে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য অনুমোদনহীন যানবাহন।

ফলে যে সড়ক কয়েক হাজার যানবাহনের জন্য তৈরি হয়েছিল, সেখানে এখন চলাচল করছে কয়েক গুণ বেশি যান। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের এক গবেষণায় বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার পর নবম স্থানে উঠে আসে ময়মনসিংহ। এই অবস্থান শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি নগরবাসীর প্রতিদিনের বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।

১০টি রেলক্রসিং, দিনে ৪৮ বার থেমে যায় শহর

ময়মনসিংহের যানজটের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি শহরের ভেতরের রেলক্রসিং। সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ২৪টি ট্রেন চলাচল করে। প্রতিটি ট্রেন পার হওয়ার সময় রেলগেট বন্ধ হয়। অর্থাৎ দিনে প্রায় ৪৮ বার থেমে যায় সড়ক যোগাযোগ। মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য গেট বন্ধ থাকলেও সেই প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত। ট্রেন চলে যাওয়ার পরও অনেক সময় লেগে যায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে।

পাটগুদাম মোড়: যেখানে এসে থেমে যায় গতি

পাটগুদাম ব্রিজ মোড় যেন ময়মনসিংহের যানজটের প্রতীক। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে। একই জায়গায় রয়েছে আন্তজেলা বাস টার্মিনাল, সিএনজি স্ট্যান্ড এবং স্থানীয় যানবাহনের চাপ। সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে অটোরিকশা। ফলে সামান্য চাপেই পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে।

ফুটপাত আছে, পথচারীর জায়গা নেই

নগরীর অধিকাংশ ফুটপাত এখন আর পথচারীদের নয়। কোথাও দোকান, কোথাও হকার, কোথাও মোটরসাইকেলের পার্কিং। বাধ্য হয়ে মানুষ নেমে আসছেন মূল সড়কে। এতে যানবাহনের গতি আরও কমে যাচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

প্রতিদিনের দুর্ভোগের মানচিত্র

স্টেশন রোড, গাঙ্গিনার পাড়, সি কে ঘোষ রোড, চরপাড়া, পাটগুদাম ব্রিজ, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড়, সানকিপাড়া ও কেওয়াটখালী বাইপাস–এসব এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময়ই যানজট স্থায়ী চিত্র। অফিস শুরু ও ছুটির সময়, স্কুল-কলেজ খোলা ও বন্ধের সময় কিংবা ট্রেন চলাচলের সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

যানজট শুধু ভোগান্তি নয়, অর্থনীতিরও ক্ষতি

শহরের বাসিন্দারা জানান, যানজট এখন শুধু সময় নষ্ট করছে না। প্রতিদিন অপচয় হচ্ছে কর্মঘণ্টা, জ্বালানি ও অর্থ। শিক্ষার্থীরা সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারছে না, রোগীরা সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না, ব্যবসায়ীদের বাড়ছে পরিবহন ব্যয়। নগরীর ভাটিকাশর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, জনপ্রতিনিধি বদলেছে, প্রশাসনের নেতৃত্ব বদলেছে, নানা পরিকল্পনার ঘোষণাও এসেছে; কিন্তু আজও যানজটের সমাধান হয়নি। চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, যানজট এখন কেবল মানুষের সময় নষ্ট করছে না; এটি অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত করছে, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে এবং নগরবাসীর জীবনকে প্রতিদিন আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।

স্থানীয় সংগঠন নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব সামসুদ্দোহা মাসুম বলেন, প্রতিদিন মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে। এতে সময়, জ্বালানি ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। প্রশাসনের সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

ময়মনসিংহ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) আবু নাসের মোহাম্মদ জহির বলেন, গত চার দশকে শহরের একটি সড়কও প্রশস্ত হয়নি। অথচ যানবাহনের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। রাস্তা সম্প্রসারণ, অবৈধ যান নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং রেলক্রসিং স্থানান্তর ছাড়া স্থায়ী সমাধান মিলবে না।

সিটি করপোরেশনের বক্তব্য

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ বলেন, পুরোনো শহরের সড়ক সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত। তবে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগও আশা করছে, নির্মাণাধীন কেওয়াটখালী আর্চ স্টিল সেতু চালু হলে পাটগুদাম ব্রিজের ওপর চাপ কমবে এবং নগরীর যান চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরীফুল আলম জানান, ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কেওয়াটখালী আর্চ স্টিল সেতুর কাজ শেষ হলে পাটগুদাম ব্রিজের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে নগরীর অন্যতম প্রধান যানজটের কেন্দ্র পাটগুদাম মোড় অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।

