লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৪নং ইছাপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকায় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বাবা ও ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লার ওপর হামলার ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবকদল নেতাসহ দুইজনকে জিজ্ঞাবাসাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে ঢাকার গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার পূর্বাচল এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন- ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি প্রার্থী সাগর হোসেন শুক্কুর (৩৪) ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবদুল কাদের।
সাগর হোসেন শুক্কুর একই ইউনিয়নের সোন্দড়া গ্রামের একচেটিয়া বাড়ীর আলী হোসেনের ছেলে ও আবদুল কাদের সোন্দড়া গ্রামের কাদের কন্ট্রাকটর বাড়ির আবদুল আউয়াল মমিনের ছেলে।
উল্লেখ্য গত ৩০ মার্চ রবিবার রাতে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান মঞ্জু গত ৫ আগস্টের পর ইছাপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে আসেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে যুবদল নেতা আবদুল কাদের ও সাগর হোসেন শুক্কুরের নেতৃত্বে ছাত্রদল যুবদলের নেতা-কর্মীরা মেহেদী হাসান মঞ্জুকে ধাওয়া করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের বিষয়টি জানতে পেরে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বাবা ও ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান মোল্লা ঘটনাস্থলে আসলে ইটপাটকেল নিক্ষেপে তিনি বামহাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
বিষয়টি জানতে পেরে ঐদিন রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, মেহেদী হাসান মঞ্জু লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। বিএনপি জামায়াতসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মারধর, চাঁদাবাজিসহ ৪ আগস্ট লক্ষ্মীপুর সদর এলাকায় হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। এছাড়া সাগর হোসেন শুক্কুরকে কয়েকদফায় মারধর করে মেহেদী হাসান মঞ্জু।
আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা আহত হওয়ার পর ১ এপ্রিল কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোজাম্মেল হক মজু ও এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমসহ বিএনপি যুবদল ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লার শারীরিক খবর নিতে ঘটনাস্থলে যান। এসময় বিএনপি নেতারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাগর হোসেন শুক্কুর ও আবদুল কাদেরকে গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ থানা এলাকা থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করা হয়।
রায়হানুর রহমান/মাহফুজ