ঢাকা ১১ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাংলাদেশ-ভারত লড়াই আজ শুধু ভালো খেলা নয়, আমাদের লক্ষ্য জেতা: আনচেলত্তি দুদক পুনর্গঠনে আলোচনায় যাদের নাম সংকটে দেশের নারী উদ্যোক্তারা সিন্ডিকেটে বিপর্যস্ত খুলনার স্বাস্থ্য প্রশাসন বরিশালে দুই-তৃতীয়াংশ তরুণী সাইবার বুলিংয়ের শিকার ডেমোক্র্যাটদের প্রাইমারিতে মামদানি সমর্থিতদের জয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শিথিলতায় বেপরোয়া অপরাধীরা নিয়োগের পরও ক্লাস নিতে বাধা! এবার ব্রাজিলে খেলতে চান কেপ ভার্দের ভোজিনহা কৃষকের অপর্যাপ্ত জ্ঞানে অপচয় হচ্ছে বিপুল সার পরমাণু পরিদর্শন ও জব্দ সম্পদ নিয়ে ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বন্দ্ব বর্ষায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নানামুখী ঝুঁকি তথ্য দিতে ঠিকাদারের অনুমতি চাইলেন প্রকৌশলী! খাগড়াছড়িতে দুই ইউপিডিএফ কর্মী নিহত ২৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক আজ বর্ষার জলমোরগ জার্মানির টানা তিন জয়ের মিশন ভেনেজুয়েলায় ১ মিনিটের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প এফ গ্রুপে শেষ রাউন্ডের মহারণ, লড়াই নকআউটে যাওয়ার ২৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কে? ৬ গোলের ম্যাচে হাইতিকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে মরক্কো স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ব্রাজিল অস্ট্রেলিয়া-প্যারাগুয়ে মহারণ, যুক্তরাষ্ট্রের চোখ গ্রুপ চ্যাম্পিয়নে ৯৮১ দিনের অপেক্ষা শেষে ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরলেন নেইমার মরক্কো-হাইতি ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৪ গোল ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে ব্রাজিল

মেয়ে সেজে গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, আটক দুই ভাই

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:৫৬ এএম
মেয়ে সেজে গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, আটক দুই ভাই
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের বাজারপাড়া এলাকায় মেয়ে সেজে বোরকা পরা অবস্থায় দুই সহোদরকে আটক করে স্থানীয়রা। গত সোমবার ডাকাত সন্দেহে তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটকরা হলেন- কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়া পালং পেঁচার দ্বীপ এলাকার সৈয়দ হোসেন প্রকাশ বাহাদুর (৩০), আবুল হোসেন (২৫)। তারা বাহারছড়া ইউনিয়নের ঢালায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

স্থানীয়রা জানান, রাতে দুই ব্যক্তি মেয়ে সেজে বোরকা পরা অবস্থায় বাহারছড়া বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এ সময় তাদের ধাওয়া করে গণপিটুনি দিয়ে বাজারে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তাদের ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। তাদের পরিকল্পনা ছিল টমটম ভাড়া করে মেরিন ড্রাইভ সড়কে নিয়ে সেটি ছিনতাই করার।

বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘রাতে বাহারছড়া বাজার এলাকায় বোরকা পরা অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। তারা ডাকাতি, অপহরণসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।  এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

সিন্ডিকেটে বিপর্যস্ত খুলনার স্বাস্থ্য প্রশাসন

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
সিন্ডিকেটে বিপর্যস্ত খুলনার স্বাস্থ্য প্রশাসন
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একের পর এক বদলি-পদায়নে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে চলতি দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন ২০ ঘণ্টার মধ্যে দপ্তরের হিসাবরক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারীসহ ১৫ জনকে বদলি ও পদায়ন করে সমালোচনার জন্ম দেন। এতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বদলির আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। 

স্বাস্থ্য দপ্তরের একাধিক কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের ‘পিএ’ পরিচয় দেওয়া মুকুল হোসেন বর্তমানে বদলি-পদায়নের ফাইল নিয়ন্ত্রণ করছেন। এই সিন্ডিকেটে আরও রয়েছেন পরিচালকের পারসোনাল সিকিউরিটি পরিচয় দেওয়া ইমদাদুল ইসলাম, পরিচালকের দপ্তরে হিসাবরক্ষকের চলতি দায়িত্বে যোগ দেওয়া শাহারিয়ার আলম রাসেল এবং পরিচালকের দপ্তরে প্রেষণে দায়িত্বে যোগ দেওয়া খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সফিউর রহমান। মুকুল ও ইমদাদুল স্বাস্থ্য দপ্তরের কোনো কর্মচারী নন। এই দুজনের বেতন-ভাতা পরিচালকের নিজের পকেট থেকে দেওয়া হয়।

