ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুমিল্লায় সোনার বাংলা ট্রেনের ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের ৪ বগি লাইনচ্যুত বেলকুচিতে টিফিনের পাউরুটি খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাবিতে বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি কসম ভঙ্গ করার পর শুধু মুখে দুঃখিত বলা কি যথেষ্ট? ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলার ঋণ নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: যুবদল নেতা জিয়া তিন বছরের ভিক্ষার সঞ্চয় লুট, নিঃস্ব বৃদ্ধ নূর আলম পার্শ্ববর্তী দেশের বৈষম্যে আমাদের দেশের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে: ত্রাণমন্ত্রী কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাজ ছয় মাসে শেষ হবে: সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এনসিসি ব্যাংক এর ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ৩ শিশুসহ ৯ জনের সীমান্তে মানবেতর জীবন ভোলার আদালতের এজলাসে বাদীর বিষপান আমাকে কখনোই জোর করে এসব করতে বাধ্য করা হয়নি: তামান্না প্রকাশ রাজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কৃষি বিপণন কৃষকদের দ্বারগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া উচিত জামালপুরে অটোরিকশা চালককে হত্যা, গ্রেপ্তার ৬ গ্রামীণফোনের কাছেই সর্বোচ্চ বকেয়া, মোট পাওনা ১৩ হাজার কোটি টাকা: টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে শীঘ্রই সুখবর আসবে: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মানিকগঞ্জ মেডিকেলের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অনিয়ম, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের ক্ষোভ গাইবান্ধায় শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর-আগুন সরকারি বাসস্থান সংকটে ভোগান্তিতে খোকসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: একজন মননশীল লেখকের প্রতিভূ আর্জেন্টিনার জার্সি পরে বাজারে এলে কেজিতে ১০ টাকা ছাড় পতেঙ্গায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানে দুই পাচারকারী আটক কোরআনে বর্ণিত আশুরার সেই বিস্ময়কর ইতিহাস চীনের অপটিক্যাল যোগাযোগ প্রযুক্তির নতুন কেন্দ্র সুচৌ বিশ্ববাজারে চীনা থ্রিডি প্রিন্টারের রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে দিনাজপুরে কেঁচো সার উৎপাদনে স্বাবলম্বী উদ্যোক্তারা আবারও বিশ্বকাপে মাঠে ফিরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন রাফিনিয়া তরুণদের স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে রংপুরে অংশীজনদের মতবিনিময়

মানিকগঞ্জ মেডিকেলের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অনিয়ম, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের ক্ষোভ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
মানিকগঞ্জ মেডিকেলের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অনিয়ম, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের ক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ হোসেন।

হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি, মেডিসিন, এমআরআই, সিটি স্ক্যান ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিভাগ পরিদর্শন করেন ডা. জাহিদ হোসেন। এ সময় বিভিন্ন পরীক্ষার যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে রোগীরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রকল্পের আওতায় যন্ত্রপাতি কেনাকাটার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, 'এখানে যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় শতভাগ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে কেনা অধিকাংশ যন্ত্রপাতিই ব্যবহার না হয়ে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এতে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'হাসপাতালের নষ্ট যন্ত্রপাতিগুলো দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য জনবল বাড়ানোর বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

পরে দুপুরে তিনি মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে প্যাথলজি বিভাগের রক্ত পরীক্ষার জন্য কেনা একটি পিভিসি মেশিন বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হওয়াকে তিনি দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলে উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌস, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বাহাউদ্দিনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আসাদ জামান/আমান

বেলকুচিতে টিফিনের পাউরুটি খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
বেলকুচিতে টিফিনের পাউরুটি খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ
অসুস্থ হয়ে শিক্ষার্থীরা বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে/ ছবি: খবরের কাগজ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে টিফিনের পাউরুটি খেয়ে একই স্কুলের ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।

