দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় ব্রি-৭৫ জাতের আমন ধান চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষক মতিউর রহমান। তিনি মাত্র ১১০ দিনে ওই ধান ঘরে তুলেছেন। প্রতি একরে এ ধান উৎপাদন হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ মণ। বর্তমানে এর দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। তিনি আগামী বছর আরও ৫০ একর জমিতে ব্রি-৭৫ জাতের ধান চাষের পরিকল্পনা করেছেন। তিনি একই জমিতে আগাম জাতের আলু ও সরিষা চাষ করে বাড়তি ফসল ঘরে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন।
এবার তিনি বিআরডিসি থেকে সরবরাহ করা ব্রি-৭৫ জাতের আমন ধান ১৫ একর জমিতে চাষ করেছেন। ব্রি-৭৫ জাতের ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি, তাই তিনি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক অনেক কম ব্যবহার করেছেন।
শুকনো জমিতে বীজ তোলা থেকে শুরু করে বোপণ করা- সব মিলিয়ে ১০০ দিনের মধ্যেই ব্রি-৭৫ জাতের আমন ধান ঘরে তুলতে পেরে তিনি খুশি। একদিকে ধানের দাম ভালো পাচ্ছেন, অন্যদিকে একই জমিতে আগাম জাতের আলু ও সরিষা চাষ করে বাড়তি ফসল ঘরে তোলার পরিকল্পনা করছেন।
আদর্শ চাষী মতিউর রহমান বলেন, ‘ব্রি-৭৫ জাতের ধান স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘরে তোলা যায় এবং ফলনও অনেক ভালো। এক একর জমিতে ৬৫ থেকে ৭০ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে। বর্তমান এক মণ ধানের বাজারদর ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাশাপাশি আগাম জাতের আলু কিংবা সরিষা চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধান মাড়াই করার পর জমি ফেলে রাখতে হবে না। বিআরডিসির পরামর্শে আমি এ বছর ১৫ একর জমিতে এই জাতের ধান আবাদ করেছি। ধানের ফলন ভালো হয়েছে এবং ভালো বাজারমূল্য পাচ্ছি। একই জমিতে আগাম জাতের সরিষা ও আলু রোপণ করার পরিকল্পনা করছি। যাতে করে ইরি-বোরো মৌসুমের আগেই বাড়তি ফসল ঘরে তুলতে পারি। ব্রি-৭৫ জাতের ধান আমাদের জন্য একের ভেতর দুই। আগামী বছর আরও ৫০ একর জমিতে ব্রি-৭৫ জাতের আমন ধানের চাষ করব।’
কৃষিশ্রমিক আবু জাহিদ বলেন, ‘বর্তমানে কৃষিশ্রমিকের কাজ কমে গেছে। তবে মতি ভাইয়ের আগাম জাতের ধান কেটে আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছি। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও পাচ্ছি।’
শ্রমিক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘মতি ভাইয়ের জমিতে কাজ করে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করছি।’
দিনাজপুর বিএডিসির উপপরিচালক জাফর আলী সরকার জানান, এ বছর দিনাজপুর জেলার ৩৫ একর জমিতে ব্রি-৭৫ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এই ধানের চাষ পরীক্ষামূলকভাবে হচ্ছে। চাষিরা এই ধান চাষ করে লাভবান হতে পারবেন। কারণ এই জাতের ধান স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। আবার একই জমিতে আগাম জাতের আলু ও সরিষা চাষ করা যায়। বিআরডিসি ব্রি-৭৫ জাতের ধান চাষীদের কাছ থেকে সরাসরি সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করে পুনরায় চাষীদের মাঝে বীজ হিসেবে বিতরণ করবে। যাতে তারা বাড়তি ফসল হিসেবে রবিশস্য উৎপাদন করতে পারে। এরপর তারা ওই জমিতে আবার ইরি-বোরো ধান রোপণ করবে। চাষিরা দুই দিকেই লাভবান হচ্ছে- স্বল্প সময়ে আগাম জাতের ধান ঘরে তুলতে পারছে। একই জমিতে দ্বিতীয় ফসল বা বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা বা আলু চাষ করেও লাভবান হচ্ছে। রবিশস্য করার পর ওই জমিতে চাষ করতে সারও কম লাগবে।