সিলেটে দুই দিনে পৃথক দুটি অভিযানে পাথরবাহী ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৪৮৪ বস্তা চোরাই চিনি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আটক ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুর ও ওসমানীনগর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা হয়েছে।
গত সোম (২৮ অক্টোবর) ও মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) রাতে সিলেটের জৈন্তাপুর এবং ওসমানীনগর থানা পুলিশ চোরাই চিনি জব্দ করে। জৈন্তাপুরের ঘটনায় বুধবার (৩০ অক্টোবর) দায়ের করা মামলায় আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগের দিন মঙ্গলবার ওসমানীনগরের ঘটনায় মামলা হয় এবং আটক চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জৈন্তাপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শংকর চন্দ্র দেবের নেতৃত্বে পুলিশ দল চেকপোস্ট বসায়। এ সময় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে পাথরচাপা দিয়ে রাখা ১৮৪ বস্তা ভারতীয় চিনি জব্দ করে। পুলিশ সেখানে চোরাই চিনি পরিবহনের দায়ে ট্রাকচালক রকি বাবু (২৬) ও তার সহকারী সাব্বির হোসেনকে (১৯) আটক করে। জব্দ করা চিনির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩১ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক দুজনসহ পলাতক একজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে। আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে গত সোমবার রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পাথরবাহী ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ২৮০ বস্তা চোরাই চিনি জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় ট্রাকসহ চারজনকে আটক করা হয়। চিনি চোরাচালানের দায়ে মামলা করা হলে আটক মোতালেব মণ্ডল (৩০), বিপ্লব হাসান (২০), আমিনুল ইসলাম (২৮) ও স্বরজিত মোহন চন্দ্রকে (৪০) গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া জানান, সোমবার রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন নজরদারিতে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। ওসমানীনগর থানার সামনে চেকপোস্টে পাথরবাহী ট্রাকটিতে তল্লাশি করে চিনি জব্দ করে জড়িত চারজনকে আটক করা হয়। ২৮০ বস্তায় ১৪ হাজার কেজি চিনি ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।