বুধবার ( ২৪ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ে দুপুরের নাস্তা হিসেবে পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করা হয়েছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, পাউরুটিতে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ ছিল। খাবার খাওয়ার পরেই তাদের পেটব্যথা, বমি বমি ভাব ও শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো— রাকিবুল হাসান (৩য় শ্রেণি), আতিকুর রহমান (৩য় শ্রেণি), মরিয়ম খাতুন (৫ম শ্রেণি), সোহান শেখ (৩য় শ্রেণি), মারিয়া খাতুন (৪র্থ শ্রেণি), আওলিয়া খাতুন (৫ম শ্রেণি), তানিয়া খাতুন (৩য় শ্রেণি), এবং মরিয়ম খাতুন (৫ম শ্রেণি)।

বেলকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, দুপুর ১২টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়। প্রতিদিনের মতো আজ নাস্তা বিতরণের পর ৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা দ্রুত তাদের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।”

বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুদীপ সরকার বলেন, “দুপুরের দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা পর্যবেক্ষণে রয়েছে। নাস্তা হিসেবে বিতরণ করা পাউরুটির নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, “১২৯ নম্বর বেলকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাস্তা খেয়ে অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে আমি দ্রুত হাসপাতালে যাই। সেখানে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছি এবং চিকিৎসার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। একই সঙ্গে বিতরণকৃত খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। আমাদের সন্তানদের ভালোভাবে লেখাপড়া করানোর জন্য স্কুলে পাঠাই। বিদ্যালয়ের খাবার খেয়ে যদি শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমরা চাই, শিশুদের জন্য সরবরাহ করা সব খাবার কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে বিতরণ করা হোক।”

তারা আরও বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন খাদ্যের মান নিশ্চিত করে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।”

এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা পাউরুটির উৎস ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে গাক এনজিও ও কার্নেল বেকারির সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমি দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছি এবং চিকিৎসার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। একই সঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

ঘটনার পর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছেন। পরীক্ষাগারের রিপোর্ট ও তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আল-আমিন/এএফ

তিন বছরের ভিক্ষার সঞ্চয় লুট, নিঃস্ব বৃদ্ধ নূর আলম

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
তিন বছরের ভিক্ষার সঞ্চয় লুট, নিঃস্ব বৃদ্ধ নূর আলম
নূর আলম। ছবি: খবরের কাগজ

জীবনের শেষ প্রহরে একটু নিশ্চিন্তে বাঁচার স্বপ্ন ছিল বৃদ্ধ নূর আলমের। তিন বছর ধরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে কষ্টের পয়সা জমিয়েছিলেন। আশা ছিল, জমানো অর্থ নিয়ে ফিরে যাবেন গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগমুহূর্তেই এক প্রতারকের ফাঁদে পড়ে হারিয়েছেন প্রায় দেড় লাখ টাকার সঞ্চয়। মুহূর্তেই ভেঙে গেছে জীবনের শেষ সম্বল। সর্বস্ব হারিয়ে এখন অসহায় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে বৃদ্ধ নূর আলমের।

সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লার একটি ভাড়া বাসায় থাকেন নূর আলম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বরিশাল থেকে সাভারে এসেছিলেন। শুরু করেছিলেন সবজির ব্যবসা। ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছিল তার জীবন।

কিন্তু তিন বছর আগে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেলে সংসারে তিনি বোঝা হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে পরিবারের সঙ্গ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। জীবিকার তাগিদে বেছে নিতে হয় ভিক্ষাবৃত্তি।

নূর আলম জানান, প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে সামান্য টাকা পেতেন, তা খরচ না করে স্থানীয় এক মুদি দোকানির কাছে জমা রাখতেন। এভাবে তিন বছরে প্রায় দেড় লাখ টাকা সঞ্চয় করেন। সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি জমা রাখা টাকা ফেরত নেন।

তার ভাষ্য, টাকা নিয়ে বাসায় ফেরার কিছুক্ষণ পর শামীম নামে এক যুবক তাকে খাবার খাওয়ানোর কথা বলে বাইরে ডেকে নেয়। পরে সুযোগ বুঝে তার কাছ থেকে পুরো টাকাই নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় মুদি দোকানি লিটন বলেন, নূর আলম দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ভিক্ষার টাকা জমা রাখতেন। গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা জানিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তিনি জমা রাখা অর্থ বুঝিয়ে দেন। পরে শুনতে পান, সেই টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর নূর আলম সাভার মডেল থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এসএন/

