ঢাকা ১১ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন ওচোয়া! জাপানের বিপক্ষে রক্ষণভাগ আরও শক্তিশালী করতে হবে: গ্রাহাম পটার রাউজানে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল শিক্ষক দম্পতির পুরুষ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ছেন নারী রেফারি রেকর্ড গড়ে বিশ্ববাজারে আসছে  বিওয়াইডির এসইউভি ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা, নিখোঁজ ১১ হাজার সুইডেনকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে জাপান কোচ মহাবিশ্বে আমাদের গতি কত? ‘জানতাম সঠিক সময়েই ব্রাজিলের হয়ে সেরাটা দিতে পারব’: ভিনিসিয়ুস অ্যানিমেশনের ক্যানভাসে পাহাড় জয়ের গল্প বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, সই হলো ১৩ সমঝোতা স্মারক বিশ্বকাপে হলুদ কার্ডের নিয়মে পরিবর্তন, নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় একঝাঁক তারকা বাতিল আকীদা পন্থীগণ আজ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে : ছারছীনার পীর ছাহেব একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতকের মৃত্যু পার্বত্য চট্টগ্রামে অভিন্ন কর ব্যবস্থার দাবি নাগরিক পরিষদের ডে-লেবার নিয়োগ যাচাই-বাছাইয়ের নোটিশ নিয়ে ইবি প্রশাসনের লুকোচুরি কুকুরের গলায় ইট বেঁধে মেঘনায় নিক্ষেপ, নরসিংদীতে যুবক গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আবাসিক হোটেলে অভিযান, ১৪ তরুণ-তরুণী আটক বিশ্বকাপে কুরাসাওয়ের হয়ে ইতিহাস গড়লেন যে নারী শিশু একাডেমির নেতৃত্বে কি এখনো শিশুসাহিত্যিক ফিরিয়ে আনার সময় আসেনি! আশুরার শিক্ষায় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তায় এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশের সঙ্গে সেন্ট্রোর অংশীদারিত্ব নবায়ন জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে কিশোরীদের নেতৃত্বে ‘দুর্বার কন্যা’ মডেল বিইউএফটিতে ২২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় উৎসব অনুষ্ঠিত একজন ক্লান্ত মানুষের জন্য আশ্বাসের বাণীটি কী জানেন? রোহিঙ্গাদের সম্পদে পরিণত করুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মহিলা সমিতিতে ‘শ্রুতি সম্ভার’ সম্মাননা পাচ্ছেন ওয়াহিদা মল্লিক জলি প্রিয়াঙ্কার কড়া বার্তা…

মুরগির খামারিদের মুনাফা নিশ্চিত করে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৫৭ পিএম
মুরগির খামারিদের মুনাফা নিশ্চিত করে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং
ছবি : সংগৃহীত

চুক্তিভিত্তিক প্রান্তিক ব্রয়লার খামারে মুরগির উৎপাদন ব্যয় কম হয়। ফলে খামারি এবং ভোক্তা উভয়ে লাভবান হন। বাড়তি উৎপাদন হয়, উৎপাদন খরচ কমে যায়। ফলে খামারি বেশি মুনাফা পায় এবং ভোক্তাও কম দামে কিনতে পারেন। দেশের পোলট্রিশিল্প সংশ্লিষ্টরা এ অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।

পোলট্রিশিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক উদ্যোক্তা পোলট্রি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে মুরগির খামার পরিচালনা করছেন। এতে করে তারা কম খরচে বেশি মুরগি উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছেন। পাশাপাশি তারা কোম্পানির বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে খামার রক্ষা করতে পারছেন। সেই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগির বাজার দরে অপ্রত্যাশিত পতনের ঝুঁকিরও দায় মুক্ত থাকতে পারছেন। 

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ খাতের নানা প্রকাশনা থেকে দেখা যায় যে, উন্নত দেশ বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, চীন, থাইল্যান্ড, ভারত এবং ইন্দোনেশিয়ার পোলট্রি কোম্পানিগুলো চুক্তিবদ্ধ ক্ষুদ্র খামারিদের মাধ্যমে মুরগি উৎপাদন করে। সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশের পোলট্রি খামারিরাও সে পথে হাঁটতে শুরু করেছে। ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় ডিলারদের মাধ্যমে কেনা এক দিন বয়সী মুরগির বাচ্চা লালন-পালনের পরিবর্তে খামারিরা সরাসরি বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে মুরগি উৎপাদনে স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন।