কর্মচারীরা জানান, গত ১৯ মে পরিচালক কর্মস্থলে যোগ দিতে এলে এই চারজনও একই সঙ্গে অফিসে আসেন। পরদিন ২০ মে তারা একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। ওই বৈঠকের পরই একসঙ্গে ১৫ জনকে বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়। 

এর মধ্যে অবসরের ছয় কর্মদিবস আগে প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাতাব হোসেনকে প্রেষণে জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তরের হিসাবরক্ষক বাবুল হোসেনকে চিতলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, প্রধান সহকারী শওকত হোসেনকে দাকোপ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, উচ্চমান সহকারী মাসুম বিল্লাহকে ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং প্রধান সহকারী মাছুম বিল্লাহকে চুয়াডাঙ্গায় বদলি করা হয়।

বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তরে কর্মরত দুই আউটসোর্সিং কর্মী, নিরাপত্তা প্রহরী সাগর হাওলাদার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী শাওন কুমার বিশ্বাসকে সরকারি কর্মচারীদের মতো দাপ্তরিক স্মারক ও অফিস আদেশে বদলি করা হয়।

বহিরাগতরা নিয়ন্ত্রণ করছে অফিস

গত ১৩ জুন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ থেকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক দপ্তরের ঠিকানায় মুকুলের কাছে কুরিয়ারে বদলির সুপারিশসংবলিত একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে অফিসজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাফুর রহমান বলেন, ‘মুকুল স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মচারী না হলেও বদলির বিষয়টি তিনিই দেখছেন। চিঠিতে নড়াইল থেকে একজন মেডিকেল অফিসারকে সাতক্ষীরায় বদলির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। পরিচালকের মাধ্যমে তিনি কাজটি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’

সরেজমিনে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরে গেলে পরিচালকের সঙ্গে মুকুল ও ইমদাদুলকে একই গাড়ি থেকে নামতে দেখা যায়। ইমদাদুল ইসলাম জানান, তিনি পরিচালকের পারসোনাল সিকিউরিটি। তিনি সব সময় তার সঙ্গে থাকেন। প্রতি মাসের বেতনও তিনি দেন। 

জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের অধীনে পোর্ট হেলথ অফিস, বিভাগীয় পরিচালকের অফিস, মেডিকেল সাব-ডিপো ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ৪৬ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী রয়েছেন। সিন্ডিকেটের কারণে কয়েকজনকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কারো কাছে বেতনের অর্ধেক টাকা ঘুষ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। আবার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নতুন লোক নিয়োগের চেষ্টারও অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মচারীরা বলছেন, এভাবে বহিরাগতরা খুলনা স্বাস্থ্য দপ্তর নিয়ন্ত্রণ করছেন। এতে দপ্তরের গোপন নথি ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি, স্বাস্থ্য দপ্তরে চাকরি করতে হলে মুকুল ও ইমদাদুলের সঙ্গে সখ্য রেখে চলতে হয়। সুসম্পর্ক না থাকলে রোষানলে পড়ে বদলি হতে হয়।

নিজস্ব বলয় তৈরির অভিযোগ

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে নিজস্ব বলয় তৈরির অভিযোগও উঠেছে। তিনি এর আগে পোর্ট হেলথ অফিসার হিসেবে খুলনার খালিশপুরে কর্মরত ছিলেন।

নিজস্ব বলয় তৈরি করতে ফকিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শাহারিয়ার আলম রাসেলকে বিভাগীয় পরিচালক দপ্তরে হিসাবরক্ষকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। একইভাবে খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সফিউর রহমানকে পরিচালকের দপ্তরে প্রেষণে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া খুলনা বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রধান সহকারী শামীম আহসানকেও একইভাবে পরিচালকের দপ্তরে পদায়ন করা হয়। পরিচালকের যোগদানের পর হঠাৎ বদলি ও পদায়নে খুলনার স্বাস্থ্য খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সদ্য অবসরে যাওয়া স্বাস্থ্য দপ্তরের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাতাব হোসেন বলেন, ‘নতুন পরিচালক যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের বদলি করা হয়। একদিন বদলির চিঠি গোপন রেখে ২১ মে বদলি আদেশের সঙ্গে ছাড়পত্রও দেওয়া হয়। প্রথা অনুযায়ী চাকরির এক বছর থাকতে কাউকে বদলি করা হয় না। কিন্তু মাত্র ছয় কর্মদিবস বাকি থাকতে আমাকে হয়রানিমূলকভাবে বদলি করা হয়েছে।’

