টানা আন্দোলন, বিক্ষোভ ও সহিংসতার আবহেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে।
সোমবার (২৭) জুলাই প্রথম ধাপে মিরপুর বিভাগে ভোটগ্রহণ চলছে, এরপর ২ আগস্ট মুজাফফরাবাদ ও বিতর্কিত ১২টি শরণার্থী আসনে এবং ১০ আগস্ট সংঘাতের প্রাণকেন্দ্র পুঞ্চ বিভাগে ভোটগ্রহণ হবে।
৪৫টি আসনের এই আঞ্চলিক বিধানসভা নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে ভোটগ্রহণকে ৩টি আলাদা তারিখে ভাগ করেছে নির্বাচন কমিশন।
জুন মাসের শুরু থেকে আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন।
টানা আন্দোলন, সড়ক অবরোধ, দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাংক বন্ধ এবং বেশিরভাগ এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে জনজীবন অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলন পরিচালনকারী জোট 'জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি'-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন।
সংসদের ৪৫টি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ৩৩টি স্থান পায় স্থানীয় অধিবাসীদের ভোটে, আর বাকি ১২টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে পাকিস্তানে বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য।
জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি-র মূল দাবি হলো এই ১২টি আসন চিরতরে বাতিল করা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই আসনগুলোর ভোটাররা আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর-এর ভৌগোলিক সীমানার বাইরে থাকেন। এর ফলে পাকিস্তানের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো এই আসন ব্যবহার করে স্থানীয় সরকার গঠনে অন্যায্য হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তার করে।
সরকার এবং আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের অন্তবর্তীকালীন সংবিধান অনুযায়ী এসব আসন সংরক্ষিত। তাই সংসদে সংবিধান সংশোধন ছাড়া আন্দোলন বা প্রশাসনিক নির্দেশে এগুলো বাতিল করা অসম্ভব।
অন্যদিকে জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি নেতাদের প্রার্থী হতে না দেওয়ায় এবং তাদের দাবি না মানায় তারা নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে চালের ভর্তুকি ও কম দামে বিদ্যুতের দাবিতে শুরু হওয়া সাধারণ সামাজিক আন্দোলনটি এখন পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক গভীর সংকট তৈরি করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
তামান্না রুপা/