যানজট সমস্যাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন উল্লেখ করে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, যানজট এক দিনে সমাধানযোগ্য নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করা হবে।

কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডে অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদনের স্তূপ

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১ এএম
কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডে অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদনের স্তূপ
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

পাওনা টাকা পেতে এমপিওভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদনের পাহাড় জমা পড়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধা বোর্ডে। বিপুলসংখ্যক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখন প্রতিষ্ঠান দুটি সমস্যা সমাধান করতে হিমশিম খাচ্ছে। লক্ষাধিক আবেদনের মধ্য থেকে আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে ২০ হাজার জনের পাওনা পরিশোধ করা হবে। আবেদনকারীদের অনেকেরই অবসরের পর চার থেকে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। পুরো পাওনা পরিশোধের জন্য এখন প্রয়োজন ১১ হাজার কোটি টাকা। 

২০১৫ সালে পে-স্কেল ঘোষণার পর গত ১১ বছরে কল্যাণ ট্রাস্টে আবেদনের জট বেড়েছে ৩০৯ শতাংশ। অবসর সুবিধা বোর্ডে এই হার ১৭৯ শতাংশেরও বেশি। সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
খুঁড়িয়ে চলছে কল্যাণ ট্রাস্ট্র

২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত শুধু কল্যাণ ট্রাস্টে জমা পড়া আবেদনের সংখ্যা ৪৫ হাজার, যা নিষ্পত্তি করতে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রয়োজন। কর্মকর্তারা জানান, ট্রাস্টের বার্ষিক আয় প্রায় ৬৮৪ কোটি টাকা, কিন্তু প্রতিবছর অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা দিতে প্রয়োজন হয় প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রতিবছর এখানে প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

১১ বছরে (২০১৫ থেকে ২০২৬) শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে পেনশনের অপেক্ষমাণ আবেদন ৩০৯.০৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫ সালে আবেদন ঝুলে ছিল ১১ হাজার। ২০২৬ সালে সেটি ৪৫ হাজারে ঠেকেছে। ১১ বছরে কল্যাণ ট্রাস্টে আবেদনের জট চার গুণেরও বেশি হয়েছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৯১টি করে নতুন অনিষ্পন্ন আবেদন তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

২০১৫ সালের শুরুতে কল্যাণ ট্রাস্টে বার্ষিক বড় কোনো আর্থিক ঘাটতি ছিল না। টাকা পেতে সময় লাগত ৮ থেকে ১২ মাস। এখন টাকা পেতে অন্তত ৩ থেকে ৪ বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ২০১৫ সালের শেষভাগে জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার পর শিক্ষকদের মূল বেতন একলাফে ১০০ শতাংশ বাড়ে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ সুবিধার আর্থিক দাবি দ্বিগুণ হয়ে যায়। সেই তুলনায় নিজস্ব আয় না বাড়ায় ২০১৫ সালের শেষভাগ থেকেই ট্রাস্টে ঘাটতি হওয়া শুরু হয়। এ বছর সরকার নতুন করে পে-স্কেল ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

অবসর বোর্ডের অবস্থা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে ২০১৫ সালে অপেক্ষমাণ আবেদন ছিল ২৪ হাজার। ২০১৭ সালে জট বেড়ে ৩৯ হাজার ৮৩৩ হয়। বর্তমানে (২০২৬ সালে) তা ৬৭ হাজার পার হয়েছে। মাত্র ১১ বছরে আবেদনের জট না কমে উল্টো ১৭৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৯১০টি করে নতুন অনিষ্পন্ন আবেদন তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। 

অবসর বোর্ড জানায়, প্রতি মাসের শিক্ষকদের বেতন থেকে ৬ শতাংশ টাকা কেটে রাখা হয়। মাসে এ খাত থেকে ৭৫ কোটি টাকা আসে। শিক্ষার্থীদের থেকে ভর্তি ফির সঙ্গে বছরে ১০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তরগুলোতে জমা হবে। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে এই অর্থ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য বলছে, দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ২০২৩ সাল থেকে প্রতিবছর ভর্তি ফির সঙ্গে শিক্ষকদের জন্য ১০০ টাকা জমা দিচ্ছে তারা। এতে বছরে শিক্ষকদের তহবিলে ২০০ কোটি টাকা জমা পড়ার কথা রয়েছে। অবসর বোর্ড জানায়, বিপুল অঙ্কের টাকার পরিবর্তে এ পর্যন্ত সর্বমোট মাত্র ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এই টাকা অবসর বোর্ডকে সরবরাহ করেছে। এখনো মাউশিতে ২৫ কোটি টাকা জমা আছে। মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডেও কিছু অর্থ জমা আছে। সম্প্রতি অবসর সুবিধা বোর্ড আন্তশিক্ষা বোর্ডকে সব বোর্ডের দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করেছে। 

