জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত অপরাধীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার এবং প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগসহ পাঁচ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৩ মে) রাত সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান পয়েন্ট থেকে মশাল মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান নেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে, প্রক্টরিয়াল বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে সম্পূর্ণ প্রক্টোরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে, হেনস্তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল গঠন করতে হবে, ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দিতে হবে এবং কুইক রেসপন্স টিমে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
দাবি ঘোষণার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একাংশ প্রক্টরের পদত্যাগের দাবির সঙ্গে একমত না হয়ে প্রক্টর অফিস থেকে সরে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে অন্য অংশও সেখানে যোগ দেয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে একটি পক্ষ ভবনের ভিতরে প্রবেশ করে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসে।
দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা আলোচনার পর শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবির সঙ্গে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ যোগ করে ছয় দফা দাবি লিখিতভাবে জমা দেন। উপাচার্যের সচিব প্রশাসনের পক্ষে দাবিপত্র গ্রহণ করেন।
আন্দোলনে বিভক্তি নিয়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী মেহেরাব তূর্য বলেন, ‘আমরা সবাইকে একসঙ্গে সমন্বয় করে আন্দোলন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি গ্রুপ কোনো আলোচনা ছাড়াই নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ম্যানিপুলেট করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
অন্যদিকে অর্থনীতি বিভাগের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজিহা নাওয়ার বলেন, ‘প্রায় ২০ জন মেয়ে মিলে আমরা দাবিগুলো ড্রাফট করেছি। মিছিল শুরুর আগেই সবাইকে দাবি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। যারা আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে।’
সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দলীয় প্রভাবে বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে মনে করে রাত বারোটার দিকে সাধারণ আন্দোলনকারীরা ধীরে ধীরে হলে ফিরতে শুরু করেন।
পরে নেতৃত্বে থাকা দুই অংশই আবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। একটি অংশ প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, আপাতত প্রক্টরের পদত্যাগ চাচ্ছি না। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে না পারলে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ চাইব।
রাত সাড়ে তিনটার দিকে প্রশাসনের সঙ্গে দুই ঘণ্টা আলোচনার পর শিক্ষার্থীরা দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস পান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
আমানউল্লাহ খান/আমান