ঈশ্বরদীতে মশার উপদ্রব বেড়েছে। বিশেষত সন্ধ্যার পর বাসাবাড়িতে মশার উৎপাত বাড়ে। শুধু বাড়িঘরে নয়, অফিস, হাট-বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও মশার উপদ্রব বেড়েছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, ড্রেন, নর্দমা ও জলাশয়গুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। মশা নিধনে প্রতিবছর ফগার মেশিন ব্যবহার করা হলেও ওষুধ না থাকায় এ বছর এখন পর্যন্ত সে কার্যক্রম শুরু হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যা নামার পর মশার উৎপাত প্রকট আকার ধারণ করে। মশা তাড়াতে কয়েল, স্প্রে ব্যবহার করেও মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। উপদ্রব বাড়লেও মশা নিধনের পৌরসভা কার্যকরী কোনো ভূমিকা পালন করছে না। ড্রেনে মশার ওষুধ ছিটানোর মধ্যে সীমিত রয়েছে তাদের তৎপরতা।
পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী পৌর এলাকায় বছরে এক থেকে দুইবার ফগার মেশিন নিয়ে মশা নিধনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে বছর এখন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগ পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি। এ কারণে মশার উৎপাত বেড়েছে।
পশ্চিমটেংরি পিয়ারাখালী এলাকার শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন বলেন, ‘বাড়িতে এত মশার উপদ্রবের কারণে সন্ধ্যার পর পড়তে বসা যায় না। কয়েল জ্বালিয়েও মশার কামড় থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। চারদিকে শুধু মশা আর মশা।’
তাহের উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ড্রেন, ডোবা, নালা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না। প্রশাসন আগে থেকে যদি পদক্ষেপ নিত, তাহলে মশার উপদ্রব এত হতো না।’ ঈশ্বরদী বাসস্ট্যান্ডের এক চা দোকানদার বলেন, ‘মশার উপদ্রব এত বেশি যে, চা খেতে বসলেও বেশিক্ষণ কেউ বসতে পারে না।’
জানতে চাইলে ঈশ্বরদী পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা রুহেল হোসেন বলেন, ‘মশার প্রজনন মৌসুমে মশা নিধনে ফগার মেশিনে ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু বাজেট বরাদ্দ না থাকায় এবার ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটানো হয়নি। প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। সারা বছরই নালা-নর্দমা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম চলে।’
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘ওষুধ না থাকায় এবার ফগার মেশিন দিয়ে মশা মারা হয়নি। তবে বছরব্যাপী মশা নিধনের যে কার্যক্রম তা চলমান রয়েছে। ফগার মেশিনে ওষুধ ছেটানো কার্যক্রম শুরুর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’