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যারা বিগত দিনে অনিয়ম-দুর্নীতি করেছে, তাদের বদলি করা হয়েছে। আর আউটসোর্সিং কর্মীকে বদলির বিষয়টি ভুল হয়েছে। অফিসে কাজ করলে ভুল হতেই পারে। ভুল ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করা হয়েছে।’

নিয়োগের পরও ক্লাস নিতে বাধা!

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
নিয়োগের পরও ক্লাস নিতে বাধা!
তারাকান্দা সরকারি ডিগ্রি কলেজ

দুই বছর পাঁচ মাস ধরে বেতন নেই। সংসার চলছে ধারদেনা করে। এই সময়ের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওপেন হার্ট সার্জারিও করাতে হয়েছে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির আদেশে পুনরায় নিয়োগও মিলেছে। কিন্তু তারপরও শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারছেন না ময়মনসিংহের তারাকান্দা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. ছাইদুল হক। প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রপতির আদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন শিক্ষককে কেন এখনো ক্লাস নিতে দেওয়া হচ্ছে না? 

কলেজ সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, একটি চেকসংক্রান্ত মামলার কারণে সরকারি কলেজে আত্তীকরণ প্রক্রিয়ায় ছাইদুল হকের নিয়োগ স্থগিত হয়ে যায়।

এরপর থেকে তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েন। মাঝেমধ্যে কলেজে গেলেও তাকে ক্লাস নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বন্ধ হয়ে যায় বেতন-ভাতাও। দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর কোনো বেতন না পেয়ে তিনি ও তার পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। তবে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মামলাটি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলে দায়রা জজ আদালত তাকে খালাস দেন। পরদিন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষও দায়িত্ব থেকে সরে যান। এরপর নতুন করে শুরু হয় ছাইদুল হকের চাকরিতে ফেরার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

নথি অনুযায়ী, কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মোস্তাক মো. জাকারিয়া সরকারের মাধ্যমে ছাইদুল হকের আবেদন শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) যাচাই-বাছাই শেষে তার পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বিষয়টি আইন ও নিরীক্ষা শাখায় পাঠায়। সেখানেও যাচাই-বাছাই শেষে তাকে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে মত দেওয়া হয়।

সব শেষে চলতি বছরের ১৬ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-৫ শাখা থেকে উপসচিব কাজী নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ছাইদুল হককে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পরও বাস্তবে কলেজের শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারেননি ছাইদুল হক। তিনি বলেন, ‘আমার এমপিও হয়েছিল ২০০২ সালে। প্রায় ২৪ বছর ধরে চাকরি করেছি। মামলার বিষয়টি আদালত নিষ্পত্তি করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও সব যাচাই-বাছাই শেষে আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। আমি নিয়মিত কলেজে যাচ্ছি। কিন্তু এখনো ক্লাস নিতে দেওয়া হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেতন বন্ধ হওয়ার পর থেকে আমি শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও পারিবারিকভাবে বিপর্যস্ত। এই সময়ে আমার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, ওপেন হার্ট সার্জারি করতে হয়েছে। অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে জীবন প্রায় বিপন্ন হয়ে পড়েছিল।’

তারাকান্দা সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, ছাইদুল হকের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো মামলা নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও তাকে পুনরায় নিয়োগ দিয়েছে। ফলে তার শ্রেণিকক্ষে ফেরার ক্ষেত্রে আইনি বা প্রশাসনিক বাধা থাকার কথা নয়।

কলেজের আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মজিবুর রহমান খান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির আদেশে নিয়োগ পাওয়ার পরও ক্লাস নিতে না পারাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তি বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটি পরিষ্কার নয়।’

শিক্ষাবিদ লে. কর্নেল (অব.) ড. মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘কোনো শিক্ষককে পুনর্নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জারি হলে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। সে ক্ষেত্রে বিলম্বের যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।’

কলেজের অধ্যক্ষ আফাজ উদ্দিন বলেন, ‘ছাইদুল হক শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারবেন–এমন কাগজপত্র আমরা পেয়েছি। তবে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি ক্লাস নিতে পারবেন।’

তথ্য দিতে ঠিকাদারের অনুমতি চাইলেন প্রকৌশলী!