জানা যায়, পোলট্রি কোম্পানিগুলো প্রথমত, ব্রয়লার খামারের শেডসহ মুরগি লালন পালনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসহ (যেমন- ফিডার, ড্রিংকার, ব্রুডার) উপযুক্ত খামারিদের তালিকাভুক্ত করেন। এর পর চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানিগুলো খামারিদের মুরগির বাচ্চা, ফিড এবং ওষুধ সরবরাহ করে। এর বাস্তবতা জানতে দেশের অন্যতম প্রধান পোলট্রি কোম্পানি কাজী ফার্মসের পরিচালক কাজী জাহিন হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, ‘আমরা আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ খামারিদের বিনামূল্যে বাচ্চা, ফিড ও ওষুধ সরবরাহ করি। কোম্পানির এলাকাভিত্তিক কর্মকর্তারা চুক্তিভিত্তিক প্রতিটি খামারের রোগ-বালাই প্রতিরোধে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শসেবা দেন। এর পর নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে উৎপাদন সক্ষমতার ভিতিতে খামারিদের গ্রোয়িং চার্জ দেওয়া হয়। সাধারণের চেয়ে বেশি ওজনের মুরগি উৎপাদনকারী খামারিকে পুরস্কার হিসেবে বেশি গ্রোয়িং চার্জ দেওয়া হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে কাজী জাহিন বলেন, চুক্তিভিত্তিক ব্রয়লার খামার পরিচালনায় খামারিদের যেহেতু কোনো চলতি মূলধন লাগে না এবং রোগের কারণে কোনো মুরগি মারা গেলে তার দায়ভার কোম্পানির থাকে বিধায় খামারি কোনো পুঁজি হারায় না, সে কারণে ক্রমেই এ ব্যবস্থায় খামারিরা আকৃষ্ট হয়ে উঠছেন। 

পক্ষান্তরে মাঠ পর্যায়ে ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত ডিলার নির্ভর খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগে জানা যায়, তারা কখনো কিছু মুনাফা করলেও তাদের লোকসানের পাল্লা ভাড়ি। এ ধরেনর অনেক খামারি লোকসানের মুখে পুঁজি হারিয়ে ঋণের দায় নিয়ে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হন। বিভিন্ন কারণে ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন হ্রাস-বৃদ্ধি হয়। একইভাবে দামেও তারতম্য ঘটে। 

রাজধানীর নিকটবর্তী জেলা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গলদা পাড়ার ব্রয়লার খামারি জহিরুল ইসলাম (৩৫) বেসরকারি কোম্পানির চাকরি ছেড়ে নিজ বাড়ির আঙিনায় মুরগির খামার করেছেন। পাঁচ বছরের অভিজ্ঞ এ খামারি জানান, ‘প্রথমে স্থানীয় ডিলারের সঙ্গে খামার করে দুই বছরে ৮০ হাজার টাকা লোকসান গুনেছি। এর পর কাজী ফার্মসের সঙ্গে বিনিয়োগ ও ঝুঁকিবিহীন খামার করছি। প্রতি ব্যাচে (৩৫ দিন মেয়াদে) এক হাজার মুরগিতে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় পাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, জহিরুল জানান, ‘গত মধ্য মার্চেও প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি করেছি ১৩৬ টাকা দরে। যা গড় উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। এতে আশপাশের ব্যক্তি পর্যায়ের খামারিরা বড় অঙ্কের লোকসান গুনলেও চুক্তি অনুযায়ী কাজী ফার্মস আমাকে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা দিয়েছে।’

প্রায় অভিন্ন তথ্য-উপাত্য দিয়েছেন গলদা পাড়ার অপর চুক্তিভিত্তিক খামারি মো. সুমন (৩২)। প্রায় এক যুগের অভিজ্ঞ এই খামারি জানান, ‘নিকটস্থ কাশেমপুর বাজারের ডিলারের সঙ্গে খামার করে আড়াই লাখ টাকা গচ্চা দিয়েছি। এক ব্যাচে ১০ হাজার টাকা লাভ হলে পরের ব্যাচে ৫০ হাজার টাকা লোকসান গুনেছি। এভাবে বছর দুয়েকে পুঁজি হারিয়ে দেনা নিয়ে খামার ছেড়ে স্থানীয় গার্মেন্টসে চাকরি করেছি। পরে চুক্তিভিত্তিক খামারে নিশ্চিত লাভের খবরে কাজী ফার্মসের সঙ্গে খামার করে হাজার মুরগিতে ব্যাচান্তে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় পাচ্ছি। এখন বাচ্চা, ফিড, ওষুধ, চিকিৎসা এমনকি মুরগি বিক্রির চিন্তাও আমার নেই, সব কিছুই কোম্পানি করে। বিক্রির কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লাভের টাকা জমা হয়ে যায়। 