অবসর বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পারসোনাল লেজার হিসাবের স্থিতি রয়েছে ১ হাজার ৩১৯ কোটি ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা। চলতি তহবিলে আছে ২৮১ কোটি ১৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বোর্ডের হাতে ১ হাজার ৬০০ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার টাকা রয়েছে। বোর্ডের আশা, এই অর্থ দিয়ে তারা আগস্ট মাসে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষকের অবসর সুবিধার টাকা দিতে পারবে।

মধ্য আগস্টের পর ২০ হাজার শিক্ষক টাকা পাচ্ছেন

চলতি বছরের মধ্য আগস্টের পর ১০ হাজার কল্যাণ ট্রাস্টের ও ১০ হাজার অবসর বোর্ডের শিক্ষক আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকদের অর্থ দেবেন। দুই দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আবেদনকারীদের কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু মোবাইল নম্বর জটিলতা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে সমস্যার কারণে অন্তত ৫ হাজার শিক্ষক এবার টাকা নাও পেতে পারেন। এ জন্য কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের দালাল না ধরে যথাযথ স্থানে খোঁজখবর নেওয়ার অনুরোধ করেছে।

এখনো অচলাবস্থা

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অবসর বোর্ডের সফটওয়্যারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তখন ভেঙে দেওয়া হয় পর্ষদও। যে কারণে নতুন করে কোনো আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়নি অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১৮ মে পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। কিন্তু সফটওয়্যার না থাকায় খাতা-কলমে কাজ করতে হচ্ছে বোর্ডের কর্মকর্তাদের।

অবসর বোর্ডের সচিব মো. মোশাররফ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, বুয়েট ও এমএসটিআই এবং এসএসএল যৌথভাবে সফটওয়্যার তৈরির কাজ করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক প্রকল্প ঝুঁকিতে

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৩ এএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক প্রকল্প  ঝুঁকিতে
ছবি: সংগৃহীত

ভুল নকশা ও ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় চার দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের। ৯ বছর ধরে ঢিমেতালে চলা ঠিকাদারি কার্যক্রমে ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কের নির্মাণকাজ আদৌ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় উঠেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে (সওজ)। 

২০১৮ সালে শুরু হওয়া সেই সড়ক প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৭৮ শতাংশ; আর্থিক অগ্রগতি ৬৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত আট বছরে নানা অনিয়মে এই প্রকল্পে ৪৯ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে সওজ ও পরিবহন অডিটের প্রতিবেদনে।

চারবার মেয়াদ বৃদ্ধির নেপথ্যে যেসব কারণ

দুই দফায় সম্ভাব্যতা যাচাই নিরীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন হলেও কাজ শুরুর পর একের পর এক অসংগতি ধরা পড়ে। এমন কাণ্ডে কখনো জমি অধিগ্রহণ, প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন, বিভিন্ন প্যাকেজে ঠিকাদারদের বিল দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডির ভুল প্রতিবেদনের পরে প্রণীত নকশায়ও গলদ দেখা দিচ্ছে প্রতিদিন। এভাবে আট বছর ধরে ধুঁকছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি।

এ প্রকল্পটির মেয়াদ চারবার বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ বর্ধিত এই মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল উন্নয়ন প্রস্তাবে ডিপিপিতে এর প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৪২১ কোটি টাকা, যা সংশোধিত হয়ে ৬০৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ৮৬ দশমিক ৩৮২৩ একর ভূমির বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৭ দশমিক ৫৯৭ একর (প্রায় ২০ শতাংশ) জমি অধিগ্রহণ করেছে সওজ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৯ বছরে ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতায় দায়ের হওয়া সাতটি মামলার মধ্যে মাত্র দুটি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক অনুমোদন, ভূমি অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো, নোটিশ জারি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বারবার কালক্ষেপণ করেছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা। এসব কারণে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ব্যয় ৬০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৯৬ কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