৩ শিশুসহ ৯ জনের সীমান্তে মানবেতর জীবন

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
৩ শিশুসহ ৯ জনের সীমান্তে মানবেতর জীবন
ছবি : খবরের কাগজ

১৬ ঘণ্টা ধরে শূন্য রেখায় অবস্থান করছে বিএসএফের ঠেলে দেয়া শিশু নারীসহ ৯ জন। দিনভর খোলা আকাশের নিচে তীব্র রোদ-গরেমেই বসেছিলেন তারা।

বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা অবধি তাদের বিষয়ে কোন সূরা হয়নি। 

বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দু'দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু বিএসএফের গাফিলতিতে দিন পেরিয়ে গেলেও সেই বৈঠক আর হয়নি। ছেলে দেয়া ওই ৯ জন এখনো নমেনসল্যান্ডে অবস্থান করছেন। ভারতীয় শূন্যরেখায় তারা অবস্থান করায় তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, এ ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ অংশে বিজিবি সদস্যরা তাদের অবস্থান বাড়িয়েছে। যাতে অবৈধভাবে কেউ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে। জানান, ঠেলে দেয়া এই ৯ জন তাদের কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ভারত অংশেই থাকবেন।

এদিকে পুশইনের ঘটনায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সীমান্তের গরম পরিস্থিতিতে কৃষি, পশু পালনসহ প্রাত্যহিক কাজকর্ম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সীমান্তের আশপাশে গেলেই বিএসএফের রক্তচক্ষু  দেখতে হয় তাদের।

পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, ভোর রাতে পুশইনের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশ অংশে বিজিবি বিএসএফ অবস্থান নিয়ে আছেন। তাতে করে গ্রামের লোকজন ধান কাটাসহ অন্যান্য কাজকর্মে যেতে পারছেন না। পরিস্থিতির সান্তনা হওয়া পর্যন্ত সীমান্তের আশপাশে যেতে ভয় পাচ্ছেন তারা।

বলেন, ভোর থেকেই ওই ৯ জন খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। খাবার বা পানি কোন কিছুই তাদের সাথে নেই। খুব মানবেতর অবস্থায় তারা রয়েছে। তাদের সঙ্গে তিনটি শিশু আছে। এই তপ্ত রোদের মধ্যে এভাবে থাকলে বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই এই সীমান্ত সমস্যার সমাধান যেনো দ্রুত ই করা হয়। 

এসএন/

ভোলার আদালতের এজলাসে বাদীর বিষপান

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
ভোলার আদালতের এজলাসে বাদীর বিষপান
ছবি: খবরের কাগজ

ভোলায় একটি মামলার শুনানিকালে আদালতের আদেশ ভুল বুঝে এজলাসে দাঁড়িয়ে বিষপান করেছেন তারাভানু (৩৫) নামে এক নারী।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে ভোলা জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ রায় মিঠুর আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

তারাভানু বোরহানউদ্দিন উপজেলার ছোট মানিকা গ্রামের বাসিন্দা এবং বাহার উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি স্বামীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছিলেন।

ভোলা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক শেখ মো. নাসির উদ্দিন জানান, বুধবার মামলাটির শুনানির তারিখ ছিল। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে বাদী তারাভানু এজলাসে দাঁড়িয়ে ব্যাগ থেকে তরল জাতীয় একটি পদার্থ বের করে পান করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আদালত সূত্র ও উপস্থিত আইনজীবীরা জানান, মামলাটির চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিচারক মামলার এক নম্বর আসামি বাহার উদ্দিনকে মামলায় রেখে অপর দুই আসামিকে অব্যাহতি দেন। তবে আদালতের আদেশ ভুল বুঝে তারাভানু মনে করেন, তার স্বামীকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে হতাশ হয়ে তিনি এজলাসেই বিষপান করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের জামালপুরের মেয়ে তারাভানু প্রায় ১৪ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ছোট মানিকা গ্রামের কাভার্ড ভ্যানচালক বাহার উদ্দিনকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে তারাভানু সৌদি আরব ও পরে কাতারে প্রায় পাঁচ বছর প্রবাসজীবন কাটান। এ সময়ে উপার্জিত অর্থ স্বামীর কাছে পাঠাতেন। ২০২৩ সালে দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার পাঠানো অর্থ দিয়ে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়।