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
তথ্য দিতে ঠিকাদারের অনুমতি চাইলেন প্রকৌশলী!
ছবি: উপসহকারী প্রকৌশলী শাহ কামাল

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতাধীন প্রকল্পের তথ্য চাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি বিতর্কিত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের সামনে বসেই একজন ঠিকাদারের কাছে তথ্য দেওয়ার বিষয়ে অনুমতি চাইতে দেখা গেছে এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ কামালকে। গত মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এডিপির আওতায় সম্প্রতি আহ্বান করা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র ও চলমান কাজের বিস্তারিত তথ্য জানতে সাংবাদিকরা উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে যান। তবে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে না থাকায় তারা উপসহকারী প্রকৌশলী শাহ কামালের কক্ষে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদনপত্র পূরণ করছিলেন।

এ সময় স্থানীয় এক ঠিকাদার ওই কক্ষে প্রবেশ করলে সাংবাদিকদের সামনেই শাহ কামাল তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ওনারা এস্টিমেট চেয়ে আবেদন করেছেন, আপনাদের তো আপত্তি নেই।’ তার এই মন্তব্যে উপস্থিত সবাই বিস্মিত হন। সরকারি প্রকল্পের তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে ঠিকাদারের অনুমতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

জানা গেছে, শ্রীবরদী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের অধীনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করা হয়। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে কাজ বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের ব্যয়, নকশা, এস্টিমেট ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য জানতে চান গণমাধ্যমকর্মীরা।

এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী শাহ কামাল মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আপনি অফিসে আসেন, কথা বলছি।’ অন্যদিকে সরকারি প্রকল্পের তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে ঠিকাদারের অনুমতি নেওয়া যৌক্তিক কি না, জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদারের অনুমতি লাগবে না। তিনি হয়তো নিয়মটি জানেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এত প্যাঁচানোর দরকার নেই। তথ্য অধিকার আইনের নির্ধারিত ফরমে নিয়মানুযায়ী আবেদন করলেই তথ্য পাওয়ার কথা।’

খাগড়াছড়িতে দুই ইউপিডিএফ কর্মী নিহত

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
খাগড়াছড়িতে দুই ইউপিডিএফ কর্মী নিহত
ছবি: সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির পৃথক স্থানে গোলাগুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ) দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (২৪ জুন) সকালে রামগড় উপজেলার প্রেমতলা এলাকা ও দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের মুরোপাড়া এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ববিন ত্রিপুরা (৩২) ও সুজন চাকমা (৪৮)।

এই দুই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইউপিডিএফ পৃথক বিবৃতি দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, রামগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় এবং দীঘিনালায় জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের আক্রমণে তাদের দুই কর্মী নিহত হয়েছেন।

পুলিশ, ইউপিডিএফ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে রামগড় উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের সদস্য ববিন ত্রিপুরা (৩২) নিহত হন। এ ঘটনায় মংসানু মারমা ওরফে জীবন (২৯) আহত এবং নিখোঁজ রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করেছে। 

অন্যদিকে একই দিন দুপুরে বাবুছড়া ইউনিয়নের মুরোপাড়া এলাকায় গুলিতে ইউপিডিএফ সদস্য সুজন চাকমা (৪৮) নিহত হন। ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ এ হত্যার জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছে। তবে এ বিষয়ে ওই সংগঠনটির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার জানান, একটি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত সুজন চাকমাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দুই নারীকে কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দুই নারীকে কারাদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে দালাল বিরোধী অভিযানে দুই নারীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান অভিযানটি পরিচালনা করেন।

অভিযানে দিলরুবা সুলতানা ও পলি আক্তারকে আটক করা হয়। পরে ওই দুই নারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রতারণার মাধ্যমে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ভালো চিকিৎসার কথা বলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতো তারা। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালানো হয়। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেনসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

ফয়সাল/এএফ