ত্রুটিপূর্ণ সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন দেওয়ায় ‘সয়েল অ্যান্ড ফাউন্ডেশন ইঞ্জিনিয়ার্স কনসাল্টিং ফার্ম’ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছে সওজ। তবে এই মামলার অগ্রগতি নেই বলে খবরের কাগজকে জানান ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন যাচাই না করে প্রকল্প প্রণয়নের দায়ে সওজের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছিল। কিন্তু দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে সওজের কর্মকর্তারা একটি সম্ভাব্যতা যাচাই করলেও সেটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। পরে তৃতীয় আরেকটি পক্ষের মাধ্যমে আইএমইডি সেই নিরীক্ষা করতে বলে। তবে সেই নির্দেশ মানেনি সওজ। 

প্রকল্পে ৪৯ কোটি টাকার অনিয়ম

ইউটিলিটি শিফটিংয়ের জন্য প্রদান করা অগ্রিম বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করায় ৩ কোটি ৭২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫১ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনে এই অনিয়মটি চিহ্নিত করা হয়েছে। সওজের অভ্যন্তরীণ অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন (জেড-২০৩১) প্রকল্পের আওতায় বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তর ও অপসারণের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির চাহিদার বিপরীতে অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু এ সময় প্রযোজ্য ভ্যাট ও আয়কর কর্তন করা হয়নি।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের পরিবহন অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি প্রকল্পে উপযুক্ত মাটিকে অনুপযুক্ত হিসেবে দেখিয়ে প্রাক্কলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চুক্তি সম্পাদন করায় সরকারের মোট ১২ লাখ ৬১ হাজার ৪০৪ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
আরেকটি গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে ৪৯ কোটি ৯ লাখ ৮১ হাজার ৪২৭ দশমিক ৪২৭ টাকা মূল্যের একটি কার্যাদেশ সম্পাদনের ক্ষেত্রে। অডিট অনুযায়ী, যথাযথ ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) ও ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না করেই এই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল।

একটি দরপত্রের আওতায় ৫৪০ দিন সময় দিয়ে চুক্তিটি সম্পাদন করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত ধীরগতিতে কাজটি চালিয়েছে। প্রকল্পের বিশাল বাজেটের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১ কোটি ৫ লাখ ৩৬ দশমিক ৪৬ টাকার কাজ সম্পন্ন করেই বাকি কাজ বন্ধ করে দেয়। মাঠপর্যায়ে কাজ করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদার কাজটির সিংহভাগ ফেলে রেখেছেন এবং কাজ সম্পাদনের জন্য অতিরিক্ত সময়ের কোনো আবেদনও করেননি।

ঠিকাদারকে তার সম্পাদিত কাজের বিপরীতে ১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। ঠিকাদার যথাসময়ে কাজ সম্পাদন না করা এবং পুনরায় সময় বাড়ানোর আবেদন না করায় বিধি মোতাবেক তার চুক্তি বাতিল করা হয়। 

প্রকল্পে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। হিসাব করার সময় রডের আয়তনটুকু কনক্রিট থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। এতে কনক্রিটের পরিমাণ বেশি দেখানো হয়েছে এবং ঠিকাদারকে বাড়তি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এতে সরকারি কোষাগার থেকে ৫৪ লাখ ১ হাজার ৬৪৮ টাকা বেশি খরচ হয়েছে। 

ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে কিছু জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। সেখানে একটু জটিলতা আছে। আমরা চেষ্টা করছি, সব কাজ দ্রুত শেষ করতে।’ 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ইসির তফসিল

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ইসির তফসিল
নির্বাচন কমিশন (ইসি)

২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সাংবিধানিক প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত শুক্রবার পদত্যাগ করেছে। সংবিধান অনুযায়ী এই শূন্য পদে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে সংস্থাটির ওপর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রস্তুত, তফসিল ঘোষণাসহ নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। 

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংসদের অধিবেশন চলমান থাকলে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়। আর অধিবেশন না থাকলে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংসদের বৈঠক আহ্বান করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণ ও ভোট গণনা উভয়ই প্রকাশ্যে সম্পন্ন হয়। যদি দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমানসংখ্যক ভোট পান, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধানও রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর প্রচলিত রীতি অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সেই সাক্ষাতের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলে মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজন হলে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। সংবিধানে তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।

সাংবিধানিক বিধিবিধান

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের অন্য যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন প্রকৃতির। সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচকমণ্ডলী। বর্তমানে ৩০০টি সাধারণ আসনের সদস্য এবং ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যসহ মোট ৩৫০ জন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। 