ময়মনসিংহ জেলার ডুবাইলের বজলুল করিম (৬২) মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দফায় প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে এক দশক ধরে মুরগির খামার করছেন। থানা সংযোগ সড়কের পাশে উন্মুক্ত এলাকার শেডে হাজার মুরগির এই ব্রয়লার খামারি জানান, ‘প্রথম দিকে ডিলারের সঙ্গে লেয়ারের খামারে সুফল মেলেনি। পরে নিজে ব্রয়লার করেও সুবিধা হয়নি। ফলে গত দুই বছর কাজী কোম্পানির সঙ্গে ব্রয়লার খামারে ভাগ্য খুলেছে। এখন প্রতি ব্যাচে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পাচ্ছি।’

এ প্রসঙ্গে নিজের প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনাগ্রহী পোলট্রি খামার বিশেষজ্ঞ মো. সুমন আলী জানান, অজ্ঞতা ও অনভিজ্ঞতার কারণে অধিকাংশ স্বতন্ত্র পোলট্রি খামারি স্থানীয় ডিলারদের নিয়ন্ত্রণে খামার করে অধিকাংশ সময় লোকসান গুনছেন। তাদের উৎপাদন খরচ বেশি। মুরগি মৃত্যুর হারও বেশি। বেশিরভাগ সময় উপযুক্ত ওজন ও মেয়াদ শেষের আগে ডিলারদের চাপে মুরগি বিক্রি করতে বাধ্য হন। কখনো কখনো বাজারে বাড়তি চাহিদার কারণে ভালো দাম পেলেও খামারির হাতে তেমনটা পৌঁছে না। 

কাজী ফার্মস পরিচালক কাজী জাহিন হাসানের মতে, প্রন্তিক খামারিরা চুক্তভিত্তিক ব্রয়লার খামার করে অশাতীত উপকৃত হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি কেন্দ্রীক স্বাধীন খামারিরা প্রকৃত অর্থে স্বাধীন নন, মূলত তারা সব সময় ডিলারদের কাছে ঋণী থাকেন। বাকিতে বাচ্চা ও ফিড নিয়ে করা খামারে রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটলে কিংবা ব্রয়লারের বাজার দরে পতন ঘটলে খামারিরা বড় ক্ষয়-ক্ষতির মুখে পড়েন। তার বিনিয়োগের সবটাই লোকসানে পরিণত হয়। তবে চুক্তিবদ্ধ খামারিদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত। রোগাক্রমণে খামারের কিছু মুরগি মারা গেলেও যে পরিমাণ মুরগি বেঁচে থাকে তার ওপরে খামারি গ্রোয়িং চার্জ পেয়ে থাকেন। আবার ব্রয়লার মুরগির বাজার দর কম হলে সে ক্ষতিও পুরোটা কোম্পানি (কাজী ফার্মস) বহন করে, খামারি নয়। ফলে আমাদের খামারিরা সন্তুষ্ট। যদি কোনো কারণে সন্তষ্ট না হন তা হলে পরবর্তী ব্যাচ থেকে তারা স্বাধীন হতে পারেন, উল্লেখ করেন জাহিন হাসান।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তায় এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশের সঙ্গে সেন্ট্রোর অংশীদারিত্ব নবায়ন

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তায় এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশের সঙ্গে সেন্ট্রোর অংশীদারিত্ব নবায়ন
ছবি: সংগৃহীত

সেন্ট্রো (Centro) তাদের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্ল্যাটফর্ম ‘আলোকানন্দ ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশের সাথে ২০২৬ সালের অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে শিশু কল্যাণে তাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল প্রতিষ্ঠানটি।

এই ধারাবাহিক সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে ২৫ জুন সেন্ট্রোর প্রধান কার্যালয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রোর চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) জনাব নিকোলাস অ্যান্টন, আলোকানন্দ ফাউন্ডেশনের অফিস সেক্রেটারি জনাব দেওয়ান সাজ্জাদুল করিম এবং এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর ডা. মো. এনামুল হক।

