ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জামালপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু অনলাইন জুয়া এখন ফৌজদারি অপরাধ: অর্থমন্ত্রী ‘আওয়ামী লীগ পালাতে পেরেছে, বিএনপি-জামায়াত যাবে কই’ কুমিল্লায় সোনার বাংলা ট্রেনের ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের ৪ বগি লাইনচ্যুত বেলকুচিতে টিফিনের পাউরুটি খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাবিতে বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি কসম ভঙ্গ করার পর শুধু মুখে দুঃখিত বলা কি যথেষ্ট? ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলার ঋণ নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: যুবদল নেতা জিয়া তিন বছরের ভিক্ষার সঞ্চয় লুট, নিঃস্ব বৃদ্ধ নূর আলম পার্শ্ববর্তী দেশের বৈষম্যে আমাদের দেশের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে: ত্রাণমন্ত্রী কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাজ ছয় মাসে শেষ হবে: সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এনসিসি ব্যাংক এর ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ৩ শিশুসহ ৯ জনের সীমান্তে মানবেতর জীবন ভোলার আদালতের এজলাসে বাদীর বিষপান আমাকে কখনোই জোর করে এসব করতে বাধ্য করা হয়নি: তামান্না প্রকাশ রাজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কৃষি বিপণন কৃষকদের দ্বারগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া উচিত জামালপুরে অটোরিকশা চালককে হত্যা, গ্রেপ্তার ৬ গ্রামীণফোনের কাছেই সর্বোচ্চ বকেয়া, মোট পাওনা ১৩ হাজার কোটি টাকা: টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে শীঘ্রই সুখবর আসবে: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মানিকগঞ্জ মেডিকেলের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অনিয়ম, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের ক্ষোভ গাইবান্ধায় শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর-আগুন সরকারি বাসস্থান সংকটে ভোগান্তিতে খোকসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: একজন মননশীল লেখকের প্রতিভূ আর্জেন্টিনার জার্সি পরে বাজারে এলে কেজিতে ১০ টাকা ছাড় পতেঙ্গায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানে দুই পাচারকারী আটক কোরআনে বর্ণিত আশুরার সেই বিস্ময়কর ইতিহাস চীনের অপটিক্যাল যোগাযোগ প্রযুক্তির নতুন কেন্দ্র সুচৌ বিশ্ববাজারে চীনা থ্রিডি প্রিন্টারের রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে

সংকটে নিমজ্জিত চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৫৩ এএম
আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৫৯ এএম
সংকটে নিমজ্জিত চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ
স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় হাসপাতালের কয়েকটি কক্ষ নিয়েই চলছে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্যক্রম। ছবি: খবরের কাগজ

‘আমাদের নিজস্ব ক্যাম্পাস নেই। রয়েছে শিক্ষকের সংকট। আবাসিক হোস্টেল নেই তাই অস্থায়ীভাবে হাসপাতালের চিকিৎসক কোয়ার্টারে থাকতে হচ্ছে, তাও সবার জন্য সিট বরাদ্দ নেই। এসব সংকট খুব দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।’ অনেকটা হতাশার সুরেই নিজেদের সমস্যার কথাগুলো বলছিলেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অন্দ্রিলা দে পূজা।

অন্দ্রিলা দের অভিযোগের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের হোস্টেল নেই। তাই ক্যাম্পাসের বাইরে মেসে থাকতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতে সমস্যা হয়। আমাদের শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক ও লাইব্রেরির সংকট রয়েছে। এতে আমাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’

চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলার বাসিন্দাদের চিকিৎসার অন্যতম ভরসার স্থল ২৫০ শয্যার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালকে ২০১৮ সালে মেডিকেল কলেজে রূপান্তর করা হয়। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় কয়েকটি কক্ষ নিয়ে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। তবে পাঁচ বছরেও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হয়নি। রয়েছে অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকট। বলা যেতে পারে, নানা সংকটে নিমজ্জিত চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য চাঁদপুর শহরতলির ইসলামপুর গাছতলা মৌজার ডাকাতিয়া নদী-তীরবর্তী এলাকায় ৩০ দশমিক ১২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ১ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ৩২৫ জন পড়াশোনা করছেন। প্রথম পাঁচটি শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন করে ভর্তি করানো হলেও এবং সর্বশেষ শিক্ষাবর্ষে ৭৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রথম শিক্ষাবর্ষের ৩৮ শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা শেষ করেছেন। 

গত ২৮ জুলাই চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল অবকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য সরকার একজন পরিচালক ও একজন সহকারী পরিচালক নিয়োগ দেয়। স্থায়ী ক্যাম্পাস ও অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও সহকারী প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘নানা সমস্যা কাটিয়ে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করে। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা এবং বাকি টাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নার্সিং কলেজ, ছাত্র-ছাত্রী হল, ইন্টার্নি চিকিৎসক হল, ডক্টরস কোয়ার্টার, ডক্টরস ডরমেটরি, স্টাফ কোয়ার্টার, নার্সিং হোস্টেলসহ এই সম্পর্কিত ২৭ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়ন হবে।’

চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের বর্তমান সংকট নিয়ে ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমাদের কলেজে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। এখনো ২৩ জন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ জন্য নিজস্ব বিষয় ছাড়াও শিক্ষকদের অন্য বিষয়ে অতিরিক্ত পাঠদান করাতে হচ্ছে।’ 

চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেলা নাজনীন বলেন, ‘নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। এসব মেনেই আমাদের বর্তমান সামর্থ্য দিয়ে কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। অবকাঠামোগত ও শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে- এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে ধীরে ধীরে এসব সমস্যার সমাধান হবে। আমাদের মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা চিকিৎসক হয়ে এই হাসপাতালেই ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। যে কারণে হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক থাকছেন। সব সংকট কাটিয়ে শিগগিরই আমাদের কলেজ একটি পরিপূর্ণ মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত হবে।’

জামালপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:১২ পিএম
জামালপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে রুস্তম আলী (৪৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার ৫ নম্বর জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুস্তম আলী একই এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যার দিকে রুস্তম আলী মাঠে থাকা গরু বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য বের হন। তখন হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। তিনি গরু নিয়ে ফেরার পথে তার ওপরে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয় লোকজন তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় বলেন, বজ্রপাতে রুস্তম আলী নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আসমাউল আসিফ/নাঈম

কুমিল্লায় সোনার বাংলা ট্রেনের ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের ৪ বগি লাইনচ্যুত

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
কুমিল্লায় সোনার বাংলা ট্রেনের ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের ৪ বগি লাইনচ্যুত
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের গুণবতী ও হাসানপুর স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় পৃথকভাবে সোনার বাংলা ট্রেনের ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের ৪ বগি লাইনচ্যুত হওয়ায়, আপ ও ডাউন উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে ঢাকাসহ চট্টগ্রামের সঙ্গে সিলেট, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে দুটি ট্রেন দুর্ঘটনা কবলে পড়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়।

নাঙ্গলকোট স্টেশন মাস্টার জামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস গুণবতী স্টেশন অতিক্রম করে হাসানপুর স্টেশনের অদূরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে আপ লাইনে আটকা পড়ে।

এদিকে, সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকলের খবর পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ডাউন লাইন দিয়ে গুণবতী স্টেশন অতিক্রম করে হাসানপুরের দিকে যাওয়ার সময় মাঝপথে চার বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে দুই লাইনেই ট্রেন আটকা পড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের বিকল ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের জন্য চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন আসলেই উদ্ধার কাজ শুরু হবে।

জহির/নাঈম

বেলকুচিতে টিফিনের পাউরুটি খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
বেলকুচিতে টিফিনের পাউরুটি খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ
অসুস্থ হয়ে শিক্ষার্থীরা বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে/ ছবি: খবরের কাগজ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে টিফিনের পাউরুটি খেয়ে একই স্কুলের ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।

বুধবার ( ২৪ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ে দুপুরের নাস্তা হিসেবে পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করা হয়েছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, পাউরুটিতে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ ছিল। খাবার খাওয়ার পরেই তাদের পেটব্যথা, বমি বমি ভাব ও শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো— রাকিবুল হাসান (৩য় শ্রেণি), আতিকুর রহমান (৩য় শ্রেণি), মরিয়ম খাতুন (৫ম শ্রেণি), সোহান শেখ (৩য় শ্রেণি), মারিয়া খাতুন (৪র্থ শ্রেণি), আওলিয়া খাতুন (৫ম শ্রেণি), তানিয়া খাতুন (৩য় শ্রেণি), এবং মরিয়ম খাতুন (৫ম শ্রেণি)।

বেলকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, দুপুর ১২টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়। প্রতিদিনের মতো আজ নাস্তা বিতরণের পর ৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা দ্রুত তাদের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।”

বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুদীপ সরকার বলেন, “দুপুরের দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা পর্যবেক্ষণে রয়েছে। নাস্তা হিসেবে বিতরণ করা পাউরুটির নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, “১২৯ নম্বর বেলকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাস্তা খেয়ে অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে আমি দ্রুত হাসপাতালে যাই। সেখানে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছি এবং চিকিৎসার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। একই সঙ্গে বিতরণকৃত খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। আমাদের সন্তানদের ভালোভাবে লেখাপড়া করানোর জন্য স্কুলে পাঠাই। বিদ্যালয়ের খাবার খেয়ে যদি শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমরা চাই, শিশুদের জন্য সরবরাহ করা সব খাবার কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে বিতরণ করা হোক।”

তারা আরও বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন খাদ্যের মান নিশ্চিত করে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।”

এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা পাউরুটির উৎস ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে গাক এনজিও ও কার্নেল বেকারির সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমি দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছি এবং চিকিৎসার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। একই সঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