নির্বাচন কমিশন প্রথমে এই নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। এরপর তফসিল ঘোষণা করা হবে। মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং একজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হিসেবে থাকতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে যদি একজনের বেশি বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আর একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য ৩৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। তবে সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়; সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকলেই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়া যায়। এর আগে অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্য না হয়েও রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে এ বিধানের বাস্তব প্রয়োগের উদাহরণ তৈরি করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি

সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী যেকোনো দল বা সংসদ সদস্য একজন যোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিতে পারেন। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয় নির্ভর করে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর। ফলে যে দল বা জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখে, তাদের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সাধারণত বেশি থাকে। 

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তার মতে, বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হবে না। অন্যদিকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও জানিয়েছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে দলের উচ্চপর্যায়ই সিদ্ধান্ত নেবে।

সংবিধানে বিরোধী দলের প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী যে কোনো দল বা সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারেন। তবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণেই সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনে হতাশা-অসন্তুষ্টি

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনে হতাশা-অসন্তুষ্টি
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ছবি: সংগৃহীত

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে সরকার আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বোয়েসেল, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, বিআইডব্লিউটিসিসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণায় প্রশাসনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রশাসনে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, নিয়মিত পদোন্নতির পরিবর্তে ধারাবাহিকভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে পৃথক ১২টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদ ছাড়া বাকি ১১টি পদই গ্রেড-২ মর্যাদার।

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে মো. সালাহউদ্দিন সরকার, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মোহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব হিসেবে মো. কামরুজ্জামান, বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে আবদুল খালেক, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. শামসুজ্জামান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজী রওনাকুল ইসলাম, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. জাকির হোসেন, বিসিকের চেয়ারম্যান হিসেবে বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. মামুন হাসান। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. সামসুল আলম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য এই নিয়োগ কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্য কোনো সরকারি, আধা সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি, পেশা বা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলে তা ত্যাগ করতে হবে।

ক্ষোভ জানিয়ে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। কয়েক বছর ধরেই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, সংস্থা ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে নিয়মিত পদোন্নতির পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। এতে অনেক কর্মকর্তা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন। তাদের মতে, এতে প্রশাসনের স্বাভাবিক ক্যারিয়ার-কাঠামো দুর্বল হচ্ছে এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, একটি ক্যাডার সার্ভিসে কর্মকর্তাদের প্রধান অনুপ্রেরণা হলো মেধা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো যদি বারবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে পূরণ হয়, তাহলে কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ২৫ থেকে ৩০ বছর চাকরি করার পর অনেক কর্মকর্তা অবসরের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা করেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পদে এভাবে ধারাবাহিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হলে প্রত্যাশী কর্মকর্তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের পরিকল্পনা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও এটি হওয়া উচিত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে। তবে যেখানে নিয়মিত পদোন্নতির মাধ্যমে যোগ্য কর্মকর্তা পাওয়া সম্ভব, সেখানে ধারাবাহিকভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিলে ক্যাডার ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তাদের মতে, প্রশাসনের দক্ষতা শুধু ব্যক্তির যোগ্যতার ওপর নয়, একটি সুসংগঠিত ও পূর্বানুমানযোগ্য ক্যারিয়ার ব্যবস্থার ওপরও নির্ভর করে। সেই কাঠামো দুর্বল হলে দীর্ঘ মেয়াদে প্রশাসনের পেশাদারত্ব ও কর্মোদ্দীপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে জনপ্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিশেষ অভিজ্ঞতা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম কিংবা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনে সরকার অনেক সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রয়োজন থাকলে তার যৌক্তিক ব্যাখ্যাও প্রকাশ্যে তুলে ধরা উচিত। এতে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা বাড়বে, অন্যদিকে নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যেও বৈষম্য ও বঞ্চিত হওয়ার দুঃখ কমবে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এটি যেন ব্যতিক্রম হিসেবেই থাকে, নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত যেন না হয়। তার মতে, মেধা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত না হলে কর্মকর্তাদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কোন পদে, কী কারণে এবং কোন মানদণ্ডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের আরও স্বচ্ছ অবস্থান নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নিয়মিত কর্মকর্তাদের ন্যায্য পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করা হলে প্রশাসনের পেশাদারত্ব, জবাবদিহি ও দক্ষতা আরও শক্তিশালী হবে।

জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জামালপুর হর্টিকালচার

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জামালপুর হর্টিকালচার
পানি জমে জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের মাতৃ লিচুবাগানের ১৩৭টি গাছ মারা গেছে। ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরে কয়েক বছর ধরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টারের ৬০ বছরের পুরোনো প্রায় দেড় শ মাতৃ লিচুগাছ মারা গেছে। হুমকিতে রয়েছে অন্যান্য গাছের মাতৃবাগান। চারা উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এসব গাছ নষ্ট হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। এতে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব আয়।

জামালপুর ছাড়াও শেরপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে এই হর্টিকালচার সেন্টার থেকে চারা সরবরাহ করা হতো। তবে জলাবদ্ধতার কারণে এখন তা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কার্যকর ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় হর্টিকালচার সেন্টার ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে আছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারাও দুর্ভোগে পড়েছেন।

জামালপুর শহরের চন্দ্রা এলাকায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে হর্টিকালচার সেন্টারটির অবস্থান। এখানে গাছের চারা উৎপাদনের জন্য রয়েছে একাধিক মাতৃবাগান। সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন-চার বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে হর্টিকালচার সেন্টারের প্রায় ১০ একর জায়গায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে। এর মধ্যে লিচুগাছের মাতৃবাগানটি সবচেয়ে বড় ও পুরোনো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারা উৎপাদন ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য বাগানে ১৩৯টি মাতৃ লিচুগাছ ছিল। কিন্তু গাছের গোড়ায় দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় এর মধ্যে ১৩৭টি গাছ মারা গেছে। বর্তমানে মাতৃ লিচুবাগানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাগানে নেই কোনো পরিচর্যা। সারি সারি লিচু গাছ দাঁড়িয়ে আছে বিবর্ণ অবস্থায়। শুধু লিচুবাগান নয়, দীর্ঘ জলাবদ্ধতার কারণে পার্শ্ববর্তী আম, ড্রাগনসহ অন্যান্য গাছের মাতৃবাগানও হুমকির মুখে রয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘জামালপুর হর্টিকালচারের পুরোনো খুব মূল্যবান ফলদ মাদারগাছ, যা থেকে চারা করা, নতুন গাছের জন্ম দেওয়া হয়–এ রকম শতাধিক গাছ মরে গেছে। যদি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সচল থাকত, জলাবদ্ধতা না হতো, তাহলে হয়তো এটি ঘটত না। যখন মানুষের ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতা হয়, মানুষ যখন পানিতে আটকা পড়েন, তখন মানুষ হইচই করেন।

কিন্তু গাছগুলো তো কথা বলতে পারে না। তারা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের কষ্টটা দেখার কেউ নেই।’

নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘পানি জমে লিচুবাগান নষ্ট হয়ে গেল। কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপই নিল না। যদি পদক্ষেপ নিত তাহলে বাগানটা ধরে রাখা যেত। এই লিচুবাগান থেকে আমরা অনেক লিচু কিনেছি, এখন বাগানটা ধ্বংস।’

জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইকরাম বলেন, ‘হর্টিকালচার ১০ একর জায়গা ৩ বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় হাঁটুপানিতে তলিয়ে আছে। মাতৃ লিচুবাগানটি সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন। জলাবদ্ধতার কারণে ১৩৭টি গাছই নষ্ট হয়ে গেছে। যেখান থেকে আমরা অনেক পরিমাণে সায়ন সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন করতাম। এটি খুবই উন্নত মানের চারা ও উন্নত জাতের লিচু ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে হর্টিকালচার সেন্টারের উৎপাদন এলাকা, যেখানে চারা উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হয়, সেটিও পানিতে ডুবে আছে। ফলে উৎপাদিত চারাও নষ্ট হচ্ছে। লিচু ছাড়াও বিদেশি আমের বাগান, ড্রাগনবাগান এবং নতুন আনা কিছু আমের জাতও মারা গেছে।’

শাখাওয়াত ইকরাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতার বিষয়টি বিভিন্ন সময় জেলার উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকা থেকে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি, পৌরসভার মেয়র ও প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি বিভিন্ন সময় পরিদর্শন করেছে। আমরা সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিয়েছি। তারা পানি নিষ্কাশনে সম্বনিতভাবে পরিকল্পনা করে একটি ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’

জামালপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, মাস্টার ড্রেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে যায়। সার্ভে করে কোন এলাকা নিচু ও কোন এলাকা উঁচু তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় শহরের আনসার ক্যাম্প থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন ড্রেনের কাজ শেষ হলে হর্টিকালচার সেন্টারের পানি নেমে যাবে। আরও তিনটি ড্রেন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তখন শহরে আর কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না।