দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চাপ, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সতর্ক অবস্থানের প্রেক্ষাপটে বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি এখনো পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও আইনি প্রক্রিয়ার বাধা কাটিয়ে সচিব কমিটির সুপারিশ চূড়ান্তভাবে সমন্বয় করা গেলে যেকোনো সময় আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা।
নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য সময়, দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধিসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
পে-স্কেল বাস্তবায়ন আটকে থাকার প্রধান দুই কারণ
অর্থনীতিবিদ এবং সচিবালয়ের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো ঝুলে আছে।
১. অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকার অর্থায়নের সংকট: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশনসহ এ খাতে মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। তবে নবম পে-স্কেল পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন, যা দেশের বর্তমান রাজস্ব ঘাটতির মাঝে বড় চ্যালেঞ্জ।
২. আইএমএফের শর্ত ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে জানিয়েছে, একযোগে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ বাজারে প্রবেশ করলে নগদ প্রবাহ বেড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে সরকারের ঋণের বোঝা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়বে।
এককালীন বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ এড়াতে নবম জাতীয় পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকারের সচিব কমিটি। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দুই ভাগে সম্পন্ন হতে পারে।
প্রারম্ভিক ধাপে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেবল মূল বেতন (বেসিক) বাড়ানো হবে। পরবর্তী পর্যায়ে চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা এবং অন্যান্য প্রাপ্য ভাতা পুনর্নির্ধারণ ও সমন্বয় করা হবে।
নবম জাতীয় পে-স্কেলের আইনি, প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আরও দুই থেকে তিনটি কারিগরি বৈঠকের মাধ্যমে সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করার পর খসড়াটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
সব ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হলে আগামী আগস্টের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশিত হতে পারে।
গেজেট জারিতে কিছুটা সময় লাগলেও নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে গেজেট প্রকাশের পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের বকেয়া অর্থ এককালীন পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এসজি/