বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দীর্ঘ ২০ মাস পর আবারও ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে চালবোঝাই তিনটি ট্রাক বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিফমেন্ট ইয়ার্ডে প্রবেশ করেছে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, যশোরের মেসার্স মাহাবুবুল আলম ফুড প্রোডাক্ট নামের এক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রথম চালানে তিনটি ট্রাকে ১০৫ টন (এক লাখ পাঁচ হাজার কেজি) নন বাসমতি চাল আমদানি করেছে। ভারতের বর্ধমান থেকে এসব চাল বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে। একই আমদানিকারকের আরও ১০০ টন চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব চালের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাধুরাম আয়াতনিরাত প্রাইভেট লিমিটেড।
আমদানিকারকের পক্ষে এসব চাল খালাসের জন্য কাস্টমস হাউসে প্রযোজনীয় ডকুমেন্টস সাবমিট করেছে বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট হোসেন অ্যান্ড সন্স।
সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট হোসেন অ্যান্ড সন্সস এর ম্যানেজার কাজল হোসেন বলেন, 'ভারত থেকে আমদানি করা চালের আমদানি মূল্য ৪৫ হাজার ১৫০ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় ৫৪ লাখ ১৮ হাজার। যা পরিবহন ও অন্যান্য খরচসহ প্রতি কেজি চাল আমদানিতে প্রায় ৫২ টাকা খরচ পড়েছে। এসব চাল পাইকারি বাজারে ৫৪- ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হবে বলে আমদানিকারকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সোমবার বিকেলে এই চালের চালানটি বেনাপোল বন্দর থেকে খালাস নেওয়া হবে।'
আমদানিকারকরা জানান, দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম সহনীয় রাখতে চাল আমদানিতে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করেছে সরকার। আমদানি শুরু হওয়ায় দেশের বাজারে চালের দাম কমবে বলে জানান ব্যাবসায়ীরা। তারা জানান, ২৪ জন আমদানিকারকের মধ্যে যশোর এলাকার ১২ জন আমদানিকারক ৭৩ হাজার সিদ্ধ ও ১৯ হাজার আতপ চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে। সবাই চাল আমদানি করতে পারবে কিনা সন্দেহ ব্যবসায়ীদের। কারণ আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সমুদয় চাল আমদানি করে বাজারজাত করা সম্ভব নয়।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, 'মেসার্স মাহাবুবুল আলম ফুড প্রোডাক্ট নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রথম চালানে ১০৫ টন চালের আইপি সার্টিফিকেট নিয়েছেন। এই আমদানিকারকের আরও ১০০ মেট্রিক টন চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের কথা রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের শর্তে বলা হয় বরাদ্দপ্রাপ্ত আমদানিকারকদের আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সমুদয় চাল বাংলাদেশে বাজারজাত করতে হবে।'
বেনাপোল বন্দরের ডিরেক্টর মামুন কবীর তরফদার জানান, কাস্টমস থেকে শুল্কায়নের পর কাগজপত্র দেখে দ্রুত খালাস দেওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৩ মার্চ এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি হয়েছিল।
নজরুল ইসলাম/জোবাইদা/