২০২০ সালে শুরু হওয়া এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণ ও বিকাশে পরিকল্পিত সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেন্ট্রোর ধারাবাহিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

২০২০ সাল থেকে সেন্ট্রো এসওএস চিলড্রেন'স ভিলেজেস বাংলাদেশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকা ১০টি শিশুকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে এবং তাদের লালন-পালন, শিক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। এই অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায়, ২০২৩ সালে সেন্ট্রো এসওএস চিলড্রেন'স ভিলেজেস বাংলাদেশ পরিচালিত ১০টি প্রারম্ভিক শৈশব উন্নয়ন (ইসিডি) কেন্দ্রে তাদের সহায়তা সম্প্রসারিত করে। এই সহায়তার মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৭৫০-এরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত শিশু প্রারম্ভিক শিক্ষা, যত্ন এবং স্নেহপূর্ণ পরিবেশের সুফল পেয়েছে, যা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।

২০২৬ সালের জন্য নবায়ন করা এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এসব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে আরও বেশি শিশু মানসম্মত প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশের সুযোগ এবং পরিবারসদৃশ একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।

এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর ডা. মো. এনামুল হক বলেন, “সেন্ট্রোর অবিচল সহযোগিতা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শত শত শিশুকে মানসম্মত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং একটি সুন্দর শৈশব উপহার দিয়েছে। শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে তাদের এই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও প্রতিশ্রুতিকে আমরা গভীরভাবে মূল্যায়ন করি।”

সেন্ট্রোর প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সেন্ট্রো, আলোকানন্দ ফাউন্ডেশন এবং এসওএস চিলড্রেন'স ভিলেজেস বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনার অভিন্ন লক্ষ্য ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন

নারীবাদী সবুজ রূপান্তর ও টেকসই অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি: পুরস্কার পেল তিন প্রতিষ্ঠান, বিশেষ সম্মাননায় দুজন

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
নারীবাদী সবুজ রূপান্তর ও টেকসই অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি: পুরস্কার পেল তিন প্রতিষ্ঠান, বিশেষ সম্মাননায় দুজন
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

দেশে দ্বিতীয়বারের মতো প্রদান করা হলো ‘ফেমিনিস্ট গ্রিন অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। নারীবাদী সবুজ জলবায়ু রূপান্তর এবং টেকসই অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনটি প্রতিষ্ঠান ও দুজন তৃণমূল উদ্যোক্তাকে এই পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করেছে একশনএইড বাংলাদেশ।

রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার (২৪ জুন) রাতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এবারের পুরস্কার মূলত ‘ইয়ুথ-লেড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ (যুব নেতৃত্বাধীন সবুজ ব্যবসা) এবং ‘এসএমই’ (ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা) - এই দুই বিভাগে প্রদান করা হয়।

‘ইয়ুথ-লেড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান - ‘স্বচ্ছ’ এবং ‘ওয়ার্ল্ড লিংকআপ’। অন্যদিকে, ‘এসএমই’ বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেছে ‘ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড’।

পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘স্বচ্ছ’ পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার; ‘ওয়ার্ল্ড লিংকআপ’ যুবকদের সম্পৃক্ত করে জলবায়ু সচেতনতা ও সবুজ প্রযুক্তির প্রসার এবং ‘ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড’ স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প তৈরির মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতিতে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার লাভ করেছে।

পুরস্কারের পাশাপাশি সমাজে টেকসই পরিবেশ ও কর্মসংস্থানে বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর দুজনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তারা হলেন—বগুড়ার নারী উদ্যোক্তা শারমিন আক্তার এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সৌরবিদ্যুৎ-ভিত্তিক উদ্যোক্তা সোলেমান আলী।

শারমিন আক্তার উচ্ছিষ্ট কাপড় ও সুতা থেকে দড়ি তৈরি করে ২ শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ। অন্যদিকে, ‘সোলার ম্যান’ খ্যাত সোলেমান আলী তার উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে কৃষকদের সেচকাজে স্বল্প খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মডেল তৈরি করেছেন। তার এই ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্র ' মডেলটি বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে স্থানীয় কৃষকদের সেচকাজে দারুণ স্বস্তি এনে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং পুরো অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির। তিনি বলেন, ‘ন্যায্য ও নারীবাদী রূপান্তরে এসএমই এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দিতে আমাদের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

