যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান থেকে নিজেদের পরমাণু জ্বালানি রক্ষা করতে চরম পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ইরান তাদের বোমা তৈরির উপযোগী প্রায় আধা টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন আস্তানাগুলো সিলগালা করে দিয়েছে। এর জন্য তারা পরমাণু সুড়ঙ্গগুলো ইচ্ছাকৃত ধসিয়ে দিয়েছে এবং প্রবেশপথে শক্তিশালী বিস্ফোরক মাইন পুঁতে রেখেছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইঙ্গিত দেন যে, তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারেন, ঠিক তার পর থেকেই ইরান এই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করে।
চুক্তির বাস্তবায়নে নতুন জটিলতা
বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তার একটি অন্যতম শর্ত হলো ইরানকে তাদের এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে হবে, যা পরে ধ্বংস করে ফেলা হবে। কিন্তু ইরানের নতুন এই সামরিক পদক্ষেপের কারণে সেই ইউরেনিয়াম বের করে আনা এখন অত্যন্ত কঠিন, বিপজ্জনক এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এখন এই সুরঙ্গ থেকে ইউরেনিয়াম বের করতে হলে ভারী খননকাজ এবং মাইন নিষ্ক্রিয়করণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হবে। এর ফলে ইরান চুক্তির ফাঁকফোকর গলে দাবি করতে পারে যে, তাদের কিছু ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা অসম্ভব। এতে তেহরান গোপনে কিছু পরমাণু জ্বালানি নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।
ট্রাম্পের অবস্থান
আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, ইরানের এই ইউরেনিয়ামের সিংহভাগই দেশটির ইসফাহান পরমাণু কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে রয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী এটি জব্দ করার জন্য একটি অভিযানের প্রস্তুতি নিলেও পরে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বাতিল করা হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, ইউরেনিয়াম যেখানেই থাকুক, মার্কিন গোয়েন্দারা তার ওপর কড়া নজর রাখছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই ইউরেনিয়াম জব্দের হুমকি দেওয়ায় ইরান নিজেদের পরমাণু সম্পদ আরও সুরক্ষিত করার সুযোগ পেয়েছে। শেষ পর্যন্ত চুক্তি সই হলেও এই ইউরেনিয়াম নিরাপদে বের করে আনা এখন দুই দেশের জন্যই বড় কারিগরি চ্যালেঞ্জ। সূত্র: সিএনএন
তামান্না রুপা/অমিয়/