বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ভাগ্নে ও তার পাণ্ডুলিপিকার বাউল সাধক শাহ আবদুল তোয়াহেদ গুরুতর অসুস্থ। গত ৫ মে তিনি স্ট্রোক করেন। বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে বেড না পাওয়ায় মেডিসিন (পুরুষ) বিভাগের বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
বাউল শাহ আবদুল তোয়াহেদের ভাতিজা নূর বলেন, ‘স্ট্রোক করার পর চাচাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। বেড না পাওয়ায় তিন দিন ধরে বারান্দা থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চাচার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে আমরা সাধারণ চিকিৎসাও করাতে পারছি না।’
বাউলের অনুরাগী ও তার স্বজনরা জানান, বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম তার ভাগ্নের মেধা ও সাধনার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করে তাকে সিলেট শহরে এনে পড়ালেখা করান। বাউল মামার আর্থিক সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি স্নাতক পাশ করেন। মামাকেই মুরশিদ জ্ঞানে ভজন করেন। এরপর থেকেই বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম প্রিয় ভাগ্নেকে সঙ্গে সঙ্গে রাখতেন। শাহ আবদুল করিমের প্রতিবাদী, নির্লোভ আদর্শের উত্তরাধিকারী হিসেবে তিনি বাউল সমাজে সমাদৃত। সব লোভ ও লালসার ঊর্ধ্বে ওঠে নীরবে বাউল সাধনা করছেন এই অকৃতদার বাউল শাহ আবদুল তোয়াহেদ।
বাউল অনুরাগীরা আরও জানান, শাহ আবদুল করিমের ভাটির চিঠি গীতিগ্রন্থের পাণ্ডুলিপিকার ছিলেন শাহ আবদুল তোয়াহেদ। পরবর্তী সময়ে এটি গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়। এই পাণ্ডুলিপিটি নিজ হাতে লিখে প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন শাহ আবদুল তোয়াহেদ। দীর্ঘদিন তিনি মামার সান্নিধ্যে থেকে এবং উচ্চশিক্ষা লাভের কারণে বাউল গান ও লোকগান নিয়ে ব্যাপক পড়ালেখা করেন। এ কারণে তার গানে বিশেষ গভীরতা প্রকাশ পেয়েছে। সাত শতাধিক গান রচনা করেছেন তিনি। ২০০ গানের একটি গ্রন্থ কয়েক বছর আগে প্রকাশিত হয়েছে। কয়েক বছর ধরে তার রচিত বিভিন্ন গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে।
উজানধল গ্রামে বাউল শাহ আবদুল করিমের পৈতৃক ভিটাতেই বসবাস করেন শাহ আবদুল তোয়াহেদ। তারও শিষ্য ও ভক্ত রয়েছে। তিনি নীরবে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাউল সাধনায় রত আছেন। তার স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ শাহ আবদুল তোয়াহেদ। তিনি ডায়াবেটিস, রক্তশূন্যতাসহ বিভিন্ন রেগে ভুগছেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। ফলে দিনদিন আরও অসুস্থতা বাড়ছে।
এ ব্যাপারে ওসমানী হাসপাতালের মেডিসিন পুরুষ ওয়ার্ডের ইনচার্জ ডা. সৌমিত্র বলেন, ‘বাউল সাধক শাহ আবদুল তোয়াহেদের চিকিৎসা চলছে। আমরা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’