জলবায়ু ও পরিবেশের টেকসই রূপান্তরের সাথে মানুষের মানসিকতা ও সংস্কৃতির যোগসূত্রটি তুলে ধরে তিনি দেশে শিশু ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আপসের মানসিকতা এবং আইনের শাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ‘স্পটলাইট স্পিকার’ হিসেবে প্রকৃতি, নারী ও মানুষের দায়বদ্ধতার আলোকে বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সমাজকর্মী আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে নারীবাদী ভাবি কি না, তা বড় কথা নয়; তবে আমি বিশ্বাস করি এই পৃথিবীটা মূলত নারীদের কাছ থেকে পাওয়া অনুভবের পাঠশালা। প্রকৃতি যেভাবে সবকিছুকে লালন করে, নারীরাও ঠিক সেভাবেই সমাজ ও জীবনকে আগলে রাখে।’

নাট্যচার্য সেলিম আল দীনের একটি নাটকের সংলাপ স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বেঁচে থাকাটা বড় কথা নয়, কীভাবে বেঁচে আছি সেটাই বড়। জলবায়ুর এই লড়াইয়ে আমাদের শুধু একা বেঁচে থাকার অহংকার করলে চলবে না। তেলের মতো পানির ওপর ভেসে না থেকে, আমাদের পানির মতো হতে হবে—যার গৌরব অন্যকে ধারণ করার বা ভাসিয়ে রাখার মধ্যে।’

আরেকজন ‘স্পটলাইট স্পিকার’ বিশিষ্ট করপোরেট আইনজীবী ও ব্যবসায়ী নেতা ব্যারিস্টার নিহাদ কবির আইন, করপোরেট পরিবেশ ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘করপোরেট সেক্টরে সাসটেইনেবিলিটি বা ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়ে কাগজে-কলমে অনেক বড় বড় আইন থাকলেই পরিবেশ বা সমাজ বদলায় না, যদি না মানুষের ভেতরের চিন্তাভাবনা বা মূল্যবোধের রূপান্তর ঘটে।’

নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা রোধে প্রাতিষ্ঠানিক আইনের চেয়ে পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চাকে বড় উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেকসই অর্থনীতির লক্ষ্যে তরুণদের ও যুবসমাজকে পরিবেশ সুরক্ষার লড়াইয়ে যুক্ত করতে হলে শুধু আইনি কড়াকড়ি নয়, বরং জীবনের গল্প ও আড্ডার ছলে তাদের উদ্বুদ্ধ করা বেশি কার্যকর।

এ বছর পুরস্কারের জন্য অনলাইনে মোট ২৭টি আবেদন জমা পড়ে। এরপর বিচারকদের নিবিড় যাচাই- বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হয়। এবারের বিচারক প্যানেলে ছিলেন সাপোর্ট-এর কান্ট্রি ম্যানেজার সুরাইয়া আক্তার, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সুমাইয়া টি. আহমেদ, বিশিষ্ট স্থপতি ও বিল্ড বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফরহাদুর রেজা, একশনএইড ইন্টারন্যাশনালের আইএইচএআরটি (IHART)-এর গ্লোবাল রেজিলিয়েন্স অ্যাডভাইজার তানজির হোসেন এবং একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির।

পুরস্কার বিতরণী শেষে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সংগীতশিল্পী ও কালচারাল অ্যাক্টিভিস্ট ওয়ার্দা আশরাফ জলবায়ু পরিবর্তন, নারী অধিকার, ন্যায়বিচার এবং সংগ্রামের গল্প নিয়ে দেশি-বিদেশি গানের এক অনবদ্য পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় সমাপনী বক্তব্য ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে।

উল্লেখ্য, নারীবাদী সবুজ জলবায়ু রূপান্তরে অবদান রাখা ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তা এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি ও উৎসাহিত করতে একশনএইড বাংলাদেশের আয়োজনে গত বছর (২০২৫) সালে যাত্রা শুরু করে ‘ফেমিনিস্ট গ্রিন অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড’। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরও দেশের তৃণমূল উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন স্বতন্ত্র ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হলো।

১০ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআরে ‘নগদ’ পেমেন্ট

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
১০ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআরে ‘নগদ’ পেমেন্ট
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