পরিবারের দাবি, দেশে ফেরার পর দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বিষয়ে কথা বললে বিভিন্ন সময় তারাভানুর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায় তারাভানুকে তালাক দেওয়ার কথা বললে স্বামীর বাড়ি ছোট মানিকায় তার উপর হামলা করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে তিনি স্বামী বাহার স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রীর সার্থী, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মিসির খাঁ ও মা নুর নাহারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আজ মামলার রায়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা ও মাকে আদালত অব্যহতী প্রদান করেন।

ভোলা বারের আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, বিষয়টি আকর্ষীক ঘটনা। মামলার শুনানি ছিল। তারাভানু ও তার স্বামী বাহার উদ্দিনের মধ্যে চলমান পারিবারিক মামলার শুনানি আজ বুধবার  অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির এক পর্যায়ে বাহার উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা-মায়ের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। বিষয়টি তারাভানু সঠিকভাবে বুঝতে না পেরে বা আবেগপ্রবণ হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে এসিড পান করেন বলে জানা গেছে।

এ ধরনের পদক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগও ছিল। এমন ঘটনা আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করার পাশাপাশি একটি বিব্রতকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি করে।
ঘটনাটি আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিকেও নতুন করে সামনে এনেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা ও তল্লাশি ব্যবস্থার বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আরিফুর রহমান বলেন, তারাভানু নামে বিচারপ্রার্থী এক নারী আদালতে এসে এসিড পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এ ধরনের ঘটনা আদালতের পরিবেশ ও বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আদালত প্রাঙ্গণে এসিডের মতো বিপজ্জনক পদার্থ নিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও ছিল। এতে বিচারক, আইনজীবী, আদালতকর্মী ও বিচারপ্রার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারতেন।

তিনি আরও বলেন, আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এতে বিচারক, আইনজীবী, আদালতকর্মী ও বিচারপ্রার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা ও বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ পাবেন।

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ জুনায়েদ হোসেন জানান, তাকে দ্রুত হাসপাতালে এনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

ইমতিয়াজুর রহমান/নাঈম

কৃষি বিপণন কৃষকদের দ্বারগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া উচিত

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
কৃষি বিপণন কৃষকদের দ্বারগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া উচিত
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আঞ্চলিক বিপণন কর্মশালা আয়োজন করেছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম। এতে কৃষি বিপণন কৃষকদের দ্বারগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেন কর্মকর্তারা।  

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব এম এম আরিফ পাশা। তিনি বলেন, কৃষি বিপণন কৃষকদের দ্বারগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া উচিত। কৃষকরা পণ্য উৎপাদন করে দেশের অগ্রযাত্রায় অনন্য ভুমিকা পালন করছে। কিন্তু কৃষকরা এর ন্যায্যমূল্য পান না। কৃষিপণ্যর ন্যায্যমূল্য কৃষকদের পাওয়া উচিত। 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফারুক এবং চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন হোসেন। কর্মশালায় কৃষি বিভাগের বিভিন্ন উইংয়ের কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, কৃষক, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, আড়তদার ও রপ্তানিকারকসহ শতাধিক অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পার্টনার প্রকল্পের আওতায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ও ইফাদের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এছাড়া কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উদ্যোগে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার নারী ও যুবককে অন-দ্য-জব প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ইনকিউবেটর সাপোর্টও প্রদান করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিদর্শন করেন।

এসএন/