ঘটনার পর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছেন। পরীক্ষাগারের রিপোর্ট ও তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আল-আমিন/এএফ

তিন বছরের ভিক্ষার সঞ্চয় লুট, নিঃস্ব বৃদ্ধ নূর আলম

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
তিন বছরের ভিক্ষার সঞ্চয় লুট, নিঃস্ব বৃদ্ধ নূর আলম
নূর আলম। ছবি: খবরের কাগজ

জীবনের শেষ প্রহরে একটু নিশ্চিন্তে বাঁচার স্বপ্ন ছিল বৃদ্ধ নূর আলমের। তিন বছর ধরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে কষ্টের পয়সা জমিয়েছিলেন। আশা ছিল, জমানো অর্থ নিয়ে ফিরে যাবেন গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগমুহূর্তেই এক প্রতারকের ফাঁদে পড়ে হারিয়েছেন প্রায় দেড় লাখ টাকার সঞ্চয়। মুহূর্তেই ভেঙে গেছে জীবনের শেষ সম্বল। সর্বস্ব হারিয়ে এখন অসহায় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে বৃদ্ধ নূর আলমের।

সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লার একটি ভাড়া বাসায় থাকেন নূর আলম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বরিশাল থেকে সাভারে এসেছিলেন। শুরু করেছিলেন সবজির ব্যবসা। ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছিল তার জীবন।

কিন্তু তিন বছর আগে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেলে সংসারে তিনি বোঝা হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে পরিবারের সঙ্গ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। জীবিকার তাগিদে বেছে নিতে হয় ভিক্ষাবৃত্তি।

নূর আলম জানান, প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে সামান্য টাকা পেতেন, তা খরচ না করে স্থানীয় এক মুদি দোকানির কাছে জমা রাখতেন। এভাবে তিন বছরে প্রায় দেড় লাখ টাকা সঞ্চয় করেন। সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি জমা রাখা টাকা ফেরত নেন।

তার ভাষ্য, টাকা নিয়ে বাসায় ফেরার কিছুক্ষণ পর শামীম নামে এক যুবক তাকে খাবার খাওয়ানোর কথা বলে বাইরে ডেকে নেয়। পরে সুযোগ বুঝে তার কাছ থেকে পুরো টাকাই নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় মুদি দোকানি লিটন বলেন, নূর আলম দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ভিক্ষার টাকা জমা রাখতেন। গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা জানিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তিনি জমা রাখা অর্থ বুঝিয়ে দেন। পরে শুনতে পান, সেই টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর নূর আলম সাভার মডেল থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এসএন/

৩ শিশুসহ ৯ জনের সীমান্তে মানবেতর জীবন

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
৩ শিশুসহ ৯ জনের সীমান্তে মানবেতর জীবন
ছবি : খবরের কাগজ

১৬ ঘণ্টা ধরে শূন্য রেখায় অবস্থান করছে বিএসএফের ঠেলে দেয়া শিশু নারীসহ ৯ জন। দিনভর খোলা আকাশের নিচে তীব্র রোদ-গরেমেই বসেছিলেন তারা।

বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা অবধি তাদের বিষয়ে কোন সূরা হয়নি। 

বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দু'দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু বিএসএফের গাফিলতিতে দিন পেরিয়ে গেলেও সেই বৈঠক আর হয়নি। ছেলে দেয়া ওই ৯ জন এখনো নমেনসল্যান্ডে অবস্থান করছেন। ভারতীয় শূন্যরেখায় তারা অবস্থান করায় তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, এ ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ অংশে বিজিবি সদস্যরা তাদের অবস্থান বাড়িয়েছে। যাতে অবৈধভাবে কেউ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে। জানান, ঠেলে দেয়া এই ৯ জন তাদের কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ভারত অংশেই থাকবেন।

এদিকে পুশইনের ঘটনায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সীমান্তের গরম পরিস্থিতিতে কৃষি, পশু পালনসহ প্রাত্যহিক কাজকর্ম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সীমান্তের আশপাশে গেলেই বিএসএফের রক্তচক্ষু  দেখতে হয় তাদের।

পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, ভোর রাতে পুশইনের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশ অংশে বিজিবি বিএসএফ অবস্থান নিয়ে আছেন। তাতে করে গ্রামের লোকজন ধান কাটাসহ অন্যান্য কাজকর্মে যেতে পারছেন না। পরিস্থিতির সান্তনা হওয়া পর্যন্ত সীমান্তের আশপাশে যেতে ভয় পাচ্ছেন তারা।

বলেন, ভোর থেকেই ওই ৯ জন খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। খাবার বা পানি কোন কিছুই তাদের সাথে নেই। খুব মানবেতর অবস্থায় তারা রয়েছে। তাদের সঙ্গে তিনটি শিশু আছে। এই তপ্ত রোদের মধ্যে এভাবে থাকলে বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই এই সীমান্ত সমস্যার সমাধান যেনো দ্রুত ই করা হয়। 

এসএন/