দেশের জনপ্রিয় মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নগদ গ্রাহকদের জন্য চালু করেছে ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট সেবা। একই সঙ্গে সকল ব্যাংক এবং অন্যান্য মোবাইল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিকভাবে ‘ট্রান্সফার মানি’ করে লেনদেন করার সুবিধাও চালু করেছে ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানটি। বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে দেশজুড়ে থাকা প্রায় ১০ লাখ মার্চেন্ট পরিবারে যুক্ত হলো ‘নগদ’।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) থেকে ক্যাশলেস লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করতে আনুষ্ঠানিকভাবে নগদ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে বাংলা কিউআর এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) সুবিধা। এর মাধ্যমে কোটি কোটি গ্রাহকের লেনদেনের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলো।

বাংলা কিউআর উদ্বোধন উপলক্ষে নগদ আজ সকালে এক মেগা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ। অনুষ্ঠানে প্রশাসক দলের অন্যান্য সদস্য এবং ঢাকায় কর্মরত নগদের চার শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। অনুষ্ঠান থেকে জানানো হয়, বাংলা কিউআর জনপ্রিয় করতে নগদ সর্বাত্মক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

এখন থেকে নগদ গ্রাহকেরা দেশের যেকোনো দোকান, শপিং মল, রেস্টুরেন্ট কিংবা বাজারে প্রদর্শিত বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করেই সরাসরি নগদ অ্যাপের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন। আলাদা আলাদা এমএফএস অপারেটর বা ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহারের ঝামেলা দূর করতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দিল নগদ।

বাংলা কিউআরের পাশাপাশি নগদে যুক্ত হয়েছে এনপিএসবি সেবা। এই সেবার মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ের লেনদেনে গ্রাহকেরা দেশের যেকোনো ব্যাংক হিসাব বা সকল এমএফএস থেকে নগদ ওয়ালেটে ‘ট্রান্সফার মানি’ করতে পারবেন। একইভাবে নগদ থেকে যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। ফলে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মধ্যে অর্থ লেনদেন আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে। এই দুটি উদ্যোগের ফলে মানুষের ছাপা টাকা ব্যবহার কমবে এবং দেশে ক্যাশলেস লেনদেন আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, গ্রাহক ও ব্যবসায়ী এবং উভয়পক্ষের জন্যই ক্যাশলেস লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করতে ‘বাংলা কিউআর’ একটি বৈপ্লবিক মাইলফলক। এখন থেকে নগদ গ্রাহকেরা যেকোনো দোকানে একটি মাত্র সমন্বিত কিউআর কোড স্ক্যান করেই চোখের পলকে ক্যাশলেস পেমেন্ট করতে পারবেন, যা ক্ষুদ্র বিক্রেতাদেরও ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্কে যুক্ত করবে। এই একক কিউআরভিত্তিক ব্যবস্থা ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ও সামগ্রিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া, এনপিএসবি যুক্ত হওয়ার ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতের সাথে নগদের তাৎক্ষণিক সংযোগ তৈরি হলো। এখন গ্রাহকেরা যেকোনো সময় যেকোনো ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে নগদে ‘ট্রান্সফার মানি’ এবং নগদ থেকে ব্যাংকে ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার মানি’ করতে পারবেন।

অন্তরা/

ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডে এশিয়াটিকের ২১ পুরস্কার

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডে এশিয়াটিকের ২১ পুরস্কার
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডের (ডিএমএ) নবম সংস্করণে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ২১টি পুরস্কার জিতে নিয়েছে কমিউনিকেশন সল্যুশন প্রোভাইডার এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি। বিভিন্ন ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ক্যাম্পেইনের জন্য গ্রুপটির চারটি প্রতিষ্ঠান এই পুরস্কারগুলো অর্জন করেছে।

শনিবার লে মেরিডিয়ান ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের উদ্যোগে এবং মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিবেশনায় এবারের আয়োজনে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া ১,০৭২টি মনোনয়ন থেকে ২৬টি ক্যাটাগরিতে মোট ৮৯টি ক্যাম্পেইনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

গ্রুপের মধ্যে সর্বাধিক সাফল্য অর্জন করেছে এশিয়াটিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনস লিমিটেড। কন্টেন্ট মার্কেটিং, ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল ক্যাম্পেইন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পিআর, ইউজার কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম এবং ফেসবুক ও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ের মতো ক্যাটাগরিগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি চারটি সিলভার ও চারটি ব্রোঞ্জসহ মোট আটটি পুরস্কার জিতেছে। তাদের এই অর্জনের মধ্যে ‘টাইটানিয়াম’ ক্যাটাগরিতে একটি ব্রোঞ্জ পুরষ্কারও রয়েছে, যা এ বছরের ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডে ওই ক্যাটাগরিতে একমাত্র স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।

মিডিয়া কনসালট্যান্টস লিমিটেড (এমসিএল) মোট তিনটি ব্রোঞ্জ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। এর মধ্যে একটি অ্যাওয়ার্ড তারা ডট বার্থ লিমিটেডের সাথে যৌথভাবে এবং বাকি দুটি স্বতন্ত্রভাবে শর্ট-ফর্ম ভিডিও, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং টিকটক মার্কেটিং ক্যাটাগরিতে জিতে নিয়েছে।

এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের সাথে যৌথভাবে কাজ করে এমপাওয়ার বাংলাদেশ একটি সিলভার এবং চারটি ব্রোঞ্জসহ মোট পাঁচটি পুরস্কার পেয়েছে। পুরস্কারগুলো ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স মার্কেটিং, ডিসপ্লে অ্যাডভার্টাইজিং, ডেটা ও অ্যানালিটিক্স, পারফরম্যান্স মার্কেটিং ও টিকটক মার্কেটিংসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে, দুটি সিলভার ও তিনটি ব্রোঞ্জসহ মোট পাঁচটি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে এএমএল। এর মধ্যে চারটি অ্যাওয়ার্ড তারা অ্যাপ মার্কেটিং, ডিসপ্লে অ্যাডভার্টাইজিং, মোবাইল মার্কেটিং ও ইউজার কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মে এককভাবে জিতেছে। আর বাকি একটি সিলভার পুরস্কার ‘বেস্ট ইউজার-জেনারেটেড কন্টেন্ট’ ক্যাটাগরিতে ম্যাডমেন ডিজিটাল লিমিটেডের সাথে যৌথভাবে অর্জন করেছে।

অন্তরা/

গ্লোবাল হেলথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেলেন ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:২০ এএম
গ্লোবাল হেলথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেলেন ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী
ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসা শিক্ষার আধুনিকায়ন, অগ্রগামী হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যখাতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্লোবাল হেলথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেয়েছেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেলে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থকন্ঠ এবং বিজনেস আমেরিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এনামুল হক এনাম। এনআরবি ওয়ার্ল্ড, বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন এবং সাপ্তাহিক অর্থকণ্ঠের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ সেমিনার ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, নৈতিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি সংস্কারে দূরদর্শী ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০০৪ সালে তৎকালীন আয়েশা মেমোরিয়াল স্পেশালাইজড হাসপাতালে যোগদানের পর তার অসামান্য প্রশাসনিক দূরদর্শিতা ও প্রচেষ্টায় ২০১৩ সালে এটি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল’-এ রূপান্তরিত হয়। 

তার দক্ষ পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি আজ ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতাল, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ এবং ইউনিভার্সেল নার্সিং কলেজসহ একটি বৃহৎ, স্বনামধন্য ও অন্যতম রেফারেল স্বাস্থ্যসেবা হাবে পরিণত হয়েছে। 

এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) মতো মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী তার এই মাইলফলক ছোঁয়ার পেছনে বড় বোন ও ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান, আইকনিক নারী উদ্যোক্তা প্রীতি চক্রবর্তীর নিরলস সমর্থন ও দিকনির্দেশনার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। 

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তার স্ত্রী- করপোরেট ব্যক্তিত্ব নীতা চক্রবর্তী এবং একমাত্র পুত্র দিব্যময় চক্রবর্তীকে (রিজু) নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন।

ডা. আশীষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার উচালিয়া পাড়ার স্বর্গীয় আশুতোষ চক্রবর্ত্তী ও পূষ্প চক্রবর্ত্তীর সন্তান।

অনুষ্ঠানটিতে ‘Role of Non-Resident Bangladeshi (NRB) Scientists in Advancing Biotech and Biosimilar Drugs in Bangladesh's Pharmaceutical Industry’ শীর্ষক মূল প্রতিপাদ্যের ওপর ফলপ্রসূ আলোচনা এবং ‘100 Healthcare Titans of Bangladesh’ বিশেষ স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের চিকিৎসা ও ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, করপোরেট নেতারা এবং সংবাদমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।